php glass

কূটনীতিক তৎপরতার অন্যরকম একটি বছর

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

অন্যদেশ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক ব্যস্ততার অন্যরকম একটি বছর কাটালো বাংলাদেশ।

ঢাকা: অন্যদেশ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক ব্যস্ততার অন্যরকম একটি বছর কাটালো বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রকে আস্থায় রাখা এবং চীন ও ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যমূলক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে সরকারের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। এর বাইরে জাপান ও রাশিয়াসহ ইউরোপীয় কয়েকটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর ওপরও এই বছর নজর দেয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার।

এছাড়া জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় উল্লেখ করার মতো ভূমিকা রাখায় বিশ্বের নজর কাড়ে বাংলাদেশ। বাঘ সম্মেলন এর বড় একটি উদাহরণ।  

২০১০ এর শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর বছরজুড়েই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়া চীন ও জাপান সফর এবং জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিশেষ বৈঠকে শেখ হাসিনার বক্তব্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে সমুন্নত রাখতে সহায়তা করে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের বাইরে বছরের শেষে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার চীন সফরও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবেই চিহ্নিত হয়।  

১০ জানুয়ারি চারদিনের সফরে নয়াদিল্লি যান শেখ হাসিনা। মহাজোট সরকার গঠনের এক বছরের মাথাতেই এ সফর ছিল খুবই আলোচিত ইস্যু। এ সফরে করা চুক্তি ও আলোচনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়েই বছরের পরবর্তী দিনগুলোতে ব্যস্ত থাকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো।

বিশেষ করে উত্তরপূর্ব ভারতের ত্রিপুরার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য মালামাল পরিবহনের ওডিসি চুক্তি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ইস্যু তৈরি করে।

শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করা যৌথ ইশতেহারে ভারত ছাড়াও আঞ্চলিক পর্যায়ে নেপাল ও ভুটানকে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর এবং ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়ার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ।

নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ১১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দু’দেশের রাজননৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, ভৌগোলিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব সমস্যাই আলোচনায় আসে।

বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্তের আলোকেই মঙ্গলবার ৫০ দফা যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের সমুদ্র, রেল ও নৌপথ ব্যবহার করবে।

ভারতও ওই ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে সড়কপথে ট্রানজিট দিতে রাজি হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান থিম্পু ও কাঠমান্ডু সফর করেন।

এছাড়া হাসিনা-মনমোহনের ইশতেহার অনুযায়ী বাংলাদেশের সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে একশ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দিয়েছে ভারত। অন্য রাষ্ট্রকে দেওয়া এটিই ভারতের বড় অংকের কোনো ঋণ। ঢাকায় প্রণব মুখার্জির উপস্থিতিতে ৭ আগস্ট এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

ভারতের এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংকের দেওয়া এ চুক্তির অর্থে বিভিন্ন সরঞ্জাম ভারত সরকার ও তাদের ঠিকাদারদের পরামর্শেই কিনতে হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে বাংলাদেশের নৌপথ ও সড়কপথ ভারতকে ব্যবহার করতে দেওয়ার ব্যাপারে অক্টোবরে দু’দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বারিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ভারত তাদের ত্রিপুরা রাজ্যের পালাটানা বিদ্যুকেন্দ্র স্থাপনের জন্য ভারি যন্ত্রাংশ পরিবহনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথ ও সড়কপথ ব্যবহার করতে পারবে।

এ ব্যাপারে নৌ সচিব আবদুল মান্নান হাওলাদার জানান, ‘ওই সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী শুধু ত্রিপুরায় ৯৬টি ওভার ডাইমেনশনাল কার্গো নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হবে।’

ভারত সফরের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরও সরকারের কূটনৈতিক ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। মার্চের ১৭ তারিখে ৫ দিনের সফরে শেখ হাসিনা বেইজিং সফরে যান। সেখানে মহাগণভবনে চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন চিয়া পাওয়ের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক ও চুক্তি স্বারিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ওই সফরে দু’দেশের মধ্যে তিনটি চুক্তি ও একটি সমঝোতা স্মারক স্বারিত হয়। চীনের সঙ্গে স্বাক্ষর করা চুক্তিগুলো হলো- অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহযোগিতা চুক্তি, শাহজালাল সার কারখানা নির্মাণে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি, সপ্তম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ চুক্তি।

