php glass

পরিবারতন্ত্র আর পারিবারিক ঐতিহ্য এক নয়: মাহী বি চৌধুরী

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

আলোচিত তরুণ রাজনীতিবিদ মাহী বি চৌধুরী নতুন প্রজন্মের কাছে এক অন্য মানুষ। তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে উৎসাহিত করতে তিনি বহুদিন ধরে কাজ করছেন। নিজেও উপস্থিত থাকেন রাজনীতির মাঠে।

আলোচিত তরুণ রাজনীতিবিদ মাহী বি চৌধুরী নতুন প্রজন্মের কাছে এক অন্য মানুষ। তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে উৎসাহিত করতে তিনি বহুদিন ধরে কাজ করছেন। নিজেও উপস্থিত থাকেন রাজনীতির মাঠে। বারিধারার বাসভবনে নিজের রাজনৈতিক জীবন ও স্বপ্ন নিয়ে তিনি সরাসরি কথা বলেছেন বাংলানিউজের সঙ্গে। এ আলোচনায় তিনি একপর্যায়ে তরুণদের প্রতি বলে ওঠেন, রাজনীতিকে ঘৃণা করো না।

তাঁর সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব প্রকাশিত হলো।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শেরিফ আল সায়ার


রাজনীতির প্রতি আগ্রহটা কিভাবে তৈরি হলো?

আমার বাবা একজন স্বনামখ্যাত ডাক্তার। আমার মনে আছে, ছোটবেলায় আমার ছোটবোন ডাক্তারের জিনিসপত্র নিয়ে খেলত। সে বাবাকে যেভাবে দেখেছে সেটাই ওর কাছে বড় মনে হয়েছে।

একই সাথে আমার বাবা একজন রাজনীতিবিদ। বাবাকে রাজনীতিবিদ হিসেবেই আমার বেশি ভালো লাগতো। সে জন্যই রাজনীতির প্রতি আমার আলাদা একটা আকর্ষণ ছিল সবসময়ই।

তবে আমি রাজনীতি করবো এমন বদ্ধমূল ধারণা আমার মধ্যে ছিল বলে আমার মনে পড়ে না। কিন্তু একদম সাদামাটাভাবে বললে বাবার পেশার প্রতি যে কোনো সন্তানের আকর্ষণ আসতেই পারে। এভাবেই আমার ভেতর আগ্রহটা দানা বাঁধতে পারে।

আপনি বলেছেন আপনার বাবা একজন ডাক্তার। অন্যদিকে তিনি একজন রাজনীতিবিদ। দু পেশার মধ্যে কেন আপনার কাছে রাজনীতিবিদ পরিচয়টাই গুরুত্ব পেল?

কারণ রাজনীতিবিদের পরিবার সরাসরি এ পেশার সঙ্গে জড়িয়ে যায়। অন্য যে কোনো পেশার চেয়ে রাজনীতি একটু ব্যতিক্রম। একজন ডাক্তার, তিনি কিন্তু একা একজন ডাক্তার। পুরো পরিবার কিন্তু একজন ডাক্তারের পেশার সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে যায় না। হ্যাঁ, হয়তো কখনও কোনো রোগী খুব অসুস্থ থাকলে বাবাকে দেখা যেতো খুব টেনশনে আছেন। এই ধরনের ঘটনায় কিন্তু সরাসরি একটি পরিবার জড়াবে না।

আমার ছোটবেলাটা কেটেছে এরশাদের সময়ে। সপ্তাহে চারদিন বাবা রাত বারোটার পর বাসা থেকে চলে যেতো। রাত দুটো কিংবা তিনটার সময় আমাদের কাপড়ের ব্যাগ তৈরি থাকতো। মা আমাদের ঘুম থেকে তুলে দিতো। আমরা ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে দেয়াল টপকে পাশের বাসায় গিয়ে ঘুমাতাম। এভাবে কেটেছে নয়টি বছর।

