মোহনীয় সৌন্দর্য্যের টানে কৈলাশ

4991 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
কৈলাস পর্বত খুবই আকর্ষণীয় বিশ্ববিখ্যাত একটি পর্যটন এলাকা। তীর্থযাত্রী থেকে শুরু করে সারা পৃথিবীর পর‌্যটকদের কাছে রয়েছে এর গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। কৈলাস মনসারোর হচ্ছে এই পর্বতের সবচেয়ে উঁচা চূড়া যা তিব্বতের ত্রানসিমালাইয়ার একটি অংশ।

কৈলাস পর্বত খুবই আকর্ষণীয় বিশ্ববিখ্যাত একটি পর্যটন এলাকা। তীর্থযাত্রী থেকে শুরু করে সারা পৃথিবীর পর‌্যটকদের কাছে রয়েছে এর গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। কৈলাস মনসারোর হচ্ছে এই পর্বতের সবচেয়ে উঁচা চূড়া যা তিব্বতের ত্রানসিমালাইয়ার একটি অংশ।

তাছাড়া কৈলাস পর্বত এশিয়ার বেশ কয়েকটি নদীর উৎসও বটে। সিন্ধু, বহ্মপুত্র, কর্ণালী ইত্যাদি নদীর উৎপত্তিস্থল এই পর্বত। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক নৈসর্গিক লীলাভূমিও। বিশেষ করে মানসারোর হ্রদ জায়গাটা জুড়েই যেন বিরাজ করছে পরম শান্তি।

অনাদিকাল থেকে কৈলাস
কৈলাস মানসারোর যাত্রার সাথে মূলত ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ব্যাপরটি জড়িত। শীতল এই অঞ্চলে তীর্থযাত্রার প্রচলন চলে এসেছে সেই অনাদিকাল থেকেই। প্রতিবছরই এখানে শত শত লোক তীর্থযাত্রার জন্য সমাগত হন। এই যাত্রা হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের জন্য বিশেষ অর্থ বহন করে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আবহাওয়া ও নিচের এবড়োথেবরো প্রস্থরময় অংশকে পেছনে ফেলে তীর্থযাত্রীরা মঙ্গলকামনায় ১৯ হাজার ৫০০ ফুট ওপর পর্যন্ত পর্বতারোহণ করেন।

পুণ্যযাত্রা
হিন্দুধর্মাবলম্বীদের মতে, কৈলাস পর্বত হলো মেরু পর্বতের অবিকল রূপ। আর মেরু পর্বতেই স্বর্গ আবির্ভূত হয়েছে। তাই তারা কৈলাস পর্বতকে আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করে। নিজেদের পাপ মোচনের উদ্দেশ্যে এখানে আসেন তারা। মানসোর হ্রদ ভ্রমণও এই তীর্থযাত্রার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি প্রায় ১৪ হাজার ৯৫০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এবং এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে উচুঁ বিশুদ্ধ পানির হ্রদ হিসেবে পরিচিত। যাত্রীরা ভগবান ব্রহ্মার স্বর্গলাভের উদ্দেশ্যে এই হ্রদে স্নান করেন ও আগামী একশ বছরের পাপ মোচন করার উদ্দেশ্যে এই পানি পান করেন। সম্পূর্ণ তীর্থ শেষ করতে তাদের সময় লাগে মোট ৪ থেকে ৫ দিন।

কৈলাস মানসারোর যাত্রা
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিবছরই কৈলাস মানসোর যাত্রার আয়োজন করা হয়। সব যাত্রীকে কয়েকটি ব্যাচে ভাগ করা হয়। প্রতিটি ব্যাচের সদস্য সংখ্যা ৬০ জন। পুরো তীর্থযাত্রার সময়সীমা ২৭ দিন। যাত্রীদের চীনা ভিসা ও মেডিকেল টেস্টের জন্য দিল্লিতে ৩ থেকে ৪ দিন অপেক্ষা করতে হয়। এরপর অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।

বাছাই প্রক্রিয়া
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর জায়গাটি প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার ফলে বিপদসঙ্কুলও বটে। তাই যাবার প্রস্তুতি নেয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনি শারীরিকভাবে কতটুকু সবল ও মানসিকভাবে কতটুকু শক্তিশালী। খেয়াল রাখুন বর্তমান শারিরীক অবস্থার কথাও যেমন— উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, এ্যাজমা, হৃদরোগ ইত্যাদি। সম্পূর্ণ কম্পিউটারাইজড বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাত্রীদের বাছাই করা হয়।

বাছাইকৃত যাত্রীদের তাদের ব্যাচ ও ফ্লাইটের সময়সীমা সম্পর্কে কয়েক সপ্তাহ আগেই অবহিত করা হয়। কৈলাস যাত্রার তিন চার দিন আগে তাদের দিল্লিতে লাইনে দাঁড়াতে হয় মেডিক্যাল টেস্টের জন্য। দ্বিতীয় দফা টেস্টের ফলাফল নেয়ার পরই চূড়ান্ত বাছাই হয়। এখানেই শেষ নয়। কৈলাস যাত্রার ৫ দিন পর যখন আপনি ৩৫০০ মিটার অতিক্রম করবেন তখন আরো একটি শারীরিক পরীক্ষা আপনাকে দিতে হবে। তাতে দেখা হবে বাকি পথ অতিক্রম করতে আপনার শরীর কতটুকু প্রস্তুত। গুঞ্জিতে নেওয়া এই পরীক্ষায় যদি কাউকে শারীরিকভাবে সুস্থ দেখা না যায় তাহলে তাকে যাত্রায় অনুমতি দেয়া হবে না।

ক্ষতিপূরণ ও ঘোষণা
যাত্রীদের একটি বন্ডে স্বাক্ষর করতে হয় যাতে উল্লেখ আছে যে এই যাত্রার সমস্ত ঝুঁকি সে নিজে বহন করবে এবং এর জন্য কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই দায়ী নয়। এছাড়াও জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে হেলিকপ্টার প্রদানের ব্যবস্থার বহন খরচও তাদের নিতে হবে। এছাড়াও যদি দুর্ঘটনাবশত তাদের চীনা এলাকায় মৃত্যু হয়ে থাকে সে বিষয়েও সই দিতে হবে। অতঃপর আগামী ৬ মাসের পাসপোর্টের বৈধতা দেখানোর পরই সব কাজ সম্পন্ন হবে।

খরচপাতি
কৈলাস ভ্রমণের সব খরচ মিলিয়ে আপনার লাগবে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৫৭ টাকা। যা ইন্ডিয়ান রূপিতে ১ লাখ তিনশ। যা ভ্রমণ চার্জ, চায়নিজ ভিসা ফি, দিল্লি হার্ট এন্ড লাং ইনস্টিটিউটে মেডিক্যাল টেস্ট ফি, চীনে ১২ রাত থাকা, খাওয়া ও যোগাযোগ খরচ, কৈলাসের টিকেট, মানসারোর ও খেলজা মন্দিরের খরচসহ ভারত ও চীনে ঘোড়া, গাড়ি ভাড়া সব খরচই বহন করবে। যদি কাউকে দ্বিতীয়বার মেডিক্যাল টেস্ট করতে হয় তাহলে এই খরচ আরও বাড়তে পারে।

আবওহাওয়া
তিব্বত শুষ্ক ও ঠাণ্ডা আবওহাওয়ার দেশ। তবে এখানকার আবওহাওয়া খুব দ্রুত পাল্টায়। জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে আবওহাওয়া কিছুটা উষ্ণ থাকে। এসময়ে আবওহাওয়ার তাপমাত্রা থাকে ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুপুরে কিছুটা বাতাস বয় তবে সকাল ও রাতে তাপমাত্রা থাকে মাইনাস ২ থেকে ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ফিটনেস
তীর্থযাত্রা ব্যাপারটা শুনতে রোমাঞ্চকর হলেও এত সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত শারীরিক ও মানসিক শক্তি। শারীরিক দিক থেকে সুঠামদেরকেই এই যাত্রার জন্য বাছাই করা হয়। যার এখানে তীর্থযাত্রায় আসেন তাদের মধ্যে প্রায় সবাই কোনো না কোনো শারীরিক সমস্যায় পড়েন। ব্যক্তিভেদে এই অসুস্থতা ভিন্ন হয়। প্রচুর হাঁটা, পর্বতারোহণ, আবহাওয়ার পরিবর্তন এই অসুস্থতার জন্য দায়ী।

প্রস্তুতি
কৈলাস পর্বত ও মানসারোর ভ্রমণের জন্য আপনাকে এক মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন, ভোরে এক্সারসাইজ করার অভ্যেস করুন। ভ্রমণের সময় পিঠে ব্যাগপ্যক, পানির বোতল, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় জিনিস বহন করতে হয় বলে এর জন্য আগে থেকে শারীরিক প্রস্তুতি নেয়া প্রয়োজন।

পর্বতের অনেক ওপরে উঠতে হয় বলে হৃদযন্ত্রের সহনশীলতা, শক্তির সহনশীলতার প্রয়োজন হয় তাই হাইকিংয়ের ট্রেনিং এক্ষেত্রে বেশ কাজে দেয়। হৃদযন্ত্রের সহনশীলতার জন্য দৌড়, হাঁটা, সাঁতার, সাইক্লিং খুব কাজে দেয়। এছাড়া শরীরকে ফিট রাখতে ও ভারসাম্য বজায় রাখতে জিমে গিয়ে ব্যায়াম করতে পারেন।

জামাকাপড়
এখানকার বৈরি আবওহার সাথে মিল রেখে কাপড় বাছাই করুন। এখানে পর্বতারোহণের সময় সূর্যের দাবদাহ ও রাতে উঁচু পর্বতে ক্যাম্প গড়ার সময় কনকনে শীতল হীমেল হাওয়ার দাপট সইতে হবে আপনাকে। ঠাণ্ডা আবহাওয়া থেকে বাঁচতে কয়েকটি স্তরের কাপড় পরুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে সোয়েটার, টি-শার্ট, প্যান্ট, শীত প্রতিরোধক জ্যাকেট, স্কার্ফ, মোজা, রেইনকোট, টুপি ব্যাগপ্যাক করুন।

ওষুধ
যদিও ভারত ও চীন কর্তৃপক্ষ আপনাকে যথেষ্ট পরিমানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করে রেখেছে তবু নিজের কাছে সবসময়ই বিকল্প ব্যবস্থা রাখুন। জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি, মাথাব্যাথা, গ্যাস্ট্রিক, ডায়েরিয়া, ব্যান্ডেজ, এন্টিসেপটিক রাখুন।

উচ্চতাজনিত অসুস্থতা
হঠাৎ বায়ু পরিবর্তন, কম ঘুম, অধিক পরিশ্রমের ফলে আপনি অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন।

এছাড়া ২ হাজার ৪০০ ফুট ওপরে ওঠার পর সেখানকার অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়ার ফলেও অনেকে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। অনেক ওপরে ওঠার পর ফুসফুসের জলীয় বাষ্প কমে যাওয়ায় ডিহাইড্রেশনের ফলে অনেকেই হাই আল্টিটিউট পালমোনারি এডিমা রোগে ভোগেন। এটাকে মাউন্টেন ডিজিসও (পাহাড়ী বালাই) বলা হয়। মাউন্টেন ডিজিস থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত পানি পান, কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খান। পর্বতে ওঠার সময় ক্লান্তবোধ করলে বিশ্রাম নিন।

কৈলাস ভ্রমণের সময় এসব ব্যাপারে অবগত থাকুন। আশা করি আপনার কৈলাস ভ্রমণ শুভ হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৪০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৭, ২০১৫

Nagad
সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে আমির হোসেন আমুর শোক
সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে তাপস-আতিকের শোক
সাহারার মৃত্যুতে বিরোধীদলীয় নেতা-জাপা চেয়ারম্যানের শোক
করোনায় রিজেন্ট হাসপাতাল মালিকের বাবার মৃত্যু
সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে ওবায়দুল কাদেরের শোক


সাহারা খাতু‌নের মৃত্যুতে মন্ত্রীদের শোক
সাহারা খাতুন ছিলেন আ.লীগের একজন পরীক্ষিত নেতা: রাষ্ট্রপতি
স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ সম্মানী দেবে সরকার
আমি পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে হারালাম: প্রধানমন্ত্রী
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন আর নেই