ওষুধের দোকানে নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার-হেক্সিসল-মাস্ক!

মাহফুজুর রহমান পারভেজ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে ফার্মেসিতে। ছবি: বাংলানিউজ

walton

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ জেলার সব স্থানেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হেক্সিসল, গ্লাভস ও মাস্কের সংকট দেখা দিয়েছে। বেশিরভাগ ওষুধের দোকানের বাইরেই এসব পণ্য নেই বলে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে নোটিশ। একইসঙ্গে ওষুধের দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে না ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় কোনো ওষুধ। আর নাপা ও প্যারাসিটামল কোথাও কোথাও পাওয়া গেলেও রাখা হচ্ছে চড়া মূল্য।

বুধবার (২৫ মার্চ) সরেজমিনে শহরের কালিরবাজার, খানপুর, চাষাঢ়া, ডিআইটির বিভিন্ন ফার্মেসি ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। পাশাপাশি পুরো জেলা থেকে উধাও হয়ে গেছে হ্যান্ডওয়াশ জাতীয় সব পণ্য।

এসব ওষুধের দোকানে যারা কাজ করছেন তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় ওষুধ বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার-হেক্সিসল-মাস্ক নেই। এগুলোর সাপ্লাইও নেই।

তবে দেখা গেছে, কয়েকটি দোকানে এসব পণ্য থাকলেও প্রায় ১০ গুণ বেশি দামে সেগুলো বিক্রি করা হচ্ছে।

কেন এমন পরিস্থিতি এটি জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফার্মেসির বিক্রেতা রেদোয়ান বাংলানিউজকে বলেন, আমরা তো ওষুধের জন্য অর্ডার দিয়ে রেখেছি। আমাদের দোকানও ছোট। যেদিন নারায়ণগঞ্জে প্রথম করোনা ধরা পড়লো ওইদিন ১ ঘণ্টার মধ্যে আমার সব হেক্সিসল ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার শেষ হয়ে গেছে। পরে অর্ডার দিয়েও আর পাচ্ছি না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দোকানি জানান, ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় ওষুধ এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না। কোম্পানিও যেমন সাপ্লাই দিচ্ছে না পাশাপাশি অনেক ব্যবসায়ী বেশি করে মজুত করে রেখেছেন। আবার গ্লাভস ও মাস্কের সাপ্লাই থাকলেও সিন্ডিকেট করে ৭০ টাকা বক্সের মাস্ক ১৭০০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। ২শ টাকা করে গ্লাভসের বক্স বিক্রি করা হলেও এখন তা ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। আর হেক্সিসল তো কোথাও পাওয়াই যাচ্ছে না। অথচ এগুলোই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আর নতুন করে সংকটের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় ওষুধ, নাপা ও প্যারাসিটামল। এসব ওষুধও চাহিদার অনুপাতে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই কয়েকগুণ বেশি দামে এসব ওষুধ বিক্রি করছেন। তবে প্যারাসিটামলের সংকট হবে না। এটি অর্ডার করলে পাওয়া যাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন বলেন, মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনায় হটাৎ করেই এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। যার প্রয়োজন একটা সে কিনছে ১০টা। আগে যেখানে মাসে ৯০টা হেক্সিসল বিক্রি হতো না সেখানে একদিনে ৩ হাজার বিক্রি হয়েছে। মানুষের বাড়াবাড়ির কারণে এমন অবস্থা। সবকিছুতেই রাষ্ট্রের একটা ক্যাপাসিটি রয়েছে, অবস্থা স্বাভাবিক হতে ১ সপ্তাহ থেকে ২ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

তিনি জানান, এসিআই হেক্সিসল আগে ৮০ হাজার উৎপাদন করতো। তাও বিক্রি করতে পারতো না। আর এখন ১ লাখ ৮০ হাজার উৎপাদন করে চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। আমরা আপাতত আগে হাসপাতালগুলোকে সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আর সেটাই আগে করা হচ্ছে। আর মাস্ক-গ্লাভসের কথা আর নাই বা বললাম, যার প্রয়োজন ১ জোড়া সে ৪ থেকে ৫ বক্স করে কিনেছে। বিশ্বের বড় দেশ যুক্তরাষ্ট্রেও যেখানে মাস্ক গ্লাভসের সংকট দেখা দিয়েছে তারা আমাদের থেকে চেয়েছে সেখানে আমাদের উচিত প্রয়োজন ছাড়া একটা জিনিসও না কেনা। কিছু ওষুধের হয়তো ক্রাইসিস থাকতে পারে। তবে বেশি দাম রাখলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্যারাসিটামলের কোনো সংকট নেই এই মুহূর্তে। আর এটার সংকট হবার কথাও নয়। ১৯০টা কোম্পানি প্যারাসিটামল তৈরি করে তাই সংকট হবার কোনো কারণ নেই।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪৩ ঘণ্টা, মার্চ ২৫, ২০২০
এইচএডি/

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: করোনা ভাইরাস
বাড়িতে করোনা আক্রান্ত, সাক্ষী তনওয়ারের বাড়ি সিলগালা
‘কারণ ছাড়াই’ ইউএসটিসিতে নার্সসহ ৩৪ জনকে চাকুরিচ্যুত
আইসিসিআর'র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রীভা গাঙ্গুলির অভিনন্দন
পাবনায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১
করোনা: শবে বরাতের রাতে হয়নি হালুয়া-রুটি বিতরণ


 করোনা: দিনভর অভিযানে বরিশালে লাখ টাকা জরিমানা
টুঙ্গিপাড়ায় ২ করোনা রোগী শনাক্ত, ৬ বাড়ি লকডাউন
তিতাসে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত
করোনাকালীন কর্মস্থলে অনুপস্থিত: ফেঁসে যাচ্ছেন ১১ কর্মকর্তা
স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার জন্য হোটেল ছেড়ে দিলেন সোনু সুদ