ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১২ সফর ১৪৪২

জাতীয়

ইঞ্জিন কাভারে যাত্রী নিয়ে ছুটছে আন্তঃজেলা-দূরপাল্লার বাস!

মুশফিক সৌরভ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৩৫ ঘণ্টা, আগস্ট ১২, ২০২০
ইঞ্জিন কাভারে যাত্রী নিয়ে ছুটছে আন্তঃজেলা-দূরপাল্লার বাস!

বরিশাল: কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলছে বরিশালের গণপরিবহন। যতক্ষণ বাস স্ট্যান্ডে থাকে ততক্ষণ নিয়ম মেনে যাত্রী ওঠানো হয়।

বাসস্ট্যান্ড ছেড়ে সড়কে উঠলেই ইচ্ছেমতো তোলা হয় যাত্রী। সিটে একজনের পরিবর্তে দুজন বসানোর পাশাপাশি ইঞ্জিন কাভারেও বসিয়ে যাত্রী বহন করা হচ্ছে।  

যদিও পরিবহন মালিকরা বলছেন, এ বিষয়ে তারা প্রতিনিয়ত চালক-শ্রমিক ও যাত্রীদের সচেতন করার কার্যক্রম চলমান রেখেছেন। আর চালক-শ্রমিকরা বলছেন, তারা সরকারি নির্দেশনা মেনে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে যেমন নজর রাখছেন, তেমন যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহারেরও পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যাত্রীরা সচেতন নন।

আর যাত্রীরা বলছেন, মহামারিকালে বাড়ানো ভাড়া তাদের কাছ থেকে আদায় করা হলেও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নিয়ে এখন আর কারো মাথাব্যাথা নেই। বরং লাঞ্ছিত হওয়ার শঙ্কায় গণপরিবহনগুলোতে এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে রাজি নন তারা।

সরেজমিনে বরিশাল নগরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও রুপাতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, অভ্যন্তরীল ও দূরপাল্লার রুটগুলোর বাসগুলোতে বিগত সময়ের চেয়ে যাত্রীর চাপ অনেকটাই কম। তবে যাত্রীদের নিজেদের যেমন স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই, তেমন টার্মিনালে থাকা শ্রমিক-চালক কেউই এ বিষয়ে নজর দিচ্ছেন না। এমনকী নেই কোনো স্বাস্থ্য কিংবা প্রশাসনিক দফতরের তৎপরতাও।

..তাই পাশাপাশি দু’টি সিট যেখানে একা ব্যবহার করার কথা সেখানে বাড়তি ভাড়া দিয়েও দু’টি সিটে দু’জন বসেই যাত্রা করছেন। আবার সরকারি-বেসরকারিসহ মধ্য দূরপাল্লার বাসগুলোতে যাত্রীদের ইঞ্জিন কাভারে গাদাগাদি করে বসিয়ে নেওয়া হচ্ছে।  

নগরের রুপাতলী বাস টার্মিনালের পটুয়াখালী রুটের এক বাসের চালক বলেন, যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহারের জন্য বলা হলেও কেউ পরেন কেউ পরেন না। চাপ দিলে কেউ বলেন ব্যাগের মধ্যে, নয়তো নিতে ভুলে গেছেন। আবার কেউ কানে শোনেন না এমন ভাবও করেন।

নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের অভ্যন্তরীণ রুটের বাসের এক হেলপার জানান, এমনও যাত্রী ওঠেন যাদের মাস্ক পরার কথা বললে তেড়ে আসেন।  

আর বাস মালিক সমিতির সদস্য লালন জানান, ভাড়া যেহেতু কমানোর কোনো নির্দেশনা এখনো পাননি, তাই বাড়তি ভাড়ায় নিয়ম মেনে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে বাসগুলোতে। তবে একই পরিবারের সদস্য হলে তারা আলাদা সিটে বসতে নারাজ থাকেন।

যদিও ভিন্ন কথা জানিয়েছেন এ রুটের নিয়মিত যাত্রী জামাল হাওলাদার। তিনি জানান, টার্মিনাল থেকে বাসগুলো অনেকটা সাজিয়ে-গুছিয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। কিন্তু মাঝপথ থেকে যাত্রী তুলতে তুলতে বাসের ভেতরে শারীরিক দূরত্ব বজায় থাকে না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পর  বিষয়টি সাংবাদিক, পুলিশকে জানানো হবে বললে তখন বাড়তি ভাড়ার টাকা ফেরত দেয়।

বরিশাল থেকে মঠবাড়িয়াগামী বাসের যাত্রী জুয়েল জানান, তিনি মঠবাড়িয়া থেকে যখন বরিশালে আসেন তখন শুরুতে বাস ফাঁকা থাকলেও পথে যাত্রী তুলতে তুলতে বাসটি যাত্রীতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। মাঝপথে কোথাও কোনো বাধা না থাকায় এসব যাত্রী নিয়ে বরিশালে আসে বাসটি।  

নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে বলেন, বাড়তি ভাড়া লোকাল গাড়ির জন্য কোনো সুবিধা বয়ে আনেনি। করোনার জন্য এমনিতেই বাসের যাত্রী কমেছে। জেলার অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে বাসের চেয়ে থ্রি হুইলারেই যাত্রীদের চাপ বেশি।  

এদিকে মাওয়া রুটের বাস ও মাইক্রোবাসে যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গাদাগাদি করে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি আমরা চালাই আমরা বলতেও পারছি না।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৩১ ঘণ্টা, আগস্ট ১২, ২০২০
এমএস/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa