ফেসবুকের কারণে সংসারে অশান্তি, আদালতের দ্বারস্থ স্বামী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

প্রতীকী

walton

কলকাতা: ইদানিং ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিত্যনতুন সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে মানুষের। একই সঙ্গে ভাঙছে পুরনো অনেক সম্পর্কও। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে বহু সংসারে জ্বলছে আগুন! 

php glass

সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ত্রীর সম্পর্ক হওয়ায় বিবাহবিচ্ছেদ চাইছেন কলকাতার অনেক স্বামী। তবে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলে ছোট্ট সন্তানকে হেফাজতে পাবেন না তারা। সেই আশঙ্কায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন স্বামীরা।

নতুন নতুন এমন মামলার ভিড় এখন আইনজীবীদের চেম্বারে। কলকাতা হাইকোর্টের তরুণ আইনজীবী অপলক বসু বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ত্রীর প্রেম—এমন অভিযোগ অনেক পুরুষেরই। এতদিন স্বামীর সম্পর্ক নিয়ে অনেক নারীরই অভিযোগ পাওয়া যেতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে উল্টো তরফ থেকে।

মেয়েরা ঘরে থাকবে আর পুরুষরা বাড়ির বাইরে—এই ধারণার পরিবর্তন শুরু হতেই পুরুষের ‘ইগো’ মাথা চাড়া দিতে শুরু করেছে। পতিরা দিনের শেষে বাড়ি ফিরে পত্নীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মজে থাকতে দেখলেই সন্দেপ্রবণ হয়ে পড়ছেন বলে মনে করছেন কলকাতার মনোরোগ বিশেষজ্ঞরাও। তাদের মতে, পুরুষরাও যে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, এটা তারই প্রকাশ।

আইনজীবী অপলক বসু তার হাতে থাকা মামলার কয়েকটা অভিযোগের কথা তুলে ধরে বলেন, এক ইজ্ঞিনিয়ার যুবক বছর ছয়েক আগে স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্টে বিয়ে করেন। কিছুদিন পেশার কারণে ভিনরাজ্যে কর্মরত ছিলেন ওই যুবক। ২০১৪ সালে তাদের সন্তান হয়। এর কিছুদিন পরে বদলি হয়ে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কলকাতায় ফেরেন তিনি। এরই মধ্যে স্ত্রীর ফেসবুক প্রীতিতে তিতিবিরক্ত সেই ইঞ্জিনিয়ার। প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মাছে ঝগড়াবিবাদ হতো। স্বামীর অভিযোগ—স্ত্রীর ফেসবুকের নেশার জেরেই সংসারে এসেছে চরম অশান্তি! ঘণ্টার পর ঘণ্টা নতুন নতুন যুবকের সঙ্গে স্ত্রীর ফেসবুক চ্যাট চলতেই থাকে। কিছু বলতে গেলে ঝগড়াবিবাদ ওঠে চরমে!

আরেক মামলার উদাহরণ দিয়ে অপলক বসু বলেন, ফেসবুকে স্ত্রী তার ম্যারিটাল স্ট্যাটাসে সিঙ্গেল দেওয়াতেই প্রবল আপত্তি এক স্বামীর। তার অভিযোগ—ফেসবুকপ্রীতি নিয়ে আপত্তি করায় স্ত্রী ডিভোর্সও চেয়ে বসেছেন। কিন্তু ডিভোর্স হলে সন্তানকে পাবেন না আশঙ্কাতে স্বামী আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। হাইকোর্ট অবশ্য ওই দম্পতিকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার জন্য কিছুটা সময় দিয়েছেন।

আরেক অভিযোগকারী স্বামী চাকরি করেন পুলিশে। চোর ধরতে সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি করতে গিয়ে নিজের ঘরের লোককেই পাকড়াও করে ফেলেছেন। সংসারে এখন তুমুল অশান্তি। আইনজীবীর কথায়, সোশ্যাল মিডিয়া ভালো দিক ছাপিয়ে এখন সংসারে অশান্তি লাগানোর উপকরণ হয়ে উঠছে। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেক নিউজ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে কোমর বেঁধে নেমেছে সরকার। এবার ডিভোর্স ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত! হাস্যরস করে বলেন আইনজীবী অপলক বসু।

তবে শুধু নারীরা নয় বিয়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জাড়াচ্ছেন অনেক পুরুষ। তারাও অনেকে ফেসবুকে নিজেদের সিঙ্গেল বলে জানান দিচ্ছেন নিজ নিজ প্রোফাইলে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮০৯ ঘণ্টা, মার্চ ০৪, ২০১৯
ভিএস/এমজেএফ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: ফেসবুক
কেজি স্কুলেই সব কিছু শিখে যায় চীনা শিশুরা!
শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা কমে ২৫৩
প্রিয় নুসরাত | মুহম্মদ জাফর ইকবাল
৩ নেতাকে শো’কজ-অব্যাহতি, বগুড়া বিএনপি অফিসে তালা
কলকাতার শেষ চার কঠিন করে দিলো রাজস্থান


চেরনোবিল পারমাণবিক বিপর্যয়
মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন মাত্রার প্রতিবেদন চান হাইকোর্ট
সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব সংসদে নাকচ
শুক্রবার বাংলাদেশে আসছে পাকিস্তানের যুবারা
নিষেধাজ্ঞা না মেনে ইলিশ ধরায় ১৩ জেলের কারাদণ্ড