আলো নিভলো মাসব্যাপী প্রাণের বইমেলার

হোসাইন মোহাম্মদ সাগর, ফিচার রিপোর্টার | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

প্রাণের বই মেলা প্রাঙ্গণ/ছবি: ডি এইচ বাদল

walton

গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণ থেকে: ঘড়িতে সময় তখন রাত ৯টা। হুট করে পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সবগুলো স্টল আর প্যাভিলিয়নে আলো নিভে গেল। বুঝতে আর কারোরই বাকি রইলো না মাসব্যাপী চলা বাঙালির প্রাণের বইমেলার পর্দা নেমেছে। 

php glass

শনিবার (২ মার্চ) মাসজুড়ে পাঠক-লেখক-প্রকাশকের মিলনস্থলে পরিণত হওয়া বাঙালির প্রাণের অমর একুশে গ্রন্থমেলা শেষ হলো। যার ফলাফল- সাহিত্য প্রেমীদের আবারও প্রাণের উৎসবে মিলিত হতে এক বছরের অপেক্ষায় রেখে বিদায় নিলো এ মেলা।

বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনকে নিয়ে রাজধানীবাসী এসেছেন মেলার শেষ দিনেও। স্টলে স্টলে ঘুরে তারা সংগ্রহ করেন পছন্দের বইটিও। এবারের মেলায় বরাবরের মতোই বেচা-কেনার শীর্ষে ছিল কিশোর উপন্যাস। তবে গবেষণাধর্মী বই ও প্রবন্ধেরও চাহিদা ছিল বলে জানালেন প্রকাশকরা।

অন্য যেকোনও বারের তুলনায় বই বিক্রির হিসাবে নতুন রেকর্ড গড়েছে এবারের মেলা। এ বছর মোট বিক্রি হয়েছে ৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকার। আর মোট ৪ হাজার ৮৩৪টি নতুন বই এসেছে মেলায়।

আবেগ-উচ্ছ্বাস আর ভালোবাসায় ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে মেলা প্রাঙ্গণে ছিল প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা বইপ্রেমী মানুষের সরব উপস্থিতি। এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলা ছিল ২৮ দিনের পরিবর্তে ছিল ৩০ দিন। আর এ বাড়তি দু'টি দিন যেন পাঠক আর লেখকদের জন্য বাড়তি আনন্দ বয়ে আনে।

লেখক-প্রকাশক-শিশু-কিশোরসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ অমর একুশে গ্রন্থমেলার সব আয়োজনকে স্বার্থক করেছে। আর তাই মেলা শেষ হয়ে যাওয়ায় বইপ্রেমী মানুষগুলোর আক্ষেপেরও যেন অন্ত নেই।

বইমেলার শেষদিন। তাইতো বাংলা একাডেমির ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার বেলা ১১টায় খুলে দেওয়া হয় প্রবেশ পথ। আর বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় জমাতে শুরু করেন বই প্রেমীরা। সেই ভিড় শেষপর্যন্ত পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

শেষদিনে মেলায় ছিল শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার তাড়া। মেলার সময় ফুরিয়ে যাবার পরও স্টলগুলোকে ঘিরে পাঠকদের ভিড় জমেছিল। এরপর থেকেই বইপ্রেমীরা ভিড় জমাতে শুরু করেন মেলার দুই প্রাঙ্গণেই। বিকেলের পর সেই ভিড় পরিণত হয় জনসমুদ্রে। বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে করে সবাই ঘুরে দেখেছেন শেষদিনের মেলা। ফেরার পথে সঙ্গী করেছেন ব্যাগ ভর্তি নতুন বই।

শেষদিন মেলায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মুমু মেহজাবিন জানালেন সেই বিদায় বেদনার কথা। তিনি বলেন, পুরো একমাস উৎসব বিরাজ করছিল এ এলাকাটাতে। বিকেল হলেই বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এসে ভিড় করতো মেলায়। কাল থেকে এ মুখরতা থাকবে না সেটা ভাবতেই খারাপ লাগছে।

তবে মন খারাপের সুর থাকলেও আগামী বছর আরো নতুন ভাবনা, নতুন উদ্যোম আর নতুন সংযোজনে মেলা হাজির হবে বলেই জানালেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী। তবে সে পর্যন্ত গুনতে হবে অপেক্ষার প্রহর!

বাংলাদেশ সময়: ২১৪৯ ঘণ্টা, মার্চ ০২, ২০১৯
এইচএমএস/এসএইচ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: বইমেলা
ময়মনসিংহে প্রাইভেটকার চোরসহ আটক ৯
নবাবগঞ্জে ইছামতি নদী থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
রাজস্থানকে হারিয়ে শীর্ষে দিল্লি
ভৈরবে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার
 নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের প্রয়াণ


নওয়াপাড়ায় ট্রেন-ট্রাকের সংঘর্ষে আহত ২০
সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে নেমেছে চীন 
ব্রুনেই সুলতানের নৈশভোজে শেখ হাসিনা
সুন্দরগঞ্জে ইজিবাইকের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু
শ্রীলঙ্কার হামলা তদন্তে ইন্টারপোলের বিশেষ দল