ঢাকা, বুধবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ সফর ১৪৪২

অপার মহিমার রমজান

পুরো ঘর মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনে দাঁড়িয়ে গেলো!

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬১৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৯, ২০২০
পুরো ঘর মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনে দাঁড়িয়ে গেলো!

গতকাল এশা এবং তারাবীর নামাজে অভাবনীয় এক ঘটনা ঘটেছে। রাত সোয়া আটটার দিকে আমরা নামাজে দাঁড়িয়েছি। আমরা মানে আমি, আব্বা, তেহজীব আর আলভীরা।

এমন সময় আমার স্ত্রী বললো, দাঁড়াও দাঁড়াও, আমিও পড়বো। ৫ মিনিট ওয়েট করো।

আমি বললাম, ঠিক আছে। ওযু করে তাড়াতাড়ি আসো।

কিছুক্ষণ পরই দেখি জায়েদা কিছু একটা বলতে এসেছে।

-জায়েদা , তুমি কিছু বলবা ?

-জি স্যার, আমতা আমতা করে বললো!

-বলো, তাড়াতাড়ি বলো।

-স্যার, আমি কি আফনাদের সাথে নামাজ পড়তে পারমু?

এবার আমি একটু ওর দিকে তাকালাম। দেখলাম হিজাব পরা, মাত্রই ওযু করে এসেছে।

যে কথা আমি ওকে কোনোদিন জিজ্ঞেস করিনি হঠাৎ সেই প্রশ্নটা করে বসলাম -তুমি কি নামাজ পড়তে পারো?

-স্যার একটু একটু পারি ।

-একটু একটু মানে?

- মানে স্যার, সুরাগুলা সব মুখস্থ না। মাঝে মাঝে আউলাইয়া যায়!

-কয়টা সুরা মুখস্থ তোমার?

মনে হলো সে প্রশ্নটাতে লজ্জা পেয়েছে। একটু ইতস্তত বোধ করছে।

-জায়েদা, তুমি কয়টা সুরা মুখস্থ জানো?

-স্যার এই ধরেন আলহামদুলিল্লাহ, আলামতারা আর কুলআউযুবিরাব্বীন নাস।

-মাশাআল্লাহ! ভালো তো। ফাতেহা, ফিল আর নাস! খুব ভালো। নামাজ পড়ার জন্য তো যথেষ্ট!

আমাদের কথার মাঝেই রুমি একটা জায়নামাজ হাতে নিয়ে আসলো। রুমি জায়েদার মেয়ে। মা-মেয়ে আমাদের বাসায় আছে অনেক বছর।

 

রুমি তুইও কি নামাজ পড়বি?

-জী আংকেল!

-তোর কয়টা সুরা মুখস্থ?

-আংকেল ১১ টা, হাসি দিয়ে বলল রুমি।

-মাশাআল্লাহ।

রুমি কে নামাজ আর আরবী শেখানোতে আমার কোনো কৃতিত্ব নেই। কৃতিত্ব সব আমার স্ত্রীর। আমার বাসায় যখন আলী আকবর হুজুরকে বাচ্চাদের কোরআন শেখানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন আমার স্ত্রী রুমিকেও হুজুরের কাছে পড়তে দেয়। হুজুর খুশি হন তার স্টুডেন্ট সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায়। স্টুডেন্ট বেড়ে যাওয়া মানে তো টাকাও বেড়ে যাওয়া!

আমি আমার স্ত্রীকে ডাক দিই-কই তুমি? নামাজের দেরি হয়ে যাচ্ছে, তাড়াতাড়ি আসো!

সে নামাজের পোশাকে ছুটতে ছুটতে আসল।

আমি আমার স্ত্রীকে জায়েদা আর রুমিকে দেখিয়ে বললাম, দেখো, দলে দলে সবাই কল্যাণের দিকে আসছে।

সে হেসে উঠল। বুঝলাম-এটা তারই প্ল্যান!

আমি আমার স্ত্রীকে বললাম, শোনো, জায়েদাকে রমজান মাসে আমি একটা এসাইনমেন্ট দিচ্ছি। সে সুরা এখলাস এবং সুরা কাওসার মুখস্থ করবে। এবং তাকে শেখাবে রুমি। যদি সে মুখস্থ করতে পারে তবে এবার ঈদের বোনাস হবে ডাবল!

রুমি বলল, আংকেল আমি শিখাইতে পারবো।

আমি জায়েদা কে বললাম, কি মুখস্থ করতে পারবা তো?

হাকিমপুরি জর্দা দিয়ে পান খাওয়া লাল মুখ থেকে বেশ আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়ল-পারমু স্যার!

নামাজের জন্য আব্বা তাড়া দিলে আমি জায়েদাকে বললাম, তোমরা হালকা একটা পর্দা দাও। তারপর পর্দার পেছনে দাঁড়াও।

ওরা তাই করলো। আব্বা একামত দিতে শুরু করলেন। পুরো ঘর মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনে দাঁড়িয়ে গেলো!

বাংলাদেশ সময়: ১৬১২ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৯, ২০২০
এইচএডি/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa