জ্বালানি তেল ৩৫০ শতাংশ

এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ১১২.২১ শতাংশ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

দেশে এক দশকে জীবনাযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ১১২.২১ শতাংশ। এ সময়ে জ্বালানী তেলের দাম বেড়েছে ৩৫০ শতাংশ। ১৫.৫০ টাকার (লিটার প্রতি) ডিজেল/কেরোসিন বিক্রি হচ্ছে ৬১ টাকায়।

ঢাকা : দেশে এক দশকে জীবনাযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ১১২.২১ শতাংশ। এ সময়ে জ্বালানী তেলের দাম বেড়েছে ৩৫০ শতাংশ। ১৫.৫০ টাকার (লিটার প্রতি) ডিজেল/কেরোসিন বিক্রি হচ্ছে ৬১ টাকায়। আর ২৩ ও ২৫ টাকার পেট্রোল অকটেন যথাক্রমে বিক্রি হচ্ছে  ৯১ ও ৯৪ টাকায়। এ সময়ে বাড়ি ভাড়া বেড়েছে ১৪৯.৭৫ শতাংশ। দফায় দফায় বেড়েছে বিদ্যুৎ ও সিএনজির দাম ।

কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) দাবি করেছে ২০০১ সাল থেকে প্রতি বছরেই জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। ক্যাবের সমীক্ষায় দেখা গেছে, এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ১১২.২১ শতাংশ । এতে বাদ রাখা হয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও যাতায়াত । জীবনযাত্রার ব্যয় ২০০০ সালে ৬.৩৫ শতাংশ বাড়লেও ২০১১ সালে বেড়েছে ১১.৯৬।

২০১১ সালে পণ্যমূল্য বেড়েছে গড়ে ১২.৭৭ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাপড়ের দাম। ২০১১ সালে কাপড়ের দাম বেড়েছে ৩১.১৪ শতাংশ। জীবনযাত্রার ব্যয় সর্বোচ্চ বেড়েছে ২০১০ সালে ১৬.১০ শতাংশ।
    
ক্যাব দাবি করেছে- দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে অধিকাংশ ভোক্তাকে ভোগ্য পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ভেঙ্গে ফেলতে হচ্ছে কষ্টের সঞ্চয়। বাড়ছে ধার-কর্জ নির্ভর জীবন।

ক্যাবের সভাপতি কাজী ফারুক বলেন, ৪১ বছরে দফায় দফায় টাকার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে ইউএস ডলারের মুল্য ছিলো ৭.৩০ টাকা। সেই ইউএস ডলার এখন ৮৯ টাকা।

২০০১ সালে প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম ছিলো ৩৯ টাকা, সেই মসুর ডাল এখন বিক্রি হচ্ছে ১১২ টাকা, ৩৫ টাকার ছোলা ৯০ টাকা, ৮০ টাকার গরুর মাংস ২৭০ টাকা, ১৪০ টাকার খাসির মাংস বেড়ে হয়েছে ৪৩০ টাকা। ২৫০ টাকা কেজি দরের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০/৮০০ টাকায়।

দ্র্রব্যমূল্য এখন নির্বাচনী ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে দুটি দলেই। আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬-২০০১ সময়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অনেক ক্ষেত্রে সফল হলেও চলতি দফায় পুরোপুরি ব্যর্থ বলা যেতে পারে।

প্রচলিত রয়েছে- একবার কোন  জিনিসের দাম বাড়লে তা আর কমে না। কিন্তু ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ৪৮ টাকা থেকে কমিয়ে ২৮ টাকায় আনেন। দ্রব্য মূল্য কমানোর নতুন নজীর প্রত্যক্ষ করে দেশ বাসী।

কিন্তু বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার কিছুতেই সয়াবিন তেলের লাগাম ধরতে পারছে না। শেষ পর্যন্ত গত বাজেটে আমদানি শুল্ক কমিয়ে দিলেও সয়াবিন তেলের গলায় লাগাম দিতে ব্যর্থ  হয়েছে।  

২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের সময় প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ছিলো ৮৪ টাকা। এখন সেই সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়।

অথচ ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইস্তেহারের অগ্রভাগে ছিলো দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি। এমনকি আওয়ামী লীগ তাদের সময়ের (১৯৯৬-২০০১) বাজার দর ও চার দলীয় জোট সরকারের সময়ের বাড়ন্ত বাজার দরের তুলনা পোস্টার ছাপিয়ে প্রচার করে।

পোস্টারে তাদের সময়ে ৫০০ টাকায় ব্যাগ ভর্তি বাজার। আর বিএনপি সরকারের আমলে ৫০০ টাকার বাজার পকেট ভর্তি হিসেবে দেখানো হয়।