আমার নিজের এক ছেলে, এক মেয়ে। আমি বিএনপির স্বক্রিয় রাজনীতি করতাম। এরপর বিএনপি থেকে পদত্যাগ করলাম। এরপর যে একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, আমি কিন্তু জানতাম না। আমি ভেবেছিলাম আমি পছন্দ করছি না আমি পদত্যাগ করবো-এটা সম্পূর্ণ আমার সিদ্ধান্ত।

কিন্তু আমার পদত্যাগ বিএনপি কিভাবে নিলো? এরপর আমি, আমার বাড়ি আর আমার পরিবারের উপর যে আক্রমণ তা বর্ণনাতীত।

আমার মেয়ের বয়স তখন সাত। আমার মেয়ের গাড়িতে গুলি করা হলো। ওই সময়ে আমার সাত বছরের মেয়ে এবং তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে আমি বাসার তিন তলায় ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন রাত চারটা। আমার বাড়িতে আগুন দেওয়া হলো।

দেখুন, রাজনীতি কিন্তু আমার সন্তানরা করছে না। কিন্তু তারাও জড়িয়ে যাচ্ছে। তাই রাজনীতিবিদদের পরিবারগুলো অন্য যে কোনো পরিবারের থেকে অনেক গভীরভাবে জড়িয়ে যায়। তাই এ পেশাটা ভিন্ন। এভাবেই আমি জড়িয়ে গেছি। এ কারণেই বাবার এ পরিচয়টার প্রতি আকর্ষণও তৈরি হয়।

পরিবারতন্ত্রের রাজনীতিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

পরিবারতন্ত্র মানে রাজার ছেলে রাজা। আমি সব সময়ই এ তন্ত্রের বিরুদ্ধে। আমি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সন্তান এটা আমার কোনো রাজনৈতিক যোগ্যতা না। আবার একই সঙ্গে এটা আমার জন্য কোনো অযোগ্যতাও না।

যেহেতু আমি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সন্তান, সেহেতু আমি রাজনীতি করতে পারবো না এটাও কিন্তু সঠিক না। যে কেউ তার নিজ নিজ যোগ্যতায় রাজনীতিতে উঠে আসবে। যে যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারবে সে টিকে যাবে আর যে পারবে না সে রাজনীতিতে থাকবে না। এ পর্যন্তুই বিষয়টা থাকা উচিত।

তবে পারিবারিক ঐতিহ্য থাকা উচিত। এটা কাজে লাগে। এবার বলি, পারিবারিক ঐতিহ্য জনগণের জন্য কিভাবে কাজে লাগে? একজন নতুন মানুষ যখন আসে তখন মানুষ তার কাছে কিছুই প্রত্যাশা করে না। আর পারিবারিক ঐতিহ্য নিয়ে যখন কেউ আসে তখন কিন্তু সবাই ভালো মানুষের ছেলের কাছে ভালো জিনিস প্রত্যাশা করে। হ্যাঁ, আজকে যারা দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত তাদের সন্তানরা ভালো হলেও রাজনীতিতে নিজেকে প্রমাণ করা অনেক কঠিন।

তাই পারিবারিক ঐতিহ্যটা রাজনীতিতে কাজে লাগে। আমার রাজনীতিতে একটা পারিবারিক ঐতিহ্য আছে। আমার দাদা-বাবা এবং আমি মিলিয়ে গত ৭৫ বছর সক্রিয়ভাবে তিনটি প্রজন্ম ধরে রাজনীতিতে আছি। আর সেই সঙ্গে আমার একটা অহংকারও আছে। তাই আমি মনে করি পরিবারতন্ত্র এবং পারিবারিক ঐতিহ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিবেচনা।

তাহলে পারিবারিক ঐতিহ্যটা একটা দায়িত্ববোধেরও সৃষ্টি করে। আপনি কি সেই দায়িত্ববোধের রাজনীতি করতে পেরেছেন? কিংবা দায়িত্ব পালন করতে পারছেন?

আমার দাদা কফিল উদ্দিন চৌধুরী যখন রাজনীতিতে আসলেন তখন কিন্তু তার প্রতি জনগণের খুব একটা প্রত্যাশা ছিল না। কারণ তাঁর বাবা কিন্তু রাজনীতি করতেন না। তারপরও তিনি একটা ইমেইজ তৈরি করে গেছেন। তিনি একটি সৎ, শিক্ষিত রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচয় পেয়ে গেছেন। সেজন্য এখনও লোকে তার বিরুদ্ধে কথা বলে না।

তারপর তার সন্তান বদরুদ্দোজা চৌধুরী যখন রাজনীতিতে আসলেন তখন কিন্তু লোকে বলল, নাহ্ ইনি কফিল উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। এ কোনো খারাপ কাজ করতে পারবে না। তিনি বাবার উদাহরণটাকে বজায় রেখেছেন। ভদ্র রাজনীতি তিনিও প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন। যখন আমি আসলাম; তখন তো একদিকে বদরুদ্দোজা চৌধুরী আর অন্যদিকে কফিল উদ্দিন চৌধুরীর বোঝা।

এটাকে বোঝা না বলে দায়িত্ববোধই বলা উচিত। সুতরাং আমার উপর কিন্তু দু প্রজন্মের দায়িত্ব। আর আমার তো মনে হয় আমি সেটা পালন করতে পেরেছি কিংবা পারছি। তা না হলে ফখরুদ্দিন সরকার আমলে তো আমার উপর কোন অভিযোগ কেউ করতে পারেনি। আমি তখনও সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছি এখনও জানাচ্ছি।

আমরা সবাই রাজনীতিতে পরিবর্তনের কথা বলি? পরিবর্তন কতটা সম্ভব?

পরিবর্তনের জন্য দরকার সুস্থ রাজনীতি। কিন্তু এ সুস্থ রাজনীতিটা করবে কে? আজকের ছাত্রদল বা ছাত্রলীগ। যারা আমাদের ভবিষ্যতের নেতা তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড কি? তারা কেন রাজনীতি করে? তারা কি এই দেশকে ভালোবেসে আদর্শের রাজনীতি করে?

সারা বাংলাদেশে বলা হয় প্রায় ১৭০০ ব্রিজ আছে যেখানে টোল আদায় করা হয়। এই ইজারাটা পায় কারা? হয় ছাত্রদল, না হয় ছাত্রলীগ। বাংলাদেশের সাড়ে সাত হাজার ইউনিয়নে সাড়ে সাত হাজার ইউনিয়ন বাজার আছে। বাজারগুলো কাদের ইজারা দেওয়া হয়? হয় যুবদল, না হয় যুবলীগ। অথবা ছাত্রদল বা ছাত্রলীগ।

এভাবেই প্রতিটি জায়গা হিসাব করলে দেখা যাবে পুরোদেশকে দুটো দলে ইজারা দেওয়া হয়েছে। তাদের আয়, রোজগার সব কিছুই রাজনীতির মদদ পুষ্ট। এজন্য তাদের নেত্রী যখন ঢাকায় ডাক দেয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ময়দান লাখ লাখ লোকে ভরে যায়।

এর একমাত্র কারণ হলো এখান থেকেই তাদের আয় হয়। এখানে আদর্শ, দেশপ্রেম কোথায়? আপনি পরিবর্তন চাইছেন? এ জায়গায় গুণগত পরিবর্তন কি খুব সহজ মনে হচ্ছে? মোটেও সহজ না।

চলবে....

ফোকফেস্টে দেখা মিললো শাবনাজ-বিন্দুর
শাবিপ্রবি মাভৈঃ আবৃত্তি সংসদের ২১ বছর পূর্তি উদযাপন
কেশবপুরের বিতর্কিত ইউএনও মিজানূর রহমানকে অবশেষে বদলি
ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল পুরস্কার সনজীদা-সেলিনা ও স্বরলিপির
জ্বালানি খাতে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ চান বাণিজ্যমন্ত্রী


পুঁথি সংগ্রহে সাত্তার চৌধুরীর অবদান অসামান্য
ঠেগামুখ স্থলবন্দরের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে: এমপি দীপংকর
মাটির গানে মন মাতালেন কাজল দেওয়ান
বিএনপিতে যোগ দেওয়ার খবর ভিত্তিহীন: এলডিপি মহাসচিব
আশুলিয়ায় চার কেজি গাঁজাসহ আটক ২