php glass

কানাডার নির্বাচনে যে ১২ মুসলিম প্রার্থী জয় পেয়েছেন

মুফতি মুহাম্মাদ মিনহাজ উদ্দিন, নিউজরুম এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

কানাডার জাতীয় নির্বাচনে জয়ী মুসলিম সদস্য যারা। ছবি: সংগৃহীত

walton

কানাডার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সাপ্তাহখানেক আগে। এত জয়ী হয়ে ফের ক্ষমতায় এসেছেন জাস্টিন ট্রুডো। নির্বাচনে বিজয়ীদের মধ্যে চারজন নারীসহ ১২ জন মুসলিম প্রার্থী রয়েছেন। এদের ১১ জন ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যজন হয়েছেন কনজারভেটিভ পার্টি থেকে।

নির্বাচনে ১৫৭ আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি। তবে গত নির্বাচনের তুলনায় তারা ২০ আসন কম পেয়েছে। অন্যদিকে ২৬টি আসন সংখ্যা বেড়ে বিরোধী কনজারভেটিভদের মোট আসন ১২১ হয়েছে। 

কানাডার জাতীয় নির্বাচনে মুসলিম বিজয়ী প্রার্থীদের এই সংখ্যা অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে বেশি। বিশ্লেষকরা বলছেন, মুসলিম প্রার্থীদের এই সাফল্য ও অগ্রগতি কানাডার রাজনীতিতে ‘দৃষ্টিভঙ্গি’র পরিবর্তন এবং দেশীয় জাতীয় রাজনীতিতে মুসলিমদের জায়গা করে নেওয়ার প্রতি ইঙ্গিত দেয়।

কানাডার মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বকারী সংবাদসংস্থা ‘মুসলিম লিংক’ নির্বাচনে জয়ী ১২ মুসলিমের পরিচয় তুলে ধরেছে। বাংলানিউজের পাঠকদের জন্য তাদের নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন—

জিয়াদ আবুল তায়েফ
অটোয়ার অ্যাডমন্টন ম্যানিং সেন্টারে কনজারভেটিভ পার্টি থেকে নির্বাচিত একমাত্র মুসলিম এমপি হলেন জিয়াদ আবুল তায়েফ। লেবানিজ-কানাডিয়ান জিয়াদ ১২ বছর ধরে এডমন্টন ভিত্তিক ‘অ্যাডেক্সেস ফার্নিচার ইনক’-এর শাখাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানিক ব্যবসায় জড়িত।

জিয়াদ আবুল তায়েফ

২০০৩ সালে আবুলতাইফ একটি আংশিক-লিভার অনুদান করেছিলেন। ২০১৭ সাল থেকে তিনি আন্তর্জাতিক উন্নয়নে সরকার-বিরোধী শ্যাডো মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এই দায়িত্বের সুবাদে তিনি নিকারাগুয়া, লেবানন, জর্দান, সেনেগাল, নাইজেরিয়া ও বাংলাদেশসহ উন্নয়ন সহায়তাপ্রাপ্ত বহু দেশে ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছেন।

তায়েফের প্রতিদ্বন্দ্বিও ছিলেন একজন মুসলিম। তিনি লিবারেল পার্টির কামাল কাদরি। তাকে হারিয়ে জয় পান জিয়াদ আবুল তায়েফ।

জিয়াদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কানাডা ও এর জনগণের সেবা করা প্রতিটি এমপির দায়িত্ব। এই দায়িত্বটা প্রত্যেকের থাকা চাই। জনগণের ওপর আমার আস্থা রয়েছে। কাজের মাধ্যমে আমি জনগণের পাশে থাকতে চাই। কারণ আমি কাজে বিশ্বাসী।

এডমন্টন ম্যানিং
এডমন্টন ম্যানিংয়ের জনসংখ্যা এক লাখ ২১ হাজর ৪৮ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি প্রতি কিমি ২৭ হাজার ৬৭৪ জন। জনসংখ্যার ৩১% অভিবাসী ও ৪০% দৃশ্যমান সংখ্যালঘু রয়েছে। শীর্ষ চারটি দৃশ্যমান সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিগ্রো, দক্ষিণ এশীয়, চীনা ও আরব। ইংলিশ ও ফরাসির পর শীর্ষ চারটি ভাষা হলো ক্যান্টোনিজ, পাঞ্জাবি, আরবি ও স্প্যানিশ। এই ফেডারেল রাইডিংয়ে অভিবাসীদের মূল দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ফিলিপাইন, ভারত, ভিয়েতনাম ও চীন।

ওমর আল-ঘাবরা
মুসলিম প্রার্থী ওমর আল-ঘাবরা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মিসিয়াগু সেন্টারে লিবারেল পার্টির হয়ে নির্বাচন করেন। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মিসিসাগা এরিন্ডালে রাইডিংয়ের সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০১৫ সালে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ওমর আল-ঘাবরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিবিধকরণ মন্ত্রীর সংসদীয় সচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

ওমর আল-ঘাবরা। ছবি: সংগৃহীত

ওমর আল-ঘাবরা সিরিয়ান-কানাডিয়ান এবং একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি নিয়ে রয়েরসন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ২০০০ সালে ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অর্জন করেন।

স্থানীয় ও জাতীয় ইস্যু নিয়ে আল-ঘবরা সব সময় সরব ছিলেন। বিশেষত নাগরিকত্ব ও অভিবাসন ইস্যুতে তিনি দৃঢ় অবস্থানে ছিলেন।

ওমর আল-ঘাবরার আকর্ষণীয় ঘটনা
কানাডিয়ান মুসলিম সংস্থার হালাল দুইটি মোজা ওমর আল-ঘাবরা প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে উপহার দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো টরন্টোর প্রাইড প্যারেডে মোজাগুলি পরেন বলে পরের দিন প্রায় সব আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়।

মিসিসাগা সেন্টার
মিসিসাগা স্নেটারের জনসংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৯৯ জন। অভিবাসীরা ৬২% ও দৃশ্যমান সংখ্যালঘুর সংখ্যা ৭১%। শীর্ষ চারটি দৃশ্যমান সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দক্ষিণ এশীয়, চীনা, আরব। ইংলিশ ও এবং ফ্রেঞ্চের পর শীর্ষ চারটি ভাষা হলো ম্যান্ডারিন, আরবি, উর্দু ও ক্যান্টোনিজ। এই ফেডারেল রাইডিংয়ে অভিবাসীদের মধ্যে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, চীন ও ফিলিপাইনের মানুষ।

অ্যা স্ট্যাটিস্টিকাল রিভিউ গবেষণা অনুসারে জানা যায়, মিসিসাগা সেন্টারের ফেডারেল রাইডিংয়ের মোট জনসংখ্যার ১০% মানুষ মুসলিম।

আলী এহসাসি
উইলোডেলে লেবারেল পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন আলী এহসাসি। তার জন্ম সুইজারল্যান্ডে। আলী এহসাসি একজন প্রাক্তন ইরানি কূটনীতিকের পুত্র। ইরানে বিপ্লবের পর অনেক ইরানি-কানাডিয়ানদের মতো তিনিও কানাডায় তল্পিতল্পা গুটিয়ে চলে এসেছিলেন।

আলী এহসাসি। ছবি: সংগৃহীত

এহসাসি এলএল.বি. সম্পন্ন করেন ওসগোড হল ল স্কুল থেকে। টরেন্টো ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে বিএ করেছেন। আর সায়েন্সে মাস্টার্স করেছেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক্স থেকে। পরে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সালিসি আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তরও করেন।

এহসাসি এর আগে অন্টারিও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অধিদফতর এবং বিদেশ বিষয়ক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অধিদফতরে একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছিলেন। ২০১৫ সালে নির্বাচিত ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সক্রিয় সদস্যও ছিলেন।

তিনি বলেন, আমরা সব সময় ভোটারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি এবং ইতিবাচক ছিলাম। সে কারণেই হয়ত আমরা এগিয়ে আছি।

এহসাসির আকর্ষণীয় ঘটনা
আলি এহসাসি মজিদ জোহরির সঙ্গে ২০১৫ সালে কানাডার হাউস অফ কমন্সে নির্বাচিত প্রথম ইরানি-কানাডিয়ানদের একজন।

উইলোডেল ফেডারেল
টরন্টোর উইলোডাল ফেডারেলের জনসংখ্যা এক লাখ ১৮ হাজার ৮০১ জন। অভিবাসী জনসংখ্যার ৬১% এবং দৃশ্যমান সংখ্যালঘু ৬৭%। শীর্ষ চারটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় চীনা, পশ্চিম এশীয় (ইরানি), কোরিয়ান ও দক্ষিণ এশীয়। ইংলিশ ও ফরাসির পর শীর্ষ চারটি ভাষা হলো ম্যান্ডারিন, পার্সিয়ান, কোরিয়ান ও ক্যান্টোনিজ। এই ফেডারেলে অভিবাসীদের দেশগুলির মধ্যে ইরান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিলিপাইন রয়েছে। উইলোডালে মোট জনসংখ্যার ১০% মানুষ মুসলিম ।

আহমেদ হুসেন
অভিবাসন মন্ত্রী আহমেদ হুসেন ইয়র্ক সাউথ ওয়েস্টোনে লিবারেল পার্টি থেকে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রথম নির্বাচিত হন এই আইনজীবী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। লিবারেল পার্টির জন ম্যাককুলাম পদত্যাগ করলে তখন শরণার্থী-অভিবাসন ও নাগরিকত্ব মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

আহমেদ হুসেন। ছবি: সংগৃহীত

আহমেদ হুসেন সোমালি-কানাডিয়ান। তিনি অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নিয়েছেন। এছাড়াও ইয়র্ক ইউনির্ভাসিটি থেকে ইতিহাসে পড়াশোনা করেন তিনি।

আকর্ষণীয় ঘটনা
সংসদে রমজান উদযাপন সম্পর্কে আইপোলিটিক্স.কমে ২০১৬ সালে সাক্ষাত্কার দিয়েছিলেন।

ইয়র্ক সাউথ ওয়েস্টন
ইয়র্ক সাউথ ওয়েস্টনের মোট জনসংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার। জনসংখ্যার ৫২%অভিবাসী ও দৃশ্যমান ৫৫% সংখ্যালঘু রয়েছে। শীর্ষ চারটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিগ্রো, লাতিন আমেরিকান, ফিলিপিনো ও দক্ষিণ এশীয়। ইংলিশ ও ফরাসির পর শীর্ষ চারটি ভাষা হলো পর্তুগিজ, স্পেনিশ, ইতালিয়ান ও ভিয়েতনামী। এই ফেডারেলে অভিবাসী দেশগুলির মধ্যে রয়েছে পর্তুগাল, জ্যামাইকা, ইতালি ও ফিলিপাইন।

মাজিদ জওহারি
কনজারভেটিভ পার্টির কস্টাস মেনেজাকিসের সঙ্গে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পেয়েছেন মাজিদ জওহারি। তিনি রিচমন্ড হিল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

মাজিদ জওহারি ইরানি-কানাডিয়ান। আগে একজন পেশাদার প্রকৌশলী ছিলেন। তিনি ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শুলিখ স্কুল অফ বিজনেস থেকে এম.বি.এ. করেছেন।

মাসিজদ জওহারি। ছবি: সংগৃহীত

মাজিদ জওহারি ২০১৫ সালে নির্বাচিত লিবারেল মানসিক স্বাস্থ্য ককাসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে এটি সর্বদলীয় সংসদীয় মানসিক স্বাস্থ্য ককাসে প্রসারিত হয়েছিল।

ককাসের কাজ থেকে অবহিত হয়ে জওহারি প্রাইভেট সদস্যের বিল সি-৩৭৫ প্রবর্তন করেছিলেন। ২০১৮ সালে কানাডিয়ান অ্যালায়েন্স অন মেন্টাল ইলনেস অ্যান্ড মেন্টাল হেলথ (সিএএমআইএমএইচ) পার্লামেন্টারি মেন্টাল হেলথ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাজিদ জওহারির নাম ঘোষণা করে।

আকর্ষণীয় ঘটনা
আলী এহসাসিসহ ২০১৫ সালে কানাডিয়ান হাউস অফ কমন্সে নির্বাচিত প্রথম ইরানি-কানাডিয়ানদের একজন ছিলেন মাজিদ জওহারি।

রিচমন্ড হিল
টরন্টোর রিচমন্ড হিলের মোট জনসংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার ১৭৭ জন। জনসংখ্যার ৬০% অভিবাসী ও ৬২% দৃশ্যমান সংখ্যালঘু। শীর্ষ চারটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় চীনা, পশ্চিম এশীয় (ইরান), দক্ষিণ এশীয় ও কোরিয়ান। ইংলিশ ও ফরাসির পর শীর্ষ চারটি ভাষা হলো ক্যান্টোনিজ, ম্যান্ডারিন, ফার্সি ও রুশ। অভিবাসী দেশগুলির মধ্যে চীন, হংকং, ইরান, ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রিচমন্ড হিলের মোট জনসংখ্যার ১০% এরও বেশি লোক মুসলমান হিসাবে পরিচিত।

ইকরা খালিদ
পাকিস্তানি-কানাডিয়ান ইকরা খালিদ ইরিন মাইলস থেকে জয় লাভ করেন। ইকরা খালিদের মাধ্যমেই লিবারেল পার্টির হয়ে এই আসনে প্রথমবারের মতো কোনো নেতা জয়ী হন। নির্বাচন শেষে তিনি বলেন, ‘চার বছর ধরে আমরা স্থানীয়দের কথা শুনছি এবং সে হিসেবে কাজ করছি।’

ইকরা খালিদ। ছবি: সংগৃহীত

২০০৭ সালে ইয়র্ক ইউনির্ভাসিটি থেকে গ্রাজুয়েশন করেন তিনি। একই সাথে দুটি বিষয়- ক্রিমিনোলজি ও প্রফেশনাল রাইটিংয়ের ওপর গ্রাজুয়েশন করেন। ইয়র্কে থাকাকালীন তিনি পাকিস্তানি ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন। খালিদ ওয়েস্টার্ন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় কুলি ল স্কুলটিতে একটি জুরিস পিএইচডি করেছেন।২০১৫ সালে নির্বাচিত হয়ে খালিদ ‘প্রাইভেট মেম্বার মোশন এম-১০৩’ প্রবর্তন করেছিলেন। এতে সরকার পদ্ধতিগত বর্ণবাদ ও ধর্মীয় বৈষম্য মোকাবেলায় কৌশল তৈরিতে সহায়তা পেয়েছিল। কানাডার ইসলামোফোবিয়ার নিন্দাপূর্বক একটি আবেদনের জবাবে এই প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়েছিল। এটি স্বেচ্ছাসেবক কুইবেক লিবারেল সাংসদ ফ্রাঙ্ক বেলিস করেছিলেন।

২০১৮ সালে সিনিয়র বিষয়ক মন্ত্রী বা বিশেষ উপদেষ্টা নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়ে খালিদ পিটিশন স্পনসর করেছিলেন। আবেদনের ফলস্বরূপ কানাডা সরকার ফিলোমেনা তাসিকে প্রবীণ মন্ত্রীর পদে নিয়োগ করেছিলেন।

ইকরার আকর্ষণীয় ঘটনা
২০১৭ সালে চিটলাইনের অন্যতম সেরা নারী হিসেবে ইকরা খালিদের নাম নির্বাচিত হয়েছিল।

ইরিন মিলস
টরন্টোর মিসিসাগা ইরিন মিলসের মোট জনসংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৫৬০ জন। জনসংখ্যার ৫৫% অভিবাসী  ও দৃশ্যমান সংখ্যালঘুদের ৬৪% রয়েছে। দৃশ্যমান শীর্ষ চারটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দক্ষিণ এশীয়, চীনা, আরব ও নিগ্রো। ইংলিশ ও ফরাসির পর শীর্ষ চারটি ভাষা হলো উর্দু, ম্যান্ডারিন, আরবি ও ক্যান্টোনিজ। এই ফেডারেলে অভিবাসী দেশগুলির মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান, ভারত, চীন ও ফিলিপাইন। মোট জনসংখ্যার ১০% মুসলিম।

মরিয়ম মুনসেফ
পিটারবার্গ কাওয়ার্থা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মরিয়ম মুনসেফ। তিনি কনজারভেটিভ পার্টির মিশেল স্কিনারকে হারিয়ে নির্বাচিত হন।

মরিয়ম মুনসেফ। ছবি: সংগৃহীত

আফগান-কানাডিয়ান মারিয়াম মুনসেফ ট্রেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ২০১৫ সালে নির্বাচিত হয়ে মরিয়ম গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মন্ত্রী পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এরপরে ২০১৭ সালে নারী-পুরুষ সমতা মন্ত্রীর পদে পরিবর্তিত হয়ে তিনি নারী মর্যাদার মন্ত্রী হন।

এবারের জয়ের পর তিনি বলেন, প্রতিটা ভোটই গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা সেই ভোটগুলো আজ আমার ঘরে নিয়ে এসেছেন।

মারিয়ামের আকর্ষণীয় তথ্য

২০১৫ সালে কানাডিয়ান হাউস অফ কমন্সে নির্বাচিত হয়ে মরিয়ম মুনসেফ প্রথম আফগান-কানাডিয়ান এবং মন্ত্রিসভায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রথম মুসলিম মারিয়াম। এছাড়াও সর্ব কনিষ্ঠ প্রার্থী ছিলেন ৩৩ বছর বয়সী মারিয়াম।
 ছিলেন।

পিটারবার্গ-কাওয়ার্থ
পিটারবার্গ-কাওয়ার্থে মোট জনসংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজার ১৭৬ জন। জনসংখ্যার ৯% অভিবাসী ও ৫% দৃশ্যমান সংখ্যালঘু করে। শীর্ষ চারটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দক্ষিণ এশীয়, চাইনিজ, কালো ও ফিলিপিনো। ইংলিশ ও ফরাসির পরে শীর্ষ চারটি ভাষা হলো ম্যান্ডারিন, আরবি, পোলিশ ও কোরিয়ান। এই ফেডারেলে অভিবাসী দেশগুলির মধ্যে যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইয়াসমিন রাতানসি
ইয়াসমিন রাতানসি ডন ভ্যালি ইস্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। কনজারভেটিভ প্রার্থী মিশেল মা'কে পরাজিত করেছেন তিনি। ২০০৪ সালে কানাডার হাউস অফ কমন্সে নির্বাচিত প্রথম নারী ইয়াসমিন রাতানসি।

তানজানিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ইয়াসমিন একজন সার্টিফায়েড জেনারেল অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং কানাডার সার্টিফায়েড জেনারেল অ্যাকাউন্ট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগী।

ইয়াসমিন রাতানসি। ছবি: সংগৃহীত

২০০৪ থেকে ২০১১ পর্যন্ত তিনি ডন ভ্যালি ইস্টের সংসদ সদস্য ছিলেন। এরপর ২০১৪ সালে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ইয়াসমিন কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের কানাডিয়ান শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইয়াসমিনের আকর্ষণীয় ঘটনা
আইপোলিটিক্স.কো.এর মাধ্যমে ২০১৬ সালে সংসদে রমজান উদযাপন সম্পর্কে ইয়াসমিন রাতানসি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন।

ডন ভ্যালি ইস্ট
ডন ভ্যালি ইস্টের মোট জনসংখ্যা ৯৪ হাজার ৫৭৯ জন। জনসংখ্যার ৫৩% অভিবাসী ও ৫৮% দৃশ্যমান সংখ্যালঘু। শীর্ষ চারটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দক্ষিণ এশীয়, নিগ্রো, চীনা ও ফিলিপিনো। ইংলিশ ও ফরাসির পর শীর্ষ চারটি ভাষা হলো ফার্সি, ম্যান্ডারিন, তাগালগ ও আরবি। এই ফেডারেলে অভিবাসী দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ফিলিপাইন, ভারত, চীন ও পাকিস্তান। মোট জনসংখ্যার ১০% মানুষ মুসলমান হিসাবে চিহ্নিত হন।

মারওয়ন তাব্বারা (কিচেনার সাউথ-হেস্পিলারের সংসদ সদস্য)
লেবানন-কানাডিয়ান মারওয়ান তাব্বার গল্ফ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

মারওয়ান তাব্বারা। ছবি: সংগৃহীত

২০১৫-তে নির্বাচিত হয়ে মারওয়ান তাব্বারা ২০১৬ সালের অক্টোবরে জার্মান-ঐতিহ্য মাস হিসেবে সফলভাবে পরিচালিত করে প্রাইভেট নাম্বার্স মোশন এম-৩৩ পেশ করেছিলেন।

মারওয়ানের বিশেষ কিছু
মারওয়ান তাব্বারা মায়ের জনসেবা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। মারওয়ান ও তার দুই ভাইকে তিনি রাজনীতির ময়দানে পাঠিয়েছিলেন।

কিচেনার সাউথ-হেস্পিলার 
কিচেনার সাউথ-হেস্পিলার ফেডারেলের মোট জনসংখ্যা ১ লাখ ৫ হাজার ৩০৯। জনসংখ্যার ২৫% অভিবাসী ও ২২% দৃশ্যমান সংখ্যালঘু। শীর্ষ চারটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দক্ষিণ এশীয়, নিগ্রো, লাতিন আমেরিকান ও চীনা। ইংলিশ ও ফরাসি শীর্ষ চারটি ভাষা হলো স্প্যানিশ, আরবি, পাঞ্জাবি ও সার্বিয়ান। অভিবাসী দেশগুলির মধ্যে যুক্তরাজ্য, ভারত, রোমানিয়া ও পোল্যান্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আরিফ ভিরানি
দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন আরিফ ভিরানি। পার্কডেল-হাইপার্ক থেকে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৪ সালে প্রথম নির্বাচিত হন তিনি। তার প্রতিপক্ষ ছিলেন এনডিপির পল টেইলর।

আরিফ ভিরানি উগান্ডিয়ান-এশিয়ান শরণার্থী হিসাবে কানাডায় এসেছিলেন। ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বি.এ. অনার্স সম্পন্ন করেন। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করেন এলএল.বি.। এর আগে তিনি অটোয়ায় কানাডার মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করেছেন।

আরিফ ভিরানি। ছবি: সংগৃহীত

২০১৫ সালে নির্বাচিত হয়ে আরিফ ভিরানি কানাডিয়ান ঐতিহ্য বিষয়ক মন্ত্রীর সংসদীয় সচিব এবং কানাডার বিচারমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সংসদীয় সচিব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরিফের আকর্ষণীয় ঘটনা
২০১৮ সালে স্ট্যালিনের অধীনে ইউক্রেনিয়ানদের বিরুদ্ধে গণহত্যার শিকারদের স্মরণে হলডোমর ভিকটিমস স্মৃতিসৌধে ইউক্রেনে একটি কানাডীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন আরিফ ভিরানি।

পার্কডেল-হাই পার্ক 
টরন্টোর পার্কডেল-হাই পার্কের মোট জনসংখ্যা ১ লাখ ৮ হাজার ৮০৫। জনসংখ্যার ৩২% অভিবাসী ও ২৬% দৃশ্যমান সংখ্যালঘু। রাইডিংয়ের শীর্ষ চারটি দৃশ্যমান সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিগ্রো, দক্ষিণ এশীয়, চীনা ও ফিলিপিনো। ইংলিশ ও ফরাসির পর শীর্ষ চারটি ভাষা হলো পোলিশ, স্পেনিশ, রুশ ও ইউক্রেনীয়। অভিবাসীদের দেশগুলির মধ্যে পোল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত ও ফিলিপাইন রয়েছে।

সালমা জাহিদ
স্কারবো সেন্টারে দ্বিতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন সালমা জাহিদ। কনজারভেটিভ পার্টির ইরশাদ চৌধুরীকে হারিয়ে  তিনি নির্বাচিত হন।

পাকিস্তানি-কানাডিয়ান সালমা জাহিদ লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন থেকে শিক্ষাব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনে স্নাতকোত্তর এবং পাকিস্তানের কায়েদ আজম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন।

সালমা জাহিদ। ছবি: সংগৃহীত

২০১৫ সালে নির্বাচিত সালমা জাহিদ প্রাইভেট মেম্বার মোশনের জন্য এম-১৫৫ প্রস্তাব রেখেছিলেন (২০১৮ সালের জুনে কানাডাজুড়ে ফিলিপিনো ঐতিহ্য মাস হিসাবে মনোনীত করে)।

