ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলার অন্যতম আকর্ষণ মাছ-মিষ্টি!

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

পোড়াদহের মাছের মেয়ায় মাছ-মিষ্টি। ছবি- বাংলানিউজ

walton

বগুড়া: মাছের জন্য বিখ্যাত বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা। মাছ ভালোবাসেন যারা বছরে একটি দিন বিপুল আগ্রহ নিয়ে তারা ভিড় জমান এ মেলায়। ছোট-বড় হরেক প্রজাতির মাছ মেলে পোড়াদহে। মাছকে কেন্দ্র করে জমে ওঠা এ মেলায় দর্শনার্থীদের কাছে অন্যতম আরেক আকর্ষণ মাছ-মিষ্টি।  

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মাছের বিপুল সম্ভার নিয়ে শুরু হয়েছে দিনব্যাপী পোড়াদহ মেলা। মাছের সন্ধানে ভোর থেকে শুরু হয়েছে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের আনাগোনা। চারপাশে ভেসে বেড়াচ্ছে বড়-বড় সব মাছের নাম।

এদিকে মাছই যেহেতু মেলার প্রধান উপজীব্য, সেহেতু সেই মাছের আদলেই বাহারি সব মিষ্টি তৈরি করে পসরা সাজিয়ে বসেছেন মিষ্টি দোকানীরা। এর নামও দেওয়া হয়েছে ‘মাছ-মিষ্টি’। মাছের পাশাপাশি পোড়াদহের এই মাছ-মিষ্টিও স্বনামধন্য। 

পোড়াদহের মেলায় সারা দেশ থেকে হাজির হন উৎসাহীরা। এ মেলা ঘিরে রীতিমত উৎসবের আমেজ তৈরি হয় আশপাশের এলাকায়। জামাইরা বেড়াতে আসে শ্বশুর বাড়ি। অনেকে শ্বশুর-শাশুড়ির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের সেলামি নিয়ে পোড়াদহে যায় মাছ কিনতে। কেউবা মেলা থেকে মাছ আর মিষ্টির উপহার নিয়ে বেড়াতে যায় শ্বশুরবাড়ি। এলাকাবাসীও সমান তালে জমানো টাকা নিয়ে ভিড় করেন মেলায়। চলে ব্যাপক কেনাকাটার ধুম। আর সেই কেনাকাটার তালিকায় মাছের পরই জায়গা পোড়াদহের বিখ্যাত সব মিষ্টি। আর তার মধ্যে প্রধান থাকে মাছের আদলে বানানো মাছ-মিষ্টি। 

বুধবার দুপুরে মেলায় গিয়ে মাছপ্রেমী ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলেও একই চিত্র উঠে আসে। 

পোড়াদহের মেলায় মাছ-মিষ্টি। ছবি- বাংলানিউজ

মেলায় আসা জামাই আল-মুমিন ও রাজীব জয়কার বাংলানিউজকে জানান, পোড়াদহ তাঁদের শ্বশুরবাড়ির এলাকার মেলা। মেলা ঘিরেই তারা শ্বশুরবাড়ি এসেছেন। এই মেলায় এ এলাকার জামাইরা বড় বড় মাছ কিনে শ্বশুরবাড়ি যায়। তারাও বড় মাছ কিনেছেন।

আল-মুমিন বলেন, সাড়ে ৬ হাজার টাকায় ৮ কেজি ওজনের একটি কাতল মাছ কিনেছি। পাশাপাশি মাছের সঙ্গে মিল রেখে দেড় হাজার টাকা দিয়ে ৫ কেজি ওজনের একটি মাছ মিষ্টিও নিয়েছি। মাছ আর  মিষ্টি নিয়ে এখন শ্বশুর বাড়ি যাবো।

পোড়াদহের মাছের মেলায় মাছ-মিষ্টি। ছবি- বাংলানিউজ

মাছ মিষ্টির অন্যতম প্রস্তুতকারী আনিপ মিষ্টান্ন ভান্ডার। এর স্বত্বাধিকারী ফেলু চন্দ্র মোহন্ত বাংলানিউজকে জানান, এ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পর থেকেই বাহারি ডিজাইনের মিষ্টান্ন সামগ্রী নিয়ে তারা এ মেলায় আসেন। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বিপুল মিষ্টান্ন সামগ্রী নিয়ে মেলায় এসেছেন তারা। বেচাকেনাও বেশ ভালো। সব রকমের মিষ্টিই বিক্রি হয়। তবে মাছ মিষ্টির ব্যাপারে ক্রেতাদের বাড়তি এক ধরনের আগ্রহ আছে বলে জানান ফেলু চন্দ্র। 

মেলায় অংশ নেওয়া মিষ্টির দোকানগুলোতে দোকানে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের মাছ-মিষ্টি, লাভ মিষ্টি, কদম মিষ্টি, জাম মিষ্টি, চমচম, হাসিখুশি, কালোজাম, স্পঞ্জ মিষ্টি, ছানার জিলাপি, লাড্ডু, মুড়িমুড়কি, কদমাসহ নানান মিষ্টান্ন সামগ্রী রয়েছে।  এর মধ্যে বড় আকারের মিষ্টি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, মাঝারি আকারের মিষ্টি ১৮০ টাকা ও ছোট আকারের মিষ্টি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন>>> এক বাঘাইড়ের দাম ১ লাখ ৩০ হাজার

বাংলাদেশ সময়: ১৫০৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০
কেইউএ/এইচজে

স্বল্প পরিসরে চেক ক্লিয়ারিং করার নির্দেশ
করোনায় ইতালিতে আরও ৭৫৬ জনের মৃত্যু
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ১ দিনের বেতন দিলেন সেনা সদস্যরা
মাঠে নেমে সহায়তা করছেন বলিউড তারকারা


ল্যাব না থাকলেও সিংড়ায় গেল দুই'শ করোনা টেস্টিং কিট
মানুষকে টেলিফোনে চিকিৎসাসেবা দিতে ফারাজের উদ্যোগ
রাজশাহীতে এলো আরও ১ হাজার পিস পিপিই
পুলিশকে পিপিই দিল চীনা নাগরিকদের সংগঠন
নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পিপিই হস্তান্তর