২০১১: ডলারের দাম বৃদ্ধির রেকর্ড বছর

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

বছর ব্যবধানে আন্ত:ব্যাংক মুদ্রা বাজারের প্রতি এক ডলারের দাম বিগত বছরের চেয়ে বেড়েছে দশ টাকা। স্বাধীনতার পর বছরান্তরে এই পরিমাণ দর বৃদ্ধির ঘটনা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আর ঘটেনি। অর্থাৎ ডলারের দর বৃদ্ধির রেকর্ড বছর ২০১১।

ঢাকা: বছর ব্যবধানে আন্ত:ব্যাংক মুদ্রা বাজারের প্রতি এক ডলারের দাম বিগত বছরের চেয়ে বেড়েছে দশ টাকা। স্বাধীনতার পর বছরান্তরে এই পরিমাণ দর বৃদ্ধির ঘটনা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আর ঘটেনি। অর্থাৎ ডলারের দর বৃদ্ধির রেকর্ড বছর ২০১১।

বিগত ৪০ বছরের ইতিহাসে পাঁচবার টাকার বিপরীতে ডলারের দামের এমন উলম্ফন ঘটে। আর এর তিনটি ঘটনাই আওয়ামী লীগের শাসনামলের। উপরন্তু, এর মধ্যে অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির তিনবারের দুই বারই ঘটল বর্তমান সরকারের তিন বছর শাসনকালে। পাঁচবারের একটি বিএনপির শাসনামলে। আরেকটি এরশাদের সরকারে।  

তবে চলতি বছরের আগে এই দর বৃদ্ধির হার ছিল  সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা থেকে ছয় টাকা। এছাড়া  কোনো বছর এক থেকে তিন টাকার বেশি কখনো বাড়েনি।  

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত বছরের (২০১০) ডিসেম্বরে আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বাজারে ডলারপ্রতি ৭০ টাকা ৬৫ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। আর চলতি বছরের ডিসেম্বরে গ্রাহককে প্রতি এক ডলারের বিপরীতে ৮০ টাকা ৯০ পয়সা গুণতে হয়েছে। বছর ব্যবধানে ডলারপ্রতি দর বেড়েছে ১০ টাকা ২৫ পয়সা।

ডলারের এই উচ্চগতি এবং টাকার নিম্নমান ঠেকানোর  কোনো হাতিয়ার নেই সরকারের কাছে। অর্থনীতিবিদরা ডলারের এই দর বৃদ্ধির জন্য ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির পাশাপাশি সরকারের ব্যাপক হারে ঋণ নেওয়াকে দায়ী করছেন।

জানা গেছে, স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধবিধস্ত দেশে অর্থনীতিতে নানা সংকট চলছিলো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা নেওয়ার পর ১৯৭৩ সালে ডলারপ্রতি দর ছিল সাত টাকা ৯৪ পয়সা। তবে পরের বছর ১৯৭৪ সালে তা বেড়ে গিয়ে হয় ১৩ টাকা ৭৬ পয়সা। চলতি বছর বাদে সেটিই ছিল ডলারের দর বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ঘটনা। যার পরিমাণ প্রায় পাঁচ টাকা ৮২ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ১৯৮০-৮১ সালে ডলারের দর পাঁচ টাকা বাড়ে। ১৯৮০ সালে আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বাজারে প্রতি এক ডলার লেনদেন হতো ১৭ টাকা ৮৯ পয়সায়। আর ১৯৮২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ টাকা ১৭ পয়সাতে। সেসময় রাষ্ট্র পরিচালনায় ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

এদিকে, ২০০৪-০৫ সালে দুই বছরের মধ্যে ডলারের দাম বাড়ে ছয় টাকা। ২০০৪ সালে যার মূল্য ছিল ৬৩ টাকা। সেটি ২০০৫ সালে হয় ৬৯ টাকা। আর সেই সময়ে সরকারপ্রধান ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

আর সবশেষ এই সরকারের আমলেই ডলারের দাম বৃদ্ধির রেকর্ড হলো। বিগত কোনো সরকারের আমলে এভাবে লাফিয়ে ডলারের দাম বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেনি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর ২০০৯ সালে ডলারপ্রতি দাম ছিল ৬৯ টাকা। কিন্তু তা পরের বছর (২০১০ সালে) বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ৭৪ টাকা ১৪ পয়সাতে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘গত বছর আমাদের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ৪১ শতাংশ। এবছর সর্বশেষ তথ্য মতে, তা নেমে এসেছে সাড়ে ১৭ শতাংশে। আবার প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানো শ্লথ হয়েছে। নতুন শ্রমবাজার খুঁজে করতে পারছে না সরকার। এ অবস্থায় রেমিট্যান্স প্রবাহ শিগগিরই বাড়ার সম্ভাবনা নেই। বেড়েছে আমদানি ব্যয়। সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিচ্ছে। আর এসব কিছুর চাপ গিয়ে পড়ছে ডলারের দামের ওপর। চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে বছর ব্যবধানে এই অবস্থা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, এই সপ্তাহের গত কয়েকদিনেও প্রতিদিনই বেড়েছে ডলারের দাম। সপ্তাহের শুরুতে প্রতি এক ডলার বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা ৪৫ পয়সাতে। গত বুধবার তা লেনদেন হয়েছে ৮০ টাকা ৯০ পয়সাতে। আর মঙ্গলবার ৮০ টাকা ৭৮ পয়সাতে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক আল্লাহ মালিক কাজমি বলনে, এটা কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে অর্থনীতিতে এটি নিয়ন্ত্রণ করার হাতিয়ার আপাতত নেই। কারণ সরকার চাইলেই তো আর তার দৈনন্দিন খরচ কমাতে পারবে না। আর খরচ চাইলেই তো আর রাতারাতি কমানো যাবে না। ফলে সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎসের ঋণ শিগগিরি কমবে না। ফলে ডলারের দাম কবে নামবে তা বলা যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই  জ্যেষ্ঠ পরামর্শক সরকারকে অভ্যন্তরীণ ঋণ কমিয়ে বৈদেশিক অনুদান এবং ঋণ ছাড়ের বিষয়ে উদোগ গ্রহণের পরামর্শ দেন। এছাড়া সরকারের অপ্রয়োজনীয় খচরও কমানোর পরামর্শ দেন তিনি। একই পরামর্শ দিয়েছেন মির্জা আজিজুল ইসলাম।
 
ডলারের দরের ঊর্ধ্বগতি দেখে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যরত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়ে বেঠক করেন গত অক্টোবর মাসে। সেখানে প্রবাসীদের পাঠানো আয় এবং রপ্তানী আয় দ্রুত দেশে আনতে তাগিদ দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু তার কোন প্রভাব পড়েনি ডলার লেনদেনের ক্ষেত্রে আন্ত:ব্যাংক মুদ্রা বাজারে।

বাংলাদেশ সময়: ১১৪২ ঘণ্টা, ২২ ডিসেম্বর, ২০১১।

Nagad
যমুনার পানি ফের বিপৎসীমার উপরে, প্লাবিত সিরাজগঞ্জ
করোনায় আক্রান্ত সিএমপির উপ-কমিশনার মিজান আর নেই
দেশে প্রথম আনার চাষ, সফল চুয়াডাঙ্গার মোকাররম
কাঁচা মরিচের দামে কৃষকের মুখে হাসি
পশু বিক্রি: ফেসবুক বেছে নিচ্ছেন প্রান্তিক খামারিরা


বেগমগঞ্জে ৩০ মেট্রিক টন গম জব্দ
করোনা উপসর্গ নিয়ে বিসিএসআইআর কর্মকর্তার মৃত্যু
সভাপতি পদে রাহুলকে চান কংগ্রেসের সাংসদরা
নালিতাবাড়ী-ঝিনাইগাতীতে ২৫ গ্রাম প্লাবিত
বিপিও উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান পলকের