ক্যান্সারের চিকিৎসা ও কেমোথেরাপি মুক্ত হওয়ার পর তিনি হিজাব পরার সিদ্ধান্ত নেন। পাশাপাশি পার্লামেন্ট হিলে হিজাব পরিহিত প্রথম নির্বাচিত কর্মকর্তা হন।

টরেন্টো স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সালমা জাহিদ বলেন, স্কারবো সেন্টারের মানুষের সেবা করাটা আমার জন্য ভীষণ সম্মানের।

সালমা জাহিদের আকর্ষণীয় ঘটনা
সংসদে রমজান উদযাপন সম্পর্কে আইপোলিটিক্স.কম ২০১৬ সালে সালমা জাহিদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিল।

স্কারবোরো সেন্টার
স্কারবোরো সেন্টারের মোট জনসংখ্যা ১ লাখ ১২ হাজার ৬৯৩ জন। জনসংখ্যার ৫৬% অভিবাসী ও ৭০% দৃশ্যমান সংখ্যালঘু। শীর্ষ চারটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দক্ষিণ এশীয়, ফিলিপিনো, নিগ্রো ও চীনা। ইংলিশ ও ফরাসির পরে শীর্ষ চারটি ভাষা হলো তামিল, তাগালগ, ম্যান্ডারিন ও ক্যান্টোনিজ। অভিবাসীদের উত্সের দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও চীন। জনসংখ্যার ১০% মানুষ মুসলমান।

সামির জুবেরি
পেরিফন্ড-ডলারডেতে লিবারেল পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সামরি জুবেরি। কনজারভেটিভ পার্টির মারিয়াম ইশাককে হারিয়েছেন তিনি।

সামির জুবেরি। ছবি: সংগৃহীত

৩৯ বছর বয়সী সামির দুই সন্তানের পিতা। তিনি ইউনিভার্সিটি ডু কুইবেক এ্যা মন্ট্রিয়্যাল (ইউকিএএম) থেকে আইনে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে ডিগ্রি নিয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আইন, মিডিয় সম্পর্ক, মানবাধিকার ইত্যাদি ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। কানাডিয়ান ফোর্সেস রিজার্ভসে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সামিরের আকর্ষণীয় কিছু...
সামির মিশ্র জাতির লোক। তার মাঝে রয়েছে পাকিস্তানি-ইতালিয়ান-স্কটিশ ঐতিহ্যের শোণিত ধারা।

পিয়েরফন্ডস-ডোলার্ড 
পিয়েরফন্ডস-ডোলার্ডের মোট জনসংখ্যা ১ লাখ ৮ হাজার ৫৮৭ জন। জনসংখ্যার ৩৮% অভিবাসী এবং ৩৮% দৃশ্যমান সংখ্যালঘু। শীর্ষ চারটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দক্ষিণ এশীয়, নিগ্রো, আরব ও ফিলিপিনো। ইংলিশ ও ফরাসির পরে শীর্ষ চারটি ভাষা হলো আরবি, স্প্যানিশ, তামিল ও রোমানিয়ান। অভিবাসী দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ভারত, ফিলিপাইন, মিশর ও লেবানন।

ইসলাম বিভাগে আপনিও লেখা-প্রশ্ন পাঠাতে পারেন। জীবনঘনিষ্ঠ প্রশ্ন ও বিষয়ভিত্তিক লেখা পাঠাতে মেইল করুন: [email protected]

বাংলাদেশ সময়: ১৮০৫ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৮, ২০১৯
এমএমইউ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: নির্বাচন ইসলাম
আড্ডার ছলে আলাপনে ফরিদ কবির
টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদকে অব্যাহতি
‘লুপ লাইনের ত্রুটির কারণে উল্লাপাড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা’
জাতীয় পুরস্কারের অর্থের পরিমাণ বাড়লো
বেরোবি ভিসি-রেজিস্ট্রারের সার্বক্ষণিক থাকার দাবি


ফেনীতে মাদকসহ আটক ১
আওয়ামীলীগের সম্মেলনে স্বাধীনতাবিরোধীরা আমন্ত্রণ পাবেন না
চার দিন পর খুলনা থেকে বাস চলাচল শুরু
কুমিল্লা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত
‘প্রথম’র চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