৭ বছরেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

উৎপাদনে যাওয়ার ৭ বছর পার হলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন পারেনি দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

দিনাজপুর: উৎপাদনে যাওয়ার ৭ বছর পার হলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন পারেনি দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
 
কর্তৃপক্ষের অবহেলায় দেশের একমাত্র এ কয়লা ভিত্তিক  তাপবিদ্যুr কেন্দ্র লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছে তাপবিদ্যুr কেন্দ্রের একাধিক সূত্র।

অপরদিকে, কর্তৃপক্ষের দাবি, যন্ত্রপাতি পুরনো হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন আশানুরূপ হচ্ছেনা।

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে ২০০৫ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি যাত্রা শুরু করে। সে সময় ১২৫ করে দু’টি ইউনিটে মোট ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

নিয়মতান্ত্রিকভাবে একটি ইউনিটকে বিশ্রামের জন্য শাট ডাউন (বন্ধ) দেওয়ার জন্য এবং ওই সময়ে যেন ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় সেজন্য তিন নম্বর ইউনিট বসানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু যাত্রা শুরু করার ৭ বছর হয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালির জন্য এখনো তিন নং ইউনিটটি স্থাপন করা হয়নি।

দু’টি ইউনিট দিয়ে কার্যক্রম চললেও নিয়মিত শাট ডাউন দেওয়ার জন্য একটি ইউনিটকে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে যে সময়টুকু একটি ইউনিট বন্ধ থাকছে সে সময়ে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কম হচ্ছে।

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দু’টি ইউনিট স্থাপনের জন্য চীনা ঠিকাদার কোম্পানি সিএমসির মাধ্যমে যন্ত্রপাতি নিয়ে আসা হয়। কিন্তু নিম্নমানের যন্ত্র ব্যবহার করে ইউনিট দু’টি স্থাপন করায় যান্ত্রিক সমস্যার জন্য বারবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

এছাড়াও প্রায়ই এখানে কম্পিউটার রুমের যন্ত্র, আইডি ফ্যান, রিলে-ব্যাটারি চার্জিং রুম, টারবাইন ডিসিএস এবং কম্পিউটার মনিটরিং অপারেটিং সিস্টেমে সমস্যা হয়ে থাকে। সবমিলিয়ে কোনোভাবেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন পারছেনা কর্তৃপক্ষ।
 
এদিকে, ২০০৮ সালে কয়লা খনির উৎপাদন বন্ধ থাকায় ভারত থেকে কয়লা আমদানি করে বিদ্যুr কেন্দ্রটিকে সচল রাখা হয়। এসময় স্থানীয় ঠিকাদার ভারতীয় পাথর মিশ্রিত নিম্নমানের কয়লা সরবরাহ করে। ফলে বিদ্যুr কেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ২০১১ সালে ইউনিট দু’টি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। পরে চীনা বিশেষজ্ঞ দল এসে ইউনিট দু’টি মেরামত করে।
 
বর্তমানে এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ১৪০ মেগাওয়াট। উrপাদন রেগুলেটরের রেকর্ড অনুযায়ী চালু হওয়া পর্যন্ত এই বিদ্যুr কেন্দ্রে সর্বনিম্ন ৪৫ মেগাওয়াট থেকে সর্বোচ্চ ১৯৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যুr কেন্দ্রের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী বাংলানিউজকে বলেন, তিন নং ইউনিট স্থাপিত হলে আরও ৭০/৮০ মেগাওয়াট উrপাদন বেড়ে যাবে।

তারা জানান, এখানে অদৃশ্য কারণে যারাই আসেন তারাই হয়ে যান চীনা প্রতিষ্ঠানের লোক। তারা চীনা প্রতিষ্ঠানের কথা মতোই কাজ করেন। তাছাড়া প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও তারা তিন নং ইউনিটটিকে চালু করার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেনা।

এ ব্যাপারে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মঞ্জুরুল হক জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রপাতিগুলো পুরনো হয়ে গেছে। তাই উৎপাদন কম হচ্ছে।

তিন নং ইউনিটটিকে কেন চালু করা হচ্ছে না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ব্যাপার। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিলেই ইউনিটটি চালু করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫১৬ ঘন্টা, ডিসেম্বর ০৮, ২০১২
সম্পাদনা: সোহেলুর রহমান ও শিমুল সুলতানা, নিউজরুম এডিটর

করোনা: দেশীয় স্টার্টআপদের জন্য ভিসিপিয়াবের ৬ প্রস্তাব
সরে দাঁড়ালেন বার্নি স্যান্ডার্স
হাসপাতালে রোগীর খাবার পৌঁছাতে এগিয়ে এলো পুলিশ
গোডাউন থেকে ২১ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার
৪০০ পরিবহন শ্রমিককে খাবার দিলেন ফারাজ করিম


সার্কভুক্ত দেশের বাণিজ্য ক্ষতি পোষাতে ৫ সুপারিশ
ইসরায়েলে করোনা আক্রান্ত বেড়ে প্রায় ১০ হাজার, মৃত্যু ৭১
করোনা প্রতিরোধে দোষারোপ নয়, একযোগে কাজ করতে জাসদের আহ্বান
বিশ্বকাপ ফাইনালের ম্যাচসেরা অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন আকবর
গৃহহীনদের অস্থায়ী আবাসনের দাবি গণসংহতি আন্দোলনের