ভ্রুক্ষেপ নেই করোনা নিয়ে, শিশুদের নিয়ে চলছে ঈদের কেনাকাটা

স্বপন চন্দ্র দাস, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ভ্রুক্ষেপ নেই করোনা নিয়ে, শিশুদের নিয়ে মার্কেটে

walton

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে পর্যায়ক্রমে করোনা ভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চললেও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই ঈদের বাজার করতে আসা ক্রেতাদের। বিপণি বিতানগুলোতে এসে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব না মেনেই পোশাকসহ ঈদ সামগ্রী কিনছেন হাজার হাজার ক্রেতা। এসব ঈদ মার্কেটে কোলের শিশুকেও সঙ্গে নিয়ে আসছেন মায়েরা। এতে করোনার সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কার পাশাপাশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে শিশুরা। 

শুক্রবার (১৫ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরের এসএস রোডের বিভিন্ন বিপণিবিতানে মানুষের ভিড় দেখা যায়। এসব মানুষের মধ্যে ৬-২৪ মাস বয়সী শিশুকেও কোলে নিয়ে আসতে দেখা গেছে মায়েদের। মার্কেটগুলোতে ২-১০ বছর বয়সী শিশুদেরও ভিড় রয়েছে।  

৮ মাস বয়সী শিশু কোলে নিয়ে তার জন্য পোশাক কিনতে এসেছেন সায়লা বেগম। কামারখন্দ উপজেলা থেকে আসা সায়লা বাংলানিউজকে বলেন, ঈদের আগে বাচ্চার কাপড় কিনতে হবে-এজন্যই এসেছি। বাচ্চার বাবা বিদেশে থাকে। এ কারণে আমাকেই আসতে হয়েছে। আর এত ছোট বাচ্চাকে কোথায় রেখে আসবো, তাই সঙ্গে নিয়ে এসেছি।

মাহমুদা খাতুন নামে অপর এক গৃহবধূ বলেন, ঈদে বাচ্চাদেরতো পোশাক দিতেই হবে। বাচ্চার শরীরে ম্যাচিং করে পোশাক কেনার জন্য বাচ্চাকে কোলে নিয়ে এসেছি।

মাহমুদুল, সাহিদা, আব্দুল বাতেনসহ অনেক ক্রেতাদেরকেই বাচ্চা কোলে নিয়ে ঈদের মার্কেটে দেখা যায়। জানতে চাইলে তারা জানান, বছরের একটা মাত্র দিনে সব বাচ্চাই নতুন পোশাকের জন্য অপেক্ষা করে থাকে। তাই করোনার ভয় উপেক্ষা করেই ঈদের পোশাক কিনতে এসেছেন তারা।
নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব না মেনে চলছে ঈদের কেনাকাটানিউ মার্কেটের রফিক বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, দোকানে ভিড় জমলে দূরুত্ব মেনে চলা আর সম্ভব হয় না। আবার ক্রেতাদের তাড়িয়েও দিতে পারি না। তবে সবাইকে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় থাকার জন্য সতর্ক করা হয়। 

সূচিত্রা ফ্যাশনের মালিক দিলীপ কুমার বলেন, আমরা দোকানে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রেখেছি। ক্রেতাদের সেটা ব্যবহারের জন্য বলা হচ্ছে। আর বাচ্চাদের নিয়ে যদি তারা দোকানে আসেন, আমরা কি করতে পারি।

ব্যবসায়ীরা বলেন, করোনার ভয় আর ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় নিয়েই আমরা দোকানদারি করছি। আমাদেরও-তো বাঁচতে হবে। দুই মাস দোকান বন্ধ ছিল। এখন ঈদ উপলক্ষে কিছুটা বেচা-কেনা করে পুষিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা।

সিরাজগঞ্জ স্বার্থরক্ষা সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নব কুমার কর্মকার বাংলানিউজকে বলেন, ঈদ মার্কেটগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার তোয়াক্কাই করছে না মানুষ। মানুষ সচেতন হচ্ছে না। এতে করে সামনে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে সিরাজগঞ্জের জন্য। আমরা সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেছি।
ভ্রুক্ষেপ নেই করোনা নিয়ে, মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) সিরাজগঞ্জ শাখার সভাপতি ডা. জহুরুল হক রাজা বাংলানিউজকে বলেন, করোনা ভাইরাসে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বয়স্করা। সেই শিশুদেরই মার্কেটে নিয়ে এসে ঝুঁকিটা বাড়ানো হচ্ছে। এসব শিশুর কোনো উপসর্গ দেখা দিলেও কিছু বলতে পারবে না। ফলে মারাত্বকভাবে ছড়িয়ে পড়বে করোনা ভাইরাস। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। 

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, শুধু শিশু নয়, যেভাবে মার্কেটে মানুষের ঢল নেমেছে তাতে বড়রাও আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. ফারুক আহম্মেদ বাংলানিউজকে বলেন, সিরাজগঞ্জে করোনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার রাতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮২৫ ঘণ্টা, মে ১৫, ২০২০
এসআরএস

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: সিরাজগঞ্জ করোনা ভাইরাস
বগুড়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
একা প্লেনে করে মায়ের কাছে ফিরলো পাঁচ বছরের বিহান
২০০ এতিম শিশুদের নিয়ে ঈদ উদযাপন
নজরুলজয়ন্তীতে ছায়ানটের নিবেদন
মঈনুল আহসান সাবেরের জন্ম
ইতিহাসের এই দিনে

মঈনুল আহসান সাবেরের জন্ম



চট্টগ্রামে ঈদের দিন করোনায় আক্রান্ত ১৭৯ জন
গান-আড্ডায় করোনা রোগীদের ঈদ উদযাপন ফিল্ড হাসপাতালে
প্লেন চালুর শুরুতেই ধাক্কা ভারতে, একের পর এক ফ্লাইট বাতিল
দেশবাসীকে ঘরে থাকার আহবান খালেদা জিয়ার
নারায়ণগঞ্জে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত