ঢাকা, রবিবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৬ রজব ১৪৪২

জাতীয়

যাত্রীদের হাতছানি দিচ্ছে পদ্মা সেতু

ইমতিয়াজ আহমেদ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫০৯ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৭, ২০২১
যাত্রীদের হাতছানি দিচ্ছে পদ্মা সেতু পদ্মা সেতু। ছবি: বাংলানিউজ

মাদারীপুর: প্রমত্ত পদ্মার বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পদ্মা সেতু। নৌরুটে চলাচলকারী যাত্রীদের যেন হাতছানি দিচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের রাজধানী ঢাকায় যোগাযোগের অন্যতম নৌরুট মাদারীপুরের বাংলাবাজার-শিমুলিয়া এখন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে যাত্রীদের কাছে। নৌরুট দিয়ে লঞ্চ,স্পিডবোট আর ফেরিতে পার হওয়া যাত্রীরা মুগ্ধ চোখে দেখছে পুরো সেতুর অবকাঠামো। পদ্মাসেতু দেখতে পাওয়া এক বিস্ময় হয়ে ধরা দিচ্ছে যাত্রীদের চোখে। স্বপ্নের সেতুর ওপর দিয়ে পদ্মা পার হবেন এমন প্রত্যাশায় দিন গুনছেন নৌরুটে চলাচলকারী যাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিবচরের বাংলাবাজার ঘাট থেকে লঞ্চে ছাড়ার পর চোখের সামনে শুধুই পদ্মা সেতুর অবকাঠামো! নদীর পাড়ে নদীশাসন বাঁধ। এ সময় লঞ্চের জানালা দিয়ে যাত্রীদের উঁকি-ঝুঁকি আর অনেককে ডেকে দাঁড়িয়ে পদ্মা সেতু দেখতে দেখা গেছে। লঞ্চটি স্বপ্নের সেতুর ঠিক নিচে দিয়ে যাওয়ার সময় অনেক যাত্রীরাই মুখ দিয়ে আনন্দধ্বনি করে থাকেন। বিস্ময় ও প্রশান্তি নিয়ে পদ্মা সেতুর দিকে তাকিয়ে থাকেন যাত্রীরা। সেতু পেরিয়ে লঞ্চ মূল নদীতে পৌঁছাতেই পেছন ফিরে সেতুর পুরো কাঠামো অবলোকন আর ছবি ধারণ করে রাখতে দেখা যায় যাত্রীদের। লঞ্চটি ঘাটে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত চলে পদ্মা সেতু নিয়ে নানান আলোচনা। আর শিগগিরই সেতুর ওপর দিয়ে পদ্মা পার হবার প্রত্যাশা।

লঞ্চযাত্রী স্কুলশিক্ষক মিয়াউল আলম চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, পদ্মা সেতুর গুরুত্ব আমাদের কাছে অত্যাধিক। কারণ ঢাকা যেতে আমাদের এই প্রমত্তা পদ্মা পাড়ি দিতে হয়। সেতু চালু হলে শিবচরের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ হবে চোখের পলক পড়ার মতো! আমরা স্বাচ্ছন্দে দিনের কাজ দিনে করেই বাড়ি ফিরতে পারবো। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও পদ্মা পাড়ি দেবার উৎকণ্ঠা থাকবে না। এ জন্য পদ্মা সেতু আমাদের কাছে এক আবেগের জায়গা।

পদ্মা সেতু।  ছবি: বাংলানিউজ

বরিশাল থেকে আসা এক কলেজছাত্র ফাহিম বাংলানিউজকে বলেন, পদ্মা সেতু যোগাযোগ মাধ্যমে এক দিগন্ত উন্মোচন করবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। মানুষের কাছে পদ্মা সেতু যেন বিস্ময়। পদ্মার বুকে সরীসৃপের মতো সেতুর কাঠামো দেখলে অন্য রকম প্রশান্তি অনুভব হয়। মনে হয় যেন আমার সেতু! লঞ্চে বা ফেরিতে পার হলে পুরো সেতু সময় নিয়ে দেখার মধ্যে অন্যরকম আনন্দ!

গিয়াসউদ্দীন মীর নামে আরেক লঞ্চযাত্রী বাংলানিউজকে বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। সব মিথ্যা করে দিয়ে পদ্মা সেতু পদ্মার বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। দেশের অর্থে গড়া এই সেতুর প্রতি মানুষের আবেগ একটু আলাদা। বিশেষ করে সেতু সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা হিসেবে সেতু নিয়ে ভিন্ন রকম ভালো লাগা কাজ করে মনের ভেতর।

প্রমত্তা পদ্মায় টলমলে স্নিগ্ধ জল এখন। বর্ষা মৌসুমে এই কোমল চেহারাই রূপ নেয় রুদ্রতায়। চোখ রাঙানি আর ফস ফস শব্দে বুকে কাঁপন ধরায় নৌরুটের যাত্রীদের! পদ্মা সেতু চালু হলে ঝুঁকি নিয়ে নৌপথ পাড়ি দিতে হবে না এমন ভাবনা যাত্রীদের। তাছাড়া সময় কম লাগবে ঢাকা যেতে-আসতে। এই প্রত্যাশা পূরণ হবার আগ পর্যন্ত পদ্মা সেতু যেন হাতছানি দিয়ে ডাকবে নৌরুটের যাত্রীদের। পদ্মা সেতুর হাতছানি যাত্রীদের পদ্মা পার হবার দীর্ঘ সময়ের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেবে মুহূর্তেই।

বাংলাদেশ সময়: ১৫০৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৭,২০২১
এসআরএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa