মলম পার্টি, পকেটমার, পাতি নেতা নিয়ে কাজ করতে হয়: সিইসি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সিইসি কে এম নূরুল হুদা/ ফাইল ছবি

walton

ঢাকা: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, বৈশ্বিক চিন্তা করলেও কাজ করতে হয় স্থানীয়ভাবে। কেননা, আমাদের কাজ করতে হয় মলম পার্টি, পকেটমার, পাতি নেতাদের নিয়ে।

আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ৪৯ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার যোগদান উপলক্ষে রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত ১২ দিনব্যাপী এক কর্মশালায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক সময় বলা হয়, আমেরিকা এমন করে, সুইজারল্যান্ড, জার্মানিতে এইরকম হয়। আমাদের এখানে হয় না কেন? সেদিন একটা পলিটিক্যাল পার্টি এসেছিল, আমি অত্যন্ত নিচুগলায় বললাম কানেকানে, আগে সুইজারল্যান্ড হতে হবে, তারপরে। ইউ মাস্ট থিঙ্ক গ্লোবালি, বাট অ্যাক্ট লোকালি। সেটা সে কী অবস্থায়, তার ওপর নির্ভর করে।’

‘আমাদের দেশে তো মলম পার্টি নিয়ে কাজ করতে হয়। ব্যাগ টানা পার্টি নিয়ে কাজ করতে হয়। আমাদের দেশে ক্যাসিনো মেম্বার নিয়ে কাজ করতে হয়। আমাদের পকেটমার নিয়ে কাজ করতে হয়।’

সিইসি বলেন, ‘...দেখা গেল যে একবার এই যে গুলিস্তানে, মহল্লায়, যারা এই যে হকারদের কাছ থেকে টাকা নেয়। কিছুদিন পর হয়তো দেখা গেলো, নেতা, পাতি নেতা, উপ-নেতা তারপর পূর্ণ নেতা। তারপর কমিশনার। এগুলোওতো আমাদের দেখতে হয়। হু নোজ যে একদিন এমপি হবেন না তিনি। সুতরাং সেই ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়।’

নতুন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে সিইসি বলেন, সেই রাজনৈতিক ব্যক্তিদের, যারা সবকিছু নিয়ে কাজ করেন, তাদের সামাল দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের। এই দায়িত্ব আর কারো উপর দেওয়া হয়নি। তার মানে সমাজের সর্বস্তরের সংমিশ্রণগুলো, তার সবগুলো আপনারা একসঙ্গে পেয়ে যাচ্ছেন। এটা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জের বিষয়। সেই চ্যালেঞ্জগুলোকে মোকাবিলা করার উপায় হলো চেষ্টা, দক্ষতা ও একাগ্রতা। আর আপনাদের ব্যক্তিত্ব।

তিনি আরো বলেন, লন্ডনে যদি কেউ ছয়মাস থাকে, আর আসে নির্বাচনের আগে, তাহলে আমরা নিবন্ধন দিয়ে দেই। ভুয়া ভোটার নেই বলেই তারা ধরে নেয়। একটা দেশের অবস্থান সেখানে নিয়ে গেছে কিন্তু তারা।

অনুষ্ঠানে সিইসিসহ অন্যরাআমাদের দেশে এক সময় ছিল, দেড় কোটি ভোটার হয়ে গেছিল ‘জাল’। হয়েই গিয়েছিল। হাইকোর্ট যদি না আসতেন, দেড় কোটি মাত্র, দেড় কোটি ভুয়া ভোটার হয়েই গিয়েছিল। অনেক দেশে ৪০ লাখ ভোটার জাতীয় নির্বাচনে ভোট হয়। আর আমাদের ঢাকা সিটিতে ৫৪ লাখ ভোটারের ভোট হয়ে গেছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। এটা নিয়ে অনেক কথা বলা হয়। আমরা বলি কী-সেই একই কথা, যে সুইজারল্যান্ডে তো পেপার ভোট হয়। কিন্তু সেখানে তো যুদ্ধের মতো বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করতে হয় না। পুলিশসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নামাতে হয় না। পোস্টারে আকাশ দেখা যায় না, বাতাস আসে না। সেই দেশে তো এমন হয় না। তাই বলে কী আমাদের এখানে নির্বাচন করতে হবে না। সেভাবেই নির্বাচন করতে হবে।

কেন ইভএম? ইভিএমের ফলেই এখন আর সেই দশটা হোন্ডা, বিশটা গুণ্ডার যুগ নেই। এদের ভাড়া করতে প্রার্থীদের যেতে হবে না। যারা ভোট ছিনতাই করবে, এদের কাছে যেতে হবে না। আর নির্বাচনে যারা দায়িত্বে থাকে তাদের পেছনে যারা টাকা দেয়, তাদের কাছেও যেতে হবে না। একমাত্র ইভিএমই পারে, ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের নিয়ে যেতে।

ঢাকা সিটি নির্বাচনেই বিরাট বিরাট মিছিল, পোস্টারে সয়লাব হয়ে গিয়েছিল। আমি ভেবেছিলাম ৮০ শতাংশ ভোট হবে। কিন্তু ‍উল্টো হলো। মনে হয়, এটা আমার ধারণা যে, প্রার্থীরা ভোটারের কাছে না গিয়ে রাস্তায় গিয়েছে। আসল যে সম্পত্তি যেখানে, ভোট দেবেন যারা, তাদের কাছে যায়নি, ভোট কম পড়ার এটা একটা কারণ।

ইসি সচিব মো. আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় চার নির্বাচন কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১২৫৬ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০
ইইউডি/জেডএস

করোনা আক্রান্ত সাবেক মেয়র কামরান ভেন্টিলেশনে
টেকসই বেড়িবাঁধ ও সুপেয় পানির দাবিতে নৌবন্ধন
একইসঙ্গে ২৫ স্কুলের শিক্ষিকা, বেতন বাবদ আয় কোটি টাকা!
বীরগঞ্জে রাস্তার দাবিতে অবরুদ্ধ ৫০ পরিবারের মানববন্ধন
বগুড়ায় করোনায় আরও একজনের মৃত্যু


‘মানবপাচারকারীরা মানবতাবিরোধী’
‘স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি দেশকে চরম সংকটে নিয়ে যাবে’
লন্ডনে বর্ণ বৈষম্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভে ম্যাডোনা
না’গঞ্জের তিন এলাকা রেড জোন, লকডাউন ঘোষণা 
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৪২ মৃত্যু, শনাক্ত ২৭৪৩