সাফল্যের ৪র্থ বছরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স

এভিয়াট্যুর ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ইউএস-বাংলার বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট/ছবি: বাংলানিউজ

walton

ঢাকা: বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স অতিক্রম করছে সাফল্যের তৃতীয় বছর। ১৭ জুলাই ২০১৪ তারিখে বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পে যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা একের পর এক নজির স্থাপন করেছে, ছুঁয়েছে সাফল্যের মাইলফলক। চতুর্থ বছরে সেই ধারা অব্যাহত রেখে যাত্রীসেবা আরও সুন্দর করতে অঙ্গিকারাবদ্ধ প্রতিষ্ঠানটি।

php glass

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক এভিয়েশন ব্যবসায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যাত্রা শুরু করে ঠিক তিন বছর আগে। ৭৬ আসন বিশিষ্ট দু’টি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ঢাকা-যশোর ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে শুরু হয় যাত্রা। প্রথম থেকেই নিজস্ব ক্যাটারিং, নিজস্ব টেইলারিংসহ ইন-হাউজ ট্রেনিং সুবিধা, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইন-ফ্লাইট সার্ভিস, যাত্রীদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

প্রথম বছরেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরের সব সচল বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করে দেশের জনগণকে স্বল্পতম সময়ে আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সূদৃঢ় করেছে ইউএস-বাংলা। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রুটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর, বরিশাল, রাজশাহী রুটে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

যাত্রা শুরুর দু’বছরের মধ্যে ১৫ মে ২০১৬ তারিখে ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে ফ্লাইট পরিচালনার ম‍াধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যাত্রা শুরু করে। এখন কাঠমান্ডু ছাড়াও ঢাকা থেকে কলকাতা, মাস্কাট, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে কলকাতা ও মাস্কাট রুটেও ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে দোহা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে। খুব শিগগিরই আবুধাবি, জেদ্দা, রিয়াদ, দাম্মাম, দুবাই, হংকং, গুয়াংজুহ, দিল্লি, চেন্নাই ও পারো রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।

ইউএস-বাংলার বহরে মোট ছয়টি এয়ারক্রাফট রয়েছে। যার মধ্যে ১৬৪ আসনের তিনটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং ৭৬ আসনের তিনটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট। রয়েছে নিজস্ব ইন-ফ্লাইট ম্যাগাজিন ‘ব্লু স্কাই’। সপ্তাহে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ৩শটির বেষি ফ্লাইট পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইউএস-বাংলার বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট/ছবি: বাংলানিউজপ্রতিষ্ঠার পর থেকে গত তিন বছরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স প্রায় ৩০ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। আবহাওয়াজনিত কারণ ছাড়া কোনো ধরনের ফ্লাইট বাতিল করার নজির নেই। এখন পর্যন্ত ৯৮.৭ শতাংশ অন-টাইম ফ্লাইট পরিচালনার রেকর্ড রয়েছে ইউএস-বাংলার। অভ্যন্তরীণ রুটে মোট যাত্রীর ৫০ শতাংশের বেশি যাত্রী বহন করছে।

সফলতার তিনটি সিঁড়ি পেরিয়ে চতুর্থ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে দু’টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও একটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট আগস্ট মাসের মধ্যে বহরে যুক্ত হতে চলেছে।

নিরলস যাত্রীসেবার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স অভ্যন্তরীণ রুটে গত তিনবছর সেরা এয়ারলাইন্সের মুকুট অর্জন করেছে। দেশে-বিদেশে বর্তমানে প্রায় ১২শ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন সংস্থাটির সঙ্গে। নিয়মিত ট্যাক্স-সারচার্জ পরিশোধ করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে। আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনায়ও দেশের সুনাম বাড়িয়ে চলেছে তারা।

ইউএস-বাংলার টিকিট সংগ্রহের জন্য রয়েছে অনলাইন বুকিং সুবিধা। রয়েছে হোম ডেলিভারি সুবিধাও। সারাদেশে রয়েছে নিজস্ব ৩০টি সেলস অফিস। এছাড়া কাঠমান্ডু, কলকাতা, মাস্কাট, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, দোহা, কানাডা, নিউইয়র্কে নিজস্ব সেলস অফিস আছে। ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লাইয়ারদের জন্য রয়েছে স্কাইস্টার প্যাকেজ। যার মাধ্যমে শুধু টিকিটেই সুবিধা পাবে না, বরং যাত্রীরা বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ সুবিধাও পান।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যাত্রীদের বেশ কয়েকটি স্পেশাল সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা, যা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এভিয়েশন শিল্পে।

ইউএস-বাংলার উল্লেখযোগ্য সার্ভিসগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- আন্তর্জাতিক রুটে বিজনেস ক্লাস যাত্রীদের জন্য পিক-ড্রপ সার্ভিস, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণের পর ১০ মিনিটে ল্যাগেজ ডেলিভারি, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ২০ শতাংশ, সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা ও গলফারদের জন্য ১০ শতাংশ এবং নেপালি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ শতাংশ মূল্যছাড়।

শুধু যাত্রীই পরিবহন নয়, বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যে কার্গোও পরিবহন করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স দেশের বিভিন্ন  শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খেলাধুলার উন্নয়নেও ওতোপ্রতোভাবে জড়িত।

‘ফ্লাই ফাস্ট-ফ্লাই সেফ’ স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করা ইউএস-বাংলা সর্বোচ্চ সেবা দিতে সবসময় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও চতুর্থ বছরে পদার্পণের আনন্দঘন মুহূর্তে এয়ারলাইন্সটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমরা যেকোনো ধরনের প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। আমাদের উড়োজাহাজ বহরে অধিক সংখ্যক আধুনিক প্লেন যুক্ত করে চলেছি। বহরে অধিক সংখ্যক প্লেন ও অধিক গন্তব্য সম্প্রসারণে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স কাজ করে যাচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে ইউএস-বাংলা পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

তিনি আরও বলেন, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সাফল্যে ভরা তিন বছরের সঙ্গে যেসব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্ট, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন করপোরেট অফিস, বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন মিডিয়ার কর্মরত সাংবাদিক, সর্বোপরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি রইলো কৃতজ্ঞতা।

বাংলাদেশ সময়: ১৯০০ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০১৭
এএ

বায়েজিদে পানিবন্দি শতাধিক পরিবার
অসুস্থ ছাত্রলীগ নেতাকে দেখতে গেলেন নওফেল
বান্দরবানে আ’লীগ নেতা হত্যার প্রতিবাদে অর্ধদিবস হরতাল
কল্যাণকামী-বৈষম্যহীন সমাজ চেয়েছিলেন মোজাফফর আহমদ
ভিড় বাড়ছে হকার্স মার্কেটে


গাজীপুরে বসুন্ধরা সিমেন্টের ইফতার মাহফিল
জন্মবার্ষিকীতে সিলেটে কবি নজরুলকে স্মরণ
থানচিতে দেয়াল ধসে শ্রমিকের মৃত্যু
প্রধানমন্ত্রী যা বলেন তাই করেন: রেলমন্ত্রী
‘কে তোমাকে এতো ভালোবাসতে পারে’