ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ মাঘ ১৪২৭, ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

জাতীয়

তাজরীন ট্র্যাজেডি: পুড়ে যাওয়া ভবন ভেঙে ফেলার দাবি

সাগর ফরাজী, সাভার করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৬৫৩ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৪, ২০২০
তাজরীন ট্র্যাজেডি: পুড়ে যাওয়া ভবন ভেঙে ফেলার দাবি

সাভার (ঢাকা): ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরীন ফ্যাশন লিমিটেড পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগুনে পুড়েছে মানুষ, কাপড়সহ সম্পূর্ণ ভবন। সেই পুড়ে যাওয়ার ছাপ এখনো ভবনের চারপাশে লেগে রয়েছে।

 

সেদিনের পর থেকে ভবনটির কার্যক্রম একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলেও পুড়ে জরাজীর্ণ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ৮ তলা ভবনটি। ভবনটি নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাসহ ভবনের আশেপাশের বাড়িওয়ালারা।  

তারা ভাবছেন, যেকোনো সময় ভবনটি ভেঙে পড়তে পারে। তাদের দাবি ভবনটি ভেঙে এখানে আবারও ভবন তৈরি করে কোনো প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হোক।  

আরও পড়ুন...তাজরীনের আগুন: ৫ বছরে আটজনের সাক্ষ্য

পুড়ে যাওয়া ভবনটির সামেন ও আশেপাশে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির প্রধান গেটে তালা ঝোলানো। আটতলা ভবনটির প্রত্যেক জানালায় আগুনের ছাপ লেগে রয়েছে। জানালার গ্রিল ভেঙে শ্রমিকরা বের হয়েছে সেই চিহ্ন এখনো স্পষ্ট রয়েছে।  

ভবনটির পাশেই হাবিবুর রহমানের চায়ের দোকান। তিনিও সব সময় আতঙ্কের ভেতর দিন কাটাচ্ছেন। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘যদি মেরুদণ্ড ভেঙে যায় তাহলে কি দাঁড়ানো যায়? যায় না। আমি মনে কি এই ভবনটির মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে। এই ভবনের কারণে আরও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সরকার এই ভবনের কিছু একটা করুক। ’

ভবনটির পূর্বপাশ ঘেষা বাড়ির মালিক আমিন গাজি ও সহিদ গাজি। তারা দুই ভাই। বাড়িটিতে শুধু তারা নিজে একই থাকেন না। তাদের সঙ্গে থাকেন আরও ২৫  পরিবার। আমিন গাজি বাংলানিউজকে বলেন, ঘটনার সময় আমাদের টিন সেড বাড়ির প্রায় ১৫টি রুম পুড়ে গেছে। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি কখন না আবার কোন দুর্ঘটনা ঘটে। এতো বড় একটি ভবন আমাদের বাড়ির উপরেই। এখানে তেমন ভাড়াটিয়াও আসতে চায় না ভয়ে। যারাও আসে বাধ্য হয়েই এখানে থাকে।

 

তিনি আরও বলেন, ভবনটি যদি ভেঙে অথবা পরীক্ষা করে এখানে শ্রমিকদের থাকার বা কোনো কর্মস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় তাহলে সবার জন্যই ভালো হবে।  

তাজরীনের আগুনে পুড়ে যাওয়া আহত শ্রমিক জরিনা বাংলানিউজকে বলেন, আমরা ভুক্তভোগী যেসব শ্রমিক রয়েছি তাদের জন্য এই ভবনটি ভেঙে পুর্নবাসন করে দেওয়া হোক। আমরা যেন এখানে আহত শ্রমিকরা ও নিহত শ্রমিকের পরিবার থাকতে পারি।  

এ বিষয়ে শ্রমিক নেতা সরোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, এখন বর্তমানে যে ভবনটি দাঁড়িয়ে আছে সেটির তো কোনো পরীক্ষা করা হয়নি। পরীক্ষা করা হলে না আমরা জানতে পারবো ভবটি ঝুঁকিপূর্ণ কিনা। তবে যেহতু আগুন দীর্ঘ সময় ছিলো পরীক্ষা না কারার আগ পর্যন্ত আমরা ভেবে নেবো এটা ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদের দাবি এই ভবনটি ভেঙে বা সংস্কার করে এখানে তাজরীনের আহত শ্রমিক ও নিহত শ্রমিকদের পারিবারের বাসস্থান করে দেওয়া হোক।  

এদিকে তাজরীন ট্র্যাজেডির অষ্টম বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন বিবৃতি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) সকাল ৮টায় জুরাইন কবরস্থান ও আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে কারখানা গেটে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে। পরবর্তীকালে এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার দাবিতে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ০৬৫৩ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৪, ২০২০
এনটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa