ঝুঁকির পাঁকে জীবন যাদের!

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যুতের লাইন মেরামত। ছবি: অনিক খান

walton

ময়মনসিংহ : জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তারা গ্রাহকের ঘর আলোকিত করেন। আর তা করতে গিয়ে কখনো সখনো নিকষ কালোয় ঢেকে যায় নিজেরই ঘর।

ক্ষণিকের ভুলেই নিভে যায় জীবন প্রদীপ। কিন্তু দায়িত্ব বলে কথা!

ফলে হাতের মুঠোয় জীবন নিয়েই কাজ করেন তারা। সকাল বা গভীর রাতে নুন্যতম বিরাম নেই বিদ্যুতের লাইনম্যান ও ফোরম্যানদের।

মই বেয়ে বিদ্যুতের লাইন মেরামত করতে গিয়ে কখনো আবার দুর্ঘটনায় যন্ত্রণা নেমে আসে অনেকের জীবনে। তবুও বেতন আর গ্রাহকের দান-দখিণাতেই ঝুঁকির পাঁকে কাটে তাদের জীবন।

শুক্রবার (৩১ মার্চ) দিনগত রাত দেড়টার দিকে ময়মনসিংহ শহরতলী দিঘারকান্দা এলাকায় দেখা গেলো বিদ্যু‍ৎ বিভাগের লাইনম্যান ও ফোরম্যানদের ঝুঁকির এমন কর্মযজ্ঞ।

ওই এলাকার ২শ’ কেভির ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় ডাক পড়ে স্থানীয় পিডিবি’র স্থায়ী কর্মীদের।

তখন ঘুটঘুটে অন্ধকারে টর্চ লাইটের আলোয় ট্রান্সফরমারের ফিউজ সারানোর কাজ করছিলেন ময়মনসিংহ বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের (দক্ষিণ) অধীনে কাজ করা ফোরম্যান শামসুল হক মণ্ডল, ইলেকট্রিশিয়ান মঞ্জুরুল হক, লাইনম্যান শামসুল হক ও পলাশ।

তারা জানান, রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া থেকে শুরু করে বিচ্ছিন্ন করা ও পুন:সংযোগ দেয়া, ট্রান্সফরমার বিকল হলে দ্রুত ছুটে গিয়ে কাজ করতে হয়। নির্ধারিত বেতনেই দিন-রাত মিলিয়ে তাদের কাজ করতে হয়।

জানা যায়, ময়মনসিংহ নগরীতে হাজারখানেক ট্রান্সফরমার রয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরনো ও মান্ধাতার আমলের সঞ্চালন লাইনের মতো ট্রান্সফরমারগুলোর অবস্থাও একই রকম।

আর এ কারণেই একটু জোরে বাতাস হলেই হাওয়া হয়ে যায় বিদ্যুৎ।

শুকনো মৌসুমে বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে পড়া, ট্রান্সফরমারের ফিউজ চলে যাবার ঘটনা কম হলেও গরম মৌসুমে সংশ্লিষ্ট বিভাগের লাইনম্যান ও ফোরম্যানদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়।ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা বিদ্যুৎ কর্মীরা। ছবি: অনিক খন

তখন মাত্র এক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকলে গ্রাহকদের অবস্থা হয় দফারফা। ফলে ‘ওয়ার্কিং আওয়ারের’ বাইরে গভীর রাতেও জরুরি সেবা দিতেই ছুটতে হয় তাদের।

বিদ্যুৎ বিভাগের এসব কর্মচারী জানান, শহরের বাইরে পিডিবি’র আওতাধীন শহরতলীর এলাকাগুলোতে গাছপালা বেশী।

ফলে বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়লে বা তার ছিঁড়ে গেলে ফিডারের অটো এসিআর বন্ধ হয়ে যায়। এতে ফিডারের আওতায় বিদ্যুৎ থাকে না।

তবে ট্রান্সফরমারের ত্রুটি সারাতে গিয়ে ক্ষণিকের ভুলেই ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা- এমনটি জানিয়ে ইলেকট্রিশিয়ান মঞ্জুরুল হক বাংলানিউজকে বলেন, বিদ্যুতে উনিশ-বিশ হলেই জীবন শেষ।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ফোরম্যান শামসুল হক মণ্ডল বলেন, ট্রান্সফরমার বিকল হলে সংশ্লিষ্ট ফোরম্যানের নামে ফিডার শাটডাউন করা হয়।

কাজ চলাকালে ভুলবশত: ফিডার চালু করলেই অবধারিত মৃত্যু। ফলে এসব কাজের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করা হয়।

আর এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতেই প্রথমে একটি ট্রান্সফরমারে এক রকমের তার বেঁধে আর্থিং করা হয়। এতে কাজের সময় আকস্মিক ফিডার চালু হলে গ্রিড কন্ট্রোল রুমে ব্রেকার ট্রিপ করবে বলে জানান শামসুল হক মণ্ডল।

তিনি বলেন, জীবনের ঝুঁকি জেনেও চাকরি নিয়েছি। চাকরির শুরু থেকে এখন অবধি প্রাণ হাতে নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে।

বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া লাইনম্যানদের স্বজনদের কান্না আড়ালেই থেকে যায়। তবুও গ্রাহকদের ঘর আলোকিত রাখতেই অনিরাপদ এ কর্মযজ্ঞ চালাতে হয় আমাদের।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৫০ ঘণ্টা, এপ্রিল ১, ২০১৭
এমএএএম/জেডএম

করোনা: দেশীয় স্টার্টআপদের জন্য ভিসিপিয়াবের ৬ প্রস্তাব
সরে দাঁড়ালেন বার্নি স্যান্ডার্স
হাসপাতালে রোগীর খাবার পৌঁছাতে এগিয়ে এলো পুলিশ
গোডাউন থেকে ২১ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার
৪০০ পরিবহন শ্রমিককে খাবার দিলেন ফারাজ করিম


সার্কভুক্ত দেশের বাণিজ্য ক্ষতি পোষাতে ৫ সুপারিশ
ইসরায়েলে করোনা আক্রান্ত বেড়ে প্রায় ১০ হাজার, মৃত্যু ৭১
করোনা প্রতিরোধে দোষারোপ নয়, একযোগে কাজ করতে জাসদের আহ্বান
বিশ্বকাপ ফাইনালের ম্যাচসেরা অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন আকবর
গৃহহীনদের অস্থায়ী আবাসনের দাবি গণসংহতি আন্দোলনের