ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ আশ্বিন ১৪২৭, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩ সফর ১৪৪২

অপার মহিমার রমজান

হাইকোর্ট মাজারে এককাতারে হাজারো মানুষের ইফতার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩৪২ ঘণ্টা, মে ১০, ২০১৯
হাইকোর্ট মাজারে এককাতারে হাজারো মানুষের ইফতার হাইকোর্ট মাজারে ইফতার করছেন মুসল্লিরা। ছবি: জিএম মুজিবুর

ঢাকা: প্রতি বছরেরই ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও মাজার শরিফ ভক্ত-আশেকানদের ভিড় থাকে হাইকোর্টের হযরত শাহ খাজা শরফুদ্দিন চিশতী (র.) ওরফে বাবা ওলি বাংলার মাজারে। তবে রমজান এলে মাজারে ভিড় বেড়ে যায় বহুগুন। রমজানের সময় মাজারে সম্পন্ন বিনামূল্যে প্রতিদিন দুই হাজার রোজাদারকে ইফতার করানো হয়।

ইফতারে শামিল হয়ে থাকেন চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, দিনমজুর, ভিক্ষুক, পথচারী, নারী, বৃদ্ধসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা। সবাই ভক্তির আর শ্রদ্ধা সঙ্গে মাজারে ইফতারি করেন।

ইফতারের উপকরণের সঙ্গে থাকে মুড়ি, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজু, চপ, আপেল, মাল্টা, রুহ আফজার শরবত।

শুক্রবার (১০ মে) সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, জোহর নামাজ শেষে ইফতার তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন খাদেমসহ স্বেচ্ছাসেবকরা।

এদিনও বাদ জুমা ইফতার তৈরি শুরু করেন তারা। আর বিকেল ৩টার পর থেকে মাজারে আসতে শুরু করেন রোজাদার ও ভক্ত-আশেকান। আসর নামাজ শেষে দোয়া ও জিকিরে বসেন তারা। এবাদত শেষে ভিক্ষুক, ধনী-গরিব, ব্যবসায়ীসহ হাজারও মানুষ এক কাতারে বসে যান। তাদের সামনে ইফতারিসহ প্রায় ৫শ’ বড় বড় গামলা চলে আসে। প্রতি গামলায় পাঁচ থেকে সাতজন করে ইফতার করতে পারেন। এর মধ্যে থাকে মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি, খেজুর, জিলাপিসহ বিভিন্ন ফল আর শরবত। এভাবে প্রতিদিন দুই হাজার রোজাদার বসে ইফতার করেন।

পুরুষের পাশাপাশি নারীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৫শ’ নারী এ ইফতারে অংশ নেন। তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকেন মাজার ও মসজিদে প্রায় ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক। রয়েছেন খাদেম ও আনসার সদস্যরা।

মাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, হাইকোর্ট মাজারের অসংখ্য ভক্ত রয়েছেন। যারা প্রতিনিয়ত এখানে থাকেন। তবে রমজানে ভক্ত আশেকানদের সংখ্যা বহুগুন বেড়ে যায়। ইফতারের পাশাপাশি নঙ্গরখানায় ফকির-গরিবের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। তাছাড়া মাজারের পাশে থাকা হেফজখানায় ইফতার ছাড়াও খাবার ও সেহরির ব্যবস্থা থাকে।

মসজিদ ও মাজার শরিফের প্রশাসন কমিটির সেক্রেটারি মো. আবদুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, এখানে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার রোজাদার একসঙ্গে ইফতার করেন। পুরুষের পাশাপাশি রয়েছে নারীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। প্রতিদিন ৬০ কেজি মুড়ি, দেড় মণ ছোলা, ৫০ কেজি খেজুর, ৫০ কেজি চিনি লাগে। এছাড়া প্রায় এক মণ করে জিলাপি, পেঁয়াজু ও বেগুনি পরিবেশন করা হয়।

তিনি বলেন, ইফতারে ছোলা, মুড়ি, জিলাপির সঙ্গে থাকে  ফলমূল। মাজারে ভক্তরা প্রতিদিন কেউ না কেউ ফল নিয়ে আসেন। ইফতারে পানি ও শরবত পান করার জন্য দুই থেকে আড়াই হাজার গ্লাস রয়েছে। এগুলোও মাজার ভক্তরাই পাঠান। ইফতারের পেছনে প্রতিদিন ব্যবস্থাপনা কমিটির আনুমানিক একটা বাজেট থাকে। তাছাড়া প্রতিদিনই কেউ না কেউ মাজারে ফলমূল নিয়ে আসেন।

সলিম শাহ নামে মাজারের এক ভক্ত বলেন, মাজারে আশেক ভক্তদের সেবা করতে ভালো লাগে। রমজানে একসঙ্গে ইফতার, খাওয়া-দাওয়া করা সৌভাগ্যের।

শফিকুল ইসলাম পেশায় গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। তিনি মাজারে ইফতার সামগ্রী এনেছেন।

তিনি বলেন, বছরের কিছু টাকা জমিয়ে এখানে আসি। রোজাদারদের সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত-ইফতার করি। এসময় আমরা পুরো পরিবার নিয়ে এখানে ইফতার করতে আসি।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৮ ঘণ্টা, মে ১০, ২০১৯
ইএআর/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa