php glass

জিম্মি নাবিকের পিতার আর্তি

আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলুন ছেলে ফিরতে কতদিন লাগবে?

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

‘আমার একটি মাত্র ছেলে, আমি মনকে আর সান্ত্বনা দিতে পারছি না। বিশ্বাস করুন, ছেলের আশায় আমি এখন মাযারে মাযারে ঘুরছি। আমি জানি আপনারা অনেক চেষ্টা করছেন।

চট্টগ্রাম: ‘আমার একটি মাত্র ছেলে, আমি মনকে আর সান্ত্বনা দিতে পারছি না। বিশ্বাস করুন, ছেলের আশায় আমি এখন মাযারে মাযারে ঘুরছি। আমি জানি আপনারা অনেক চেষ্টা করছেন। কিন্তু আমার ছেলের জীবন তো এখন আল্লাহ’র হাতে। আল্লাহকে সাী রেখে দয়া করে একবার বলুন,আমার ছেলের ফিরতে আর কতদিন লাগবে।’

এ আকুতি সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে ছিনতাই হওয়া বাংলাদেশি জাহাজ এমভি জাহান মণিতে জিম্মি এক নাবিকের পিতার। তার সঙ্গে কান্নারত অসহায় আরও শত স্বজনের অভিব্যক্তিও একই। তবে এ আকুতির জবাবে জাহাজমালিকের বক্তব্য শুধু একটাই, ‘ধৈর্য্য ধরুন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

ছিনতাইয়ের ২৬ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর সেন্টমার্টিন হোটেলে জাহাজে জিম্মি নাবিকদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সাাতের আয়োজন করেছিল জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান ব্রেভ রয়্যাল শিপিং ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। অসহায় ওই পিতার মতো উদ্বেগাকুল শত স্বজনের কান্না আর আর্তিতে এসময় সৃষ্টি হয় শোকাবহ পরিবেশের।

নাবিকদের পরিবারের সঙ্গে সাাতের সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রেভ রয়্যালের মালিক প্রতিষ্ঠান কবীর স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো.শাহজাহান, ব্রেভ রয়্যালের মহাব্যবস্থাপক মেহেরুল করীম এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণাালয়ের পে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রিন্সিপ্যাল অফিসার ক্যাপ্টেন হাবিবুর রহমান ও সেইলরস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক নাফিজুল কাদের।

স্বজনদের কান্নার সময় তাদের সান্ত্বনা দিয়ে মো. শাহজাহান বলেন, ‘আপনারা তো একদিকে শোকার্ত। আমি দু’দিকেই শোকার্ত। আমার জাহাজও গেছে, সন্তানের মতো অফিসাররাও গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। জলদস্যুরা কি পরিমাণ মুক্তিপণ দাবি করেছে দয়া করে এ প্রশ্ন কেউ আমাদের করবেন না। শুধু বিশ্বাস রাখবেন, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

ক্যাপ্টেন হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সরকারও সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা সবসময় মালিকপ থেকে সর্বশেষ তথ্য নিচ্ছি। সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।’

জাহাজে জিম্মি নাবিকদের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে মেহেরুল করীম বলেন, ‘সোমবারের পর আমাদের সঙ্গে জলদস্যুদের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। সম্ভবত আমরা যে মধ্যস্থতাকারী ঠিক করেছি তিনি জিম্মি অন্য জাহাজগুলোকে ছাড়িয়ে নেওয়া নিয়ে ব্যস্ত আছেন।’

এসময় জাহাজে খাদ্য সংকটের বিষয়ে এক স্বজনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খাবারের সংকট তৈরি হয়েছে। সম্ভবত নাবিকরা রেশনিং করে সেটা ম্যানেজ করছে। আর জলদস্যুরাই তাদের স্বার্থে খাবার সরবরাহ করে নবিকদের বাঁচিয়ে রাখবে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।’

এর আগে জাহাজের মালিকপরে তরফ থেকে বাংলানিউজকে বলা হয়, মালিকপ এখন জলদস্যুদের কাছে মুক্তিপণ দেওয়ার জন্য উভয়পে বিশ্বাস স্থাপনের চেষ্টা করছে। নিকট অতীতে জিম্মি জাহাজগুলোর অবস্থা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিদেশি দুটি জাহাজ উদ্ধারের জন্য মুক্তিপণ দেওয়া হলেও মধ্যস্থতাকারী প্রতারণার মাধ্যমে সেই টাকা আত্মসাৎ করেছে।

বিষয়টি স্বীকার করে মেহেরুল করীম বলেন, ‘আমরা মুক্তিপণ দিতে প্রস্তুত। তবে টাকাটা যেন বেহাত হয়ে না যায় সে ব্যাপারে আগে নিশ্চিত হতে চাই।’

উল্লেখ্য, গত পাঁচ ডিসেম্বর ছিনতাইয়ের পর জাহাজটিকে সোমালিয়া উপকুলে নিয়ে যাওয়া হয়। জাহাজটি যে স্থানে নোঙ্গর ফেলেছে সেই গারাকাদ অঞ্চলটি ‘সোমালিয়ান জলদস্যুদের মুক্তাঞ্চল’ হিসেবে পরিচিত। জাহাজটিতে ২৫ নাবিক ও এক নাবিকের স্ত্রীকে জিম্মি করে রেখেছে জলদস্যুরা।

নোঙ্গর করার পর গত ১২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় জাহাজের মালিকপরে সঙ্গে জলদস্যুদের যোগাযোগ। এর মধ্যে কয়েক দফা যোগাযোগ করে নাবিকদের পরিবারের মাধ্যমে ১০৫ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে জলদস্যুরা।

বাংলাদেশ সময়: ২০৪০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩০, ২০১০

‘ডি-রেডিকালাইজড’ প্রোগ্রামে গুরুত্বারোপের আহ্বান
বিপিএল কোচ সমাচার-জেমস ফস্টার
ডাকসু ভি‌পি নুরের বিরুদ্ধে মানহা‌নি মামলা
মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে সিলেটে র‌্যালি
মানবাধিকার দলিলে থাকলেও বাস্তবে নেই: ড. কামাল


গেন্ডারিয়ায় চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে দোকান দখলের অভিযোগ
সাবেক এমপিএ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদিরের মৃত্যু
বাগেরহাটে সরকারিভাবে আমন ধান সংগ্রহ শুরু
পল্লীর আলোকায়নে বসছে সড়কবাতি
খালেদা জিয়াকে পছন্দমতো হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি