সমগ্রেই আছো তুমি...

দীপন নন্দী, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান

walton

ঢাকা: বন্ধু আনিসুজ্জামানকে নিয়ে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক লিখেছিলেন, ‘বন্ধু তুমি মননের বটবৃক্ষ এই বাংলাদেশে/স্বদেশ মানুষ ভাষা- সময়ের তুমি স্বপ্নবান/সমগ্রেই আছো তুমি, নন্দিত হে স্বদেশ বিদেশে...’। বাংলাদেশের সব আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে বুদ্ধিদীপ্ত যতো আয়োজন, তার মধ্যমণি ছিলেন তিনি। গুণী এ মানুষটিকে হারিয়ে শোকে মূহ্যমান দেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষেরা।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। মূলত বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু হলেও রাতেই জানা যায়, তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। 

সে কারণে সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা বাতিল করে শুক্রবার (১৫ মে) সকালে করোনা বিষয়ক স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাজধানীর আজিমপুর গোরস্থানে বাবার কবরে দাফন করা হয় আনিসুজ্জামানকে।

গুণী এ মানুষটির মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী তার নেতৃত্বদানের গুণ উল্লেখ করে বাংলানিউজকে বলেন, জাতির সব সংকট মুহূর্তে আনিসুজ্জামানকে সামনের সারিতে দেখেছি। অনেক আন্দোলনে তিনি নেতৃত্বও দিয়েছেন।
 
‘রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তার দায়বদ্ধতা বিরল পর্যায়ের। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠান তার কাছে গভীরভাবে ঋণী।’ 

ছায়ানটের সভাপতি সন্‌জীদা খাতুন বলেছেন, আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং নব্বইয়ের স্বৈরশাসন বিরোধী সংগ্রামে তার উজ্জ্বল উপস্থিতি আমাদের প্রাণিত করেছে। তিনি ছিলেন ছায়ানটের শুভানুধ্যায়ী এবং বিশেষ বন্ধু।

কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ড. আনিসুজামান সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ নিয়ে অসাধারণ কাজ করেছেন। চিন্তার গভীরতা, ভাষার ধার- দুটিই রয়েছে তার লেখায়। মননশীল লেখাকেই তিনি পরিণত করেছেন সৃজনশীল রচনায়। খুব সহজেই বলে ফেলতে পারেন কঠিন কথাটি। তিনি যখন কথা বলেন সেখানেও থাকে সৃজনশীলতা। চমৎকারভাবে কথা সাজানোয় তার দক্ষতা রয়েছে।
 
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী বলেন, তিনি আমাদের জাতীয় চেতনার বাতিঘর হিসেবে কাজ করেছেন। আমাদের সব আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সাহস ও শক্তি যুগিয়েছেন। বাংলাদেশের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে তার রয়েছে অনবদ্য ভূমিকা। তার মতো একজন গুণী শিক্ষাবিদের মৃত্যু দেশ ও জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বলেন, আনিসুজ্জামান ছিলেন শেষ মানুষ, যিনি আমাদের সংকটে-সংগ্রামে সাহস যোগাতেন। রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সব বিষয়ে তিনি পরামর্শ ও নির্দেশনা দিতেন। এখন আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা থাকলো না।

‘করোনা পরবর্তীকালে পরিস্থিতি জটিল হবে। বেঁচে থাকলে সে সময়ে জাতির জন্য তিনি পরামর্শক হিসেবে থাকতেন। করোনার পরবর্তীকালে মৌলবাদী শক্তি নতুন করে মাথা চাড়া দিতে পারে। এর জন্য নতুন সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এমন সময় আমাদের অভিভাবক হিসেবে তাকে অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল।’

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, আনিস স্যারের চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণ করা সম্ভব নয়। শারীরিক মৃত্যু হলেও তার অসাম্প্রদায়িক চেতনার মৃত্যু হয়নি। তার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা আগামী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হবে। সরাসরি শিক্ষক না হয়েও, জীবনের ও মানবিক চেতনাবোধের শিক্ষক তিনি। সময়ের আধুনিক মানুষ। যিনি সব সময় হেঁটেছেন শুভ ও কল্যাণের পথে।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৬২০ ঘণ্টা, মে ১৫, ২০২০
ডিএন/এইচজে

শ্রীমঙ্গলে করোনায় পৌর কাউন্সিলরের মৃত্যু
করোনায় লাখো মৃত্যুর দেশের ছুটির দিন!
ইসলামপুর ইউএনওসহ ৪ উপজেলায় করোনায় নতুন আক্রান্ত ১৩ 
চলে গেলেন ডেপুটি স্পিকারের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম
ছুটি নেই করোনা ল্যাবে নিয়োজিতদের


গোদাগাড়ীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর মৃত্যু
ফাঁকা খাগড়াছড়ির পর্যটন স্পট
সাবেক প্রতিমন্ত্রী নুরুল ইসলাম মনজুর আর নেই
নওগাঁয় ৬৮ কেজি গাঁজাসহ তিন বিক্রেতা আটক
সালমান খানের ঈদের গান ‘ভাই ভাই’ প্রকাশ্যে