শুধু বাংলাদেশ-ভারত নয়

শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীতও লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

এই তো কদিন আগে মুম্বাইয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে স্টেডিয়াম পরিবেশিত হলো ভারত ও শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীত। আমরা জানি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একমাত্র ব্যক্তি, যার লেখা ও সুর করা দুটি গান দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত।

php glass

এই তো কদিন আগে মুম্বাইয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে স্টেডিয়াম পরিবেশিত হলো ভারত ও শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীত। আমরা জানি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একমাত্র ব্যক্তি, যার লেখা ও সুর করা দুটি গান দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত। একটি  ভারতের ও অন্যটি বাংলাদেশের। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীতও লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ।

শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীত ‘আপা শ্রীলঙ্কা, নম নম নম নম মাতা, সুন্দর শ্রী বরনী’র মূল রচয়িতা ও সুরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাংলাদেশের আগে এটাই ছিল কবির লেখা কোনো গানের দ্বিতীয় জাতীয় সঙ্গীতে রূপান্তর। সে হিসেবে ‘আমার সোনার বাংলা’ কবি রচিত তৃতীয় জাতীয় সঙ্গীত।

ভাবতে অবাক লাগলেও ঘটনাটা সত্যি। তবে এর একটি চমকপ্রদ ইতিহাস আছে।

ব্রিটিশ লঙ্কা মানে আজকের শ্রীলঙ্কা থেকে আনন্দ সমরকুন ১৯৩০ সালে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীতে কলা ও সঙ্গীত বিভাগে পড়তে এসেছিলেন। তিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথের প্রিয় ছাত্র।

১৯৩৮ সালে তিনি গুরুদেবের কাছে তার দেশের জন্য একটি গান লিখে দেবার জন্য অনুরোধ করেন। প্রিয় ছাত্রের এই অনুরোধ ফেরাতে পারেননি রবীন্দ্রনাথ। বাংলায় লিখে দিলেন ‘নম নম শ্রীলঙ্কা মাতা’। সুর করে গানটি তুলেও দিলেন আনন্দকে।

১৯৪০ বিশ্বভারতীর শিক্ষা শেষ করে কবিগুরুর এই গানটি নিয়ে দেশে ফিরে গেলেন আনন্দ সমরকুন। ১৯৪৬ সালে গানটি সিংহলিভাষায় অনুবাদ করে একটি রেকর্ড বের করলেন শ্রীলঙ্কায়।

ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে শ্রীলঙ্কা স্বাধীনতা পেল ১৯৪৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।

১৯৫০ সালে নতুন দেশের জাতীয় সঙ্গীত ঠিক করার জন্য স্যার এডউইন ওয়াসজারএটনির নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠিত হয়। এ সময় আনন্দ তার অনূদিত ‘নম নম শ্রীলঙ্কা মাতা’ গানটি এ কমিটির কাছে দেন। কমিটি ১৯৫১ সালের ২২ নভেম্বর এই গানটিকেই শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। মোট ৪৪ লাইন আর ২ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড গানটির সময়সীমা। এভাবেই প্রিয় ছাত্রকে লিখে দেওয়া কবিগুরুর মূল গানটির অনুবাদ হয়ে গেল আরও একটি দেশের জাতীয় সঙ্গীত।
 
সে সময় এই গানটির তামিল ভাষায় অনুবাদ করেন এম নালাথাম্বি। সিংহলি ও তামিল এই দুটি ভাষাতেই গানটি গাওয়া হতো। তবে ২০১০-এর ১২ ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি মাহিন্দা রাজাপক্ষে সংসদে এক বিশেষ বিল এনে এ গানটির তামিল অনুবাদটি গাওয়া নিষিদ্ধ করেন।

শ্রীলঙ্কায় রবীন্দ্রচর্চার পথিকৃৎ ছিলেন আনন্দ। সিংহলি ভাষায় তিনি বহু রবীন্দ্রসঙ্গীত অনুবাদ করেছেন। অনুবাদ করেছেন রবীন্দ্র সাহিত্য। এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশনও করতেন।

কবিগুরুর এই প্রিয় ছাত্র আনন্দ সমরকুন অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে ১৯৬২ সালের ৫ এপ্রিল আত্মহত্যা করেন।

ছবি : আনন্দ সমরকুন এবং আনন্দ সমরকুন অনূদিত ‘নম নম শ্রীলঙ্কা মাতা’র পাণ্ডুলিপি

বাংলাদেশ সময় ১৩৫৮, এপ্রিল ২৪, ২০১১

অস্ত্রসহ গ্রেফতার ছিনতাইকারী
প্রস্ততি ম্যাচে আফগানদের কাছে হারলো পাকিস্তান
তিন গুণ দামে কাপড় বিক্রি মিমিতে, লাখ টাকা জরিমানা
আশুলিয়ায় মলমপার্টির সদস্য আটক
৫৪ রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পে ফেরত পাঠালো পুলিশ


৩ জেলায় বজ্রপাতে নিহত ৫
বৃষ্টিতে ডুবলো চট্টগ্রাম
উদ্বোধনের অপেক্ষায় ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ 
কাউকে ভুল প্রমাণ করার সুযোগ খুঁজি না: মাশরাফি
নরসিংদীতে টয়লেট থেকে কিশোরী ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার