এনামুল বাছিরের জামিন প্রশ্নে রুল খারিজ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

এনামুল বাছির

walton

ঢাকা: ঘুষ কেলেঙ্কারির মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
 
আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। আবেদনকারী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী।
 
পরে একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, খন্দকার এনামুল বাছিরের জামিন হয়নি, রুল খারিজ করে বিচারিক আদালতকে এক বছরের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।  
 
এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না এ মর্মে রুল জারি করেছিলেন।  
 
গত বছরের ২২ জুলাই দিনগত রাত পৌনে ১১টার দিকে দুদকের পরিচালক ফানাফিল্যার নেতৃত্বে দুদকের একটি টিম মিরপুরের দারুস সালাম এলাকা থেকে এনামুল বাছিরকে গ্রেফতার করা হয়।
 
পরের দিন ২৩ জুলাই জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েস তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে আসামি এনামুল বাছিরকে ডিভিশন দেওয়ার জন্য আবেদন করলে আদালত কারা কর্তৃপক্ষকে জেল কোড অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন, কমিশনের তথ্য পাচার ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে এর আগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে সংস্থাটি।

গত ১৬ জুলাই ৪০ লাখ টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে পুলিশের বরখাস্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান ও  দুদক পরিচালক এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের নেতা শেখ মো. ফানাফিল্লাহ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

সূত্রে জানা যায়, পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে দায়মুক্তি দিতে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার জন্য ‘চুক্তি’ করেন খন্দকার এনামুল বাছির। সঙ্গে দাবি করেন একটি গ্যাসচালিত গাড়ি।

৪০ লাখ টাকার মধ্যে ২৫ লাখ টাকা গত ১৫ জানুয়ারি রমনা পার্কে বাজারের ব্যাগে করে নগদে নিয়েছেন দুদকের বরখাস্ত হওয়া এই পরিচালক। তিনি দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ অনুবিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।

এদিকে, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ পেয়েই মূলত নড়েচড়ে বসে দুদক। এ ঘটনা তদন্তে কমিশনের সচিব দিলওয়ার বখতকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

খন্দকার এনামুল বাছির ১৯৯১ সালে অ্যান্টি করাপশন অফিসার (এসিও) হিসেবে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোতে যোগ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হওয়ার পর তিনি সহকারী পরিচালক, উপ-পরিচালক ও পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পান।

দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডিআইজি মিজান পুলিশের উচ্চপদে থেকে তদবির, নিয়োগ, বদলিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে শত কোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ পায় দুদক।

অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের জন্য গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি কমিশনের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে বাদ দিয়ে এ ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব পান এনামুল বাছির।

বাংলাদেশ সময়: ১৩২২ ঘণ্টা, মার্চ ১০, ২০২০
ইএস/এএ

‘স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি দেশকে চরম সংকটে নিয়ে যাবে’
লন্ডনে বর্ণ বৈষম্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভে ম্যাডোনা
না’গঞ্জের তিন এলাকা রেড জোন, লকডাউন ঘোষণা 
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৪২ মৃত্যু, শনাক্ত ২৭৪৩
করোনা আতঙ্কে কাছে যায়নি কেউ, মরদেহ উদ্ধার করলো পুলিশ


৪ বছরে তৃতীয়বার অবসরের ঘোষণা দিলেন ম্যাকগ্রেগর
জামিন পাননি ফারমার্স ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সোহেল
গাজীপুরে কিশোরকে শ্বাসরোধে হত্যা
সেনবাগে করোনায় পৌর অফিস সহকারীর মৃত্যু
আনন্দ নেই পরমানন্দপুরে, আছে শুধু উৎকণ্ঠা আর আতঙ্ক