এছাড়াও বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে তেল ও গ্যাস খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারকও স্বারিত হয়েছে।  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফর মহাজোট সরকারের জন্যও একটি বিশেষ ঘটনা। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বাস্তবমুখী নানা নীতি গ্রহণ করায় চীনও বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরের তিন মাসের মধ্যেই জুন মাসের মাঝামাঝিতে ঢাকা সফরে আসেন চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং।

তার দু’দিনের ঝটিকা সফর দণি-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বও বাড়ায়। সরকারের সংশ্লিষ্টরা ছাড়াও কূটনৈতিক মহল মনে করছে, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন অনেক ভাল।

চীনের কুনমিং থেকে মিয়ানমার হয়ে সড়ক সংযোগ প্রতিষ্ঠা, প্রথমবারের মতো মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎপেণ ও চট্টগ্রামের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে চীন সবুজ সংকেত দিয়েছে।

চীন বিনা শর্তে দিয়েছে ৪০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের সময় দিয়েছে ৬০ কোটি টাকা। পুরোটাই নগদ অনুদান। এর বাইরেও যোগাযোগ অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ, শিা, প্রতিরা, সংস্কৃতি ও কৃষি েেত্র আরো সহায়তার অঙ্গীকার করেছে চীন।  

যদিও একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর চার বছর পর্যন্ত চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে বেইজিং। তবে এসব ইস্যু এখন অতীত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরও দেশের কূটনীতিতে একটি স্মরণীয় ঘটনা। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ২৮ নভেম্বর জাপানের রাজধানী টোকিও যান শেখ হাসিনা। তিনি সেখানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওতো কানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন।

প্রায় পাঁচ বছর পর দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শেখ হাসিনার সঙ্গে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। শেখ হাসিনা ও নাওতো কানের শীর্ষ বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম অংশীদার জাপান পদ্মা সেতু নির্মাণে বাংলাদেশকে ৪০ কোটি ডলার ঋণসহায়তা দেওয়ার কথা জানায়।

এছাড়া দ্বিপীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করতে বাংলাদেশি পণ্য, বিশেষ করে নিটওয়্যার রপ্তানির েেত্র ‘রুলস অব অরিজিন’ শিথিল করার আশ্বাস দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার ল্য বাস্তবায়নেও জাপান সামগ্রিকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

২০১০ সালে আঞ্চলিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের আরেকটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপের ঘটনা পাকিস্তানকে নিয়ে। ২ নভেম্বর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের ‘ফরেন অফিস কনসালটেশনে’ পাকিস্তানকে ১৯৭১ সালের বর্বরতার জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান হানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বর্বর গণহত্যার জন্য দেশটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মা চাইতে হবে।’ তবে ওই বৈঠকেই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব জানান, ‘অমীমাংসিত সব রাজনৈতিক ইস্যুতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ পাকিস্তানের রয়েছে।’

এর বাইরে কূটনীতিতে ২০১০ সালের অপর একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চীন সফর। বেগম খালেদা জিয়া সরকার ও বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় এ পর্যন্ত মোট আট দফা চীন সফর করেন।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণেই তিনি ছয় সঙ্গীসহ ১৮ থেকে ২৩ ডিসেম্বর পাঁচদিনের সফরে যান তিনি। এ সময় তিনি চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝি জিং পিংসহ কমিউনিস্ট পার্টির কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন।

এসময় তিনি আধুনিক গভীর সমুদ্রবন্দর তায়ানজিনসহ দেশটির বিভিন্ন পর্যটন স্থান পরিদর্শন করেন। খালেদা জিয়ার চীন সফর গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলেই মনে করেন জাতীয়তাবাদী কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ সময়: ২০১৯ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩১, ২০১০

নেত্রকোণাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন কিশোরগঞ্জ
‘খালেদা জিয়ার জামিন ঠেকানো নিয়ে ব্যস্ত সরকার’
দশ বছর পর ছোট পর্দায় ফিরছেন পার্নো মিত্র
করণীয় ঠিক করতে বৈঠকে বিএনপি
হল থেকে বহিরাগত আটক, চবি শিক্ষার্থীকে শোকজ


পুড়ে যাওয়া ছোট ভাইকে নিয়ে বেরিয়েছেন বড় ভাই
উদাসীনতায় ও আইনের প্রয়োগ না হওয়ায় নির্মাণ ঝুঁকি কমছে না
নানা আয়োজনে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস- ২০১৯ উদযাপন
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফর বাতিল
ব্যবসায়ীর চেক ছিনতাই!