জনবল সংকটে ধুঁকছে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল

শেখ তানজির আহমেদ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল

সাতক্ষীরা: জনবল সংকটে ধুঁকছে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল। এতে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও দেখা পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসকের। এক রোগের চিকিৎসা নিতে এসে অন্য রোগের চিকিৎসককে দেখাতে বাধ্য হতে হচ্ছে তাদের।

জনবল সংকটে অবস্থা এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে, শিশু ওয়ার্ড সামলাচ্ছেন একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক। এনেসথেসিয়া দিচ্ছেন যেকোনো মেডিকেল অফিসার।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের ২৭টি পদের মধ্যে ১৪টিই পদ শূন্য রয়েছে।

শূন্য পদগুলো হলো- সিনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি), সিনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থ সার্জারি), সিনিয়র কনসালট্যান্ট (চক্ষু), সিনিয়র কনসালট্যান্ট (এনেসথেসিয়া), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (পেডিয়াট্রিক্স), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (ইএনটি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (প্যাথলজি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (এনেসথেসিয়া), আবাসিক মেডিকেল অফিসার, রেডিওলজিস্ট, মেডিকেল অফিসারের (হোমিও/ইউনানি/আয়ুর্বেদি) একটি ও মেডিকেল অফিসারের দু’টি পদসহ ১৪টি।

এছাড়া নার্সিং সুপারভাইজার, স্টাফ নার্স, সহকারী নার্স ও স্টোর কিপারের একটি করে ও সিনিয়র স্টাফ নার্সের পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরাসূত্র আরও জানায়, সদর হাসপাতালের আউট ডোরে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ রোগী হয়। সুচিকিৎসা তো দূরে থাক, জনবল সংকটে এতো রোগী সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

সরজমিনে সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের দীর্ঘ লাইন। সেবা নিতে আসা সবার মুখেই হতাশার ছাপ। কারণ যে রোগের চিকিৎসক দেখাতে এসেছেন সে ডাক্তার নেই। অর্থাৎ পদটি শূন্য রয়েছে।

এমনই একজন তালা উপজেলার মীর্জাপুরের ভ্যানচালক জাহাঙ্গীর হোসেন। দীর্ঘদিন দু’টি চোখ নিয়ে ভুগছেন তিনি। এসেছিলেন চোখের ডাক্তার দেখাতে। কিন্তু চোখের ডাক্তার না থাকায় সাধারণ মেডিকেল অফিসারকে দেখাতে বাধ্য হলেন তিনি।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, কি করবো, চোখের ডাক্তার তো নেই। আমরা কি ক্লিনিকে গিয়ে ৫০০ টাকা দিয়ে ভালো ডাক্তার দেখাতে পারি। তালা থেকে সদর হাসপাতালে এসেও যদি ডাক্তার দেখাতে না পারি তাহলে ভাগ্যের দোষ দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। তারপরও ভয় থাকে, যে ডাক্তার দেখালাম যদি সঠিক চিকিৎসা না হয় তাহলে দু’টি চোখই তো শেষ হয়ে যাবে।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছে শ্যামনগর উপজেলার দামদরকাঠির শাহীদ উদ্দিনের তিন মাসের ছেলে। শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সদর হাসপাতালে এসেও চিন্তামুক্ত হতে পারেননি তিনি। কারণ সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞের পদটি শূন্য। শিশু ওয়ার্ড চালাচ্ছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক নাজমুল হাসান ও মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট শফিউল্লাহ মুন্না।

শূন্য রয়েছে আরএমও’র মতো গুরুত্বপূর্ণ পদটিও। এ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ডা. হাফিজউল্লাহ।

জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে ডা. হাফিজউল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, বর্হিবিভাগের রোগী সামলাতেই রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের তো কিছু করার নেই।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এনেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞের পদটি শূন্য। তাই যখন যাকে পাই (মেডিকেল অফিসার) তাকে দিয়েই কাজ চালানো হয়। জনবল সংকটে কখনও কখনও উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার দিয়েও রোগী দেখাতে হচ্ছে। কোনো উপায় নেই।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন তৌহিদুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, সদর হাসপাতালে জনবল সংকেট চিকিৎসা সেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গেও দেখা করেছি। তিনি দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

বাংলাদেশ সময়: ০৬৫২ ঘণ্টা, মার্চ ১০, ২০১৮
আরবি/

পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠক করলেন বার্নিকাট 
জেএমবি সদস্যসহ আটক ৩২, অস্ত্র-বিস্ফোরক-মাদক জব্দ
রোহিঙ্গা গণহত্যায় আইসিসির তদন্ত শুরু
ফেসবুকে চাকরির বিজ্ঞাপনে লিঙ্গ বৈষম্যের অভিযোগ 
আশ্বিনে চৈত্রের গরম, জনজীবন অতিষ্ঠ
বশেমুর মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে নিয়োগ
ঘরেই যেভাবে বিশুদ্ধ পানি 
দৌলতপুরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
নাটোরে ২৬০০ লিটার রেলের তেলসহ আটক ৩
ডিবি'র নতুন যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম