php glass

ফিরে দেখা ২০১০: ঘটনাবহুল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

রাজশাহী তথা দেশের আলোচিত ঘটনারগুলোর মধ্যে একটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।  নতুন বছরে পদার্পনের আগে একটু ফিরে দেখা যাক, ২০১০ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাগুলোর দিকে-

রাবি: রাজশাহী তথা দেশের আলোচিত ঘটনারগুলোর মধ্যে একটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।  নতুন বছরে পদার্পনের আগে একটু ফিরে দেখা যাক, ২০১০ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাগুলোর দিকে-

রাবিতে ছাত্রলীগের কমিটি
দীর্ঘ ৬ বছর পর নতুন নেতৃত্ব আর দলকে চাঙ্গা করার লক্ষে ২৭ জানুয়ারি ২০১০ অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখার কাউন্সিল। ক্যাম্পাসের সাবাস বাংলাদেশ মাঠে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে কনসার্টে মন মাতান জেমস ও আইয়ুব বাচ্চু।  ২৮ জানুয়ারি বুধবার রাতে  রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার রোটনের উপস্থিতিতে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ১০১ সদস্য কমিটির আওয়াল কবির জয়কে সভাপতি ও মাজেদুল ইসলাম অপুকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়।

এরপর শুরু হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নতুন সাংগঠনিক কার্যক্রম। এ ঘটনার পর ছাত্রশিবির নিজেদের আধিপত্যকে টিকিয়ে রাখার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৮ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে ভয়ানক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে শিবির এবং ছাত্রলীগের মধ্যে। ক্যাম্পাস পরিণত হয় রণক্ষেত্রে।
৮ ফেব্রুয়ারির সেই ভয়ানক চিত্র:

বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের কর্মী আসাদুর রহমান ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাত ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের উদ্দেশে রওনা হন। হলে ঢোকার সময় হল গেটের সামনেই শিবির নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে ধরে শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান নোমানীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত করে। পাশাপাশি শিবির নেতাকর্মীরা তাকে ওই হলের অনাবাসিক ছাত্র হিসেবে অভিযুক্ত করে হলে উঠতে বাধা দেয়। এ নিয়ে প্রথমে শিবির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার ও সঙ্গে থাকা ছাত্রলীগের অপরকর্মী কাওসার আলমের বাকবিতণ্ডা হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ছাত্রশিবিরের ১০/১৫ জন কর্মী তাদের চাপাতি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
এ ঘটনা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি ছাত্র হলেই ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঘটনার সূত্রপাত বঙ্গবন্ধু হলসহ নবাব আবদুল লতিফ হল ও শহীদ হবিবুর রহমান হলে তলাশি চালিয়ে পুলিশ ১৩ জন শিবিরকর্মীকে আটক করে।

এদিকে শিবির কর্মীদের আটকের খবর পেয়ে বিভিন্ন হল থেকে শিবিরের প্রায় দুই শতাধিক কর্মী সশস্ত্র অবস্থায় হলে অবস্থানরত ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। শিবিরের এলোপাথাড়ি হামলায় বিভিন্ন হলের প্রায় অর্ধশত ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হয়। এ সময় তারা হবিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগ কর্মী বাদশা, লতিফ হলের ফিরোজ ও অপর ছাত্রলীগ কর্মী রুহুল আমীনের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে তারা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত ২২১, ২২২, ২২৬ কক্ষ থেকে শুরু করে ২৩৬ নম্বর কক্ষগুলোতে একটানা ভাঙচুর চালায়। পরে ওই হলের ২৭৫ এবং ২৭৬ নম্বরের কক্ষ দুটি ভাঙচুর শেষে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।

ছাত্রশিবিরের ক্যাডারদের সশস্ত্র হামলায় সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় মুহুর্মুহু গুলির শব্দে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। এ সময় শিবিরের হামলায় নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ও গণিত বিভাগের শেষবর্ষের ছাত্র ফারুক হোসেন।

