স্টুটগার্টের চিঠি

সামারের অপেক্ষা

কণা ইসলাম, অতিথি লেখক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সামারের অপেক্ষা

গানে, সুরে,ছন্দে,আনন্দে হ্দয়ে লাগলো দোদুল দোলা

গগনে রামধনুর রঙে রাঙিল মেঘের ভেলা 

ধরণীতে বনানী নব পল্লবে,কুসুমে, ভ্রমরের গুঞ্জনে আত্মভোলা।

নদীতে-সাগরে সমীরণ ঢেউয়ে মাতালো জোয়ার-ভাটার খেলা। 

আমি মনে মনে কবিতার চরণ আওড়াচ্ছি, তার মানে আমি যে প্রফুল্ল চিত্তে আছি, এটা বুঝতে কারোরই বাকি নেই। তবে শুধু আমি কেন ইউরোপের প্রকৃতিও এখন আসন্ন সামারের প্রতীক্ষায় প্রফুল্ল চিত্তে অপেক্ষার প্রহর গুনছে।

সামার এখনও আসেনি, তবে আসি আসি করছে। কনকনে ঠাণ্ডায় ইউরোপের জুবুথুবু হয়ে থাকা মানুষগুলোর মনে আর পত্র পল্লবহীন কঙ্কালসার প্রকৃতিতে আসন্ন গ্রীষ্মের ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। তীব্র ঠাণ্ডা বিদায় নিয়েছে বেশ কয়েকদিন হলো। ঠাণ্ডা এখনও প্লাস ছয় থেকে বারো তে ওঠা নামা করলেও নীল আকাশে সাদা সাদা মেঘের ভেলা, ভোরের চকচকে সোনালী রোদ্দুর আর পাখির কিচির মিচির ধ্বনি ইউরোপে গ্রীষ্মের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে।

 ইউরোপের সামার প্রকৃতিকে গাঢ় সবুজে, রঙ বেরঙের নানান রকম ফুলে ফুলে আর পত্র-পল্লবে  নব যৌবনে সাজিয়ে দেয়। দিগন্ত,পাহাড়,বনানী,সাগর,নদী সব যেন প্রকৃতির অসামান্য সৌন্দর্য উপহারের আনন্দে মাতোয়ারা। সামারের প্রকৃতির এই খুশির ছোঁয়া আর যৌবনের রং প্রতিটি মানব মনকেও রাঙিয়ে রঙিন করে। ইউরোপের প্রকৃতিপ্রেমী মানুষেরা শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলে এখনই তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পাকা করে ফেলেছে, প্রকৃতির রূপসুধা পান করতে দর্শনীয় বেড়ানোর স্থানগুলোতে যাবার জন্য।প্রকৃতির রূপের স্বাদ গ্রহণ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করতে ইউরোপের মানুষেরা একেবারেই নারাজ। গ্রীষ্মের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অবসরে প্রতিটি মানুষ শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই ছুটে চলে যায় প্রকৃতির মাঝে।

এরা বিশ্বাস করে এবং মানে প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্য মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে পারে।বৃদ্ধরা প্রকৃতির রূপ যৌবন উপভোগ করে নিজেরাও যেন হারানো যৌবনে ফিরে যায় কিছুদিনের জন্য। প্রবল শীতে প্রকৃতি যেমন জীর্ণ, স্থবির হয়ে থাকে তেমনি এসব দেশের মানুষেরও অবসরের শীতের বেশীরভাগ সময় ঘরেই কাটে। তাই সামারে রাতের বেলা ঘুমানোর সময়টুকু ছাড়া ঘরে বদ্ধ থেকে একমুহূর্ত সময় নষ্ট করতে এরা রাজি নয়।বলতে গেলে প্রায় প্রতিটি বাড়ির লবিতে, বারান্দায় সাজানো টেবিল চেয়ারেই গল্প গুজবে আয়েশে খাবারপর্ব সারা হয়। আবার বাড়ির গার্ডেনে গ্রিল করা হয় হরহামেশাই ।

শিশুরা স্কুলের পরেই ছুটে চলে যায় পার্কে, সুইমিং পুলে কখনও বাবা-মায়ের সাথে সব্জির বাগানে ফুলের বাগানে শাক-শব্জি ও ফুল-ফলের গাছ লাগাতে।নানান রকম সৌখিন ফুলে ফলে বাড়ি সাজাতেও সকলে ব্যস্ত থাকে অবসরে। কে কোথায় ছুটি কাটাতে যাবে সে পরিকল্পনা প্রায় প্রতিটি মানুষই করে রেখেছে। ঐ সময় ইউরোপের সমস্ত টুরিস্ট এলাকাগুলিতে বিভিন্ন দেশের মানুষের ঢল নামবে। ভ্রমণ বিলাসী ও ভোজনরসিক জার্মানরাও ছুটবে জার্মানি থেকে তুলনামূলক বেশি গরমের এবং সাগর সংলগ্ন দেশগুলোতে। বিভিন্ন দেশীয় খাবার খেতে, সাগর স্নান এবং সূর্য স্নান করতে এরা খুব ভালবাসে। এসব দেশের মানুষের আনন্দ উপভোগ করার সব রকম সরঞ্জাম রেডি থাকে। যেমন গাড়ির পিছনে কারাভান লাগিয়ে, ছোট-মাঝারি স্পিড বোট, সাইকেল ইত্যাদি লাগিয়ে বেরিয়ে পড়ে ভ্রমণে। হোটেল ছাড়াও এসব দেশের সবখানেই বাংলো টাইপের ছোট-বড় বাড়ি রেডি থাকে। সাথে কিচেন এবং রান্নার যাবতীয় সরঞ্জামও।যার যেমন খুশী সময় নিয়ে ছুটি কাটিয়ে আবার নিজেদের গন্তব্যে ফিরে আসে। 

কাজের অবসরে জীবনকে যতটা উপভোগ্য করা যায় তার সবটুকুই এইসব দেশের মানুষেরা করে থাকে। তবে তা অন্যের ক্ষতি করে বা সমস্যা সৃষ্টি করে কখনোই না।প্রতিটি মানুষের জীবনের জন্য শান্তিপূর্ণ বিনোদন অপরিহার্য।

বাংলাদেশ সময়: ০৯১৪ ঘণ্টা, মার্চ ১৫, ২০১৮
জেএম

ফেনীতে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুনের অভিযোগ!
বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা জাতিসংঘে
রংপুরে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ২, আহত ২৫
দিনাজপুরে উন্নয়ন কনসার্ট সম্পন্ন
সিলেটে থানা হাজত থেকে ছাড়া পেলেন দুই বিএনপি নেতা
প্রসূতি সেবায় সম্মাননা পেলো ফেনী সদর হাসপাতাল
রংপুরে ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের বর্ষপূতি উদযাপন
নেত্রকোনায় যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
পাঁচ ম্যাচ পর জয় পেল রিয়াল
ফেনীতে মেয়ে শিশুর উপর নির্মম নির্যাতন