php glass

ফুল ছড়ানো পথেই আসে নতুন বছর

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

শুভেচ্ছা জানাতে, কোনো আনন্দ অনুষ্ঠান সফল করতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় যে জিনিস, তা হলো ফুল। আদিকাল থেকেই মানুষ ফুলের প্রেমে মগ্ন। খুশির খবর জানানো, বরণ করে নেওয়া অথবা প্রিয় মানুষের কাছে মনের আবেগ প্রকাশের জন্যও মানুষ ফুলের ওপরই নির্ভরশীল।

ঢাকা: শুভেচ্ছা জানাতে, কোনো আনন্দ অনুষ্ঠান সফল করতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় যে জিনিস, তা হলো ফুল।

আদিকাল থেকেই মানুষ ফুলের প্রেমে মগ্ন। খুশির খবর জানানো, বরণ করে নেওয়া অথবা প্রিয় মানুষের কাছে মনের আবেগ প্রকাশের জন্যও মানুষ ফুলের ওপরই নির্ভরশীল। আর আধুনিক যুগে যে কোনো উৎসবেই যেন ফুল হয়ে উঠেছে অপরিহার্য। ফুল ছাড়া কোনো উৎসবই যেন সফল হয়ে ওঠে না। বৈশাখ, বসন্ত কিংবা বর্ষার অনুষ্ঠানে মেয়েদের বাহারি পোশাকের পাশাপাশি গলায় আর খোঁপায় ফুলের সজ্জা না থাকলে কি জমে! তাছাড়া বিয়ে, জন্মদিন, সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামসহ যে কোনো অনুষ্ঠানে ফুল ছড়িয়ে দেয় এক আলাদা আভা, আলাদা পরিবেশ।

আজকের সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে আরও একটি বছর। পুরনো ক্যালেন্ডারের জায়গা দখল করে নেবে নতুন ক্যালেন্ডার। নতুন বছরে কেউ বলবে বয়স বাড়লো, কেউ বলবে বয়স কমলো। বয়স বাড়–ক আর কমুক, যাই হোক না কেন, নতুন বছরকে বরণ করে নিতে কারো উৎসাহের কমতি নেই। চলছে হাজারো আয়োজন, নতুন বছরকে বরণ করে নিতে।

বরণের এই উৎসবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হবে ফুল। রাজধানীর গুলশান, বেইলী রোড, কাঁটাবন, ধানমণ্ডি আর ঢাকার ফুলের সবচেয়ে বড় বাজার শাহবাগ ঘুরে ঘুরে সেই কথাই যেন আরও একবার প্রমাণিত হতে দেখা গেল শুক্রবার।

গুলশান ১ এর অভিজাত ফুলের দোকানের নাম হলো ফার্নস অ্যান্ড প্যাটেল। ফার্নস অ্যান্ড প্যাটেলের তত্ত্বাবধায়ক ইশরাত জাহান মহুয়া বাংলানিউজকে জানান, তাদেও দোকানে ফুল আসে চীন এবং থাইল্যান্ড থেকে। এখানে লিলির একটি স্টিক বিক্রি হয় ২৫০ টাকায়, ১টি গোলাপ ৮০ টাকায়, কার্নেশন ৪০ টাকায়, জারবেরা ১টি ৪০ টাকায়, ইউসটোমা এবং ক্রিসেন্ট সিমাম ১টির দাম ১২০ টাকা।

নানা রকম বাহারি রঙের ফুল দিয়ে তৈরি ঝুড়ি বিক্রি হয় ৮০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত। তবে কেউ যদি এর বেশি দিয়েও তৈরি করতে চান তাহলে তার চাহিদা অনুযায়িও ঝুড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়।

ইশরাত জাহান মহুয়া বলেন, নতুন বছর উপলক্ষে বৃহষ্পতিবার তাদের বিক্রি হয়েছে ৬০ হাজার টাকার ফুল। শুক্রবারের চেয়ে আগামীকাল শনিবারই বেশি ফুল বিক্রি হবে বলে তিনি মনে করেন। কারণ, নতুন বছরের প্রথম দিনটিতেই একজন আরেকজনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাবে। সাধারণত অভিজাত ফুলের এই দোকানটি রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও আজ রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকবে বলে তিনি জানান। ফার্নস অ্যান্ড প্যাটেলের ঠিকানা, ৫২, ডে গ্যালারিয়া, গুলশানÑ ১।

নাটক পাড়া বেইলী রোডে এই কিছু দিন আগেও ফুলের বেশ কিছু দোকান ছিল। কিন্ত সেখানে এখন মার্কেট হওয়ার কারণে ফুলের দোকানটি বসেছে ফুটপাতের ওপর। যেমন- অপরাজিতা। বেইলী রোডের একটি বিখ্যাত ফুলের দোকান। অপরাজিতা দোকানটি ভেঙে দেওয়ার পর এখন তারা মাথার ওপরে একটি ত্রিপল টাঙিয়ে দোকান সাজিয়ে বসেছে। তবে নতুন বছর উপলক্ষে তাদের বিক্রি যে কম নয় সেটা অপরাজিতায় গিয়েই বোঝা গেল।

বেইলী রোডের আরেকটি দোকান হলো মহুয়া পুষ্পালয়। মহুয়া পুষ্পালয়ের স্বত্ত্বাধিকারী মো আব্দুল খালেক বাংলানিউজকে জানান, তার এখানে গোলাপ, জারবেরা, কার্নেশন, রজনীগন্ধা, জিপসি ও গ্লাডিওলাস বিক্রি হয়। তিনি বলেন, ৩/৪ বছর আগেও রাত ১২ কিংবা ১টা পর্যন্ত দোকনা খোলা রাখতেন। কিন্তু এখন রাত ৮টার পরই পুলিশ এসে দোকান বন্ধ করে দেয়। এতে বিক্রি অনেক কমে গেছে বলেও জানান তিনি।

তিনি জানান, গত বছর তিনি থার্টি ফার্স্ট উপলক্ষে ৯৫ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করেছিলেন। এবার কতো বিক্রি হবে তা এখনো বলতে পারছেন না। তিনি বলেন, এটাতো ভাগ্যের উপর নির্ভর করে। তবে তিনি দোকানে প্রায় ৭৫ হাজার টাকার বেশি ফুল দোকানে তুলেছেন। বেইলী রোডের ফুলের দোকানগুলোতে গোলাপ বিক্রি হয় একেকটি ১০ টাকায়, একটি রজনীগন্ধার স্টিক ৮ টাকায়। আবার ফুলের তোড়া ডিজাইন ভেদে বিক্রি হয় ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। তবে কেউ যদি চায় তাহলে তার ইচ্ছামতো ফুল দিয়েও তোড়া তৈরি করে দেওয়া হয়।

কারা বেশি ফুল কেনে জানতে চাইলে আব্দুল খালেক বলেন, সাধারণত তরুণ-তরুণী, কিশোর কিশোরীরাই ফুল কিনতে আসে এদিন। এ ছাড়াও অনেক বড় বড় অফিসে তারা ফুল সরবরাহ করেন বছরের প্রথম দিনটিতে।

তিনি বলেন, মহুয়া পুষ্পালয় হোম ডেলিভারিও দিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে রাত ১২টা ১ মিনিটে তারা নির্দিষ্ট স্থানে ফুল পৌছে দিয়ে আসেন। ধানমণ্ডি এবং উত্তরাতে ফুল পৌঁছে দিতে খরচ পড়বে ৪০০ টাকা, মিরপুরে ৫০০ টাকা এবং বেইলী রোডের আশেপাশের এলাকাতে খরচ পড়বে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা।

ফুলের সবচেয়ে বড় বাজারটি অবস্থিত শাহবাগে। এখানে রয়েছে অসংখ্য ফুলের দোকান। মাধুকরী ফুলঘর, সানফাওয়ার পুষ্প কেন্দ্র, ফুলতলা ফাওয়ার শপ, মেহেরাব পুষ্পালয়, শ্রাবন্তী পুষ্পালয়, নিউ অপরাজিতা ফুল ঘর, নাঈম ফাওয়ার ওয়ার্ল্ডসহ এমন অসংখ্য দোকান রয়েছে ফুলের।

শাহবাগ বটতলা ছিন্নমুল ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি মো. মাজিন বাংলানিউজকে বলেন, আজ এবং আগামীকাল দু’দিনই বিক্রি হবে অনেক। তবে সেই বিক্রিটা শুরু হয় বিকাল থেকে।

কতো টাকার মতো বিক্রি হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১০ লাখ টাকা টার্গেট। তবে সেটা বেড়ে ১৫ লাখের মতোও হতে পারে। কোন ফুল বেশি বিক্রি হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশি ফুলগুলোই বেশি চলে। কারণ এই ফুলগুলো সবাই চেনে এবং দামেও কিছুটা কম। তবে বিদেশি ফুলের চাহিদাও কম নয়। সাধারণত বড় বড় হোটেল যেমন- শেরাটন, সোনারগাঁ, হোটেল ওয়েস্টিন, রেডিসন হোটেল, হোটেল পূর্বানী, দরবার হলের অনুষ্ঠানগুলোর জন্য আজ বিদেশি ফুলের চাহিদা থাকবে বেশি। আবার ধানমণ্ডি, গুলশান, বারিধারায় যে বিদেশিরা থাকেন তারাও বিদেশি ফুল কিনতে আসবেন সন্ধ্যার পরে।

বাজার ঘুরে দেখা গেল, সবচেয়ে বেশি চলা ফুলগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্লাডিওলাস। সাদা, কমলা, বিস্কিট, গোলাপী, বেগুনি, নীল এবং লাল এই সাত রঙের গ্লাডিওলাস সবার পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। তারপরই রয়েছে লাল গোলাপ এবং তারপর সুবাস ছড়ানো সাদা ধবধবে রজনীগন্ধা।

শাহবাগের ফুলের বাজার ঘুরে দেখা গেল, এখানে বিভিন্নভাবে ফুল বিক্রি হয় ৭০ থেকে ২৫০ টাকায়, ওয়ান সাইড ঝুড়ি বিক্রি হয় ৩৫০ থেকে ১০০০ টাকায়, রিং ঝুড়ি বিক্রি হয় ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকায়, ফাট ঝুড়ি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়, হ্যান্ডেল ঝুড়ি ২৫০ থেকে ৫০০ টাকায় আর টেবিল ঝুড়ি ৩৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকায়। দেশি ফুল আসে যশোরের গৎখালী আর সাভার থেকে। সেখানে এসব ফুল বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ হয়। আর বিদেশি ফুল আসে থাইল্যান্ড, চীন, ভারত এবং মালেশিয়া থেকে।

তবে ফুল ব্যবসায়ীদের কাছে তাদের আশার কথা শোনার পাশাপাশি শোনা গিয়েছে হতাশার কথাও। শাহবাগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রেতা জানান, অনেক ছাত্র নেতারাই বাকিতে অনেক ফুল নেয়। রাত ১২টায় তারা আসবে দল বেঁধে। কতো ফুল যে তাদের বাকিতে আজ দিতে হবে, সেই চিন্তা করছেন অনেকেই।

কারা এই ছাত্ররা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন যার ক্ষমতায় আছে, সেই সোনার ছেলেরাই আসে। আবার বিএনপির সময়ে আসে তাদের ক্যাডাররা।

আবার অন্য কথাও আছে। করবী পুষ্পালয়ের বিক্রেতা সোহেল জানান, রাতে নিরাপত্তার কথা ভেবে যদি টিএসসির রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলেও তাদের বিক্রি কমে যাবে। এসব ভেবেই তারা অনেকটা শংকিত।

বাংলাদেশ সময় : ১৭৩৬ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩১, ২০১০

বিপিএল-পিএসএলে ফিক্সিংয়ের কথা স্বীকার করলেন জামশেদ 
‘সোনার তরী’ ও ‘অচিন পাখি’ আসছে ডিসেম্বরেই
‘দাদার হত্যাকারীর বিচার দেখে গেলে বাবা স্বস্তি পেতেন’
জঙ্গি দমনে ‘অলআউট’ প্রচেষ্টায় অনেকটা সফল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সিলেটে ছেলের হাতে মা খুন


নরসিংদীতে পাটকল শ্রমিকদের আমরণ অনশন শুরু
কটিয়াদীর ফটিক হত্যার সব আসামি খালাস
এ ফুল শ্রদ্ধার ও ভালোবাসার
পাকুন্দিয়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শিশু নিহত
ট্রেলার নিয়ে এলো দীপিকার আলোচিত সিনেমা ‘ছপাক’