সংঘর্ষ শেষে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ এসএম হল সংলগ্ন সৈয়দ আমীর আলী হলের সেফটি ট্যাংকের নর্দমা থেকে ফারুক হোসেনের লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের আইজিপি নূর মোহাম্মদ ও স্বরাষ্ট্রপ্রতিমত্রী শামসুল হক টুকু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং দেশব্যাপী চিরুনি অভিযানের ঘোষণা দেন। এদিকে ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে হলে হলে শিবিরের সশস্ত্র হামলা ও ছাত্রলীগ কর্মী খুনের ঘটনায় মতিহার থানায় একটি হত্যাসহ ১৪টি মামলা দায়ের হয়।
মামলাগুলোতে রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির আতাউর রহমান, রাবি শিবির সভাপতি শামসুল আলম গোলাপসহ রাজশাহীতে জামায়াত-শিবিরের দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আতঙ্কে ওই সময় থেকে শিবির নেতাকর্মীরা পলাতক রয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পলাতক থাকা শিবির নেতাকর্মীদের শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় এবং রাজশাহীতে জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো এখনো প্রত্যাহারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।  


ছাত্রলীগের আধিপত্য বিস্তারের কালো অধ্যায়

শোকার্ত ১৫ আগস্ট

দলীয় কোন্দল ও ইফতারের টোকেন ভাগাভাগির জের ধরে ১৫ আগস্ট এসএম হলে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আউয়াল কবির জয়ের সমর্থকরা সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম অপুর সমর্থক নাসীমকে হাতুড়ি, লোহার রড দিয়ে মারধর করে দোতলা থেকে ফেলে দেয়। সিমেন্টের ড্রেনের মাঝখানে পড়ে নাসিম মাথা, বুক ও মেরুদণ্ডসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে গুরুতর আঘাত পান। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর ওই দিনই তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

টানা ৮ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর নাসিমের মৃত্যু হয়। নাসিম ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে নাসিমের বাবা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। জাতীয় শোক দিবসে আরেকটি শোকদিবসের জন্ম হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর আগে ৭ আগস্ট রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলিতে এক কর্মী গুলিবিদ্ধসহ ১০ কর্মী আহত হয়। ওই ঘটনায় থানায়  পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা দায়ের হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ওই দিনই রাবি ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত করে। পুলিশ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদককে গ্রেপ্তার করে।  ফলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত হয়।

এদিকে ৭ আগস্ট ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়। মামলায় পুলিশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতৃত্বশূন্য হয়ে রয়েছে।

সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো একটি আলোচিত ঘটনা। দীর্ঘ ১২ দিন একটানা প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সান্ধ্যকালীন কোর্স বাতিল করতে বাধ্য হয়।  

ডাইনিংয়ে খাবারের মূল্য বৃদ্ধি
প্রভোস্ট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৭ ডিসেম্বর থেকে হলের খাবারের মূল্য ৭ টাকা বাড়ানো হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ডাইনিংয়ে খাবারের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলনে করে শিক্ষার্থীরা ও প্রগতিশীল ছাত্রজোট। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে হামলা করে ছাত্রলীগ।  ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়েও ব্যর্থ হয়। এছাড়া শেরে বাংলা ফজলুল হক হলের খাবারে ইঁদুর পাওয়ার ঘটনা ২০১০ সালে ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।  

এসব ঘটনার মধ্যেই থেমে থাকে নি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। মানুষ গড়ার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ এটি। তাই, ৮ জুলাই বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের  ৫৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।  শিক্ষামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, সাংসদ, সিটি মেয়রসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে দিনটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে স্মরণীয় একটি ঘটনা।

এভাবে একটি ঘটনাবহুল বছর পার করলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। অনেক চড়াইউৎরাই পেরিয়ে ২০১০ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছিল অনেকটাই শোকার্ত!

বাংলাদেশ সময়: ১৯০০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩১, ২০১০

ডিসি হিল সংস্কৃতিচর্চার জন্য উন্মুক্ত করার দাবি
বিশ্বকাপ নয়, আপাতত বিপিএল নিয়েই ভাবছেন সানি
ধরে নিয়ে যাওয়া ২ জেলেকে ফেরত দিলো বিএসএফ
মৌসুমের শুরুতেই ভোলায় জেঁকে বসেছে শীত
মঞ্চ প্রস্তুত, উদ্বোধনের অপেক্ষা


চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মাহফুজুর রহমান খান
ঢাকায় তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির মহাসমাবেশ ৩ এপ্রিল
সন্তানকে বাঁচাতে পারলেও মারা গেলেন বাবা
বরিশালে ই-নামজারি বিষয়ক কর্মশালা
বান্দরবান পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেহাল দশা