র‌্যাম্প-মডেল রুহী এখন কপাটবন্দী

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

আলো ঝলমল মঞ্চে উদ্যাম সঙ্গীত মুর্ছনার তালে নিত্য-নতুন পোশাকে ক্যাটওয়াক করতে অভ্যস্থ র‌্যাম্প মডেল রুহী। হঠাৎ করেই তিনি বেছে নিয়েছেন কপাটবন্দী জীবন। হয়ে পড়েছেন অবরোধবাসিনী। ঘর থেকে কদাচিত যদি এক পাও বের হন নিজেকে ঢেকে নেন কালো বোরখায়।

আলো ঝলমল মঞ্চে উদ্যাম সঙ্গীত মুর্ছনার তালে নিত্য-নতুন পোশাকে ক্যাটওয়াক করতে অভ্যস্থ র‌্যাম্প মডেল রুহী। হঠাৎ করেই তিনি বেছে নিয়েছেন কপাটবন্দী জীবন। হয়ে পড়েছেন অবরোধবাসিনী। ঘর থেকে কদাচিত যদি এক পাও বের হন নিজেকে ঢেকে নেন কালো বোরখায়।

দেশ-বিদেশের বড় বড় সব ফ্যাশন শোর র‌্যাম্পে দিলরুবা ইয়াসমিন রুহীকে দেখা যায় প্রায়ই। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় র‌্যাম্প মডেল তিনি। শুধু র‌্যাম্পে বহু স্টিল-অ্যাডেও মডেল হয়েছেন। ঢাকা শহরের বহু বিল বোর্ডেই আকর্ষণীয় ভঙ্গিমায় তাকে দেখা যায়। র‌্যাম্প-মডেল রুহী একটু একটু করে সুপরিচিত হয়ে উঠেছেন একজন দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে। বেশ কিছু টিভিনাটকে তাকে অভিনয় করতে দেখা গেছে।

‘মনপুরা’ খ্যাত নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম এবার রুহীর সামনে ছুঁড়ে দিয়েছেন বড় ধরণের একটি চ্যালেঞ্জ। নামি এই নির্মাতা দীর্ঘদিন পর নির্মাণ করছেন একটি ধারাবাহিক নাটক। ‘অবগুন্ঠন’ নামের এই ধারাবাহিকটি নির্মিত হয়েছে মঞ্জু সরকারের উপন্যাস অবলম্বনে। ধর্ম যখন সমাজে শাসকের ভূমিকায়, নারী হয়ে ওঠে অবরোধবাসিনী। এমনি এক অবগুন্ঠিতা নারী গুলবাহার। রূপবতী ও রহস্যময়ী এই নারীকে ঘিরে টানটান এ প্রেমকাহিনীর পরতে পরতে জড়িয়ে থাকে লোকজীবনের নানা সংস্কার, সমাজ এবং সময়। এই নিয়ে নির্মিত ধারবাহিক নাটক ‘অবগুন্ঠন’। ধারাবাহিকটির প্রধান চরিত্র গুলবাহারের ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য তিনি র‌্যাম্প মডেল রুহীকে বেছে নিয়েছেন।

রুহী নিজেও স্বীকার করে নিয়েছেন, কাজটা তার জন্য ভীষণ চ্যালেঞ্জিং। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, র‌্যাম্প মডেল হিসেবে মিডিয়ায় দীর্ঘদিন কাজ করলেও অভিনেত্রী হিসেবে আমার ক্যারিয়ার খুব বেশি দিনের নয়। ২০০৮ সালে শহীদুজ্জামান সেলিম পরিচালিত ‘বৃত্তের ভিতর একা’ নামের একটি ধারাবাহিকে প্রথম আমি অভিনয় করি। এরপর আমাকে দেখা গেছে খুব কমই। গত চার বছরে সব মিলিয়ে ১০টি নাটকেও আমি অভিনয় করি নি। ‘অচেনা মানুষ’ ধারাবাহিকটির মতো কিছু ভালো নাটকেই শুধু কাজ করেছি। এবার গিয়াসউদ্দিন সেলিমের মতো একজন খ্যাতিমান নির্মাতা তার নতুন ধারাবাহিক ‘অবগুন্ঠন’-এ আমার মতো একজন নবীন অভিনেত্রীকে প্রধান চরিত্রে বেছে নিয়েছেন।  নির্মাতার এই নির্ভরতা আমাকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে। তাই কাজটা আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছি।

ধারাবাহিক নাটক ‘অবগুণ্ঠন’-এ রুহী অভিনয় করেছেন, মিঞাজি বাড়ির কপাটবন্দী বউ গুলবাহারের চরিত্রে। দিনের বেশির ভাগ সময় তার কাটে কপাটবন্দী অবস্থায়। খুব কম মানুষই তাকে স্বচক্ষে দেখেছে। পুরো গ্রামে তাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়ে কু-সংস্কার। রূপবতী ও রহস্যময়ী এই নারীকে জ্বিন পাহারা দেয়, তাই তার দেখা কেউ পায় না। এদিকে হঠাৎ করেই একদিন গুলবাহারের স্বামী নিখোঁজ হয়ে যায়। গ্রামে আবার রব উঠে, জ্বিন তাকে তুলে নিয়ে গেছে। সন্তানকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে গুলবাহার।

এরকম একটি ভিন্ন ধারার চরিত্রে অভিনয় করা প্রসঙ্গে রুহী বাংলানিউজকে বলেন, আমি বেড়ে উঠেছি ঢাকা শহরে। গ্রাম্য কুসংস্কারাচ্ছন জীবন আমার একেবারই অচেনা। তাছাড়া এখনো আমি অবিবাহিত। অথচ ‘অবগুণ্ঠন’ ধারাবাহিকটিতে বিবাহিত ও সন্তানের মার ভূমিকায় আমাকে অভিনয় করতে হয়েছে। বলা যায়, আমার ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে এ চরিত্রটির সামান্যতম মিলও নেই। তাই শুরুতে অভিনয় নিয়ে খুব টেনশনে ছিলাম। মনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছিল। যে জীবনের সঙ্গে আমার পরিচয় নেই, সেটা কতটুকু আমি ফুটিয়ে তুলতে পারবো। তবে শুটিংয়ে এসে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কেটে গেছে। চরিত্রটির সঙ্গে হয়ে গেছি একাত্ম। মনে মনে ভেবেছি, সত্যিই আমি এক কপাটবন্দী নারী।

রুহী আরো বললেন, পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিম আমাকে সাহায্য করেছেন চরিত্রটির ভিতরে ডুব দিতে। শুটিংয়ে তিনি আমাকে গুলবাহার নামে ডেকেছেন। তার টিপস আমাকে খুবই সহযোগিতা করেছে।

রুহীর কাছে প্রশ্ন ছিল, আপনাকে অভিনয়ে খুব বেশি দেখা যায় না কেন? জবাবে তিনি বলেন, আসলে আমি একজন প্রফেশনাল র‌্যাম্প-মডেল। ওটাই আমার কর্মক্ষেত্র। অভিনয়টাকে এখনো পেশা হিসেবে নেওয়া হয় নি। এটা এখনো রয়ে গেছে শখের পর্যায়ে। তাই ভালো লাগা চরিত্রতেই শুধু অভিনয় করছি। যে কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছি, তার প্রতিটাতেই আমার চরিত্র একটু ভিন্ন ধরণের। ভবিষ্যতে হয়তো অভিনয়টাকেও পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। তখন আমাকে নিশ্চয়ই নিয়মিত অভিনয়ে দেখা যাবে।

ruhiচলচ্চিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছে আছে কিনা জানতে চাইলে দিলরুবা ইয়াসমিন রুহী বললেন, সত্যি বলতে কী! চলচ্চিত্র আমার স্বপ্নের জায়গা। নাচে-গানে ভরপুর ঝলমলে ফিল্মই আমার বেশি ভালো লাগে। তবে আমাদের এখানে  যে ধরণের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র সিংহভাগ হচ্ছে তার সঙ্গে আমি নিজেকে মেলাতে পারি না। আমাদের দেশেও ভালো মানের বানিজ্যিক ছবি হয়। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’ ছবিগুলো তার প্রমাণ। এ ধরণের সুন্দর চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ পেলে অবশ্যই আমি তা লুফে নেব।

নিজের ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বাংলানিউজকে বললেন, বর্তমানে র‌্যাম্প-মডেল হিসেবে কাজ করলেও এটা তো আজীবন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই ভবিষ্যতে আমি ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ার স্বপ্ন দেখি। আমি আসলে ডিজাইনার হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই বিভিন্ন ফ্যাশন শো দেখতে যাই। একসময় ঘটনাচক্রে র‌্যাম্প মডেলিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি। পড়াশোনাও করছি ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের উপর। অভিনয়টাকে নিতে পারি সাইড প্রফেশন হিসেবে।

গিয়াস উদ্দিন সেলিমের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত ‘অবগুণ্ঠন’ ধারাবাহিকটিকে রুহী কেবল চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন না। তিনি মনে করছেন, তার জন্য এটি হতে পারে একটা টার্নিং পয়েন্ট। নাটকটি প্রচার হচ্ছে চ্যানেল আইতে প্রতি মঙ্গলবার রাত ৯টা ৩০ মিনিটে।

বাংলাদেশ সময় ০১২৫, অক্টোবর ০৬, ২০১১

সঙ্কটকালে গ্রাহকসেবায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে: জিপি সিইও
চট্টগ্রামে আরও ৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত
ময়মনসিংহে পুলিশ সদস্যসহ করোনায় আক্রান্ত ২ 
টিসিবির পণ্য ক্রয়ে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ
জামালপুর লকডাউন


করোনায় যুক্তরাজ্যে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৯৩৬ মৃত্যু, মোট ৭০৯৫
দোষ স্বীকার করে প্রাণভিক্ষা চাইলেন বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ
সচেতন হচ্ছে না মানুষ, জনসচেতনতা তৈরিতে ব্যস্ত প্রশাসন
করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ডিজিটাল ম্যাপ সমৃদ্ধ করছে যুবকরা
করোনায় বাবার পর ইতালিয়ান সাবেক অ্যাথলেটের মৃত্যু