বাংলানিউজকে সালাম মুর্শেদী

পোশাকশিল্প কঠিন সময় পার করছে

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা ও সংগঠক, তৈরি পোশাকের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম মুর্শেদী বাংলানিউজের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন। সাভারের আশুলিয়ায় তার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৬ হাজার শ্রমিক কর্মরত।

ঢাকা: বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা ও সংগঠক, তৈরি পোশাকের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম মুর্শেদী বাংলানিউজের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন। সাভারের আশুলিয়ায় তার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৬ হাজার শ্রমিক কর্মরত।

আসছে বছর ঘিরে তৈরি পোশাক শিল্পে গভীর সংকটের আশঙ্কা করেছেন এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ`র সভাপতি ও বিজিএমইএরর সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী। তৈরি পোশাকের প্রধান দুটি প্রধান গন্তব্যে মন্দা, আবার দেশে ফের বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কারণে এই খাত আরও বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে বলে তার শঙ্কা।

শনিবার বাংলানিউজের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের এ আশঙ্কার কথা বলেন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমই) এই সাবেক সভাপতি।

সালাম মুর্শেদী বলেন, গেল বছরটা ব্যবসা বাণিজ্যের দিক থেকে সার্বিকভাবে ভালোই হয়েছে। বিশ্বব্যাপী মন্দা থাকা সত্ত্বেও উদ্যোক্তা, শ্রমিক, কর্মচারীসহ সরকারের নীতিগত সহায়তার কারণে এ খাতটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

তিনি জানান, গত বছর সরকার ঘোষিত বর্ধিত মজুরি কাঠামো বাস্তবায়িত হওয়ায় বেতনভাতা নিয়ে কিংবা তা পরিশোধে বছরটিতে এ শিল্পে উল্লেখ করার মতো শ্রমিক অসন্তোষ পরিলক্ষিত হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এ খাত দেশে-বিদেশে কঠিন সময় পার করছে। দেশে উচ্চমাত্রার ব্যাংক সুদ, গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, সরবরাহে সংকট, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা কমে যাওয়া, মুদ্রাস্ফীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের মোট রপ্তানির ৮৯ শতাংশ যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে। এ দুটি প্রধান গন্তব্যের দেশগুলো তাদের প্রাথমিক মন্দার ধকল না কাটিয়ে উঠতেই দ্বিতীয় দফায় মন্দার কবলে পড়েছে।

‘ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে গ্রিস, পর্তুগাল, ইতালির অবস্থা খুব একটা ভালো না। তাদের দেশে ডাবল ডিজিটের বেকারত্ব, সে তুলনায় চাহিদা কমে আসার পাশাপাশি দরপতন হয়েছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ ছিল তুলনামূলক মূল্য বাড়ানো। কিন্তু অস্তিত্ব রক্ষায় সেটা না করে উল্টো আমাদের তা কমিয়ে আনতে হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতি যখন এ প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করছে, সেখানে দেশেও কিন্তু আমরা বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি।’

‘তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের বর্ধিত মজুরি কাঠামোতে বেতন পরিশোধ করতে হচ্ছে। দুইবার বাড়ল বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম। বেড়েছে ডিজেল ও ফার্নেস ওয়েলের দাম। পাশাপাশি শিল্প উন্নয়নে সবচাইতে বড় বাঁধা হচ্ছে ডাবল ডিজিটের ব্যাংক সুদ হার। এত উচ্চ সুদ দিয়ে শিল্প গড়া সম্ভব নয়। সরকার তো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অনেক উৎসাহ দেখাচ্ছে। সেখানে তো সুদের হার ১৮ থেকে ১৯ ভাগ। যে যাই বলুক না কেন উচ্চ হারের এ ব্যাংক সুদ হার দিয়ে শিল্প উন্নয়ন সম্ভব না।’

আব্দুস সালাম মুশের্দী আরও বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ খাতে প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে। গত নভেম্বরে প্রবৃদ্ধি কমেছে দুই ভাগের কিছু বেশি। তৈরি পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়ায় দামও কমে গেছে। বিদেশি ক্রেতারা তেমন অর্ডারও দিচ্ছেন না। যার কারণে বর্তমানে কাজও কমে গেছে। ভবিষ্যতে আরও কমবে। অন্যদিকে, অর্থবাজারের (মানি মার্কেট) অবস্থাও ভালো নয়। মুদ্রাস্ফীতি দুই ডিজিটে। দ্রব্যমূল্যও আকাশছোঁয়া। যার কারণে বর্ধিত মুজরির সুফল পাচ্ছে না শ্রমিকরা। নতুন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় নতুন বিনিয়োগ আসার সুযোগ নেই এ শিল্পে। এ পরিস্থিতির মুখে সরকারকে বেসরকারি খাতে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষদের রেশনের আওতায় আনার কথা আমরা বলেছি। আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মতো তাদেরও চাল-ডাল-তেলের মতো রেশন দেওয়া হলে শ্রমিকরা বর্ধিত মজরির সুফল পাবে।’

দেশে বিশ্ব মন্দার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে উল্লেখ করে আব্দুস সালাম মুশের্দী বলেন, ‘রপ্তানি কমে গেছে। তার ওপর বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর কারণে রপ্তানি বাণিজ্য শিল্প বাধাগ্রস্ত হবার পাশাপাশি শিল্পটি বেশ আঘাত পাবে।’

‘প্রত্যক্ষভাবে এক কোটি ও পরোক্ষভাবে চার কোটি মানুষ এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দুই হাজার ৪০০ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী হিসেবে এবং এতো বেশি কর্মসংস্থানের কথা বিবেচনা করে প্রণোদনা ইত্যাদি দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। তৈরি পোশাক শিল্প দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। দেশের স্বার্থে এ খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সামনের দিকে এগিয়ে যেতে না পারলে কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হবে। এমনিতেই রপ্তানি আদেশ গত বছরের চাইতে কমে গিয়ে হয়তো ঋণাত্মক পর্যায়ে নেমে আসবে। রপ্তানি আয় কমলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন কমে যাবে। শ্রমিকেরা কর্মসংস্থান হারাবে। কাজ কমে গেলে ছোট-মাঝারি অনেক শিল্পই বন্ধ হয়ে যাবে। বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্যবৃদ্ধি ‘প্রাইস সক্ষমতা’র ওপর প্রভাব ফেলবে।’

‘বাংলাদেশ কিন্তু আর্ন্তজাতিকভাবে এক্সপোর্ট ব্র্যান্ড দেশ হিসেবে পরিচিতি। মূল ব্যাপারটিই হচ্ছে দেশের ইমেজ। এ খাতের গতিধারা ও সুনামকে ধরে রাখতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কোনো বিকল্প নেই। আর এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

বাংলাদেশ সময়: ১৩৪৯ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৪, ২০১১

Nagad
বগুড়া-১, যশোর-৬ উপ-নির্বাচনের তদন্ত কমিটি গঠন ইসির
পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৬৪)
বগুড়া-১, যশোর-৬ উপ-নির্বাচন: অনিয়মে জরিমানা ১ লাখ টাকা
করোনা: চট্টগ্রামে নতুন ১৬২ জনসহ মোট আক্রান্ত ১১১৯৩
ছোটপর্দায় আজকের খেলা 


৮ কোটি টাকার গরু নিয়ে প্রস্তুত নাহার ডেইরি ফার্ম
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনার যত স্বীকৃতি
আইএস অনলাইনে সন্ত্রাসী নিয়োগের চেষ্টা করছে
সিউলের নিখোঁজ মেয়র পার্কের মরদেহ উদ্ধার
কিশোরীকে ধর্ষণ-গর্ভপাত, নারী চিকিৎসকসহ গ্রেফতার চার