ধারাবাহিক অনুবাদ উপন্যাস

ব্যানকো [পর্ব--১৬]

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

হেনরি শ্যারিয়ারের দীর্ঘ ১৩ বছরের ফেরারি এবং জেল-জীবনের হৃদয়স্পর্শী, দুর্ধর্ষ, মানবিক আর আবেগমথিত অমানবিক সব অভিযানের কাহিনী লেখা হয়েছে প্যাপিলন-এ। এরপরের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে শ্যারিয়ার রচিত দ্বিতীয় বই ‘ব্যানকো’ তে। বাংলানিউজের পাঠকদের জন্য ‘ব্যানকো’-এর ধারাবাহিক অনুবাদ।

ব্যানকো[পর্ব--১৫], [পর্ব--১৪], [পর্ব--১৩], [পর্ব--১২], [র্পব--১১],[র্পব--১০], [পর্ব--৯], [পর্ব--৮], [পর্ব-৭], [পর্ব-৬], [পর্ব-৫], [পর্ব-৪], [পর্ব-৩], [পর্ব-২], [পর্ব-১]

দ্বাদশ পরিচ্ছদ

মঁমার্টে--আমার বিচার

১৯৬৭ সনের দিকে আমার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় যতি পড়ে। এ সুযোগে আমি ফ্রান্সের পথে বেড়িয়ে পড়লাম। এদিকে আমার ব্যবসাকে চালু রাখতে রিটা রয়ে গেল, কারণ এজন্যে প্রয়োজনীয় সাহস, কর্তৃত্বপরায়ণ মনোভাব আর নিজেকে অন্যদের চোখে শ্রদ্ধাভাজন করে তোলার যোগ্যতা-- এর সবগুলোই ছিল তার মাঝে। বউ আমাকে বললো, যাও। তোমার লোকজনের মাঝে, তাদের বুকে জড়িয়ে ধরতে; যাও! তোমার বাবার কবর জিয়ারত করে এস।

 

আমি স্পেন হয়ে নাইসের পথে ফ্রান্সে চললাম। প্রশ্ন উঠতে পারে, নাইসের পথে কেন? ক্যারাকাসের ফরাসি কনস্যুলেট ভিসার সঙ্গে সঙ্গে আমার বিচার স্থগিত হওয়ার বিষয়েও একটি কাগজ ধরিয়ে দেয়। আর ভিসা দেওয়ার সময়ে কনসাল আমাকে বলেছিল, তোমার দেশে ফেরার মত পরিবেশ পরিস্থিতি বিষয়ে ফ্রান্স থেকে নির্দেশাবলী আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর। মুখ ফুটে তাদের বলার দরকার নেই, বোঝাই যায় এ ব্যাপারে দূতাবাসে গেলে কনসাল জানাবে যে আমাকে প্যারিসের ডিপার্টমেন্ট অব সেইনে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্ত আমি তো প্যারিসে অন্তত একবারের জন্য হলেও একটা চক্কর লাগাতে স্থির সংকল্পবদ্ধ হয়ে আছি।

 

আর তাই এভাবে নির্দেশাবলীর ফাঁদ এড়ানোর ফন্দি আঁটলাম। এই কায়দায় এক অর্থে ওই নোটিশ আমার হাতেই পড়েনি এবং একইভাবে তাতে স্বাক্ষর করার ফ্যাসাদেও পড়তে হবে না আমাকে। এর ফলে এতদসংক্রান্ত বিষয়ে আমার দ্বারা কোন অপরাধই সংঘটিত হবে না: যদি না কনসাল আমার রওনা হওয়ার খবর জানতে পেরে প্যারিস এয়ারপোর্টে পুলিশকে জানিয়ে দেয় কাগজটা আমাকে গছিয়ে দেওয়ার জন্য। এখানে আমার দুইটা যাত্রা বিরতির স্থান পড়বে। অর্থাৎ আমি নাইস-এ পৌঁছবো, বিষয়টা দাঁড়াবে আমি যেন স্পেন থেকে এসেছি নাইস-এ। তারপর প্যারিস।

 

১৯৩০ থেকে ১৯৬৭ সাল, সাঁইত্রিশ বছর পেরিয়ে গেছে এর মাঝে। এর থেকে ১৩টি বছর হারিয়ে গেছে বন্দীত্বের অতল আঁধারের কানাগলিতে। আর স্বাধীনভাবে কেটেছে ২৪ বছর, এরমধ্যে ২২টি বছর নতুন করে গড়া বাড়ি-ঘর-সংসারে, যার আরেক অর্থ আমি সোজাপথেই চলেছি ওই সময়টায়, সমাজে নতুন করে অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে আমার।

এসময়কালের মধ্যে ১৯৫৬ সালে স্পেনে গিয়ে আমার স্বজনদের সঙ্গে একমাস কাটিয়েছিলাম। এরপরে তাদের সঙ্গে আবার দীর্ঘ এগার বছরের বিচ্ছদ। তবে এই এগার বছরে আমাদের মধ্যে চালাচালি হওয়া অসংখ্য চিঠি পরিবারের সঙ্গে আমার সম্পর্ককে জিইয়ে রেখেছে।

১৯৬৭ সালে আমি তাদের সবাইকে আবার দেখলাম। প্রত্যেকের ঘরদোরে গিয়ে আসন পেতে বসেছি, তাদের বাচ্চাকাচ্চাকে এমনকি নাতি-নাতনিকে কোলে তুলে নিয়েছি পরম সুখে। গ্রেনোবল, লিওনস কেইনস, সেইন্ট-প্রিস্ট আর তারপরে সেইন্ট-প্যারে, যেখানে আমার পরলোকগত বাবার ঘরে দেখা পেলাম সৎ মা তাঁতে জ্যু-এর, মরে যাওয়ার পরেও এখন পর্যন্ত আমার বাবার প্রতি অবিচল বিশ্বস্ত।

http://www.banglanews24.com/images/PhotoGallery/2011December/Jewish_Graveyard 220111219180907.jpgতাঁতে জ্যু আমাকে জানায় কেন বাবা তার সময়ের আগেই চলে গেলেন। বাবা তার নিজের বাগানে নিজেই পানি সেঁচ দিতেন এবং সেজন্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা ক্যানভর্তি পানি নিয়ে আসতেন শ’ দুয়েক গজ দূরের স্থান থেকে। ‘ভেবে দেখ শুধু একবার, বৎস, ওই বয়সে! এ কাজটি রাবারের একটি হোসপাইপ কিনেও করা যেত আরামসে, কিন্তু ঈশ্বর সাক্ষী, সে ছিল চরম একরোখা। এভাবেই একদিন পানিভর্তি ক্যানগুলো বয়ে আনার পথে তার হার্ট ফেল করে বসে।’

 

মানসচক্ষে আমি দেখতে পাচ্ছিলাম আমার রিটায়ার্ড স্কুলশিক্ষক বাবা তার বয়সের তুলনায় অসম্ভব ভারী ওই ক্যানগুলো প্রাণপন প্রয়াসে বয়ে আনছেন তার প্রিয় লেটুস, টমেটো আর হেরিকোট বীনের ক্ষেতে। আমি আরো দেখতে পাচ্ছিলাম তার স্ত্রী তাঁতে জ্যু তাকে যে রাবারের হোস কেনার জন্য বারবার তাগাদা দিয়ে যাচ্ছিল তার বিরুদ্ধে কিভাবে প্রাণপন লড়ে যাচ্ছিলেন তিনি। আমি দেখতে পাচ্ছিলাম সেই গ্রাম্য স্কুলমাস্টারকে, পানি আনার পথে দম নিতে এবং কপালের ঘাম মোছার জন্য থামছিলেন, এই ফুরসতে কোন প্রতিবেশিকে কোন জরুরি বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছিলেন, কিংবা নিজের কোন নাতিকে উদ্ভিদবিদ্যা বিষয়ে জ্ঞান দান করছিলেন। গোরস্তানে তার কবর জেয়ারতে যাওয়ার আগে তাঁতে জ্যুকে বললাম আমার সঙ্গে বাবার সেই প্রিয় হাঁটাপথে ঘুরে আসার জন্য। এসময় তাঁতে জ্যুকে বাবার সঙ্গের অনেক স্মৃতিই তাড়িত করছিল। আগ্রহভরে তাঁতে জ্যু তর্পণ করছিল বাবার নানা স্মৃতি, বচন। হয়তো কোথাও হঠাৎ দাঁড়িয়ে তিনি বলতেন বোলতার কামড়ে তার নাতি মিখায়েলের আহত হবার ঘটনা। আমি বাবার জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আলাপন আর ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ শোনার জন্য তৃষ্ণায় শুকিয়ে যাওয়া গলা নিয়ে জ্যুর কথায় মনোযোগ দিয়ে রই। ‘জানো, জ্যু’, বাবা বলতেন তাকে, ‘আমার ছেলেটি যখন মাত্র পাঁচ কি ছয় বছরের, তখন তাকেও বোলতা কামড়িয়েছিল, তাও মিখায়েলের মত একবার নয়, দু’দুবার। আশ্চর্যের বিষয় কি জানো? সে একটুও কাঁদেনি। তারচেয়ে কঠিন বিষয় হল বোলতার বাসা ধ্বংস করার জন্য জেদ চেপে বসা ওই এত্ত টুকুন ছেলেকে সামলাতে আমাদের কী পেরেশানিতেই না পড়তে হয়েছিল। ওহ্! রিরি (হেনরি) মারাত্মক সাহসী ছিল।’

আমি আরডেইশের পথে আর এগোলাম না। সেইন্ট-প্যারের আশেপাশেই রইলাম। আমার ইচ্ছা ছিল নিজের গ্রামে যখন ফিরবো, তখন আমার স্ত্রী রিটা আমার সঙ্গেই থাকবে।

ট্রেন থেকে গারে ডি লিওনে নামলাম। অর্থৎ আবারো আমার পায়ের তলে প্যারিসের রাজপথের অ্যাসফল্টের ছোঁয়া পড়লো, দীর্ঘ সাঁইত্রিশ বছর পর।

তবে যতক্ষণ না আমি আমার নিজের জেলা মঁমার্তে-তে পৌঁছাচ্ছি, ততক্ষণ পর্যন্ত এগুলো আমার পথের অ্যাসফল্ট নয়। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে রাতে পৌঁছলাম। কারণ তিরিশের দশকের প্যাপিলনের কাছে সূর্য বলে তখন যা পরিচিত ছিল তা হলো রাতের প্যারিসের বৈদ্যুতিক বাতি। তাই রাতেই আমার নিজেকে সেখানে খুঁজে পাওয়ার এ চেষ্টা।

হ্যাঁ। এই তো সেই মঁমার্তে। প্লেস পিগ্যাল্লে, পিয়েরট ক্যাফে আর চন্দ্রালোক, প্যাসেজ এলিসি ডেস বিউক্স-আর্টস আর তার হৈ-হুল্লোড় কলরব, হাসি-তামাশা, ঘুরে বেড়ানো বেশ্যা আর তাদের ভেরুয়া বা দালালদের চলাফেরায়ই ফুটে উঠছিল যার যার পরিচিতি। দেখা যাচ্ছে হোটেলগুলোর জনাকীর্ণ পানশালা। তবে এর সবই ছিল আমার একেবারে প্রাথমিক অনুভূতি।

সাঁইত্রিশটি বছর পেরিয়ে গেছে, আশপাশের কেউই আমার দিকে ভ্রুক্ষেপ পর্যন্ত করলো না। ষাট বছর বয়সি এক বুড়োর দিকে মনোযোগ দেওয়ার দায় কারই বা পড়ে গেছে? ওপরতলায় গেলে পতিতারা হয়তো শুধোবে, কিংবা নিচের বারে অসভ্যতার চরম স্তরে পৌঁছানো তরুণ-যুবারা বেয়াদবের মত আমাকে ঠেলে কনুই মেরে হয় তো তিষ্ঠোতেই দেবে না।

এখানে আমার মূল্যায়ন স্রেফ আরো একজন আগন্তুক বই তো নয়, হয় তো একজন সম্ভাব্য খদ্দের, তারা ভাবছে পরিপাটি পোশাকে গলায় টাই বাঁধা এই লোকটি কোন প্রাদেশিক এলাকার ছোটখাটো কারখানা মালিক, একজন মধ্যবিত্ত, মাঝরাতে পথ হারিয়ে এই রহস্যময় পানশালায় এসে ঢুকেছে। তারা বুঝতে পারছে লোকটা এখানকার পরিবেশে অস্বস্তি বোধ করছে।

অবশ্যই আমি অস্বস্তিতে ভুগছিলাম এবং তা বোধগম্য কারণেই। কারণ এরা আমার সেইসব লোক নয়, সেইসব মুখশ্রীও নয়। পলকেই বলে দেওয়া যায় আগের সবকিছুই এখানে তালগোল পাকিয়ে গেছে। সব কিছ্ইু দ্বিধাপূর্ণ-- শূকর-শাবকের দল (পুলিশ), সমকামীর দঙ্গল, মাগীর নকল দালালরা, ওয়াইড-বয়েস, স্কয়ার, কৃষ্ণাঙ্গ আর আরবরা; এদের মাঝে খুবই কম সংখ্যক মার্সেইবাসী বা কর্সিকান। দক্ষিণি টানে বলা তাদের বাতচিৎই শুধু আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল পুরনো দিনের কথা। আমার দেখা এখানকার দুনিয়ার থেকে এটা সম্পূর্ণই এক আলাদা জগতে পরিণত হয়েছে। এমনকি আমার সময়ে যা ছিল এখানকার পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, তারও হদিশ নেই-- কবি, চিত্রকর আর অভিনয় শিল্পীদের দিয়ে ঠাসা সরগরম সেই টেবিলগুলো, সেখানকার আড্ডবাজদের লম্বাচুলের পাট থেকে ছড়ানো কটুগন্ধ যা সাক্ষ্য দিত তাদের ছন্নছাড়া যাযাবর জীবনের, সঙ্গে তাদের প্রগতিবাদী দর্শনপ্রসূত জ্ঞানের গভীরতার দ্যুতি হারিয়ে গেছে! এখন যে কোন পুঁচকে ইঁচরে পাকার মাথায়ই শোভা পায় লম্বা লম্বা চুল।

 

এভাবেই আমি নিশিতে পাওয়া লোকের মত এক পানশালা থেকে আরেকটায় ঘুরে বেড়ালাম। আমি প্রতিটি পানশালারই সিঁড়ি ভেঙ্গে দোতলায় উঠে দেখার চেষ্টা করলাম সেখানে আমার যৌবনকালের সেই বিলিয়ার্ড বোর্ডগুলো এখনো আছে কী না। এসময় একজন গাইড কর্তৃক মঁপারনাস্যে ঘুরে দেখানোর প্রস্তাব বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করলাম। তবে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘তুমি কি মনে কর না যে ১৯৩০ সালের পর থেকে মঁমার্তে তার সেই সময়কার প্রাণস্পন্দন হারিয়ে ফেলেছে?’

 

তার দেওয়া উত্তরে আমার আপনকার মঁমার্তেকে রীতিমত অপমানই করা হল। মন চাইলো শালাকে কষে একটা চড় দিয়ে মাটিতে ফেলে দেই। সে বলল, ‘হুম...। কিন্তু মঁশিয়ে, মঁমার্তে হচ্ছে অমর। আমি এখানে চল্লিশ বছর আছি, দশ বছর বয়সে এসেছি। আর বিশ্বাস করুন, প্লেস পিগ্যাল্লে, প্লেস ব্ল্যাঞ্চে, প্লেস ক্লিচি আর তাদের মাঝের সবগুলো পথঘাট ঠিক সেইরকমই রয়ে গেছে আর চিরকাল ঠিক তাই থেকে যাবে।’ শুষ্কংকাষ্ঠং এই গোবরগণেশের কাছ থেকে অনেকটা পালিয়েই চলে এলাম, সড়কদ্বীপের মাঝখানের গাছের সারির নিচ দিয়ে, হেঁটে চললাম। এই স্থান থেকে, হ্যাঁ-- যেখান থেকে দূরের লোকজনকে পরিষ্কার দেখা যায় না, স্রেফ তাদের অবয়বটাই শুধু বোঝা যায়-- এখান থেকে, হ্যাঁ এখানে থেকে মঁমার্তে এখনো সেরকমই আছে। আমি ধীরপায়ে হেঁটে সেই আলোচিত স্থানটায় এলাম পুলিশের অভিযোগ মতে ১৯৩০ সালের ২৫ ও ২৬ মার্চের মাঝের রাতটায় যেখানে আমি নাকি রোল্যান্ড লেগ্রান্ডকে গুলি করেছিলাম।

পুরু কাঠের সেই বেঞ্চটাই এখনো সেখানে আছে, নতুন করে রঙ করা হয়েছে শুধু (রাস্তার পাশে মানুষজনের বসার জন্য বানানো সরকারি বেঞ্চ), সেই ল্যাম্প পোস্টটাও আছে, পথের ওপর আড়াআড়ি লাগানো সেই বারটাও আছে, রাস্তার অপর পাশের বাড়িগুলোর দরজাগুলো সেরকমই আধখোলা অবস্থায় আছে।

 

ঘটনার সেই রাতে উপস্থিত সেই ইট-কাঠ-পাথর-গাছ তোমরা সবাই এখনো আছ, তোমরা সত্য কথাটা বল এবার। তোমরা সেদিন দেখেছ, ওই রাতের ঘটনার তোমরাই সত্যিকারের সাক্ষী। তোমরা জান সে রাতে যে লোকটি গুলি করেছিল সে আমি নই, অন্য কেউ। তাহলে তোমরা কেন বলনি তা?

আমি যখন এসব স্বগতোক্তি করছিলাম, লোকজন পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল, তবে কেউ-ই একটি গাছের গায়ে ঠেস দিয়ে দাঁড়ানো ষাট বছর বয়সী এই বুড়োকে নজরে আনছিল না।

১৯৩০ সালে আমার বয়স ছিল ২৩ বছর, তখন আমি এই রু লেপিক দিয়ে ছুটে যেতাম, এপথে এখনো আমি হেঁটে যেতে পারি প্রাণবন্ত উচ্ছ্বল তরুণের মত।

হে পাশ অতিক্রমকারী নিম-কানা পথিকের দল, একটু দাঁড়াও! তোমাদের সকলের উপস্থিতি সত্ত্বেও কবরের পাষাণ ঠেলে উঠে এসেছে প্রেতাত্মা, যাকে তোমরা জ্যান্ত পুঁতে ফেলেছিলে একদিন। দাঁড়াও পথিকবর, দেখ সেই নিষ্পাপ মানুষটির দিকে যে এই স্থানটায় ঘটে যাওয়া এক খুনের দায়ে শাস্তি পেয়েছিল, এই গাছ আর পাথরগুলোর সামনেই ঘটেছিল সেই ঘটনা। একটু থেমে জিজ্ঞেস করে দেখ এই বোবা অস্তিত্বগুলোকে যে সেদিন আসলে কী ঘটেছিল? তোমরা একটু ঝুঁকে তাদের ঘণিষ্ঠ হয়ে যদি শুধাও, মিনতি কর তাদের, যেমন আমি করছি, তোমরা আমারই মত শুনতে পাবে, তারা অস্ফুটে ফিসফিস করে বলছে, ‘না, ৩৭ বছর আগের ২৫ ও ২৬ মার্চের মাঝের রাত আড়াইটায় এই লোকটি এখানে উপস্থিত ছিল না।’

‘তাহলে কোথায় ছিল সে তখন?’ সন্দেহপ্রবনরা নিশ্চিত এই প্রশ্ন করবে। আমি ওই সময়টায় এ জায়গাটা থেকে শ’ খানেক গজ দূরের আইরিশ-পানশালায় ছিলাম। সে সময়ই সেই ভালোমানুষ ট্যাক্সি ড্রাইভারটি ছুটে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, ‘বাইরে এইমাত্র একজনকে গুলি করা হয়েছে।’

 

‘এ কথা সত্য নয়’, শূকর শাবকরা এর বিরুদ্ধাচারণ করে বলেছিল। আইরিশ বারের মালিক আর তার ওয়েটারও পুলিশের শিখিয়ে দেওয়া একই মিথ্যা উগড়ে দিয়েছিল।

সেই তদন্ত নাটক আরো একবার মানষচক্ষে দেখলাম, দেখলাম বিচারকার্যও। এই দুর্লভ আবহে মনে মনে আবারো অতীতের মুখোমুখি হওয়াটাকে এড়াতে পারলাম না। তুমি কি এর ভেতর দিয়ে আবারো যেতে চাও, জনাব? সত্যিই চাইছো? সেই জঘন্য ঘটনার প্রায় চল্লিশ বছর পেরিয়ে গেছে আর তুমি তারপরেও চাচ্ছ সেই দুঃস্বপ্নের সায়রে আবারো অবগাহন করতে? তুমি কি এব্যাপারে ভীত নও যে বিষয়টা তোমাকে আবারো প্রতিশোধস্পৃহা, জিঘাংসায় তাড়িত করতে পারে, যা তুমি অনেক আগেই বাদ দিয়ে দিয়েছো। তুমি কি মনে কর তোমার মনের জোর এতটাই যে স্মৃতির ওই নোংরা নর্দমায় আরো একবার ডুব দেওয়ার পর তুমি স্থির থাকতে পারবে! ভোরের আলো ফোটার আগেই এবং দোকানপাট খোলার আগেই ছুটে যাবে না একটা কেবিন-ট্রাংক কেনার জন্য? তারপর তাতে বিস্ফোরক বোঝাই করে ঠিকানামত কাজে নেমে পড়তে কি দেরি হবে খুব?

http://www.banglanews24.com/images/PhotoGallery/2011December/banc20111219175428.jpgনা, আমি পুরোপুরি শতভাগ নিশ্চিত এ ব্যাপারে। তাদের কারোরই আমার থেকে ভীত হওয়ার কিছু নেই-- স্রেফ নিজে থেকেই তাদের মরতে দাও আগে, যদি ইতিমধ্যেই কবরের কীট-পতঙ্গ তাদের ওপর হামলে পড়ে না থাকে। ঠিক হ্যায়, হে সনাতন প্যাপি, সেই গ্রান্ড গুইনোল পর্বে ফিরে যেতে তাহলে কোন সমস্যাই নেই যেখানে তুমি ছিলে হিরো, আবার একই সঙ্গে ভিকটিমও। বসে পড় এখানে এই সবুজ বেঞ্চিতে, সেদিন রু জার্মেইন-পাইলনের উল্টোদিকের ক্লিচি বার-তাবাক-এর পাশের এই বুলেভার্ড ডি ক্লিচিতে ঘটা সেই ঘটনাস্থলের সামনে, আর তদন্তের পর যেখান থেকে শুরু হয়েছিল আমার জীবনের ট্রাজেডির।

ঘটনার শুরুটা ছিল এরকম : রাত আড়াইটার দিকে এক লোক ক্লিচি বারে এসে মাদাম নিনির খোঁজ করলো।

‘আমি-ই নিনি।’ জবাব দিল সেখানে থাকা এক বারবনিতা।

‘তোমার লোকটা পেটে গুলি খেয়েছে এইমাত্র। সে গাড়িতে আছে, আমার সঙ্গে আস।’

নিনি একজন বান্ধবীকে নিয়ে অজানা ওই লোকটার পেছন পেছন দৌড় লাগালো। তারা একটি ট্যাক্সিতে গিয়ে উঠলো, এর পেছনের সিটে বসেছিল রোলান্ড লেগ্রান্ড। নিনি অজ্ঞাত লোকটিকে জিজ্ঞেস করলো তাকে এখানে আসতে কে বলেছিল। জবাবে ‘আমি পারবো না’ বলেই সে অদৃশ্য হল।

‘তাড়াতাড়ি, ল্যারিবইসিয়েরে হাসপাতালে চল!’

ট্যাক্সিটির চালক এক রাশিয়ান, সে তার আহত প্যাসেঞ্জার গাড়িতে উঠার পর আবার গাড়ি চালানো শুরুর পরই কেবল জানতে পারে তার যাত্রী আহত অবস্থায় আছে। এরপর হাসপাতালে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সে কর্তব্যজ্ঞান মনে করে থানায় ছুট লাগায় এ যাবত যা যা ঘটেছে পুলিশকে জানাতে। বুলেভার্ড ডি ক্লিচির ১৭ নম্বর হোল্ডিংয়ের সামনে গায়ে গা জাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দুই ব্যক্তি তার গাড়ি থামায়। এদের মধ্য থেকে রোলান্ড লেগ্রান্ডই কেবল গাড়িতে ঢোকে। অন্য লোকটি তাকে বলে ক্লিচি পানশালার দিকে গাড়ি চালাতে আর নিজে পায়ে হেঁটে ছোটে গাড়ির পেছন পেছন। পরে সেই লোকটিই বারে যায় এবং সঙ্গে দু’জন মহিলা নিয়ে ফিরে আসে; এরপরই সে হঠাৎ গা ঢাকা দেয়। মহিলা দু’জন তাকে বলে ল্যারিবইসিয়েরে হাসপাতালের দিকে যেতে।

 

পুলিশ সযত্নে ওই ঘটনা লিখে রাখে; সঙ্গে নিনির স্বীকারোক্তিও। নিনি জানায়, তার বয়ফ্রেন্ড ওই পানশালায় তাস খেলে কাটিয়েছে যেখানে সে ধান্দা করে। লেগ্রান্ড এক অপরিচিত লোকের সঙ্গে কার্ড খেলছিল। লোকটি সেখানে ডাইস খেলে এবং অপরিচিত আরো কয়েকজনের সঙ্গে মদ্যপান করে। রোলান্ড সবার শেষে বেড়িয়ে যায়, একা। নিনির কথায় এমন কোন ইঙ্গিত নেই যে কেউ এসে রোলান্ডকে ডেকে নিয়ে গেছে। সে নিজে থেকেই বেড়িয়ে গেছে।

একজন কমিশেয়ার এবং একজন পুলিশ, কমিশেয়ার গেরার্ডিন আর ইন্সপেক্টর গিরিমাল্ডি মৃত্যুকালে রোলান্ড লেগ্রান্ডের জবানবন্দি নেয় তার মায়ের উপস্থিতিতে। নার্স তাদের জানিয়েছিল যে লেগ্রান্ডের কোন আশা নেই। মৃত্যুশয্যায় পুলিশকে দেওয়া তার জবানবন্দী একটি পুস্তিকায় ছাপা হয়েছিল যা একজন ডিভিশনাল কমিশনার সত্যায়িত করেছিলেন। এখানে লেগ্রান্ডের ওই জবানবন্দিটি উদ্ধৃত করছি।

‘এখানে তোমার পাশে পুলিশ কমিশনার এবং তোমার মা যার সঙ্গে দুনিয়ার সবচেয়ে পবিত্রতম সম্পর্ক, তিনি উপস্থিত আছেন। সত্যি সত্যি বল, কে তোমাকে গুলি করছিল?’

‘লেগ্রান্ডের উত্তর, “প্যাপিলন রজার।”

‘আমরা তাকে শপথ করে বলতে বলি যে সে যা বলেছে তা সত্য বলেছে। সে বলে, “হ্যাঁ, মঁশিয়ে, আমি সত্য বলেছি।”

‘এরপর আমরা তার মায়ের পাশে তাকে রেখে চলে আসি।’

অর্থাৎ ওই রাতে কি ঘটেছিল তা পরিষ্কার এবং সন্দেহমুক্ত। গুলি করেছিল প্যাপিলন রজার নামে এক ব্যক্তি। বেশ্যার ভেড়ুয়া রোলান্ড লেগ্রান্ড পেশায় কসাই, শূকরের মাংস বিক্রি করতো। সে তার গার্ল-ফ্রেন্ড নিনিকে দিয়ে ধান্দা করাতো। রু এলিসি ডেস বিউক্স-আর্টসের ৪ নম্বর হোল্ডিংয়ে নিনিকে নিয়ে থাকতো। সে আদপে আন্ডারওয়ার্ল্ডের কোনো সদস্য ছিল না কিন্তু মঁমার্তেতে ঘুরে বেড়াতো তার মত আরো অনেক ফালতু লোকের মত এবং এই জগত সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল। একই কারণে সে এই লাইনের বেশ কিছু প্যাপিলনকে চিনতো। আর তাই তাকে গুলি করা প্যাপিলনই যাতে ধরা পরে মৃত্যুশয্যায় দেওয়া সাক্ষ্যে সে বিষয়টি নির্দিষ্ট করাতে লোকটির খৃস্টীয় নাম উল্লেখ করেছিল।

আজ এই আলোচিত ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে সংশ্লিষ্ট সবকিছুই আমার স্মৃতিতে এসে ভিড় করছে। আমার আইনজীবীর দেওয়া এতদসংক্রান্ত ফাইলটি হাজতখানার সেলে আমি এতবার পড়েছি যে এর সবটুকু হৃদয়ে খোদাই হয়ে আছে। এটা বাইবেলের মতই আমার মুখস্ত।

লেগ্রান্ডের মুত্যুশয্যায় দেওয়া জবানবন্দি আর তার রক্ষিতা নিনির বর্ণনার কোথাও আমার কথা বলা হয়নি খুনী হিসেবে।

এরপর মঞ্চে আসে আরো চার ব্যক্তি। এরা ঘটনার রাতে লেরিবইসিয়েরে হাসপাতালে গিয়েছিল দু’টি বিষয় জানতে:

১. আহত ব্যক্তি রোলান্ড লেগ্রান্ড কী না এবং

২. তার অবস্থা কতটা গুরুতর

পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। যেহেতু এই চার ব্যক্তিও আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল না এবং তারা নিজেদের গোপনও করছিল না, তারা স্বেচ্ছায় ঘটনা জানাতে এসেছিল এবং চলেও যায়। কিন্তু চলে যাওয়ার পথে পুলিশ তাদের অ্যাভেনিউ রোশেকোয়ার্ট থেকে তুলে ১৮ অ্যারোনডিসমেন্ট পুলিশ স্টেশনের কাস্টডিতে আটকে রাখে। তাদের নাম হচ্ছে: জর্জেস গোল্ডস্টেইন (বয়স ২৪), রজার ডরিন (২৪), রজার জৌরমার (২১) এবং এমিল কেইপ (১৮)। গোল্ডস্টেইন পুলিশ কমিশনারের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছিল অনেক লোকজনের এক জটলায় বসে থাকা অবস্থায় সে জানতে পারে লেগ্রান্ড নামে এক ব্যক্তিকে রিভলভার দিয়ে তিনবার গুলি করা হয়েছে। লোকটি তার বন্ধু রোল্যান্ড রেগ্রান্ড কী না জানতে সে হাসপাতালে ছুট লাগায়। পথিমধ্যে বাকি তিনজনের দেখা পেয়ে তাদেরকেও সঙ্গে নেয়। তবে এরা কেউ-ই লেগ্রান্ডকে চিনতো না।

কমিশনার গোল্ডস্টেইনকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি প্যাপিলনকে চেন?’

‘হ্যাঁ, আমি তাকে চিনি। তার সঙ্গে আমার বেশ কয়েকবার দেখাও হয়েছে। সে লেগ্রান্ডকে জানতো।

এতে কি বোঝা যাচ্ছে? এই প্যাপিলনটা আসলে কে? ওই সময়ে মঁমার্তেতে তো প্যাপিলন ছিল ৫/৬জন।

ডরিনের জবানবন্দিটি ছিল এরকম : গোল্ডস্টেইন তাকে তার সঙ্গে একজন বন্ধুর খোঁজে ল্যারিবইসিয়েরে হাসপাতালে যেতে বলে, বন্ধুটিকে ডরিন চিনতো না।

‘তুমি লেগ্রান্ডকে চেন? প্যাপিলন রজারকে মনে করতে পারছো কি? ’ কমিশনারের প্রশ্নের জবাবে ডরিনের জবাব, ‘আমি নামে বা চেহারায় লেগ্রান্ডকে চিনি না। তবে প্যাপিলন নামে একজনকে চিনি, পথে-ঘাটে দেখার সূত্রে চেনা। সে এলাকায় খুবই পরিচিত এবং এলাকাবাসীর মতে সে একজন সন্ত্রাসী। তৃতীয় ব্যক্তি জৌরমার তার বর্ণনায় জানায়, গোল্ডস্টেইন ডরিনকে সঙ্গে নিয়ে হাসাপাতালের ভেতরে গিয়ে লেগ্রান্ডের খবর জেনে এসে বলে, এটা আমার বন্ধু লেগ্রান্ডই।

অর্থাৎ হাসপাতালের ভেতরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সে এ ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল না।

 

কমিশনার এরপর জিজ্ঞেস করে, তুমি কি প্যাপিলন রজার এবং লেগ্রান্ডকে চেন?

‘পিগ্যাল্লে এলাকার আশপাশে ঘোরাফেরাকারী এক প্যাপিলনকে আমি চিনি। সর্বশেষ তাকে ৩ মাস আগে দেখেছি।

চতুর্থজনের বক্তব্যও একই রকম। সে লেগ্রান্ডকে চেনে না। তবে প্যাপিলন নামে একজনকে চেনে, শুধুই চোখের দেখায়।

লেগ্রান্ডের মা তার প্রথম জবানবন্দিতেও নিশ্চিত করেছিলেন যে তার ছেলে খুনীর নাম বলেছে, প্যাপিলন রজার।

প্রথম দিককার এই জবানবন্দিগুলো দেওয়ার পরপরই সত্যিকারার্থে নোংড়ামির শুরু হয়। তখন পর্যন্ত সবকিছুই ছিল সরল, সঠিক এবং নির্ভেজাল। প্রধান সব সাক্ষীই কোন রকমের ভয়-ভীতি ছাড়া, শিখিয়ে পড়িয়ে দেওয়াবিহীনভাবে পূর্ণ স্বাধীনতায় স্বাক্ষী দেয় একজন কমিশনারের সামনে।

সংক্ষেপে ঘটনাটা হল, ঘটনার আগে দিয়ে রোলান্ড ক্লিচি পানশালায় ছিল। এসময় আর যারা উপস্থিত ছিল, সবাই ছিল অপরিচিত। তারা হয় কার্ড নয় তো ডাইস খেলছিল। এর অর্থ তারা রোলান্ডের সঙ্গী-সাথী ছিল, তবে মজার ব্যাপার হল তারপরেও তারা ছিল অজ্ঞাত। এক্ষেত্রে যা ছিল খুবই দৃষ্টিকটু আর বিরক্তিকর, ত হলো শেষতক তারা অজ্ঞাতই থেকে যায়।

তৃতীয় বিষয় হচ্ছে-- পানশালা থেকে সবশেষে বেড়িয়ে আসে রোলান্ড লেগ্রান্ড, একা। তার বান্ধবী নিনিও তাই জানায়। কেউ তাকে ডাকতে আসেনি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সে গুলিবিদ্ধ হয় এবং মৃত্যুশয্যায় সে আততায়ীর নাম প্যাপিলন রজার বলে উল্লেখ করে। নিনিকে এসে যে লোকটি ঘটনা জানায় সেও ছিল এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি এবং শেষতক তাকেও অজ্ঞাতই রাখা হয়। যদিও ওই লোকটি লেগ্রান্ড আহত হওয়ার পরপরই তাকে ট্যাক্সিতে উঠতে সাহায্য করেছিল। তবে সে আহত লেগ্রান্ডের সঙ্গে গাড়িতে ওঠেনি, গাড়ির সঙ্গে সঙ্গে হেঁটে নিকটবর্তী ওই পানশালায় নিনিকে খবর জানাতে গিয়েছিল। এবং সাক্ষ্যের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যক্তিটিও পুলিশের কাছে শেষ পর্যন্ত অজ্ঞাতই থাকে। যদিও তার যাবতীয় কর্মকা- প্রমাণ করে যে সে অপরাধ জগতের বাসিন্দা, মঁমার্তেরই অধিবাসী এবং ‘শূকর-শাবক’ পুলিশদের পরিচিত। অদ্ভুত, তাই না?

 

তৃতীয় পয়েন্ট হচ্ছে : গোল্ডস্টেইন যে কী না এই মামলার প্রধান সাক্ষী, সে নিজেই নিশ্চিত ছিল না কে আহত হয়েছে তাই সে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিল লোকটি তার বন্ধু-ই কী না, তা নিশ্চিত হতে।

আর গুলিবর্ষণকারী প্যাপিলনকে চিহ্নিত করার একটাই মাত্র ক্লু ছিল তা হল তার নাম ছিল প্যাপিলন রজার এবং সে এলাকার একজন টেরর হিসেবে পরিচিত ছিল।

তোমার ২৩ বছর বয়সে তুমি কি এলাকার টেরর ছিলে? ছিলে বিপজ্জনক চরিত্র? না, কক্ষনোই না; তবে হয়তোবা দুটোই হওয়ার পথে ছিলে। এবং এটাও ঠিক যে আমি একজন কঠিন পাত্রই ছিলাম। একই সঙ্গে এটাও সত্যি যে ওই বয়সে, মঁমার্তেতে শুধুমাত্র দুটি বছর বসবাস করেই কোন গ্যাংয়ের প্রধান বা পিগ্যাল্লির আতংকে পরিণত হওয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। অবশ্যই আমার দ্বারা জনস্বার্থ লংঘিত হয়েছে, বড় ধরনের অপরাধ কর্মে অংশগ্রহণকারী হিসেবে সন্দেহভাজনদের তালিকায় আমার নামও ছিল, কিন্তু কখনোই আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। অবশ্যই তারা আমাকে অনেকবারই ধরে নিয়ে গেছে এবং ৩৬ নং কোয়াই ডেস অর্ফেভেরেসের হাজতে বন্দি করেছে, কিন্তু কোনবারই আমার কাছ থেকে কিছুই বের করতে পারেনি, না কোন স্বীকারোক্তি, না কারো নাম। এটা সত্যি যে শৈশবে আমার ঘটে যাওয়া ট্রাজেডির পর, নৌবাহিনী থেকে চলে আসার পর এবং সরকার আমার স্বাভাবিক কোন ক্যারিয়ার গড়ার পথে বাধ সাধার পর আমি সিদ্ধান্ত নেই যে সেইসব অর্বাচীন ভারদের দ্বারা ভারাক্রান্ত সমাজের বাইরে আমার জীবন গড়ার এবং তা তাদের জানিয়েই।

অবশ্যই আমাকে পুলিশ যতবার ধরে নিয়ে গেছে গুরুতর কোন কর্মকাণ্ডে জাড়িত থাকার সন্দেহে, ততবারই থানার টর্চার সেলে আমার ওপর নির্যাতনকারীদের সম্ভাব্য সবরকম উপায়ে চরমভাবে অপদস্থ, অপমাণিত আর হেয় প্রতিপন্ন করেছি আমি। এমনকি আমি এরকমও বলেছি যে একদিন তাদের জায়গায় আমি থাকবো আর তারা থাকবে আমার অধীন। তাই ধরে নেওয়া যায় আমার কাছে এভাবে বারবার অপদস্থ হতে হতে তারা নিজেদের মধ্যে ঠিক করে নিয়েছিল যে, একেবারে পয়লা সুযোগেই এই ব্যাটা প্যাপিলনের ডানাগুলো ছেঁটে ফেলতে হবে।

[আগামী পর্বে সমাপ্ত]

বাংলাদেশ সময় : ১৭০৯, ডিসেম্বর ১৯, ২০১১

মেহেরপুরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
আশুলিয়ায় জুয়া খেলার সময় আটক ৫
অসহায় তিন পরিবারের পাশে ঈশ্বরদীর ইউএনও   
ইউজিসির নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাবিতে সান্ধ্য কোর্স চালু
রূপগঞ্জে চার প্রতিষ্ঠানে অবৈধ গাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন


অবৈধ বালু উত্তোলন: ড্রেজার মেশিন ধ্বংস-জরিমানা
পুলিশের ভুলে একদিন জেল খাটলেন নিরপরাধ মিজান
মধুপুরে থাই রাষ্ট্রদূতের কৃষি খামার পরিদর্শন
কুষ্টিয়ায় যুবককে কুপিয়ে-পায়ের রগ কেটে হত্যা
ভৈরবে মাদকদ্রব্য অফিসে আগুনের ঘটনায় মামলা