ধারাবাহিক অনুবাদ উপন্যাস

ব্যানকো [র্পব--১১]

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

হেনরি শ্যারিয়ারের দীর্ঘ ১৩ বছরের ফেরারি এবং জেল-জীবনের  হৃদয়স্পর্শী, দুর্ধর্ষ, মানবিক আর আবেগমথিত অমানবিক সব অভিযানের কাহিনী লেখা হয়েছে প্যাপিলন-এ। এরপরের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে শ্যারিয়ার রচিত দ্বিতীয় বই ‘ব্যানকো’ তে। বাংলানিউজের পাঠকদের জন্য ‘ব্যানকো’-এর ধারাবাহিক অনুবাদ।

ব্যানকো [র্পব--১০], [পর্ব--৯], [পর্ব--৮], [পর্ব-৭], [পর্ব-৬], [পর্ব-৫], [পর্ব-৪], [পর্ব-৩], [পর্ব-২], [পর্ব-১]

ষষ্ঠ পর্ব
ব্যাংকের তলার সুরঙ্গ

সত্তর ঘণ্টাধিক গাড়ি চালালাম একে অন্যে বদলি করে। পথজুড়ে পাওলো সীমহীন সতর্কতা অবলম্বন করেছে। প্রতিবার জ্বালানি নেওয়ার সময়ে সে ড্রাইভিং সিটে থাকতো, তার আগে অন্যদেরকে পেট্রোল পাম্প থেকে শ’ তিনেক গজ দূরে নামিয়ে দিত, পেট্রোল নেওয়ার পর আবার তুলে নিত সবাইকে। গ্যাস্টন আর এরকম ধারায় একবার আধ ঘণ্টার মত পথে দাঁড়িয়ে রইলাম পাওলোর পেট্রোল নিয়ে ফিরে আসার অপেক্ষায়। পাওলো ফিরে আসতেই প্রচ- রাগ ঝারলাম তার ওপর, ‘তুমি কি মনে করছো এসব নাটুকেপনা সত্যি প্রয়োজনীয়, পাওলো। আমাদের দিকে শুধু একটু দেখ। যমের দুয়ারে পৌঁছে গেছি উৎকণ্ঠায়!’

http://www.banglanews24.com/images/PhotoGallery/2011November/tunnel 020111127173735.jpg‘এত বেশি বিরক্ত হওয়ার কি আছে তোমার, প্যাপি। টায়ারে বাতাস ভরতে হয়েছে, ইঞ্জিনে তেল-পানি ভরতে হয়েছে। এতগুলো কাজ পাঁচ মিনিটে হয় না।’
‘আাম কখনো বলিনি তা। কিন্তু আমি সোজাসাপ্টা তোমাকে বলতে চাই, এসব অতিরিক্ত সাবধানতার কোন যৌক্তিকতা দেখছি না আমি।’
‘কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছি, এবং আমিই হচ্ছি বস। হয় তো তুমি পেনালে দীর্ঘ তের বছরের কষ্টকর অভিজ্ঞতা লাভ করেছো, কিন্তু আমিও আমার প্রিয় মাতৃভূমিতেই দশ দশবার নিঃসঙ্গ কারাবাসের সঙ্গে স্বচ্ছন্দে বসবাস করে এসেছি। তাই আমি মনে করি না যে সাবধানতা অবলম্বনের ক্ষেত্রে তুমি আমার চেয়ে যোগ্যতার পরিচয় দেবে।
 
ধর কোনো নির্দিষ্ট গাড়ির জন্য তল্লাশি চলছে, একটি শেভ্রোলে গাড়িতে একজন মানুষ আর একটি শেভ্রোলে গাড়িতে তিনজন মানুষ নিশ্চয়ই একই জিনিস নয়, তাই নয় কি?’
সে ঠিকই বলেছে। এখন এ প্রসঙ্গ নিয়ে আর কথা না বলাই ভাল। দশ ঘণ্টা পর আমাদের অভিষ্ট শহরে এসে পৌঁছলাম। পাওলো আমাদের দু’পাশে বাড়িঘরওয়ালা একটি রাস্তায় নামিয়ে দিল।
‘ডানদিকের চত্বরটায় উঠে যাও। বাড়িটির নাম ‘মি. আমোর’; সামনেই পাবে। এমনভাবে ঢুকে যাবে যেন এটা তোমাদের নিজেদের বাড়ি, ভেতরে অগাস্টেকে পাবে।’

সামনেই ফুলে ছাওয়া একটা বাগান পড়লো। এর পাশ দিয়ে পরিচ্ছন্ন একটি পথ সুন্দর একটি বাড়ির দিকে চলে গেছে। দরজা বন্ধ ছিল। আমরা নক করলাম।

‘এই যে ভায়ারা, সরাসরি চলে এসো,’ দরজা খুলে অগাস্টো আহ্বান জানালো।ওর শার্টের হাতা গোটানো, রোমশ দু’হাতে কাদামাটি লেগে আছে। আমরা তাকে জানালাম পাওলো একটু দূরে গাড়ি পার্র্ক করতে গেছে। পাওলোর এমন করার কারণ ভেনেজুয়েলান নাম্বার-প্লেটওয়ালা গাড়িটা যত কম দেখানো যায় তত ভালো।

ডাইনিং রুমে গিয়ে বসলাম আমরা। বুঝতে পারছি, প্রতীক্ষার মুহূর্তটি সমাগত প্রায়। আমি এজন্য কিছুটা উদ্বিগ্নও বোধ করছি। কাজটি যে কি সে সম্পর্কে আমার চেয়ে বেশি গ্যাস্টনেরও কোন ধারণা ছিল না। ‘এটা হচ্ছে পারষ্পরিক বিশ্বস্ততার একটা ব্যাপার,’ ক্যারকাসে পাওলো এরকমই বলেছিল। ‘ইচ্ছা হয় সঙ্গে আসতে পারো, না হয় এসো না। গ্রহণ কর অথবা ত্যাগ কর। শুধু একটা কথা জেনে রাখো, এই কাজটায় এত কাঁচা টাকা আসবে যা কখনো স্বপ্নেও ভাবনি।’ ঠিক আছে, কিন্তু এবার ব্যাপারটা পরিষ্কার হতে যাচ্ছে। খোলাসা এবং নিশ্চিত।
অগাস্টে কফি পরিবশেন করলো। কিন্তু টুকটাক কথাবার্তা আর আমরা কেমন ছিলাম এ সম্পর্কিত দু’চারটে প্রশ্নত্তোরের বেশি আলাপ হলো না যাতে বিষয়টার অন্ধকারে কোনো আলো পড়তে পারে। সবাই খুব সতর্ক, মুখে কুলুপ এঁটে আছে।

গাড়ির দরজা বন্ধ করার শব্দ পেলাম। নিশ্চয়ই পাওলো এসেছে ভাড়া করা একটি গাড়িতে যাতে স্থানীয় নাম্বার প্লেট আছে। ঠিক তাই।

‘সবাই এসে গেছি আমরা এখানে,’ পাওলো জানতে চাইলো তার লেদার জ্যাকেট খুলতে খুলতে। খোকারা, সব কিছু এক্কেবারে ঠিকঠাকমত চলছে।’ শান্তভাবে কফি শেষ করলো ও, আমি কিছু না বলে অপেক্ষা করছি। সে অগাস্টোকে বললো কনিয়াকের বোতলটা রাখার জন্য। কোন তাড়াহুড়া না করে, জীবনে প্রচ-ভাবে আস্থাশীল আর সন্তুষ্টির মুড নিয়ে আমাদের সবার জন্য কনিয়াক ঢাললো পাওলো। এবার সে বিষয়মুখী হলো। ‘খোকাবাবুরা, শেষপর্যন্ত আমরা এখানে কাজের গোড়ায় উপস্থিত হয়েছি। এখন শোন, এই ছোট্ট বাড়িটার সামনের যেই রাস্তা দিয়ে তোমরা এসেছো তার অপর পার্শ্বটা হচ্ছে একটা ব্যাংকের পেছন দিক। এর প্রধান প্রবেশ পথ এই রাস্তার সমান্তরাল বড় রাস্তার ওপর। আর অগাস্টের হাতে কাদামাটি লেগে থাকার কারণ হলো, ও জানে তোমরা একেকটা অলসের ধাঁড়ি, অকেজো নিতম্ব, তাই সে বসে না থেকে কাজ শুরু করে দিয়েছে, যাতে তোমাদের ভাগে অন্তত কাজটা কম পড়ে।’
‘কি করতে হবে?’ গ্যাস্টন জিজ্ঞেস করলো, বেচারা ঠিক হাঁদারাম নয়, তবে ঘোরপ্যাঁচের ব্যাপারগুলো সহজে ধরতে পারে না।

‘খুব বেশি না,’ হাসিমুখে উত্তর পাওলোর। শুধু একটা সুড়ঙ্গ খুঁড়তে হবে যা শুরু হবে পাশের কামড়া থেকে, চলে যাবে বাগানের তলা দিয়ে, এরপর রাস্তার নিচ দিয়ে ওপারে ব্যাংকের স্ট্রংরুমের তলায় গিয়ে শেষ হবে। তোমাদের কি মত এ ব্যাপারে?’
‘শুধু এক সেকেন্ড, বন্ধু। আমাকে একটু ভাববার সময় দাও। আমি যে রকম ভেবেছিলাম, এটা সেরকম কাজ নয়।’
‘এটা কি খুব বড় একটা ব্যাংক?’ জিজ্ঞেস করলো গ্যাস্টন। ওর দিনকাল ভাল যাচ্ছে না। অন্যদিকে যদি পাওলো এই পরিকল্পনাটা ফেঁদে থাকে এর অর্থ শুধুমাত্র তিন হাঁড়ি রসের জন্যে এটা করা হয়নি, নিশ্চিতভাবে বিরাট ফায়দার ব্যাপার আছে এতে।
‘আগামীকাল ব্যাংকের আশপাশ দিয়ে ঘুরে আসলে ধারণা পরিষ্কার হবে,’ পাওলো বললো মুখে আনন্দ ধ্বনি করতে করতে। ‘এখন শুধু এটুকু জেনে রাখো, ব্যাংকে ক্যাশিয়ারই আছে আট জন। এতেই বুঝতে পারছো সারা দিন এই আটজন নোটের মাধ্যমে কতটা কি লেনদেন করে।’
‘যীশু!’ গ্যাস্টন নিজের উরু চাপড়ে বলে উঠলো। ‘অর্থাৎ এটা একটা সত্যিকারের ব্যাংক! চমৎকার, আমি সন্তুষ্ট এত দিনে একটা বড় কাজে হাত দিতে যাচ্ছি, এবার তবে নিজের নামের সঙ্গে উঁচু স্তরের অপরাধীর খেতাব যোগ করতে পারবো।’
আনন্দে ভরপুর হাসিমুখ নিয়ে পাওলো এবার আমার দিকে ফিরলো, ‘তোমার কিছু বলার নেই প্যাপিলন?’
‘কোন খেতাব অর্জনের ইচ্ছা আমার নেই। আমি নিপাট ভদ্রলোকের মত বেশ ভালো একটা দান মারতে চাই যা দিয়ে আমার মনে পুষে রাখা প্রতিশোধের আগুনটি নেভাতে পারি। আমার কোটি টাকার প্রয়োজন নেই। তবে এটা একটা বিশাল কাজ পাওলো। এটা সুসম্পন্ন হলে আমরা আমাদের বাকি জীবন বিলাস ব্যসনে কাটিয়ে দেওয়ার মত অর্থবিত্তের মালিক হয়ে যাবো। কিন্তু আমার মতে বেশ কিছু জটিলতাও আছে ব্যাপারটা ঘিরে। আমি কিছু প্রশ্ন করতে পারি, বস?’
‘যত ইচ্ছে করতে পার, প্যাপি। আমি কাজটার প্রতিটি বিষয় নিয়ে পঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলাপ করতে চাচ্ছি। যদিও এখানে আমিই প্রধান ব্যক্তি, যেহেতু আমিই এর কর্ম-পরিকল্পনা তৈরি করেছি, কিন্তু তার সূত্রে আমাদের প্রত্যেকেই নিজের নিজের স্বাধীনতা বিসর্জনের অর্থাৎ জেলবন্দী হওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছি, হয়তো জীবনেরও। সুতরাং তোমরা যা যা জানতে চাও, জিজ্ঞেস কর।’
‘ঠিক আছে। পাশের ঘরের ঠিক কোথায় গর্ত খোঁড়া হচ্ছে, পাশের রাস্তার ফুটপাথ থেকে এর দূরত্ব কত?’
‘ঠিক ঠিক আঠারো গজ।’
‘ওই চত্বর থেকে ব্যাংকের দূরত্ব কত?’
‘দশ গজ।’
‘ব্যাংকের স্ট্রংরুমে ঢোকার পথটি ঠিক কোথায়?’
‘আমি ব্যাংকের গ্রাহক রুমে একটা সেফ ভাড়া করেছি। স্ট্রংরুমের ঠিক বিপরীত দিকে এর অবস্থান। স্ট্রংরুমের সঙ্গে এর লাগোয়া দুটি হুইল-লক সংযুক্ত আর্মার্ড ডোর রয়েছে একটি। এতে প্রবেশের রাস্তা একটিই, সেটা কাস্টমারস রুম দিয়ে। সেখান থেকে প্রধান স্ট্রংরুমে যাওয়া যায়। একদিন, যখন আমি সেখানে গিয়ে বেশ বিলম্ব করছি আমার সেইফের দ্বিতীয় চাবিটি পাওয়ার ছুতোয়, তখন স্ট্রংরুমের আর্মার্ড  ডোরটি খোলা দেখি। দরোজা বন্ধ হবার আগেই আমি স্ট্রংরুমের ভেতরে দ্রুত দৃষ্টি বুলিয়ে দেখে নেই চারপাশে সাজানো বড় বড় সেফগুলো।
‘দুটি রুমের মাঝের দেয়াল কি পরিমাণ পুরু তা আন্দাজ করতে পেরেছো?’
‘যেহেতু স্টিল  কেসিংয়ের তৈরি ওগুলো তাই নিশ্চিত করে বলা দুষ্কর।’
‘স্ট্রংরুমের দরোজা কয় ধাপ নিচে?’
‘বারো।’
‘অর্থাৎ এর মেঝে রাস্তার ওপর থেকে দশ ফুট নিচে। তোমার পরিকল্পনাটা কি?’
‘আমাদেরকে অবশ্যই দুটি রুমের মধ্যবর্তী দেওয়ালের নিচে আঘাত হানতে হবে। স্ট্রংরুমের নিচের ইস্পাতের কেন্দ্রগুলো থেকে এ ব্যাপারে আমরা দিক নির্দেশনা পাবো, ইস্পাতের ওই টুকরোগুলোর ওপর সেফটাকে স্থাপন করা হয়েছে। এতে করে আমরা একটি মাত্র গর্তের মাধ্যমে একই সঙ্গে দুটি রুমেই ঢুকতে পারি।’

‘ঠিক আছে। কিন্তু যেহেতু দেয়ালের সঙ্গেই সেফগুলো লাগানো দাঁড় করানো, আমরা এর যে কোন একটির তলায় গিয়ে আটকে যেতে পারি।’
‘আমি এটা ভেবে দেখিনি। যদি সে রকম হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে রুমের মধ্যবর্তী স্থানে লক্ষ্য করে গর্তটাকে বৃহৎ আকারে করতে হবে।’
‘আমার মানে হয় দুটি গর্ত করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে, প্রতি রুমের জন্য একটি করে। প্রতিটি ঠিক রুমের কেন্দ্র বরাবর--  যদি সম্ভব হয়।’
‘আমিও তাই মনে করছি, এখন,’ অগাস্টের মন্তব্য।
‘ঠিক আছে প্যাপি। যদিও আমরা এখনো সেখানে পৌঁছাইনি, তারপরেও আগেভাগে এসব হিসাব-নিকাশ করে রাখা ভালো। আর কিছু?’
‘সুড়ঙ্গ কতটুকু গভীর দিয়ে যাবে।’
‘তিন গজ।’
‘চওড়া?’
‘আড়াই ফিট, যেন ভেতরে আমরা স্বচ্ছন্দে নড়াচড়া করতে পারি।’
‘উচ্চতা?’
‘এক গজ।’
‘উচ্চতা এবং পাশ ঠিক ঠিক আছে কিন্তু গভীরতার বিষয়টায় আমি একমত হতে পারছি না। মাথার ওপরে মাত্র ছ’ফিট মাটির স্তর খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়। যদি ওপর দিয়ে কোন ভারী ট্রাক বা স্টিম রোলার যায়, তাহলে এটা ভেঙ্গে পড়তে পারে।’
‘বিষয়টা মেনে নিচ্ছি,প্যাপি। কিন্তু ভারী যানবাহন বা ট্রাক এই পথে যাবে কেন?’
‘ঠিক। কিন্তু আমাদের শ্যাফট্টা তিন গজের স্থলে চার গজ করলে আমাদের তো বাড়তি কোন পয়সা খরচ হচ্ছে না। এটা করলে রাস্তা এবং টানেলের ছাদের মধ্যবর্তী স্থানে আমরা তিন গজের মজবুত ভূমি-স্তর পাব। কারো কোন দ্বিমত? এতে একমাত্র বাড়তি কাজ হবে শ্যাফ্টটা এক গজ গভীর করে খোঁড়া।এতে করে টানেলের গতি-প্রকৃতিতে কোন পরিবর্তন ঘটবে না। এর বাইরে চার গজ গভীরতায় গেলে আমরা নিশ্চিতভাবে ব্যাংকের ভিত্তির স্তরের কিংবা আরো নিচ দিয়ে স্ট্রিংরুমের তলায় পৌঁছাতে পারবো। বিল্ডিংটি ক’তলা।’
‘গ্রাউন্ড ফ্লোরের ওপরে আর মাত্র একটি তলা।’
‘অর্থাৎ ফাউন্ডেশন তেমন গভীর নয়, এরপর।’
‘তুমি ঠিক বলেছো প্যাপি। আমরা চার গজ গভীর দিয়েই যাবো।’
‘স্ট্রংরুমের সঙ্গে কিভাবে সমন্বয় করতে যাচ্ছে? অ্যালার্ম সিস্টেমের ব্যাপারেই বা কি ভেবেছো?’
‘আমার হিসেবে, সেটাই মূল ফাঁড়া। তারপরও, যৌক্তিকভাবে বিষয়টার দিকে তাকালে দেখা যায়, অ্যালার্ম সিস্টেমটা কিন্তু স্ট্রংরুমের বাইরে। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি ব্যাংক বা স্ট্রংরুমের কোনো দরোজায় হাত না রাখছো, ততক্ষণ এটা বাজছে না। আর ভেতরের দিকে কোনো অ্যালার্ম থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে থাকলেও থাকতে পারে। তারপরও, আমর মত, আমরা কাস্টমারস রুমের দরোজার দু’পাশের কোন সেফে হাত না লাগালেই ভাল করবো, একই সঙ্গে মূল আর্মার্ড দরেজায়ও না।’
‘আমি তোমার সঙ্গে একমত। তারপরও একটা ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে, আর তা হলো সেফে যখন আমরা কাজ করবো, তখন স্বভাবতই যে কম্পন সৃষ্টি হবে তাতে করেও অ্যালার্ম সিস্টেম সচল হয়ে উঠতে পারে। তবে তুমি যেমন পূর্ব-সতর্কতার কথা বলেছো, সেভাবে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে পারলে বিপর্যয়ের সম্ভবনা কম।’
‘আর কিছু বলাির আছে, প্যাপি?’
‘টানেল লআনিংয়ের ব্যাপারে ভেবেছো?’
‘হ্যাঁ। গ্যারেজে একটা ওয়ার্ক-বেঞ্চ এবং আমাদের প্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিস আছে।’
‘চমৎকার। আলগা মাটি কোথায় রাখবে?’
‘প্রথম দিকে আমরা সমস্ত বাগানময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেব। এরপর উঁচু করে করে ফুলের বেড তৈরি করবো। সবশেষে বাড়ির বাউন্ডারি ওয়াল ঘেষে এক গজ চওড়া এবং যত দূর পর্যন্ত উঁচু করলে বাইরে থেকে দৃষ্টিগোচর হবে না ততদূর পর্যন্ত প্ল্যাটফর্ম আকারে স্তুুপ করে রাখা হবে এই মাটি।’
‘আশপাশে অকি উৎসাহী কোনো বেজন্মা নেই তো?’
‘ডান পার্শ্বে কোনো সমস্যা নেই। ছোটোখাটো আকারের বুড়ো এক দম্পতি বাস করে, যারা যখনি আমাকে দেখে তখনি এই বলে দুঃখ প্রকাশ করে যে তাদের কুকুরটা ঠিক আমাদের বাগানের গেটের কাছে মলত্যাগ করে ফেলেছে। বাম দিকেও তেমন একটা গ্যাঞ্জাম নেই। ওখানে আট আর দশ বছরের এক জোড়া বাচ্চা আছে যেগুলো এক সেকেন্ডের তরেও দোলনায় ঝোলা বন্ধ রাখে না। আর এই ক্ষুদে বজ্জাত দুটো দোলনায় উড়ে এত ওপরে ওঠে যে দেয়ালের ওপর দিয়ে আমাদের বাড়ির ভেতরকার কা-কারখানা দেখতে পারে অনায়াসে।’
‘কিন্তু তারা যে উচ্চতায়ই উঠুক না কেন, বাগানের কেবল একটি অংশই দেখতে পাবে। সম্ভবত তারা তাদের নিজেদের দেওয়ালের এপাশে আমাদের সাজানো মাটির স্তুপটা দেখতে পাবে না।’

http://www.banglanews24.com/images/PhotoGallery/2011November/00020111127174414.jpg‘হক কথা, প্যাপি। ওকে। এখন ধর, আমরা সুরঙ্গ তৈরি করে ফেলেছি এবং স্ট্রংরুমের তলায় উপস্থিত হয়েছি। সেখানে আমাদের বড়সর একটি গহ্বর তৈরি করতে হবে, অনেকটা একটা ঘরের মত, যাতে করে নির্বিঘেœ যন্ত্রপাতি নিয়ে আরামে কাজ সারা যায়, একত্রে আমাদের দু’জন থেকে তিনজন যেন কাজ করতে পারে।’
‘উত্তম প্রস্তাব। সেফের স্টিলগুলোকে কাটার জন্য কি ব্যবস্থা করেছো?’
‘এই একটা বিষয় আমাদেরকে আলোচনা করে বের করতে হবে।’
‘তুমি শুরু কর।’
‘হ্যাঁ, অক্সি-অ্যাসিটালিন দিয়ে এটা সারা যায়, এ কাজটা আমি ভাল বুঝি। এটা আমার নিজের ট্রেড। এছাড়া ইলেক্ট্রিক ওয়েল্ডার দিয়েও সারা যায় এ কাজ, এটাও আমি ভাল বুঝি। তবে এতে একটা ফ্যাঁকড়া আছে। একাজে আমাদের দরকার ২২০ ভোল্টের বিদ্যুৎ, কিন্তু এখানে আছে মাত্র ১২০ ভোল্ট। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাদের কাজে আরেকজন লোক অন্তর্ভুক্ত করবো। তবে আমি তাকে টানেলের কাজে টানতে চাই না। আসল কাজ সারার দু’একদিন আগে সে যোগ দেবে আমাদের সঙ্গে।’
‘সে কি নিয়ে আসবে সঙ্গে?’    
 ‘এখানেই আমার বড় চমকটা পাবে তোমরা। সে যে বস্তু নিয়ে আসবে তার নাম থার্মিট। আর থার্মিট লাইনে সে হচ্ছে একজন দক্ষ শিল্পী। তোমদের কি মত এ ব্যাপারে?’
‘এতে করে শেয়ার চারটার স্থলে পাঁচটা হবে,’ গ্যাস্টন বললো।
‘সেখানে আমাদের বহন করার চেয়েও অনেক বেশি মাল পড়ে আছে, গ্যাস্টন! সে হিসেবে পাঁচ বা ছয় ভাগ, একই কথা বোঝায়।’
‘আমার দিক থেকে আমি থার্মিটওয়ালাকে সমর্থন করছি; কারণ যদি ডজন খানেক সেফ আমাদের খুলতে হয়, তাহলে এর দ্বারা অন্য যে কোনো ব্যবস্থার চেয়ে দ্রুত কাজ সারা যাবে।’
‘ঠিক আছে তাহলে, সম্পূর্ণ পরিকল্পনা প্রস্তুত এবার। সবাই একমত তো এ বিষয়ে?’

সবাই সম্মতি জানালো। পাওলো অন্য আরেকটা বিষয়ে আমাদেরকে সতর্ক করে দিল। কোন অবস্থাতেই আমি বা গ্যাস্ট দিনের বেলা বাড়ির বার হতে পারোব না। মাঝে মধ্যে আমরা রাত্রে বাইরে যেতে পারি, তবে যতদূর সম্ভব কম যাওয়া ভাল এবং ভদ্রস্থ পোশাকে, টাই পরা অবস্থায় কমপক্ষে। এছাড়া একত্রে চারজন কখনোই বের হওয়া যাবে না।

আমরা পাশের রুমে গেলাম। ইতিমধ্যেই তিন গজ গভীর আর এক গজ প্রস্থের গর্ত কাটা হয়ে গেছে। দেয়ালের মত সোজা মসৃণ পাশওয়ালা গর্তটা দেখে আমি প্রশংসা করলাম। এসময়ে আমার মাথায় ভেন্টিলেশনের চিন্তাটা এল।

‘সুরঙ্গে বাতাস চলাচলের জন্য কি ব্যবস্থা করা হয়েছে?’
‘একটা ছোট্ট কম্পেসরের সাহায্যে পাইপ দিয়ে সুরঙ্গের ভেতরে বাতাস সরবরাহ করা হবে। যদি কেউ কাজ করতে গিয়ে বায়ু কষ্টে ভোগে তাহলে অন্যজন তার মুখের সামনে বাতাসের টিউবটা ধরে তাকে শ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্য করবে। ক্যারাকাস থেকে আমি প্রায় নিঃশব্দ একটি কম্প্রেসর কিনেছি।’
‘শীততাপ নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা?’
‘আমি ভেবে রেখেছি। গ্যারেজে একটি ইউনিট আছে; কিন্তু প্রতিবার অন করার সঙ্গে সঙ্গে ফিউজ চলে যায়।’
‘শোন পাওলো, শেষতক থার্মিটওয়াল আসে কি না আসে তার নিশ্চয়তা নেই। যদি সে না আসে, সেক্ষেত্রে অক্সি-অ্যাসিটালিনে কাজ করতে গেলে প্রধান সমস্যা যে এটা খুব ধীর। সেক্ষেত্রে ইলেক্ট্রিক ওয়েল্ডার হবে একমাত্র ভরসা। সে জন্যে আমাদেরকে ২২০ ভোল্টের লআনি আনতে হবে এ বাড়িতে। লোকজনের কাছে এটা স্বাভবিক রাখতে তুমি বলবে যে তোমার একটা ডিপ ফ্রিজার দরকার পড়েছে এবং শীততাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থারও প্রয়োজন। এছাড়া ছোট্ট একটি সাকুলার স (করাত) বসাতে হবে গ্যারেজে, বলবে তুমি কাঠের জিনিসপত্র বানাতে  চাও অবসরে, এতে কেউ  কোনো জটিলতার গন্ধ পাবে না।’
‘তুমি ঠিকই বলেছো। এখন পর্যন্ত কাজের কথা এটুকুই যথেষ্ট। স্প্যাগেটি তৈরি আছে, চল এবার সেদিকে মনোযোগ দেই সবাই।’

খুবই আনন্দঘন পরিবেশে ডিনার সারলাম। ফেলে আসা দিনের কিছু দুঃখবহ ঘটনার স্মৃতিচারণে পর আমরা ঠিক করলাম, এরপর যখনি পুরনো কথাবার্তা উঠবে আমরা কখনো ভেতরের বিষয় নিয়ে নাড়াচাড়া করবো না। স্রেফ সুখকর বিষয়গুলোই আলোচনায় আসবে, যেমন--- নারী, সূর্য, সমুদ্র্র, বিছানার লড়াই ইত্যাদি। আমরা একদঙ্গল নিষ্কলুষ শিশুর মত হেসে উঠলাম। সামাজিক স্বার্থপর শক্তির সর্বোত্তম প্রতীক হচ্ছে এর ব্যাংক ব্যবস্থা। আর এই সর্বোত্তম প্রতীককে আক্রমণের মাধ্যমে স্বার্থপর সমাজকে আঘাত করতে যাওয়ার ব্যাপারে কারও মনেই মুহূর্তমাত্র সময়ের জন্যেও কোনো অনুশোচনা বোধ এলো না।

২২০ ভোল্ট কারেন্ট স্থাপনে কোনো ঝামেলা হলো না, কারণ বাড়ির কাছেই ছিল ট্রান্সফর্মারটি। শ্য্ফ্টা তৈরির সুবিধার্থে আমরা ছোটো হাতলওয়ালা খুন্তির ব্যবহার বাদ দিলাম। এত আঁটসাট জায়গায় এটা দিয়ে কাজ করা বেশ অস্বস্তিকর আর ঝামেলারও। এর বদলে সার্কুলার স দিয়ে মাটির বড় বড় চাক কাটা শুরু করলাম। এরপর হাতলওয়ালা একটি ট্রোয়েল দিয়ে কায়দা করে তুলে একটি বালতিতে রাখা শুরু করলাম।

ভয়ানক কষ্টকর কাজ ছিল এটা। এরপরও নির্দিষ্ট গতিতে কাজ আগে বাড়ছিল। পুরো বাড়িতে সার্কুলার স’র ঝিম ঝিম শব্দটি ছাড়া আর কিছু বোঝা যাচ্ছিল না। অন্যদিকে শ্যাফ্টটা চার ফিট গভীর হয়ে পড়ার পর বাগান থেকে কোনো শব্দই শোনা যায় না, ভয় পাবার কোনো কারণই নেই।

শ্যাফ্ট শেষ হওয়ার পর আজ সুরঙ্গর কাজ আরম্ভ হলো। পাওলো কম্পাস হাতে নেমে পড়লো। প্রথম এক গজ সুরঙ্গ করতেই ও কাদায় একেবারে মাখামাখি হয়ে গেল। এখানে মাটি খুবই ভেজা, কর্দমময়। এ অবস্থায় খালি গায়ে কাজের বদলে আমরা ডাংগারি (প্যান্ট-শার্ট একত্রে সেলাই করা কাজের পোশাক) পরে নিলাম, গলা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে থাকে এই পোশাকে। ফলে কাজ শেষে ডাংগারি খুললেই তুমি আগের মত ঠিক ফুলবাবুটি হয়ে পড়ছো, যেন এইমাত্র মথ থেকে মনোরম প্রজাপতিটি বেড়িয়ে এসেছে। এক্ষেত্রে শুধু হাতদুটো অপরিষ্কার থাকে, এতে অবশ্য করার কিছুই নেই।

আমাদের হিসাব মতে লক্ষ্যে পৌঁছাতে এখনো আরো ত্রিশ গজ মাটি কেটে সরাতে হবে।
‘এক্কেবারে চোরের খাটনি যারে কয় আর কি!’ অমানুষিক পরিশ্রম করতে করতে এক পর্যায়ে অসহ্য হয়ে মন্তব্য করলো পাওলো। তবে বাস্তবতা হলো ধীরেসুস্থে আমরা অগ্রসর হচ্ছিলাম।

‘ঠিক যেন আমরা ছুঁচো ইঁদুর,’ অগাস্টে বললো।
‘আমরা সেখানে পৌঁছাবোই বন্ধুরা! এবং সারা জীবনের সঞ্চয় হাতিয়ে নেবো। ঠিক বলিনি, প্যাপিলন?’
‘আলবৎ, নিঃসন্দেহে! আর আমি এর ফলে আইনজীবীদের জিব টেনে ধরতে পারবো, কব্জায় পাবো আমার বিরুদ্ধে দেওয়া ভুয়া সাক্ষীদের গর্দান আর প্যারিসের ৩৬ কুয়াই দেস অর্ফভ্রেসের পুরো কম্পাউন্ডে নড়ক গুলজার করে ছাড়বো! খোকারা কাজে মন দাও সবাই, রাজা-উজির পরে মারা যাবে, এখনকার কর্তব্য হলো আমাকে গর্তের নিচে নামিয়ে দাও, আরো কয়েক ঘণ্টা কাজ করে নেই আগে।’

‘শান্ত হও, প্যাপি। আমাদের সবাই-ই দেয়ালে পিঠ ঠেকা অবস্থায় পৌঁছে গেছি। এটা ঠিক যে কাজ খুব দ্রুত এগোচ্ছে না, কিন্তু এটাও ঠিক যে আমরা অগ্রসর হচ্ছি। অবশ্য সমাধান করার মত আমাদের যার যার সমস্যাগুলো তো আছেই। দেখ, বুয়েন্স আয়ার্স থেকে আমার বন্ধুর পাঠানো এই চিঠিটা দেখ তোমরা।’

পাওলো পকেট থেকে একটা চিঠি বের করে নিজেই পড়া শুরু করলো জোরে জোরে।‘প্রিয় পাওলো, তুমি কি অলৌকিকত্ত্বে বিশ্বাসী নাকি, বন্ধু? ছয় মাসাধিক পার হয়ে গেছে তুমি তোমার রমনীদ্বয়কে দেখতে আসনি, এমনকি এক লাইনের একটি চিঠিও পাঠাওনি কিংবা কোন পোস্ট কার্ড পর্যন্ত না। তুমি আসলে জগৎ সংসারের কোনো রীতিই বোঝ না! পৃথিবীর কোন প্রান্তে তুমি আছো, বেঁচে আছো না মরে গেছ তারও হদিস নেই। এরকম পরিস্থিতিতে তাদের কাছে গিয়ে টাকা আদায় করাও আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। এ নিয়ে প্রতি সোমবার তাদের সঙ্গে আমার যুদ্ধ জঘণ্যতর পর্যায়ে পৌঁছে।

 ‘কি মিয়া, ব্যাপারটা কি! আমাদের মরদটা কোথায়? সে করছেটা কি।’
আমি উত্তর দেই, ‘শপথ করে বলছি সে একটা কাজে ব্যস্ত!’
‘সে আর তার রবারের মত লম্বা কাজ- দুটোরই নিকুচি করি! সে এখানে আমাদের সঙ্গে থাকলেই ভাল করতো। বালিশ বুকে জড়িয়ে ঘুমাতে ঘুমাতে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ছি! এই শেষবারের মত আমরা নিজেদের গাঁটের টাকা দিচ্ছি ওকে, বোঝা গেছে?’ হয় সে ফিরে আসবে নয় আমরা তাকে তালাক দেব!

সুতরাং ভাই পাওলো, এবার অন্তত একটা লাইন লিখে পাঠাও ওদেরকে। তুমি অলৌকিকত্বে বিশ্বাস কর না তো? ঠিক হ্যায়, কিছু দিনের মধ্যে। তুমি তোমার প্রেয়সীদ্বয়কে হারাতে যাচ্ছো এবং আর কোন টাকাও পাচ্ছো না তাদের কাছ থেকে। তোমার প্রিয় স্যান্তোস।’
চিঠি শেষ করে পাওলো স্বগতোক্তির মত বলা শুরু করলো, ‘হ্যাঁ, আমি অলৌকিকত্বে বিশ্বাস করি, এবং এই অলৌকিকত্বটা ঠিক ওখানে অবস্থান করছে, আমাদের সামনে। বন্ধুগণ, আমরা আমাদের ক্ষমতা দিয়ে, বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এই অলৌকিকত্ব হাসিল করবো। এখন পর্যন্ত চল, আমরা এই আশা করি যে আমার গোপিনীরা আমাদের প্রয়োজনীয় সময়কাল পর্যন্ত যেন ধৈর্য্যশীল হয়। কারণ আমাদের মন্ত্রসাধনে তাদের কড়ির সমর্থন প্রয়োজন আছে।’
‘আমরা সবাই মিলে তাদেরকে একটা উপহার দেব,’ সোৎসাহে বললো অগাস্টে।
‘সে দায়িত্ব আমার,’ বললো পাওলো। ‘আমি হচ্ছি সেই শিল্পী যে কোন অপরাধী কর্তৃক কৃত সবচেয়ে সাড়া জাগানো কাজগুলোর একটির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। এবং এ সম্পর্কে কিছু না জেনেই আমার দুই রমণী এতে প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিয়ে যাচ্ছে। সবশেষে বলা যায়, এটাই তাদের জন্য বিরাট একটা মর্যাদার ব্যাপার যে তারা এ মহতি কাজে অর্থের যোগান দিচ্ছে।’

বেশ কিছুক্ষণ হাসি-রঙ্গ-তামাশা, প্রচুর মদ্যপান এবং সবার মধ্যে জাগ্রত আকিস্মক উত্তেজনার সমাপ্তি টানতে একদান বিলোট-ব্রিজ খেলায় মশগুল হয়ে গেলাম সবাই।
...মেষ পর্যায়ে এসে আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিরামহীন কাজ করে গেলাম মনে ভয়ংকর জেদ নিয়ে যে এ কাজে আমাদের জিততেই হবে। অমানবিক শ্রম ঢেলে দিলাম নিজেদের নিংড়ে। এয়ারকন্ডিশনিং ব্যবস্থা এবং গলায় প্যাঁচানো বাইরের পরিষ্কার তাজা বাতাস টানার পাইপ থাকা সত্বেও সুরঙ্গের শেষ প্রান্তে এসে ঠিক থাক অসম্ভব কঠিন হয়ে পড়লো। আমার সারা গায়ে ছোট ছোট লাল দানায় ভরে গেল, এগুলোর তৈরি ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের চক্করে সারা গা ছেয়ে গেছে, মনে হলো কেউ বিছুটি লাগিয়ে দিয়েছে। চুলকাচ্ছে ভয়ংকরভাবে।

http://www.banglanews24.com/images/PhotoGallery/2011November/tunel-presidio-ms-hg-2009121111420111127172501.jpgআমাদের মধ্যে যাকে এই যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়নি সেই শ্রীমানটি হচ্ছে পাওলো। কারণ তার কাজ ছিল শুধুমাত্র ঠেলায় করে মাটি নিয়ে বাগানে ছড়িয়ে দেওয়া। সেই নরক-গহ্বর থেকে বেড়িয়ে এসে গোসল সেরে, সারা গায়ে ভেজলিন আর কোকা বাটার মেখেও পরবর্তী এক ঘণ্টা পর্যন্ত জ্বলুনি সহ্য করতে হল।

‘যেভাবেই হোক, আমরাই এই হারকিউলিসিয় শ্রমের কাজটা শুরু করেছিলাম। একাজ করতে আমাদেরকে কেউ বাধ্য করেনি। সুতরাং নিজেদেরকে সাহায্য কর নিজেরাই, সয়ে নাও ব্যাপরটা আর মুখ বন্ধ রাখ। দেখবে স্বর্গ থেকে তোমাদের জন্য সাহায্য আসবে।’ এসব কথা আমি নিজেকে বারবার শুনিয়েছি, এবং দিনে অগাস্টেকে দুই তিনবার শুনিয়েছি যখন সে নিজেকে এ ধরনের কাজে জড়ানোর জন্য নিজের বিরুদ্ধেই অভিযোগের ঘ্যানঘ্যানানি শুরু করে দিত। মেদ ঝড়িয়ে স্লিম হওয়ার জন্য কোনো ব্যাংকের নিচে টানেল খোঁড়ার চেয়ে আদর্শ দাওয়াই আর নেই। শরীর অবিশ্বাস্য রকমের নমনীয় ঝরঝরে হয়ে ওঠে--- ভাঁজ হয়ে, ক্রলিং করে অপরিসর জায়গায় এপাশ-ওপাশ ঘোরা আর ভেতরে যাওয়া-আসার অবদানে। সুরঙ্গে আমরা এমনভাবে ঘামতাম যে মনে হতো অগ্নিকু-ের ভেতরে প্রবেশ করেছি। এসব কিছুই সহ্য করা সম্ভব হচ্ছিল কারণ আমাদের এই সুরঙ্গপথের শেষে অপেক্ষা করছে অত্যন্ত লোভনীয় পুরস্কার। অন্যদের জমানো টাকা!  

সুচারুভাবে সবদিক সামলে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবার মাঝে টানা দু’দিনের মুসলধারার বৃষ্টিতে গর্তে একফুট পানি জমে গেল। সেই পানি পাম্পের সাহায্যে সরাতে অনেক কসরত করতে হয়েছে। ডিসেম্বর কাছিয়ে আসছে। নভেম্বরের মধ্যে যদি আমরা ব্যাংকের তলায় পরিকল্পিত কুঠুরিটা করে ফেলতে পারি তাহলে সবচে’ ভাল হয়। আর এর সঙ্গে সঙ্গে যদি থারমিট স্পেশালিস্টের আগমন ঘটে তাহলে তো সোনায় সোহাগা, কোনো সন্দেহ নেই ফাদার ক্রিসমাস এবার সৌভাগ্যের পাত্র কানায় কানায় পূর্ণ করে দেবে আমাদের। আর যদি থার্মিটওয়ালা বেটা না আসে তাহলে ইলেক্ট্রিক ওয়েল্ডার দিয়ে কাজ সারতে হবে। জেনারেল ইলেক্ট্রিক এ ধরনের বেশ কিছু জবরদস্ত মডেল বের  করেছে। ২৪ নভেম্বর আমরা ব্যাংকের ভিত্তির নিচে চলে এসেছি। আর মাত্র তিন গজ, তারপরই রাজভা-ার হাতের মুঠোয়।

আমরা আদি ও আসল ফ্রান্সের ব্রুট শ্যাম্পেন দিয়ে কাজের এই অগ্রগতিটা উদযাপন করলাম।  
‘স্বাদটা সবুজ সবুজ মানে কাঁচা কাঁচা লাগছে,’ অগাস্টে বললো।’
‘খারাপ কি। এটা শুভ লক্ষণ- এটা আসলে ডলারের রঙ।’

আজ ২৪ নভেম্বর। সবকিছু গোছগাছ করে আগামী  ৪ ডিসেম্বর আমরা লক্ষ্যে আঘাত হানার জন্যে প্রস্তুত হয়ে থাকবো। শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় ব্যাংক বন্ধ হয়, সুতরাং আমরা ঠিক আটটায় অ্যাকশনে যাবো। আমাদের হাতে থাকবে শুক্রবারের সারাটা রাত, শনিবার সারা দিন-রাত এবং রোবাবারের পুরোটা। সবকিছু ঠিকঠাকমত চললে রোববার রাত দুটোয় আমরা অবশ্যই বেড়িয়ে আসেত পারবো। তার মানে একটানা বাহান্ন ঘণ্টা কাজ করতে হবে আমাদেরকে। এতক্ষণ এসব বিষয় বর্ণনা করে পাওলো জিজ্ঞেস করলো, ‘সবাই রাজী তো?’
‘না, পাওলো। আমি পুরোপুরি মানতে পারছি না।’
‘কেন পারছো না, প্যাপি?’
‘সাতটায় ব্যাংক খোলা হয় ক্লিনারদের জন্য। এসময়ে সব কিছু ভচকে যেতে পারে নির্দিষ্ট কিছু কারণে অথবা অন্য কোন অজানা কারণে। সকাল সাতটা, অর্থাৎ আমরা কাজ সেরে ব্যাংক ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে খুব একটা দীর্ঘ সময় নয় এটা। আর তাই আমার মত হচ্ছে সবকিছু এমনভাবে সারতে হবে যাতে রোববার সন্ধ্যা ছটার মধ্যে কাজ শেষ করে ফেলতে পারি। রাত আটটার মধ্যে ভাগাভাগি শেষ করে বেড়িয়ে পড়তে পারলে আমরা এগারো ঘণ্টা এগিয়ে থাকার সুবিধা পাচ্ছি। সকাল আটটায় ক্লিনাররা আসার পরই ঘটনা জানাজানি হয়ে যায়। আর তা না হয়ে সকাল ন’টায় ব্যাংক খোলার পর জানাজানি হলে আমরা পাবো আরো দুটি ঘণ্টা অর্থাৎ মোট ১৩ ঘন্টা।’


আমার যুক্তি সবাই মেনে নিল। শ্যাম্পেন পান করতে করতে আমরা পাউলোর রেকর্ড প্লেয়ারে বাজানো সঙ্গীত উপভোগ করলাম ...মরিস শেভালিয়ার, পিয়াফ, দ্য প্যারিস অব দ্য লিটল ড্যান্স হল্স...

এবার তোমার পাওনাদারদের হিসাবটা, প্যাপি-- যে পাওনার ফর্দ তোমার হৃদয়ে খোদাই হয়ে আছে, খুব শিগগিরই তুমি প্যারিসে গিয়ে তার শোধ দিতে যাচ্ছো। সব কিছু ভালোয় ভালোয় কাটলে এবং যদি ভাগ্য সহায় হয়, তাহলে আমি ফ্রান্স থেকে ফিরে এল ক্যালাওয়ে যাবো, মারিয়াকে নিয়ে আসবো। আমার বাবা! হ্যাঁ, তাকে পরে নিয়ে আসা যাবে। বেচারা, ভালো মানুষ বাপ আমার! তবে বাবাকে গিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরার আগে আমাকে আমার বর্তমান সত্ত্বাকে কবরস্থ করতে হবে, বেপথু জীবনের উচ্ছন্নে যাওয়া আমিকে মুছে ফেলতে হবে... আমি আমার প্রতিশোধ স্পৃহা পুরোপিুরি মিটিয়ে ফেলে গা ঝেড়ে নির্ঝঞ্ঝাট জীবনে পুরোদস্তুর খাপ খাইয়ে ফেলার পরে তা মোটেই কষ্টকর হবে না।

আমরা শ্যাম্পেন উৎসব করার দুদিন পর ঘটনাটা ঘটলো।

কিন্তু আমরা তা জানতে পারি ঘটনার পরদিন। আমরা পার্শ্ববর্তী এক শহরে জেনারেল ইলেক্ট্রিকের ওয়েল্ডিং এবং কাটিং সেট আনতে গিয়েছিলাম। আমরা দু’জন ধোপদুরস্ত পোশাকে ফুলবাবুটি সেজে পায়ে হেঁটে মাইলখানেক এগিয়ে পাওলো আর অগাস্টের সঙ্গে অপেক্ষমান গাড়িতে উঠি।
‘এই ট্রিপটা আমাদের পাওনা ছিল, বৎসগণ। শ্বাস টান, গভীরভাবে দম নাও। এটা হচ্ছে স্বাধীনতার চমৎকার নির্মল বায়ু।’
‘নির্ঘাৎ সত্যি কথা, পাওলো। এটা নিশ্চিতভাবেই আমাদের পাওনা ছিল। গাড়ি এত জোরে চালিয়ো না; গ্রামের মনোরম খোলা মাঠ আর প্রান্তরে ভালোমত একটু চোখ বোলাতে দাও।’
আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে দুটো আলাদা হোটেলে উঠলাম। জাহাজঘেরা বন্দর এলাকাটিতে আমরা উৎসবমুখর লোকজনের মাঝে তিনটি দিন কাটিয়ে দিলাম। প্রতি সন্ধ্যায় আমরা সবাই একত্রিত হতাম।
‘নাইটক্লাবে যাওয়া, গণিকাগমন, রাস্তার মেয়ে নিয়ে ফুর্তি--- সব নিষিদ্ধ; এটা আমাদের ব্যবসায়িক সফর, বন্ধুগণ,’ পাওলো বলেছিল। যথার্থই বলেছে সে। তিন দিনের ছুটিতে ঝরঝরে তাজা হয়ে গাড়িতে করে আমরা ফিরে চললাম।

বরাবরের মত পাওলো বাড়ির কাছের ছোট রাস্তাটির মোড়ে গ্যাস্টন আর আমাকে নামিয়ে দিয়ে চলে গেল। ভিলা এখান থেকে একশ’ গজ দূরের পথ। আমরা শান্ত নিরুদ্বেগ পদক্ষেপে এগিয়ে চললাম বাড়ির দিকে, আমাদের করা চমৎকার শিল্পকর্ম ওই সুরঙ্গটাকে আবারো দেখতে পাওয়ার আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে। সহসাই আমার অজান্তেই আমার একটি হাত চলন্ত অবস্থায় থামিয়ে দিল গ্যাস্টনকে। বিলার বাইরে এসব হচ্ছেটা কি? পুলিশের সঙ্গে ডজন খানেক লোক জটলা পাকিয়ে আছে। আর দেখা যাচ্ছে দুজন দমকল কর্মী রাস্তার মাঝ থেকে মাটি খুঁড়ে তুলছে। ঠিক কি ঘটেছে তা আর আমাদেরকে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সুরঙ্গ আবিষ্কৃত হয়ে গেছে।

গ্যাস্টন এমনভাবে কাঁপা শুরু করলো যেন তাকে কাঁপুনি জ্বরে ধরেছে। দাঁতে দাঁত বাড়ি খাওয়াতে কাঁপা গলায় বললো, ‘ওরা আামদের প্রাণপ্রিয় টানেলটায় আঘাত হেনেছে? ওহ্, শালার রক্ত আমাশয় কোথাকার! কি সুন্দর মনোহরই না ছিল সুরঙ্গটা!’
ওই সঙ্গীন পরিস্থিতিতে খেয়াল হলো শুয়োর মুখো এক পুলিশি চেহারার লোক আমাদেরকে মাইলখানেক দূর থেকে নজরে রাখছিল। কিন্তু পুরো পরিবেশ পরিস্থিতি হঠাৎই আমার কাছে এতটাই কৌতুকপ্রদ মনে হলো যে আমি এমন আনন্দোত্থিত নির্মল সতেজ অট্টহাসিতে ফেটে পড়লাম যে এতে করে শুয়োরটার মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ থেকে থাকলেও তৎক্ষণাৎ তা উবে গেল। গ্যাস্টনের বাহু আঁকড়ে ধরে আমি উচ্চকণ্ঠে স্প্যানিশে বললাম, ‘লুটেরার দল কি একখান সুরঙ্গই না ফেদেছিল।’

ধীর লয়ে আমরা আমাদের সাধের ওই শিল্পকর্মটির দিকে পশ্চাদ্দেশ ঘোরালাম। কোনো তাড়াহুড়া বা সন্ত্রস্ত ভাবের প্রকাশ না করে ওই রাস্তা ছেড়ে চলে আসলাম। খুব তাড়াতাড়ি এখান থেকে কেটে পড়তে হবে। গ্যাস্টনকে বললাম, ‘টাকা-পয়সা কি রকম আছে তোমার কাছে?’ আমার কাছে প্রায় ছয় শ’ ডলার আর পনের শ’ বলিভার আছে।’
‘আমার চার্জারে দুই হাজার ডলার আছে,’ গ্যাস্টন বললো।
‘গ্যাস্টন, আমাদের পক্ষে এখন করার মত কাজ একটাই আছে, তা হলো এখানেই পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া।’
‘তুমি কি করতে যাচ্ছো, প্যাপি?’
‘যেই বন্দর থেকে এসেছি সোজা সেখানে চলে যাবো এবং একটা বোট ধরার চেষ্টা করবো, গন্তব্য যেখানেই হোক না কেন! তবে যদি সম্ভব হয় সোজা ভেনেজুয়েলা যাবো।’

খোলা রস্তায় কোলাকুলিটা বাদ দিলাম আমরা। কিন্তু যখন হাত মিলাচ্ছিলাম, আবেগে গ্যাস্টনের চোখ এতটাই ভিজে গেল ঠিক যতটা ভিজেছে আমারটা।
বিপদ আর অভিযানের অভিজ্ঞতায় মানুষের মাঝে যে বন্ধনের সৃষ্টি হয়, এরকম আর কোনো কিছুতেই সম্ভব নয়।
‘গুডলাক, গ্যাস্টন।’
‘তোমাকেও, প্যাপি।’

পাইলো আর অগাস্টে ভিন্নপথে ঘরে ফেরে, একজন প্যারাগুয়ে পথে, অন্যজন বুয়েন্স আয়ার্সে। এরপর থেকে পাওলোর কপোতীদের আর শুধুমাত্র বালিশ নিয়ে বিছানায় যেতে হয়নি।
আমি কোনোমতে পুয়ের্তোরিকো যাওয়ার একটা বোটের ব্যবস্থা করতে পেরেছিলাম। সেখান থেকে প্লেনে কলম্বিয়া হয়ে বোটে করে ভেনেজুয়েলা পৌঁছাই।

কয়েক মাস পর জানতে পারি সেখানে আসলে কী ঘটেছিল। ব্যাংকের অপর পার্শ্বের বড় রাস্তার নিচে দিয়ে যাওয়া পানির একটা মেইন লাইন বার্স্ট করায় বিভিন্ন গাড়ির গতি ঘুরিয়ে দেওয়া হয় সমান্তরাল ছোট রাস্তাটি দিয়ে। তারপর লোহার বীম বোঝাই বিশাল এক ট্রাক এর ওপর দিয়ে যাওয়ার সময়ে পেছনের চাকা দুটো বসে যায় আমাদের কাটা টানেলের ওপর। হতবিহ্বলতা, চিৎকার- চেঁচামেচি এবং অতপর পুলিশ, মুহূর্তের মধ্যেই ব্যাপারটা বুঝে ফেলে সবাই। এবং তারপর...  

[চলবে]

বাংলাদেশ সময় ১৭১৭, নভেম্বর ২৭, ২০১১

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত যুবক নিহত
বেলজিয়ামে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি কিশোর নিহত
মাদক মামলায় এক ব্যক্তির ১০ বছর কারাদণ্ড
সমালোচনা না করে দেশের সমস্যা সমাধানের আহ্বান তাজুলের
জনগণের জন্য কাজ করতে পারলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি


চীনে ভ্রমণ স্থগিতের কথা ভাবছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
ধানের শীষে ভোট চাইলেন তাবিথের মা
ইশরাকের গণসংযোগে হামলায় ফখরুলের প্রতিবাদ
ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগালেন ব্র্যাড পিট ও জেনিফার অ্যানিস্টন
অটোমেশনে দুর্নীতি কমবে: অর্থমন্ত্রী