‘ভাতের মাড় দে, খালি পেটে চিড়া সয় না’

633 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
“ভাতের মাড় দে, খালি পেটে আর চিড়া সয় না। পাঁচ দিন ধইরা শুকনা চিড়া চিবাইতেছি।”বুধবার দুপুরে এভাবেই নগরীর লালখান বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে আহজারি করছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব বৃদ্ধা খোদেজা আক্তার।

চট্টগ্রাম: “ভাতের মাড় দে, খালি পেটে আর চিড়া সয় না। পাঁচ দিন ধইরা শুকনা চিড়া চিবাইতেছি”।

বুধবার দুপুরে এভাবেই নগরীর লালখান বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে আহজারি  করছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব বৃদ্ধা খোদেজা আক্তার।

খোদেজার বাড়ি নোয়াখালী হলেও দুই মেয়ের সঙ্গে বসবাস করেন নগরীর লালখান বাজার মতিঝর্ণা এলাকায় অবস্থিত ‘বাদল বাবুর পাহাড়’র একটি বস্তিতে।

সম্প্রতি বন্দরনগরী চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে মৃত্যুঝুঁকি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের বাসিন্দাদের বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেয় জেলা প্রশাসন। এরই সূত্র ধরে গত শনিবার খোদেজারও সপরিবারে ঠাঁই হয় নগরীর লালখান বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে।

খোদেজা আক্তার বলেন, “বাসা থেকে নিয়া আসার সময় কইছিলো খাবার দিবো। পাঁচদিন ধইরা ঠিকমত খাবার পাই না। সারাদিন মিলে একবার ভাত খাইতে দেয়, রাতে শুকনা চিড়া। ওই চিড়া খালি পেটে সয় না বাবা, গলায় আটকায়া যায়। ভাত না দিক, ভাতের মাড়তো দেওন যায়।”

তিনি জানান, ত্রিশ-চল্লিশ বছর ধরে তিনি ‘বাদল বাবুর পাহাড়ে’ থাকছেন। তিনশো টাকা যে বাসায় ভাড়া দিতেন তা এখন ১৭শ টাকা। ‘বাদল বাবু’ মারা যাওয়ার পর তার দুই ছেলে ‘বড় বাবু’ ও ‘ছোট বাবু’ ঘর ভাড়া নেন। স্বামী মারা যাবার পর দুই মেয়ে ঝর্ণা বেগম ও জোৎস্না বেগম মানুষের বাসায় কাজ করে ঘর ভাড়া চালায়।

শুধু খোদেজাই নয়, আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে খাবারের অভাব নিয়ে অভিযোগ প্রায় সকল আশ্রিতেরই।

লালখান বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থানকারী একই পাহাড়ের বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের অধিকাংশই রিক্সা চালক ও দিনমজুর। কম টাকায় ঘর ভাড়া পাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেন। কিন্তু আশ্রয় কেন্দ্রে আসার পর এসব দিনমজুরদের অধিকাংশই কাজে যান না, তাদের অগোচরে প্রশাসন ঘর ভাঙ্গা শুরু করবে সে আশঙ্কায়।

“কেউ কামে যেতে চায় না, ভাবে সরকার যদি ঘর ভাইঙ্গা দেয়। সবারই পকেট খালি, কিনে খাওনের টাকাও নাই, আবার সরকারও ঠিকমতো ভাত দেয় না। খারাপ লাগে বাচ্চা পোলাপানগো লাইগ্গা, এদের কি আর চিড়া দিয়া হয়।”

আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা মতিঝর্ণার ‘আরমাইন্যার পাহাড়’র বাসিন্দা আলেয়া বেগম বলেন, “বাসায় সরকারি লোক তালা লাগাইয়া দিছে। এক কাপড়ে এইখানে থাকছি। ঠিকমতো ভাতও পায় ‍না, আবার রান্না করারও জায়গা নাই। তিনটা বাচ্চা নিয়া খুব কষ্টে দিন পার করছি।”

সম্প্রতি পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির এক বৈঠকে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে অবৈধ বাসিন্দাদের চুড়ান্তভাবে উচ্ছেদ করে সাময়িকভাবে পুনর্বাসন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আশ্রিতদের খাবারের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে জেলা প্রশাসন।

আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরতরা জানান, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে লালখান বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪টি কক্ষে প্রায় ৮০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। এসব পরিবারগুলোর অধিকাংশই ‘বাদল বাবুর পাহাড়’ ‘আরমাইন্নার পাহাড়’ ‘জাফরের পাহাড়’ ‘পোড়া কলোনী’তে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী।

আশ্রয় কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ২২ ব্যাটলিয়ন সদস্য মো. আফজাল বলেন, “লালখান বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ২০০ লোক আশ্রয় নিয়েছেন। দিনের বেলায় অধিকাংশই আশ্রয় কেন্দ্রের বাইরে থাকেন। তবে, রাতে আবার ফিরে আসেন।”

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এস এম আবদুল কাদের জানান, চলতি বছর নগরীতে জরিপ চালিয়ে ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের তালিকা তৈরী করেছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে ১১টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ৬৬৬টি পরিবারের বসতি রয়েছে। এসব অতিঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের বাসিন্দাদের চূড়ান্তভাবে উচ্ছেদ করতে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে উচ্ছেদকৃতদের নগরীর ৬টি অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে সাময়িক পুনর্বাসন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩০ ঘণ্টা, জুন ২৫, ২০১৪

রাজধানীতে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ
কক্সবাজারে আরো ৪৬ জন করোনা আক্রান্ত
শ্রীমঙ্গলে ৬৭ মামলায় ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা
আড়াইহাজারে দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু
সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ৪৮ জন


নালিতাবাড়ীতে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু
বগুড়ায় একদিনে সর্বোচ্চ করোনা রোগী শনাক্ত
সাবেক মেয়র কামরানের স্ত্রী করোনা আক্রান্ত
বাগেরহাটে আ’লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১
নিহত ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