ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ কার্তিক ১৪২৭, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতীয়

ফিরছে রেড চিটাগাং-মিরকাদিমের গরু

মফিজুল সাদিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৭৫১ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০
ফিরছে রেড চিটাগাং-মিরকাদিমের গরু

সাভার থেকে ফিরে: বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দুটি জাত মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমের গরু ও চট্টগ্রামের আরসিসি বা রেড চিটাগাং ক্যাটেল। কিন্তু এই দুই জাতের গরু এখন আর তেমন চোখে পড়ে না।

অনেকটা বিলুপ্তির পথে। এমনকি মুন্সিগঞ্জ ও চট্টগ্রামেও এই দুই জাতের গরুর দেখা মেলা ভার।

তবে দেশীয় জাত দুটি বিলুপ্তির হাত থেকে ফেরাতে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)। বর্তমানে ইনস্টিটিউটের কাছে ২৫৬টি আরসিসি ও ৪৫টি মিরকাদিমের গরু আছে। জাত দুটি আরও উন্নত করে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

প্রতি কোরবানির ঈদে পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জ খেলার মাঠে মিরকাদিমের গরু বলে যা বিক্রি হয়, তা আসলে ভারতের হরিয়ানা জাতের সাদা গরু। পুরান ঢাকার মানুষের কাছে মিরকাদিমের গরুর চাহিদা বেশি থাকায় বিক্রেতারা এই প্রতারণার আশ্রয় নেন।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দেশীয় ঐতিহ্যবাহী আরসিসি ও মিরকাদিমের গরু নিয়ে গবেষণা চলছে।  

আরসিসি বা রেড চিটাগাং ক্যাটল চট্টগ্রামের বিশেষ জাতের সুদর্শন গরু। লাল বর্ণের এ জাতের গরু দেখতে ছোটো খাটো, পেছনের দিক বেশ ভারী, চামড়া পাতলা, শিং ছোটো ও চ্যাপ্টা। এদের মুখ খাটো, চওড়া, মাঝারি ধরনের গলকম্বল, গলা খাটো ও সামান্য কুঁজ আছে।

প্রাণিসম্পদ ইনস্টিটিউট জানায়, আরসিসির ওজন ২০০ থেকে ৩০০ কেজি পর্যন্ত হয়। গড় দুধ উৎপাদন ২ দশমিক ২ কেজি। এক বিয়ানে ২৬০ দিন ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি দুধ পাওয়া যায়। এ জাতের গরুর দুধে চর্বির পরিমাণ বেশি।

জানা গেছে, বেশি দুধ ও মাংস পাওয়ার জন্য আরসিসির সঙ্গে ফ্রিজিয়ান ও ব্রাহমার জাতের ক্রস ব্রিড করে আরও মোটাতাজা করা হচ্ছে। দেশের আবহওয়ার সঙ্গে টেকসই এই জাতের গরুর  ব্যবস্থাপনাও সহজ। ১০ বছরে এ জাতের গরু ৬ থেকে ৭টি বাচ্চা দিয়ে থাকে।  

অন্যদিকে গবেষকদের হাত ধরে স্বমহিমায় ফিরছে মিরকাদিমের গরু। উৎকৃষ্ট মানের ষাঁড় ও গাভী বাছাই করা হয়েছে।  

সাদা রঙের এ জাতের গাভী দুধ দেয় বেশি। সহিষ্ণু ও উৎপাদনশীল। অন্য দেশি জাতের গাভী থেকে যেখানে ৫ থেকে ৮টি বাচ্চা পাওয়া যায়, সেখানে এই জাতের গাভী থেকে বাচ্চা মেলে ১৪ থেকে ১৬টি।

প্রাণিসম্পদ ইনস্টিটিউট জানায়, গবাদি পশুর জাত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশে স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করা হচ্ছে।  

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) মহাপরিচালক ড. নাথু রাম সরকার বাংলানিউজকে বলেন, প্রথমে ছয়টি ষাঁড় ও ৩১টি আরসিসি গাভী সংগ্রহ করা হয়েছিল। এখন আরসিসির সংখ্যা ২৫৬টি। একইভাবে মিরকাদিমের গরুর সংখ্যাও বেড়েছে। আমরা কিছু ষাঁড় ও গাভী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে দিয়েছি মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য।  

তিনি জানান, খাঁটি জাতের পাশাপাশি বেশি মাংস ও দুধ উৎপাদনে শঙ্কর জাত তৈরি করা হচ্ছে। কম খাবার খেয়ে এই দুটি জাত বেশি বাচ্চা ও দুধ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের পরিবেশের জন্য জাত দুটি খুবই লাগসই। বিলুপ্ত প্রায় দেশীয় দুটি জাতকে সারা দেশে খামার ও কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।  

বাংলাদেশ সময়: ০৭৫০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০
এমআইএস/এজে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa