আইসিটি খাতের দুই দশক: ২৮ লাখ থেকে ১০০ কোটি

শাওন সোলায়মান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

প্রতীকী

walton

ঢাকা: আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৩ সালে শুরু হলেও ১৯৯৯-২০০০ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা হয় সফটওয়্যার পণ্য। সেই হিসেবে প্রায় দুই দশক অতিক্রম করা এই খাতে এসেছে অভাবনীয় সাফল্য। প্রথমবার ২৮ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের সফটওয়্যার পণ্য রপ্তানি করা বাংলাদেশ ২০১৮ সালে এসে বাৎসরিক রপ্তানি মূল্য ছাড়িয়েছে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার (এক বিলিয়ন)।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) এর লিভারেজিং আইসিটি (এলআইসিটি) প্রকল্পের তথ্যমতে, বাংলাদেশ থেকে ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো ২৮ লাখ (২.৮ মিলিয়ন) ডলারের সফটওয়্যার রপ্তানি হয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সফটওয়্যার রপ্তানি শুরু করে। ওই বছর রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭২ লাখ ডলার। এরপর ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে এক কোটি ২৬ লাখ ডলার, ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে দুই কোটি ৭০ লাখ ডলার, ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে দুই কোটি ৬০ লাখ ডলার, ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে দুই কোটি ৪৮ লাখ ডলার, ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে দুই কোটি ২৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়।

এ অবস্থায় পরের অর্থবছর ২০০৯-২০১০- এ রপ্তানির পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলারে পৌঁছে। এরপর যা ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। বিসিসি’র এলআইসিটি প্রকল্পের তথ্যমতে ২০১০-১১ অর্থবছরে চার কোটি ডলার, ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ডলার অতিক্রম করে। ওই অর্থবছরে মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। পরের বছর ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এই আয় বেড়ে ১২ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার ডলার ও ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে প্রায় ১৩ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। তবে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে এই খাত থেকে একলাফে সর্বোচ্চ ৭০০ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হয়।
 
এরপর ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি হিসাবে ৮০০ মিলিয়ন (৮০ কোটি) ডলারের সফটওয়্যার রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে এসে তা ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যা টাকার হিসেবে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা। 
 
বর্তমানে সফটওয়্যার খাতের যেসব পণ্য রপ্তানি হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম হলো- ওয়েবসাইট তৈরি ও ডিজাইন, মোবাইল অ্যাপস, গেমস, অ্যাপ্লিকেশন প্ল্যাটফর্ম, ভিওআইপি অ্যাপ্লিকেশন, ডেটা এন্ট্রি, গ্রাফিক ডিজাইন, প্রি-প্রেস, ডিজিটাল ডিজাইন, সাপোর্ট সেবা, কাস্টমাইজড অ্যাপ্লিকেশন তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি।
 
আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি বিগত এক দশকে বড় আকার ধারণ করেছে সফটওয়্যারের দেশীয় বাজারও। দেশের বাজার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশই আবার দেশি সফটওয়্যার নির্মাতারা দখল করে আছেন। দেশের ৬০টি ব্যাংকের মধ্যে ২৭টি ব্যাংকেই দেশি সফটওয়্যার ব্যবহৃত হচ্ছে। আইসিটিখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের সফটওয়্যারখাতে বেশি চাহিদা রয়েছে ইআরপি, বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন তৈরিসহ ডিজিটালাইজেশনের কাজে ব্যবহৃত সফটওয়্যার।
 
সরকারের জিআরপি সিস্টেমসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পেও কাজ শুরু করেছে দেশের সফটওয়্যারের কোম্পানিগুলো। এ কাজ পায় সিনেসিস আইটি, যা পরে কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বাংলাদেশের কয়েকটি সফটওয়্যার উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সফটওয়্যার রপ্তানি খাতে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে আয় বেশি। অন্যান্য সেবাখাতের আয় বেশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে। বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের সফটওয়্যার নির্মাতাদের তৈরি ইআরপি সলিউশনের চাহিদা বেশি। এর পাশাপাশি চ্যাট বিষয়ক অ্যাপ্লিকেশন, বিলিং সফটওয়্যার, মোবাইল অপারেটর ও নেটওয়ার্ক পরিচালনার সফটওয়্যারের চাহিদা রয়েছে। সফটওয়্যার রপ্তানির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি পর্যায়ের ডিজিটালাইজেশনের কাজে বাংলাদেশের একাধিক প্রতিষ্ঠান ভালো কাজ করছে।
 
সার্বিক বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বিগত ৯ বছরে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটছে। এ খাতে সাফল্যের বিভিন্ন গল্প তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সরকার চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের আবির্ভাব এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রস্ততি গ্রহণ করছে। বিগ ডেটা অ্যানালাইটিক, ইস্টারনেট অব থিংস, আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের মতো ক্ষেত্রগুলোর জন্য প্রশিক্ষিত মানুষ তৈরি করা হচ্ছে। আইটি শিল্পে দেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার আইসিটি রপ্তানির লক্ষ্য পূরণ। 
 
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, ‘২০১৯ সালে আমাদের দেশ থেকে বহির্বিশ্বে কমপক্ষে এক বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের আইসিটি পণ্য ও সেবা রফতানি হয়েছে। একইসঙ্গে আরেকটি বড় অর্জন হচ্ছে, রফতানিকারকদের জন্য সরকারের ১০ শতাংশ প্রণোদনার ঘোষণা। ২০১৯ সালে এশিয়া প্যাসিফিক আইসিটি অ্যাওয়ার্ডসহ (অ্যাপিকটা)-২০১৯ বেশকিছু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দারুণ সফলতা অর্জন করে বাংলাদেশ।

তবে এই বাজারে দিনদিন বাড়ছে চ্যালেঞ্জ। ভারত, চীন ও ইউরোপের দেশগুলোর পাশাপাশি এখন ফিলিপাইন, পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। তবে দেশে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় বাজারকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া ব্লকচেইন, আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের মতো চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে মানানসই প্রযুক্তি নিয়ে দেশি উদ্যোক্তাদের কাজ করতে হবে।
 
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের তথ্যানুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো যেমন হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার প্রযুক্তি পার্ক, সবখানে উচ্চগতির ইন্টারনেট-সংযোগ নিশ্চিত করা এবং দক্ষ জনশক্তি বাড়াতে পারলে আরও দ্রুত সফটওয়্যার খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব।
  
বাংলাদেশ সময়: ১৬০২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০
এসএইচএস/জেডএস

কুমিল্লায় সচেতনতামূলক ভিডিও প্রচার-খাদ্য বিতরণ সেনাবাহিনীর
রামজান উপলক্ষে বুধবার থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু
চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করবে সিএমপি
করোনা: পোল্ট্রি শিল্পে ক্ষতি ১১৫০ কোটি টাকা
 কবি হাসান হাফিজুর রহমানের প্রয়াণ


করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ইতালিতে আরও ৮৩৭ জনের মৃত্যু
গোপনে রাতের আঁধারে ত্রাণ পৌঁছে গেল ঘরে
কুষ্টিয়ায় দুপক্ষের সংঘর্ষে দুই ভাই নিহত
চট্টগ্রামে আইসোলেশনে থাকা রোগীর মৃত্যু 
১০ হাজার অসহায় পরিবারের পাশে পিএইচপি ফ্যামিলি