আওয়ামী লীগ সরকার প্রথমে কর্নেল (অব.) ফারুক খানকে বাণিজ্যমন্ত্রী নিয়োগ করেণ। সমালোচনার মুখে তাকে সরিয়ে দিয়ে মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির একমাত্র মন্ত্রী জিএম কাদেরকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়।

ভোক্তারা মন্তব্য করেছেন মন্ত্রী পরিবর্তনে আর কিছু হোক আর না হোক বস্তা পচা প্রতিশ্রুতি ও নানা রকম বিরক্তিকর বক্তব্য শোনা থেকে রক্ষা হয়েছে। ফারুক খানেই প্রথম আবিষ্কার করেন কম করে খেলেই নাকি দ্রব্যমূল্য কমে যাবে।
 
রমজান আসার আগে সরকারের পক্ষ থেকে নানা রকম প্রস্তুতি, প্রতিশ্রুতি এমনকি হুমকি শোনানো হয় ব্যবসায়ীদেরকে। কিন্তু দ্রব্যমূল্য থেকেছে নিয়ন্ত্রণহীন। অনেকটা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মর্জির উপর।

ক্যাব প্রকাশিত ২০১১ সালের সমীক্ষায় বলা হয়েছে- বিদ্যুৎসহ সব ধরণের জ্বালানী তেলের দাম বাড়ানোর মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ২০১১ সাল। বিইআরসি‘কে পাশ কাটিয়ে দাম বাড়ানো হয়েছে অনেক ক্ষেত্রে। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ভাড়া। বছর জুড়ে নিত্যপণ্যের বাজার ছিলো বেসামাল। বছর শেষে হঠাৎ করে জ্বালানী তেলের দাম বাড়ানোর কারণে আবারও উস্কে দেয় পণ্য মূল্যকে।

২০১১ সালে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে ২৬.৪৪ শতাংশ, মশলাপাতি ১২.১১, সব্জি ১৭.৩৩, নারকেল তেল ১৯.৬৬, লবন ৩৪.৪২, চিনি ও গুড় ১৫.১৮,  মাছ ৮.১৯,  চা ২০.৫৮, সাবান ১৬, বিভিন্ন ফল ১৬.৫৫, পান সুপারি ২১.৭১,  দেশি কাপড় ১৬.৮২,  শাড়ি ১০, সাধারণ গামছা/তোয়ালে ৩১.১৪, ওয়াসার পানি প্রতি হাজার লিটারে ৫,  এবং সোনা রূপার দাম বড়েছে ২৭.৬৩ শতাংশ।

কমেছে শুধু চাল ও আটার দাম। ২০১১ সালে চালের দাম কমেছে ৯.৯৭ শতাংশ ও আটা ৮.৭২ শতাংশ।

এক দশকে দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির পাশাপাশি ভেজাল ও খাবারে ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্যের মিশ্রন চরম আকার ধারণ করেছে। বাজার থেকে কিছু কিনে খাওয়ার আগে শতবার ভাবাচ্ছে ভোক্তাদের। এই সুযোগে এক শ্রেণীর সুবিধা ভোগী নির্ভেজাল পণ্যের নামে গলাকাটা দাম আদায় করছে। অনেকেই বাজার থেকে ফল কেনা ছেড়ে দিয়েছেন। পরিচিতদের মাধ্যমে বাগান থেকে সংগ্রহ করছেন।

এ অবস্থার পরিত্রান চায় সকলেই। কিন্তু খুব নিকটে কোন আলোক ধারা দেখা যাচ্ছেনা। বিএসটিআই, ভোক্তা অধিদফতর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে স্বল্প পরিমাণে ভেজাল বিরোধী অভিযান চললেও বাজারে তার কোন প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
 
বাংলাদেশ সময়: ১১৩৬ ঘণ্টা, জুলাই ২৭, ২০১২
ইএস.

মৃত ব্যক্তির দাফনে বাধা অমানবিক: নাসিম
করোনা: সৈয়দপুরে মানবেতর অবস্থায় ঢুলিপাড়ার ৩০ পরিবার
করোনা প্রতিরোধ: স্বস্তির নিশ্বাস রাতের নগরে
ময়মনসিংহে কর্মহীনদের পাশে মহানগর যুবলীগ
করোনো: সাতক্ষীরায় মানুষকে ঘরে ফেরাতে কঠোর হচ্ছে পুলিশ


কোয়ারেন্টিন না মানায় সিলেটে প্রবাসীকে জরিমানা
শিগগিরই প্রস্তুত হচ্ছে বসুন্ধরার হাসপাতাল 
করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন
করপোরেট কর হার ১০ শতাংশ চায় বিসিআই 
গজারিয়ায় শিশুর মৃত্যুতে করোনা আতঙ্ক