ধারাবাহিক অনুবাদ উপন্যাস

ব্যানকো [র্পব--১০]

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

হেনরি শ্যারিয়ারের দীর্ঘ ১৩ বছরের ফেরারি এবং জেল-জীবনের  হৃদয়স্পর্শী, দুর্ধর্ষ, মানবিক আর আবেগমথিত অমানবিক সব অভিযানের কাহিনী লেখা হয়েছে প্যাপিলন-এ। এরপরের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে শ্যারিয়ার রচিত দ্বিতীয় বই ‘ব্যানকো’ তে।

 

ব্যানকো  [পর্ব--৯], [পর্ব--৮], [পর্ব-৭], [পর্ব-৬], [পর্ব-৫], [পর্ব-৪], [পর্ব-৩], [পর্ব-২], [পর্ব-১]

পঞ্চম অধ্যায়
ক্যারাকাস

http://www.banglanews24.com/images/PhotoGallery/2011November/paint_pal20111124141131.jpgযাত্রাটা খুব কঠিনই ছিল, বিশেষ করে পিকোলিনোর জন্য। ছয় শ’ মাইলেরও ঊর্ধ্বে, গাড়িতে বিশ ঘণ্টার সফর, স্টপেজগুলো না গুণে। সিউদাদ বলিভারে কয়েক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে ফেরিতে বিশাল নদী ওরিনোকা পার হলাম, এক পর্যায়ে ক্লান্তিতে প্রায় চুরমার হয়ে এলাম। ট্রাক উন্মাদের মত দৌড় প্রতিযোগীতায় নেমেছে যেন, চালকের স্নায়ু ইস্পাতের তৈরি; অবশ্য আমাদের এ যাত্রাপথে এর আবশ্যকতা ছিল।

পরদিন বিকাল চারটায় আমরা ক্যারাকাস পৌঁছালাম। অর্থাৎ একটা বড় শহরে শেষ পর্যন্ত এসে পড়লাম। চতুর্দিকের নড়াচড়া, জনতার ভীড়, হাজার হাজার লোকজনের যাওয়া আসা--- এই মহাযজ্ঞ আমাকে মুহূর্তেই এর গর্ভে শুষে নিল।

১৯২৯, প্যারিস। ১৯৪৬, ক্যারাকাস। প্রকৃত প্রস্তাবে কোনো বড় শহর না দেখে এরই মধ্যে আমার সতেরটি বছর কেটে গেছে। চমৎকার মনোহর একটি শহর ক্যারাকাস। একতলা বিশিষ্ট ঔপনিবেশিক ধাঁচের বাড়ি-ঘরে ছাওয়া শহরটি সুন্দরই লাগে। অ্যাভিলা পর্বতের উপত্যকায় এর অবস্থান, চতুর্দিকে এই পাহাড় ঘিরে আছে শহরটিকে। তিন হাজর ফিট উচ্চতায় অবস্থিত একটি শহর, চিরবসন্ত বিরাজমান এখানে, না গরম না ঠাণ্ডা আবহাওয়া।
‘তোমাকে বিশ্বাস করছি আমি, প্যাপিলন,’ আমার কানে ডা. বোগ্রাতের কণ্ঠস্বর বেজে উঠলো, মনে হলো তিনি পাশেই দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছেন আমাকে পঙ্গপালের এই বিশাল শহরে ঘুরে  বেড়াতে করতে দেখে। সর্বত্র লোকজনের জটলা-ভীড়, কুচকুচে কালো থেকে ধবধবে সাদা পর্যন্ত সব ধরনের লোকজন রয়েছে। কিন্তু বর্ণের কোনো শুঁচিবাই-ছুৎমার্গ নেই কারো মধ্যে। এই বিশাল জনগোষ্ঠী, কালো ইট-লাল অথবা সম্পূর্ণ সাদা, এরা সবাই-ই একটা সুখের আবহে অবগাহন করে বেঁচে আছে---  প্রথম দর্শনেই আমার এ ধারণা হল।
আমার কাঁধে এলিয়ে থাকা পিকোলিনোসহ আমি শহরের কেন্দ্রের দিকে এগিয়ে চললাম। বিগ শার্লট আমাকে একজন প্রাক্তন কয়েদীর ঠিকানা দিয়েছে যে এখানে একটা বোর্ডিং হাউস চালায়, নাম দ্য পেনসন মারকাইবো।

হ্যাঁ, সতেরটি বছর পেরিয়ে গেছে এবং একটি সর্বাত্মক যুদ্ধ দুনিয়ার অধিকাংশ অঞ্চলে আমার বয়সী লাখো লাখো লোকের জীবনকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে ফরাসিরা যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে কারারুদ্ধ হয়েছে, অথবা তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে, কিংবা পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। অথচ তুমি আছো এখানে, প্যাপিলন, এখানে এক বিশাল শহরে! তোমার বয়স এখন সাঁইত্রিশ, তুমি যুবক এবং সবল অবস্থায় আছো; তোমার চারপাশে সবার দিকে তাকাও, দেখ তাদের কারো কারো পোশাকে দৈন্যের ছাপ আছে সত্য, অথচ তারা প্রাণ খুলে হাসছে। আসলে সঙ্গীত বলতে রেকর্ডে বাজানো হিট গানকেই বোঝায় না, সঙ্গীত হচ্ছে সকল মানুষের মিলিত অন্তরের একক এক সুর।

বিরাট এক শহর, কি সুন্দর লাগছে দেখতে। এখন মাত্র চারটা বাজছে। রাতে লক্ষ লক্ষ বৈদ্যুতিক তারকার আভায় এটাকে না জানি কেমন দেখাবে? উপরন্ত আমরা বর্তমানে শ্রমিক শেনী অধ্যুষিত একটি এলাকায় আছি, তাতেই বেসামাল হয়ে যাচ্ছি প্রায়। এই উত্তেজনায় আমি কিছু  পয়সা খরচের ঝুঁকিও নিয়ে ফেললাম। ‘এ্যাই, এ্যাই ট্যাক্সি!’

গাড়িতে আমার বামে বসে পিকোরিনো শিশুর মতই নাচানাচি করছে, হাসছে। আমি তার অসহায় মুখটা থেকে গড়িয়ে পড়া লালা মুছিয়ে দিলাম; সে তার জ্বলজ্বলে চোখ মেলে আমাকে ধন্যবাদ জানালো আনন্দে আত্মহারা ভঙ্গীতে, শহরে আসতে পেরে সে এতটাই আলোড়িত হয়েছে। তার জন্য এই শহরে আসাটা, বিশেষত ক্যারাকাসের মত বিশাল একটি শহরে, তার আশাতীত বাসনার বাস্তবায়নের মতই যেখানে আধুনিক একটি হাসাপাতাল আর ডাক্তারের সান্নিধ্যে সে রোগমুক্ত হয়ে আবার আগের মত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে পেতে পারে। অলীক আশা বলা যায়।

গাড়ি থেকে নেমেই সে আমার বাহু আঁকাড়ে ধরলো, রাস্তার পর রাস্তা আমরা পার হয়ে যাচ্ছি
বন্যার মত ধেয়ে আসা মানুষের স্রোত কাটিয়ে। এত গিজগিজে অবস্থা যে মানুষের জন্যে পায়ের নিচের মাটি নজরে আসে না। আর আছে গাড়ির ভীড়, স্কুটারের সারি, অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন, দমকল বাহিনীর গাড়ির কান ফাটানো হুইসেল, বিভিন্ন ফেরিওয়ালার হুড়োহুড়ি চিৎকার আর বালক হকারদের সান্ধ্যকালীন পত্রিকা বিক্রির চেঁচামেচি, কোনো লড়ির হঠাৎ ব্রেক টানার শব্দ, ট্রামের টিং-এ-লিং শব্দ, সাইকেলের ক্রিং ক্রিং---  হাজারো পদের চেঁচামেচি আর বিভ্রান্তিকর শব্দ আমাদের চতুর্দিকে গুঞ্জরিত হচ্ছে, এসবের রমনীয় ঐকতানে আমরা মদিরাসক্তের ন্যায় মাতাল হয়ে গেলাম যেন। এই অবিশ্রান্ত বিরামহীন চেঁচামেচি যা হাজারো পদের শব্দের সমষ্টিতে সৃষ্ট, সেটা অনেক লোকেরই  স্নায়ুকে ভোতা করে দেয়। কিন্তু এখন আমাদের ওপরে এর সম্পূর্ণ বিপরীত প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। এটা আমাদেরকে যেন ঘুম থেকে জাগিয়ে তুললো, এবং আমাদেরকে অনুভূতিপ্রবন করে তুললো।

তবে এই বাস্তবতার ব্যাপারে আশ্চর্য হওয়ার কিছু ছিল না, কেননা-- এখানে আমাদের যে বিষয়টা সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করেছে তা হলো এই শহরের চেঁচামেচি-হাউকাউ। দীর্ঘকাল আমরা নৈঃশব্দের জগতে পার করে এসেছি। এমন এক ধরনের নৈঃশব্দ যা আমি বিগত সতের বছর ধরে পান করেছি, কয়েদখানার নৈঃশব্দ, পেনাল সেটেলমেন্টর নৈঃশব্দ, নৈঃশব্দের চেয়েও নৈঃশব্দকর সলিটারি কনফাইনমেন্টের অর্থাৎ নির্জন কারবাসের নৈঃশব্দ, সেই ছোট্ট বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোর নৈঃশব্দ যেখানে সেই কাব্যিক সুখী লোকগুলো বাস করে।

পিকোরিনোকে বললাম, ‘আমরা প্যারিসের একটি নমুনার স্বাদ নিতে যাচ্ছি, ক্যারকাস একটি সত্যিকারের নগরী। এখানে তারা তোমাকে সুস্থ করে তুলবে, এবং আমার ক্ষেত্রে আমি আমার উপযুক্ত পথ খুঁজে পাবো, এবং নিজের ভাগ্য গড়ে তুলবো: তুমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত থেকো।’
ওর হাত আমার হাত মুচড়ে ধরলো; চোখ বেয়ে নেমে এসেছে অশ্রুর ধারা। তার হাতের স্পর্শটুকু এতটাই ভ্রাতৃসুলভ আর আবেগময় ছিল যে আমি তার সঙ্গে নিজেকে লীন করে দিলাম যেন সে যতক্ষণ ইচ্ছা এভাবে আমাকে ধরে থাকতে পারে। যাতে এই তিলোত্তম এই স্পর্শসুখে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, এবং যেহেতু ওর অন্য হাতটি ছিল অবশ মৃত, আমি তাই ওর চোখ বেয়ে নেমে আসা হৃদয় বিগলিত ধারা মুছিয়ে দিলাম।

শেষতক আমরা প্রাক্তন কয়েদি এমিল এস পরিচালিত বোর্ডিং হাউসে এসে পৌঁছলাম। ও ছিল না, কিন্তু ওর বউ একজন ভেনেজুয়েলিয় নারী, আমরা এল ক্যালাও থেকে এসেছি জানামাত্র আমাদের মালপত্র আঁকড়ে তুলে নিল এবং দ্রুত একটি ডাবল বেডের রুম বরাদ্দ করলো। আমাদের চাঙ্গা হওয়ার জন্য কফিও দিল।

পিকোলিনোকে গোসল করিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলাম। সে ক্লান্ত এবং একই সঙ্গে আনন্দের আতিশয্যে অতিমাত্রায় উত্তেজিত ছিল। আমি তাকে ছেড়ে বেড়িয়ে যেতে উদ্যত হতেই তার চেহারায় ভীতির ভাব ফুটে উঠলো। আমি জানি সে বলতে চাচ্ছে, ‘তুমি আসবে, আসবে তো? তুমি আমাকে এভাবে অসহায় আতুর অবস্থায়, নিঃসঙ্গ ফেলে যাবে না তো?’
‘না পিকো। আমি শুধু শহরে ক’টি ঘণ্টা কাটাবো মাত্র। শিগগিরই ফিরে আসবো।


আমি ক্যারাকাসে এলাম। আমি যখন প্লাজা সাইমন বলিভারের রাস্তা দিয়ে হাঁটা ধরলাম তখন সন্ধ্যা সাতটা। এটাই শহরের সবচেয়ে বড় প্লাজা। চতুর্দিকে আলোর বন্যা বয়ে যাচ্ছে যেন, বিদ্যুচ্চমকের অফুরন্ত প্রবাহ বইছে, সাতরঙে রাঙানো নিওন সাইনের রঙ মশাল জ্বলে উঠেছে যেন। আমাকে সবচে’ বেশি অভিভূত করলো রঙিন আলোর অ্যাড সাইনগুলো, আলোর তৈরি ড্রাগনগুলো এই আছে এই নেই করে জ্বলছে-নিভছে, নাচছে। এমন ছন্দে জ্বলছে আর নিভছে যেন মনে হচ্ছে কোন ম্যাজিশিয়ান নিপুণ হাতে ব্যালে নৃত্যের খেলা দেখিয়ে যাচ্ছে।

http://www.banglanews24.com/images/PhotoGallery/2011November/920111124141100.jpgআমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি এটা একটা বিশাল স্কয়ার, এর মাঝখানে ঘোড়ার পিঠে বসা সাইমন বলিভারের বিশাল এক ব্রোঞ্জমূর্তি দাঁড় করানো। তাঁকে অত্যন্ত সুপুরুষ দেখাচ্ছে। মূর্তিটাতে ফুটে উঠেছে বাস্তবে তিনি কতটা সুপুরুষ ছিলেন। আমি তাঁর চতুষ্পার্শে হাঁটতে থাকলাম। যে মানুষটি ল্যাতিন আমেরিকাকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন, আমার ভাঙ্গাচোরা স্প্যানিশেই তাকে অভিবাদন না জানিয়ে থাকতে পারলাম না। যাতে অন্য কেউ শুনতে না পায় এমন আস্তে-ধীরে বললাম, ‘হোমব্রে (মান্যবর)! আপনার পদমূলে এসে হাজির হয়েছি এটা আমার জন্য যে কি আশ্চর্য্য এক ঘটনা- হে স্বাধীনতার বরপুত্র! আমার মত একজন অসহায় লক্ষ্মীছাড়া, যে মানবাত্মার সেই চিরন্তন অভীষ্ঠ স্বাধীনতার স্বাদ আস্বাদনের জন্য অষ্টক্ষণ লড়াই করে এসেছে, সেই মহান স্বাধীনতার রূপকার হচ্ছেন আপনি।’

স্কয়ার থেকে পেনসন পোয়া মাইল দূরে। এমিল এসের সাক্ষাৎ পাওয়ার আগে দু’বার তাকে সেখানে খুঁজে এসেছি। ওর সঙ্গে দেখা হতেই আমরা নিরিবিলি একটা বারে গিয়ে বসলাম।
‘আমি আজ এখানে আছি আজ দশ বছর,’ এমিল বললো। ‘আমি বিবাহিত, একটি মেয়েও আছে, আর এই পেনসনটার মালিক হচ্ছে আমার বউ। এই কারণে আমি তোমাকে বিনা পয়সায় থাকতে দিতে পারছি না; তবে তোমরা অর্ধেক ভাড়া দিও।’ প্রাক্তন কয়েদিদের এ এক অনন্য সাধারন ভ্রাতৃত্ববোধ, যখন তাদের কেউ সমস্যার কাদায় আটকে যায় তখন তারা এভাবেই নিজেদের হাত বাড়িয়ে দেয়। সে বলে চলে, ‘সে কি পুরনো কোনো বন্ধু নাকি, তোমার সঙ্গের লোকটা?’
‘তুমি দেখেছো তাকে?’
‘না, কিন্তু আমার স্ত্রী তার সম্পর্কে বলছিল। সে বললো, লোকটি  সম্পূর্ণ অথর্ব। ও কি উন্মাদ নাকি?’
‘ওই বৈশিষ্ট্যের বাইরের সে, এবং সবচেয়ে দুঃখজনক মানবেতর দিক সেটাই। ঘন্টাধ্বনির মতই পরিষ্কার নিখাদ তার মানসিক অবস্থা। কিন্তু মুখ, জিহ্বা আর কোমড় পর্যন্ত শরীরের ডানপাশ অবশ হয়ে গেছে। এল ডোরাডো জেলখানায় যখন আমি তাকে প্রথম দেখি তখনও সে এই অবস্থায়ই ছিল। কেউ জানে না কি তার পরিচয় অথবা সে সাজাপ্রাপ্ত আসামী না বিচারাধীন হাজতি ছিল।’
‘আমি বুঝতে পারছি না কেন তুমি এই অথর্ব লোকটাকে নিজের কাঁধে বয়ে বেড়াতে চাচ্ছো? এমনকি তুমি জানোও না লোকটি মন্দ না ভালো। সবচেয়ে বড় যে ব্যাপারটা তা হলো সে তোমার জন্য একটা অহেতুক বোঝা।’
‘ব্যাপারটা আমি ভেবে দেখেছি, বিগত আটটি মাস আমি তার দেখাশোনা করে এসেছি। এল ক্যালাওয়ে কয়েকিটি মেয়ে আমার পক্ষ থেকে তার দেখভাল করে। তারপরেও বলা চলে, কাজটা সহজ না।’
‘তাকে নিয়ে কি করতে যাচ্ছো তুমি?’
‘যদি সম্ভব হয় তাহলে হাসপাতালে ভর্তি করাবো তাকে। অন্যথায় একটা রুম যোগার করবো- যেনতেন হলেও আপত্তি নেই। কিন্তু সঙ্গে অবশ্যই গোসলখানা আর শৌচাগার থাকতে হবে। যতদিন পর্যন্ত অন্য কোথাও তার ব্যবস্থা না করতে পারছি, ততদিন তার দেখাশোনা করার জন্য। ’
‘অনেক টাকা তোমার সঙ্গে?’
‘সামান্য, কিন্তু আমাকে সমঝে চলতে হবে; কারণ আমি বুঝতে পারলেও স্প্যানিশটা ভাল বলতে পারি না, তাই কাজ-কর্মের ক্ষেত্রে এখানকার জীবন আমার জন্য খুব একটা সুখকর হবে না, এটা বুঝছি।’
‘কঠিন সত বলেছো। যে পরিমাণ কাজ আছে তার চেয়ে বেশি লোক কাজ চাইছে। কিন্তু সে যা হোক, প্যাপি, ভেবো না। অন্য কিছুর ব্যবস্থা করার আগে অল্প কিছু দিন তুমি আমার এখানে থাকতে পারো।’



আমি ওর ইঙ্গিতটা ধরতে পারলাম। এমিল সজ্জন ব্যক্তি সন্দেহ নেই, কিন্তু পুরো ব্যাপারটায় সে অসন্তুষ্ট হয়েছে। ওর বউ নিশ্চয়ই পিকোলিনোর লালা ঝড়ানো মুখ আর পাশবিক যন্ত্রণাকাতর গোঙানির বিশাল একটা চিত্র উপস্থাপন করেছে। পিকোলিনোর এই লাচার পঙ্গু সুরত বোর্ডারদের ওপর কি প্রভাব ফেলতে পারে এটা ভেবে নিশ্চয়ই মহিলা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

আগামীকাল আমি ঘরেই ওর খাবার নিয়ে আসবো। আহা বেচারা পিকোলিনো! যদিও আমি তোমার থাকা-খাওয়ার খরচ মিটিয়ে দিচ্ছি তবুও তারা তোমাকে এখানে আশা করছে না। সুস্থ লোকজন সাধারণত নিজেদের আশপাশে অসুস্থ মানুষ দেখতে চায় না। তুমি তো এটা বোঝ! তোমার কোঁচকানো চেহারাটা সামনে থাকলে ওরা হাসতে পারে না। জীবনের এই-ই রীতি। ঠিক হ্যায়! লোকসমাজ এই কদাকার অবস্থায় তখনি তোমাকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত যখন তোমার ব্যক্তিত্বে অসাধারন কিছু দেখতে পাবে, অথবা যদি তুমি এতটাই নির্বোধ আর বাতিল মাল হয়ে থাকো যে তোমাকে নিয়ে তাদের অস্বস্তিকে তুমি ধর্তব্যের মধ্যেই আনছো না, পাত্তাই দিচ্ছো না, এমতাবস্থায় জ্যন্ত কোন আসবাব মনে করে তারা তোমাকে মেনে নেবে।

কিন্তু ঘাবরে যেও না, ভাই আমার। যদিও এল ক্যালাওয়ের ওই মমতাময়ী মেয়েগুলোর মত আমি অতটা নিবেদিত হতে পারবো না, কিন্তু সব সময়েই আমাকে তুমি পাশে পাবে; একজন বন্ধুর চেয়েও বেশি কিছু হিসেবে। একজন জেলখাটা দাগী তোমাকে গ্রহণ করেছে এবং সে তোমাকে কুকুরের মত মরার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করবে।

এমিল আমাকে অনেকগুলো ঠিকানা দিয়েছিল, কিন্তু এগুলোর কোথাও আমার জন্য কোনো কাজ ছিল না। এর মধ্যে আমি পিকোলিনোকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর চেষ্টায় দু’বার হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছি। কর্তৃপক্ষ জানায় বেড খালি নেই। আর ওর কাগজপত্রে স্রেফ বলা আছে ও এলডোরাডো জেল থেকে খালাস পেয়েছে, তাই এখানে তার কোন খানা নেই, সুযোগ নেই। তারা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল কিভাবে আর কি কারণে ও আমার অধীনস্থ হল, ওর জাতীয়তা কি ইত্যাদি ইত্যাদি। যখন আমি কোষ্ঠকাঠিন্য মার্কা একজন কেরানীর বাচ্চাকে বললাম, এল ডোরাডো কারাগারের চিফ ওকে আমার অভিভাবকত্বে ছেড়ে দিয়েছেন এবং আমি নিজে তার দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়েছি, উত্তরে বেজন্মাটা যা বললো, তা হলো: উত্তম কথা। তাহলে তুমি তার দেখাশোনা করবে বলে রাজী হওয়ায় তাকে ছাড়া হয়েছে, তাহলে তো এখন তুমি যেখানে থাক সেখানেই তাকে রেখে যত্নআত্তি করতে পারো। যদি তা করতে অক্ষম হও তোমার উচিৎ তাকে এল ডোরাডোয় রেখে আসা।

সে যখন আমার ঠিকানা চাইলো তখন আমি তাকে ভুয়া ঠিকানা দিলাম। কারণ হারামজাদাকে আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। ক্ষুদ্র দয়িত্বপ্রাপ্ত নিধিরাম সর্দারদের একটি আন্তর্জাতিক নমুনা এই হারামীটা যারা নিজেদেরকে দণ্ডমুণ্ডের কর্তা ভাবে আর কার্যক্ষেত্রে যে কোন উপায়ে নিজের দায়িত্ব এড়ানোয় ওস্তাদ।

আমি পিকোলিনোকে সরিয়ে আনলাম। দ্রুত তাকে নিয়ে চললাম। আমি মরিয়া হয়ে উঠেছিলাম তার এবং আমার দুজনের চিন্তায়ই। এমিলদের ওখানে আর থাকা যায় না এটা বেশ ভালই বুঝতে পারছিলাম। পিকোলিনোর বিছানার চাদর বদলাতে গিয়ে প্রতিদিন ওর বউ গজগজ করছিল। যদিও আমি নিজে প্রতিদিন সকালে বেসিনে নিয়ে যতদূর সম্ভব চাদরের ময়লা স্থানগুলো ধুয়ে ফেলতাম; কিন্তু এটা শুকোতে বেশ সময় লাগে বলে অভিযোগও করা হয়েছে সম্প্রতি। ফলে আমি একটা ইস্ত্রি নিয়ে এসে আমার ধোয়া স্থানগুলো শুকিয়ে দিতে লাগলাম। কিন্তু তবুও পারা গেল না।

কি করা যায় এখন? বুঝতে পারছি না। একটা ব্যাপার নিশ্চিত, খুব দ্রুত আমাকে এই সমস্যার সমাধান পেতে হবে। এই নিয়ে তৃতীয়বারের মত ওকে হাসাপাতালে ভর্তির নিস্ফল চেষ্টা করেছি আজ। সকাল এগারোটায় বাড়ি থেকে বেড়িয়েছি। ভাবলাম আজকের বিকেলটা আমার বন্ধুর জন্য ব্যয় করি। আমি তাকে ক্যালভারিওতে নিয়ে গেলাম। গ্রীষ্মম-লীয় গাছপালা আর ফুলে ছাওয়া মধ্য ক্যাারাকাসের ছোট্ট একটি পাহাড়ি ঢালে অবস্থিত একটি বাগান এটি।

বাগানের বেঞ্চে বসে সামনে বি¯তৃত এর মনোরম শোভার প্রশংসা করতে করতে আমরা মাংস মেশানো অ্যারেপাস খেলাম, সঙ্গে এক বোতল বিয়ার। এরপর আমি দুটো সিগারেট ধরালাম, একটা পিকোর জন্য অন্যটা আমার। স্বচ্ছন্দে ধূমপান করা পিকোলিনোর জন্য কষ্টকর ছিল। সে সিগারেট লালা দিয়ে ভিজিয়ে ফেললো। পিকোলিনো বুঝতে পারছিল যে এই মুহূর্তটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি তাকে এমন কিছু বলতে যাচ্ছি যা তাকে মারাত্মকভাবে আহত করতে পারে। তার চোখ দুটো শংকায় পূর্ণ হয়ে আছে। মনে হচ্ছে ও দুটো আমাকে বলছে, ‘বল, সরাসরি এখনি বল। আমি বুঝতে পারছি তুমি একটা বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছো। বল আমাকে, তোমাকে কথা বলার জন্য মিনতি করছি।’ হ্যাঁ, আমি এই কথাগুলো পরিষ্কার ওর চোখে পড়তে পারলাম যেন ওগুলো সেখানে স্পষ্টাক্ষরে লেখা ছিল। ব্যাপারটা আমাকে পর্যুদস্তু করে ফেললো। এতে করে আমি ইতস্তত করতে লাগলাম। শেষ পর্যন্ত নৈঃশব্দের যবনিকা টেনে বললাম, ‘পিকো, আজ নিয়ে তিন দিন হল তোমাকে কোনো একটা হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা চালিয়েছি। কিছুই করা যাচ্ছে না। তারা কেউ তোমাকে চায় না, বুঝতে পারছো?’
‘হ্যাঁ’, ওর চোখ দুটো জবাব দিল।
‘অন্যদিকে আমরা ফরাসি কনস্যুলেটেও সমস্যার সমাধানে যেতে পারছি না এই ঝুঁকর কারণে যে তাতে তারা আামদের পরিচয় জেনে ভেনেজুয়েলিয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে বসতে পারে আমাদেরকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর জন্য।  এর অর্থ আবারো ঘানি টানা।’ সে তার সুস্থ কাঁধটা ঝাঁকিয়ে  উত্তর দিল। ‘শোন, তোমাকে ভাল হতেই হবে এবং সুস্থ হওয়ার জন্য তোমাকে চিকিৎসা পেতে হবে উপযুক্ত, সেটাই প্রধান সমস্যা। কিন্তু তুমি তো জানো তোমাকে দেখাশোনা করার জন্য পর্যাপ্ত টাকা-পয়সাও নেই আমার কাছে। সুতরাং এখন আমরা যা করবো তা হচ্ছে--- আজ বিকালটা আমরা একত্রে কাটাবো এবং আমি তোমাকে সিনেমায় নিয়ে যাবো। এরপর আগামি দিন সকালে তোমাকে প্লাজা বলিভারে নিয়ে যাবো, সঙ্গে তোমার কোনো কাগজপত্র থাকবে না। সেখানে তুমি সিমন বলিভারের মূর্তির পদমূলে শুয়ে পড়বে এবং কোন নড়াচড়া করবে না।

যদি লোকজন তোমাকে বসাতে চায় বা দাঁড় করাতে চায় তুমি অসম্মতি জানাবে। এই অবস্থায় এটা এক শ’ ভাগ নিশ্চিত যে এরপর তারা পুলিশ ডাকবে। আর পুলিশ এসেই অ্যাম্বুলেন্স ডাকবে। আমি একটা ট্যাক্সিতে তোমাকে অনুসরণ করে জেনে নেব কোন হাসপাতালে তোমাকে তোলা হচ্ছে। এরপর আমি দু’দিন অপেক্ষার পর তোমার সঙ্গে দেখা করবো। আমি ভিজিটিং আওয়ারে আসবো যাতে অন্যদের ভীড়ে মিশে থাকতে পারি। প্রথম দিন হয় তো আমি তোমারর সঙ্গে কথাবার্তা বলেতে পারবো না, কিন্তু তোমাকে কিছু সিগারেট আর অল্প টাকা দিয়ে আসবো তোমার বিছানার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে। ঠিক আছে? তুমি রাজী এই পরিকল্পনায়।

সে তার সুস্থ বাহুটি আমার কাঁধে রেখে সরাসরি আমার  চেহারায় তাকালো। তার অভিব্যক্তিতে কৃতজ্ঞতা আর দুঃখবোধের এক অদ্ভুত মিশ্রন ফুটে উঠলো। ওর কণ্ঠনালী জোর প্রচেষ্টা শুরু করলো কিছু একটা বলার জন্য। ‘হ্যাঁ, ধন্যবাদ’ এই জাতীয় একটি জান্তব ধ্বনি বের করার জন্য তার কোঁচকানো মুখের ওপর এক অতি অমানবিক কসরৎ প্রয়োগ করলো পিকো।


পরদিন আমি যেমন বলেছিলাম, ঘটনা ঠিক ঠিক তেমনি ঘটলো। বলিভারের মূর্তির বেদিমূলে পিকোলিনো গিয়ে শুয়ে পড়েছে সোয়া ঘণ্টাও পার হয়নি, তিন-চারজন বৃদ্ধ একজন পুলিশ ডেকে আনলো। বিশ মিনিট পর অ্যাম্বুলেন্স এল। আমি ট্যাক্সি করে তাকে অনুসরণ করলাম।
দুদিন পর, দর্শনার্থীদের সঙ্গে মিশে যাওয়া এবং ওকে খুঁজে পেতে কোনো সমস্যাই হল না, তিন নম্বর ওয়ার্ডে তার ঠিকানায় আমি হাজির হলাম। তার বেড পড়েছে খুবই অসুস্থ দু’জন রোগীর মাঝখানে। ফলে কোনো ঝুঁকি ছাড়াই আমি নির্বিঘ্নে তার সঙ্গে দু’দণ্ড কথা বলে নিলাম। আমাকে দেখে আনন্দে সে ঝকমকিয়ে উঠলো।
‘ঠিক মত দেখাশোনা হচ্ছে তো তোমার?’
সে হ্যাঁ বোধক ইঙ্গিত করলো।
আমি বিছানায় ওর পায়ের দিকে আটকানো চার্টটায় লক্ষ করলাম,‘প্যারাপ্লেগিয়া (ঢ়ধৎধঢ়ষবমরধ) অথবা ম্যালেরিয়া উইথ সেকেন্ডারি কম্পিলিকেশনস। প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর পরীক্ষা করতে হবে।’ আমি ওকে ছয় প্যাকেট সিগারেট, ম্যাচ আর খুচরা বিম বলিভার দিয়ে আসলাম।
‘আবার দেখা হবে, পিকো!’ ওর কাঁকুতিপূর্ণ মরিয়া দৃষ্টি দেখে আমি যোগ করলাম, ‘ঘাবড়িও না দোস্ত; আমি ফিরে আসবো এবং দেখা হবে আবার। আমি যে ওর জন্য অপরিহার্য অনুসঙ্গতে পরিণত হয়েছি একথা কোনোমতেই আমাকে ভুললে চলবে না। দুনিয়ার সঙ্গে ওর যোগাযোগের একমাত্র সূত্রই হচ্ছি আমি।

পনেরা দিন হয়ে গেল আমি এখানে আছি, আর এরই মধ্যে এক শ’ বলিভারের নোটগুলো দ্রুত হাওয়া হয়ে যেতে লাগলো। সৌভাগ্যক্রমে আমি ক্যারাকাসে এসেছি ভদ্রস্থ কাপড়-চোপড় নিয়েই। আমি একটা ছোট্ট রুমের বন্দোবস্ত করতে পেরেছি সস্তায়। কিন্তু এটাও আমার জন্য মহার্ঘ মনে হচ্ছে। যতদূর দৃষ্টি যায় কোনো নারীর ছায়া পর্যন্ত নেই। তবে ক্যারাকাসের মেয়েগুলো প্রিয়দর্শিনী, বুদ্ধিমতি আর জীবনীশক্তিতে ভরপুর। সমস্যা হচ্ছে তাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়াটা। এটা ১৯৪৬ সন। এসময়ের সামাজিক রীতি ছিল না যে কোনো মেয়ে একা একা ক্যাফেতে বসে থাকবে আড্ডা দেয়ার জন্য।
 
যে কোনো বড় শহরের কিছু গোপন সত্য থাকে। এবং সেখানে নিজের দেখভাল করার সুবিধার জন্য প্রত্যেকের এসব জানা কর্তব্য, এবং এসব জানতে হলে ওই শহরের ঘাঘু মালগুলোকে জানতে হবে আগে। এরা পুরোমাত্রায় একটি রহস্যময় গোত্র যেন, যাদের ভাষা, আইন-কানুন, আচার-ব্যবহার আর অনিয়ম সব অন্যদের থেকে ভিন্নতর। চব্বিশ ঘণ্টার প্রতিটি দিন ভালভাবে বেঁচে থাকার জন্য যাদের প্রচুর উপার্জনের নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। জীবিকার্জন, সম্ভাব্যতর সৎপথে : সেটাই হচ্ছে সমস্যা, এবং এটা মোটেই সহজকর্ম নয়।

http://www.banglanews24.com/images/PhotoGallery/2011November/banco u20111124141116.jpgঅন্য সবার মত, আমারও নিজস্ব একটা পন্থা আছে যা অধিকাংশ সময়ই আত্মার শান্তি উদ্রেকাকারী সততায় পূর্ণ। অনাচার থেকে অনেক দূরের এই পন্থা। উদাহরণ স্বরূপ, এল ডোরাডোয় পরিচিত হওয়া এক কলম্বিয়ানের সঙ্গে দেখা হল একদিন।
‘তুমি কি কাজ করছো?’ সে আমাকে জানালো বর্তমানে চমৎকার একটি ক্যাডিলাক গাড়ির লটারি চালিয়ে আয়-রোজগার চলছে তার।
‘দুর্ভাগ্য আমার, অর্থাৎ তুমি ইতিমধ্যেই ভাল মাল কামিয়ে নিয়েছো! যেহেতু ক্যাডিলাক কেনার মত ক্ষমতা হয়েছে তোমার।’

সে তামাশা ভরা হাসিতে দুলে উঠলো, তারপর গোমরটা ফাঁক করলো। ক্যাডিলাকটা একটা বড় ব্যাংকের পরিচালকের। তিনি নিজেই প্রতিদিন সকাল ন’টায় সেটা চালিয়ে ব্যাংক থেকে এক দেড় শ’ গজ দূরে সুশীল বালকের মত পার্ক করে রেখে যান। সেখানে আমরা দু’জন আছি। একজন গাড়ি থেকে নামার পর পরিচালক মহোদয়কে অনুসরণ করে ব্যাংকের দরোজা পর্যন্ত যায় এবং সারাটা সকাল সকাল পশ্চাদ্দেশ মাটিতে সাঁটিয়ে রেখে পাহারা দেয় তাকে। যদি কোন উল্টা-পাল্টা দেখা দেয় তখন হুইসেল বাজায় অন্যজনকে সাবধান করে দেওয়ার জন্য। এ ধরনের পরিস্থিতি অবশ্য একবারের জন্যই ঘটেছিল। এমনিতে পরিচালক কখন ব্যাংকে ঢোকে আর বেড়িয়ে আসে তা সব সময়েই নির্দিষ্ট থাকে। মাঝের ওই সময়টার জন্য আমরা ক্যাডিলাকটিকে চমৎকার একটি সাদা ব্যানারে জড়িয়ে রাখি যাতে লাল হরফে লেখা থাকে ‘টিকেট পাওয়া যাচ্ছে এখানে--- এই টিকেটে যে কেউ জিতে নিতে পারেন এই ক্যাডিলাকটি। নিয়ম-কানুন ক্যারাকাস লটারির অনুরূপ। ড্র আগামী মাসে।’
‘আরে আদম, এটা রীতিমত দুই নম্বরি কারবার। তোমরা একটা ক্যাডিলাক গাড়ির নামে লটারি চালাচ্ছো যার মালিক তোমরা নও। যীশু, কী সাংঘাতিক! শূকরগুলোকে (পুলিশ) সামলাও কিভাবে?’
‘কোনো সময়েই একই জনের দ্বিতীয় দিন ডিউটি থাকে না। এছাড়া এখানে কোন ঘোর-প্যাঁচ থাকতে পারে এটা তাদের মাথায় এখন পর্যন্ত ঢোকেনি। এরপরও যখন ঠোলাদের কেউ একটু আধটু আগ্রহী হয়ে ওঠে, তখন তাদেরকে দু’একটা টিকেট ধরিয়ে দেই। তারা দ্রুত সটকে পড়ে মনে এই স্বপ্ন নিয়ে যে ‘ফাঁকতালে জিতেও তো যেতে পারি গাড়িটা!’
‘যদি তুমি আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে অল্পবিস্তর কামাতে চাও, চলে আস এখনি। আমি তোমাকে আমার পার্টনারের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেব।’
‘তোমার কি মনে হয় না এই ধোকাবাজীর মাধ্যমে গরীবকে ঠকানো হচ্ছে?’
‘মোটেই না। টিকেটের দাম মাত্র দশ বলিভার, যা তাদের জন্য খুব সামান্যই। সুতরাং কোনো ক্ষতিই করা হচ্ছে না তাদের।’

কলাম্বিয়ানের পার্টনারের সঙ্গে আমার মোলাকাত হলো, কিছুক্ষণের মুখ দেখাদেখি আর কি, এবং এরপর আমিও ব্যস্ত হয়ে পড়লাম ওদের সঙ্গে ঠগবাজীতে। খুব একটা আহামরি পর্যায়ের কাজ নয় এটা। কিন্তু আমাকে তো খাওয়া-দাওয়া এবং ঘুমানো এসব চালিয়ে যেতে হবে এবং খুব ভালো না হলেও নিদেন পক্ষে পরিচ্ছন্ন পোশাক-আশাক পড়তে হবে, একই সঙ্গে আমার গোপন সঞ্চয়টাও ধরে রাখতে হবে যতক্ষণ সম্ভব।

অল্প কিছু হীরক যা আমি এল ডোরাডো থেকে নিয়ে এসেছি এবং দুটো পাঁচ শ’ বলিভারের নোট যেগুলোকে আমি আমার চার্জারে (ক্যাপসুলের মত দেখতে ইঞ্চি কয়েক লম্বা স্টিলের টিউব বিশেষ। মাঝখানের প্যাঁচ ঘুরিয়ে খেলা যায়। পেনাল সেটেলমেন্টর কয়েদিদের টাকাসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিস রাখার নির্ভরযোগ্য উপায়) অতি যতেœ ভরে রেখেছি। ঠিক মনে হচ্ছে যেন এখনো পেনালে বন্দি আছি। কারণ আামর চার্জারটা এমনি এক জিনিস যা আমি কখনোই নিজের ভেতরে (পায়ু পথে) না নিয়ে থাকিনি। এছাড়া বর্তমান সময়ে এটা আমার ভেতরে রাখার আরো দুটো কারণ আছে : যে অঞ্চলে আমার হোটেলটা তা শহরের অন্যতম একটা গ্যাঞ্জামে এরিয়া, ফলে ছিনতাইয়ের কবলে পড়তে পারি। এছাড়া এগুলো পকেটে রেখে চলাফেরা করতে গেলে যে কোনো সময়ে হারিয়েও ফেলতে পারি। যে ভাবেই হোক এই চার্জার আমি দীর্ঘ চৌদ্দ বছর ধরে আমার পায়ুপথে ধরে রেখেছি। এখন আরো একটা বছর এটা রাখা আমার জন্য তেমন কষ্টকর হবে না, যেহেতু এতে করে আমি আমার শেষ সম্বলটুকু হারানোর ব্যাপারে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে পারবো।

লটারির টিকেট বিক্রি দুই সপ্তাহের বেশি টিকে থাকলো। এটা আরো কিছুদিন চালিয়ে যাওয়া যেত, কিন্তু একদিন এক অতি উৎসাহী ক্রেতা দুটো টিকেট কেনার পর গাড়ি জেতার স্বপ্নে বিভোর হয়ে এর সবিস্তার পর্যবেক্ষণ আরম্ভ করলো। হঠাৎ সে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে উঠলো, ‘আরে এই গাড়িটা ব্যাংকের পরিচালক ডা. ফুলানোর না?’
চোখের পাতা পর্যন্ত না নড়িয়ে শান্ত কণ্ঠে কলম্বিয়ান জবাব দিল,‘ঠিক তাই। তিনি এটা আমাদের জিম্মায় ছেড়েছেন এভাবে এর ব্যবস্থা করার জন্য। তার হিসেবে সরাসরি বিক্রি করার চাইতে লটারি পদ্ধতিতে বিক্রি করাটা বেশি লাভজনক হবে।

‘বিশ্রি ব্যাপার...’ লোকটি ক্ষেদোক্তি করলো।
‘কিন্তু সে যাই হোক, তাকে আবার এটা বলতে যেও না,’ কলম্বিয়ান বলে চলেছে, এখনো খুবই শান্ত আর স্থিরচিত্তে। ‘তিনি আমাদেরকে প্রতিজ্ঞা করিয়েছেন এ ব্যাপারে কাউকে কিছু না জানানোর জন্য। জানাজানি হলে বিষয়টা তার জন্য বেশ অস্বস্তিকর হয়ে পড়বে।’
‘আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারছি না, তার মত ব্যক্তির পক্ষে ব্যাপারটা খুবই অস্বাভাবিক।’
বিভ্রান্ত লোকটা যেইমাত্র ব্যাংকের দিকে যাত্রা করে আমাদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব অতিক্রম করেছে, সঙ্গে সঙ্গে কাপড়ের ফিতাটা গাড়ি থেকে গুটিয়ে ফেললাম। কলম্বিয়ান এটা নিয়ে হাওয়া হয়ে গেল আর আমি ব্যাংকের দরোজার দিকে রওনা দিলাম আমাদের অন্য পার্টনারকে জানানোর জন্য যে আমরা পাততাড়ি গুটিয়ে ফেলেছি। এসবের মাঝেই ভেতরে ভেতরে আমি হায়েনার হাসিতে ফেটে পড়ছি। মাঝপথে না দাঁড়িয়ে পারলাম না কেবল আমার কল্পিত ঘটনাগুলো কিভাবে দৃশ্যায়িত হয় তা চাক্ষুষ করার লোভ সামলাতে পারলাম না বলে। ঘটনা শুরু হলো আমার অনুমান মতই। তিন মিনিট পর ব্যাংকের পরিচালক ওই টিকেট ক্রেতাসহ হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে এলেন। তার ঝড়োগতির হাঁটা আর উত্তেজিতভাবে হাত নাড়াচাড়া দেখে বোঝা যাচ্ছিল তিনি মারাত্মক আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তারা এসে ক্যাডিলাকের আশেপাশে কাউকে না দেখে বিষ্ময়াভিভূত হয়ে পড়লেন। ধীরপায়ে একটা ক্যাফের সামনে এসে থামলেন ড্রিঙ্কসের জন্য। যেহেতু টিকেটের খরিদ্দার আমাকে চিনতে পারেনি, তাই পুরো মজাটা দেখতে আমিও ঢুকে পড়লাম ভেতরে।

‘হায় খোদা, কি সাংঘাতিক জোচ্চুরি! কি সাংঘাতিক জালিয়াতি ডা. ফুলানো, বুঝতে পারছো।
কিন্তু ক্যাডিলাকের মালিক প্রবরটি অন্যান্য সরল ভদ্র ক্যারাকাসবাসীর মতই রসিকজন। উদ্বেগ ঝেড়ে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে বললেন, ‘ভাবছি ঘটনচক্রে আমি কখনো এদের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে আমাকেও নিশ্চয়ই আমারই গাড়ির লটারির টিকেট গছিয়ে দিতে চেষ্টা করতো তারা! আর মাঝে মধ্যে আমি তো এতটাই আত্মভোলা হয়ে যাই যে হয়তো সত্যি সত্যি তা কিনেও ফেলতাম। তুমি নিশ্চয়ই মানবে যে এটা কঠিন এক কৌতুক হতো?’
এটাই ছিল আমাদের লটারি কাণ্ডের শেষ দৃশ্যের মঞ্চায়ন। কলম্বিয়ান দু’জন হাওয়া হয়ে গেল। আমি আমার ভাগের পনের শ’ বলিভারের মত জমিয়েছি। এক মাস কাটিয়ে দেওয়ার মত যথেষ্ট, আমার জন্য এটাই গুরুত্বপূর্ণ।
 
দিন কেটে যেতে লাগলো আর এরই সঙ্গে এটাও পরিষ্কার হতে থাকলো যে ভাল কোন কাজ পাওয়া সহজতর কর্ম নয়। এটা ছিল সেই সময় যখন পেটেইন সমর্থক এবং যারা জার্মানদেরকে সমর্থন যুগয়েছিল তারা দলে দলে ফ্রান্স থেকে ভেনেজুয়েলায় আসা শুরু করেছে, নিজের দেশে বিচারের হাত থেকে বাঁচতে। যেহেতু পেটেইনিস্ট আর কোলাবরেটরদের পার্থক্য নির্দেশকারী বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে আমার তেমন জ্ঞান ছিল না, তাদের সবাইকে আমি ‘সাবেক নাৎসী’ পরিচয়ে চিহ্নিত করে ফেললাম। এ কারনে আমি তাদের সঙ্গে মিশতে চাইনি।

এক মাস কেটে গেল কিন্তু তেমন কিছু আর ঘটলো না। এল ক্যালাও থাকতে আমি কখনো ভাবিনি যে এখানে দিন গুজরান করা আমার জন্য এতটা কঠিন হয়ে পড়বে। আমার অবস্থা এখন দাঁড়িয়েছে যে আমি এখন দরোজায় দরোজায় ঘুরে কফি-পট বিক্রেতা ফেরিওয়ালায় পরিনত হয়েছি। এই পাত্রগুলো বিশেষভাবে অফিসে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা।

কিন্তু আমার ক্যানভাসিং কৌশল এমনই নিরস আর ক্রেতা আগ্রহ সৃষ্টিতে অক্ষম ছিল যে নিজেই বিরক্ত হয়ে গেলাম এই কাজের ওপর। যেমন আমি বলতাম, ‘দেখুন সিনর পরিচালক সাহেব, যখনি আপনার কর্মচারীরা কফির জন্য বাইরে যায় তখন প্রচুর সময় নষ্ট করে (ভেনেজুয়েলায় অফিস-আদালতের প্রচলিত সাধারণ রীতি এটা যে কর্মচারীরা কফি পানের জন্য ঘন ঘন বাইরে যায়), বিশেষ করে যখন বৃষ্টি পড়তে থাকে; আর ওই সময়টুকুতে অফিসে আপনার কর্মচারীর অনুপস্থিতির অর্থ হচ্ছে, আপনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সুতরাং আপনার অফিসে যদি একটা কফিপট মজুদ থাকে তাহলে আপনি সব দিক থেকে লাভবান হচ্ছেন।

আমার এসব ক্যানভাসিংয়ে অধিকাংশ অফিস কর্তাই উত্তর দিতেন এরকম, ‘ওহহো, ভেনেজুয়েলায় আপনি জানেন, জীবনকে আমরা সহজভাবে গ্রহণ করেছি, এমনকি ব্যবসা ক্ষেত্রেও। মোদ্দাকথা, এজন্যেই কার্যসময়েও লোকজনকে ক্যাফেসিটোর (কফি খাওয়ার) জন্য বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেই আমরা।’

এছাড়াও হাতে করে কফিপট নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘোরাফেরা করাটাও চুড়ান্ত বুদ্ধু ছাড়া আর কাউকে মনায় না। আর ঠিক এই হুলিয়া নিয়ে একদিন পথে দেখা হয়ে গেল পাওলো দা বক্সারের সঙ্গে। মঁমার্তেতে ওর সঙ্গে আমার পুরনো জানাশোনা ছিল। কফিপট নিয়ে আমি তার গায়ে ধাক্কা খেয়ে পড়লাম প্রায়। সে আমাকে পরিচিতের মত জড়িয়ে ধরলো। ‘তারপর, কি অবস্থা তোমার?’
‘কেন? তুমি আমাকে চেন? তুমি নিশ্চয়ই পাওলো দা...’
‘এবং তুমি প্যাপিলন?’
সে আমার হাত ধরে টেনে একটি ক্যাফেতে নিয়ে চললো।
‘ভালই হলো, কি অদ্ভুত ব্যাপার! ঘটনাচক্র একেই বলে, তাই না?’
‘তোমার এ অবস্থা কেন, কফি পট নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছো কেন?’
‘আমি এগুলো বিক্রি করছি। আমার জন্য এটা একটা নির্মম পরিহাস। প্রতিদিন নিয়ে বের হচ্ছি আর ঘুরে ফিরে ফেরত নিয়ে যাচ্ছি, কোন ফায়দা হচ্ছে না। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যাচ্ছে এখন আমার।’ আমার হাল-অবস্থা ওকে জানালাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমার কি অবস্থা?’
‘চল আগে কফি খেয়ে নেই, তারপর বলা যাবে সব।’
বিল মিটিয়ে উঠে দাঁড়ালাম আমরা। আমি আামর মালপত্র তুলে নিতে উদ্যত হলাম। ‘যেখানে আছো সেখানেই ফেলে রাখো, এগুলোর আর দরকার নেই তোমার, আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি।’
‘তুমি ব্যাপারটা বুঝতে পারছো না!’
‘আমি জানি এটা, বাবা।’

: ওই বদসুরত পিত্তি জ্বালানো কফিপটগুলো টেবিলে ফেলে রেখে চলে এলাম ওর সঙ্গে।
ঘণ্টাখানেক পর আমার রুমে এসে মঁমার্তের জীবনের স্মৃতি রোমন্থন শেষে, পাওলো আসল কথায় এল। ভেনেজুয়েলার নিকটবর্তী একটি দেশে ওর হাতে বিরাট একটা কাজ রয়েছে। যদি আমি রাজি থাকি, সে আমাকে তার দলের একজন করে নিতে প্রস্তুত আছে। ‘এক্কেবারে সহজ কাজ এটা, গাছ কেটে মাটিতে ফেলার মতই সহজ। মাল তোমার পকেটেই ভরা আছে বলা যায়, বৎস। আমি কথা দিচ্ছি, এই কাজে এত ডলার আসবে যে তোমার বাক্স-সিন্দুক সব উপচে পড়বে।’
‘আর এই আজদাহা টাইপের কাজটা আছে কোথায়?’
‘সেখানে পৌঁছেই জানতে পারবে। এর আগে আমি কিছুই বলতে পারবো না।’
‘দলে আমরা ক’জন হব?’
‘চারজন। একজন ইতোমধ্যেই অকুস্থলে হাজির রয়েছে। আমি এখানে এসেছিলাম অপরজনকে নিয়ে যেতে। যাহোক, তুমি তাকে চেন। সে তোমার বন্ধু, গ্যাস্টন।’
‘ঠিক, কিন্তু তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে দীর্ঘদিন।’
‘আমার নয়,’ হাসিমুখে বললো পাওলো।
‘কাজটা সম্পর্কে সত্যি তুমি আর কিছু বলতে পরছো না আমাকে?’
‘অসম্ভব, প্যাপি। বিশেষ কারণ আছে এর পেছনে।’
‘আমি দ্রুত চিন্তা করলাম। যে অবস্থানে আমি আছি, সেখান থেকে বাছ-বিচার করার সুযোগ কম। হয় আমাকে কফি-পট ফেরি করে বেড়াতে হবে রাস্তায় রাস্তায়, অথবা অন্য কোন অভিশপ্ত জিনিস বয়ে বেড়াতে হবে হাতে করে কিংবা সরাসরি ঢুকে পড়তে হবে অপরাধ জগতে তাড়াতাড়ির মোটা দান মারার ধান্ধায়। আমার জানামতে পাওলো সর্বদাই একজন নির্ঝঞ্ঝাট বিবেচক ব্যক্তি, আর সজ্জন হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে বন্ধু মহলে। তার কথামত যদি দলে চারজন লোক হয়, তার অর্থ কাজটা পুরোদস্তুর গুরুত্বপূর্ণ। কৌশলগত দিক দিয়ে অনকেগুলো কাজের সমন্বয় থাকবে সেখানে। এবং এটাই, আমি স্বীকার করছি, আমাকে এর মোহে বশ করে ফেলেছে। সুতরাং কি করবে, প্যাপি- লাগাবে বাজী?’
‘বাজী!’
পরদিন আমরা রওনা দিলাম।


[চলবে]

বাংলাদেশ সময় ১৪০৫, নভেম্বর ২৪, ২০১১

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক ইসি
টিফিনের টাকায় কক্সবাজার সৈকতে বঙ্গবন্ধুর হাজার ছবি
ই-পাসপোর্ট সম্পর্কে যা জানা দরকার
আইসিসিবিতে তিনদিনের ভারতীয় প্রকৌশল প্রদর্শনী
রাতের অন্ধকারে নারীদের পেটাল যোগীর পুলিশ!


সন্ত্রাসী-পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
খাগড়াছড়িতে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
খুলনায় এমপি নারায়ণ চন্দের ছেলের আত্মহত্যার চেষ্টা
মাকে নিয়ে তীর্থে নয়, ক্যাসিনোয় গেলেন অক্ষয়
শীতকালীন রোগে মৃত্যু ৫৭ জনের