ডি-রকস্টার পলাশের গল্প

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

প্রথমবারের ডি-রকস্টার প্রতিযোগিতার সেরা ভোকাল হিসেবে খেতাব জিতেছেন পলাশ। রেডিও অ্যাকটিভ ব্যান্ডের এই ভোকালকে নিয়ে রকঘরানা প্রিয় শ্রোতাদের প্রত্যাশা অনেক। সম্প্রতি বাজারে এসেছে তার একক অ্যালবাম ‘লেটস প্লে’। অডিও বাজারের মন্দাভাবেও অ্যালবামটির কাটতি বেশ ভালে। পলাশের সঙ্গে এক সন্ধ্যায় কথা হয় বাংলানিউজের।

প্রথমবারের ডি-রকস্টার প্রতিযোগিতার সেরা ভোকাল হিসেবে খেতাব জিতেছেন পলাশ। রেডিও অ্যাকটিভ ব্যান্ডের এই ভোকালকে নিয়ে রকঘরানা প্রিয় শ্রোতাদের প্রত্যাশা অনেক। সম্প্রতি বাজারে এসেছে তার একক অ্যালবাম ‘লেটস প্লে’। অডিও বাজারের মন্দাভাবেও অ্যালবামটির কাটতি বেশ ভালে। পলাশের সঙ্গে এক সন্ধ্যায় কথা হয় বাংলানিউজের।


সময়টা অনেক আগেই চুড়ান্ত করা হয়েছিল, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টায়। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার অফিসে পা রাখতেই দেখা গেল গিটার প্র্যাকটিসে মগ্ন ‘পলাশ’ । গিটারের টুং টাং শব্দের ফাঁকে কথা শুরু হয় । প্রথমেই তার কাছে জানতে চাওয়া হলো, অ্যালবাম তো মাত্র বাজারে এসেছে। তা এখন কী  নিয়ে এত ব্যস্ততা ?

‘অ্যালবামের জন্য টানা কয়েকমাস সময় দিতে হয়েছে। তাছাড়া নতুন অ্যালবামটির দুইটি গান নিয়ে মিউজিক ভিডিও তৈরি করছি। গানগুলোর শিরোনাম হলো ‘কেই যেন না জানে’ ও ‘অন্ধমোহ’। ঈদের মধ্যে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে দর্শকরা দেখতে পেয়েছেন গান গুলো’, বললেন পলাশ।

গানের সঙ্গে নিজের সখ্যতার কথা জানিয়ে পলাশ বলেন, ‘তখন সবে স্কুলে যাই। বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক নজরুল সংগীত গাইতেন। সেই সূত্র ধরে বাবার কাছে সংগীতের প্রথম হাতেখড়ি। রংপুরের ছেলে পলাশ। ছোটবেলা থেকে সংগীতের সাথে পথচলা তার। রংপুর বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ওস্তাদ মিজানুল ইসলাম মাজু, তমাল কান্তি লাহিড়ী এবং মাহবুব উদ্দিন ভূঁইয়ার কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে নজরুল, পল্লীগীতি ও উচ্চাংগ সংগীতের শিক্ষা প্রথম গ্রহণ করি। কিন্তু সুযোগ পেলেই  বা বন্ধুদের আড্ডায় রক গানের প্র্যাকটিস করতাম। এই যেমন বাইরের ব্যান্ড ‘হুয়াইট ¯œ্যাক, স্কিড রো, স্কোরপিওনসের গান আমাকে মুগ্ধ করত। সেই রক গানের নেশায় ২০০১ সালে রংপুরে বন্ধুরা মিলে একটা ব্যান্ড করলাম ‘পিজেনস’ নামে। রংপুরে কোন অনুষ্ঠান হলেই আমাদের ডাক পড়ত। এরপর স্কুল, কলেজ শেষ করে বুঝে ফেললাম গান নিয়ে কিছু করতে হলে ঢাকায় যেতে হবে। কারণ, আমারে ঐখানে তখনও প্র্যাকটিস প্যাড, স্টুডিও এবং অনান্য সুযোগ একেবারেই ছিল না। ২০০৫ সালে চলে এলাম ঢাকায়। এখানে বন্ধু-বান্ধব মিলে নতুন করে একটি রক আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড তৈরি করলাম ‘সেভেন সেন্স’ নামে। সেই সাথে ইস্টার্ণ ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি বিভাগে অনার্স ভর্তি হয়ে লেখাপড়াটাও চালালাম সমান তালে। এরপর ২০০৭ সালে হঠাৎ বাবা মারা যাওয়ার পর গান থেকে বিরত থাকলাম অনেক দিন।

একটু থেমে পলাশ আরো বললেন, ঢাকায় নতুন করে বন্ধু-বান্ধবের উৎসবে ‘সেভেন সেন্স’ ব্যান্ড ভেঙ্গে গড়লাম নতুন নামের ব্যান্ড ‘রেডিও অ্যাকটিভ’ । নাম লেখালাম ডিজুস রকস্টার-২ এর  প্রতিযোগিতায়। সেখানে আমাদের ব্যান্ড দ্বিতীয় হল এবং আমি সেরা ভোকালের স্বীকৃতি পেলাম। এর পরপরই ২০০৮ সালে নিজের সুর ও সংগীতায়োজনে ‘ক্যানভাস’ ও ‘প্রাচীর’ নামের দুইটি এবং ২০১০ সালে ‘আল্পনা’ নামের একটি অ্যালবাম বাজারে আসলো। এগুলোর মধ্যে এলিটার গাওয়া ক্যানভাস অ্যালবামের ‘চাঁদের আলো’, প্রাচীর অ্যালবামের শাফিন আহমেদের কণ্ঠে গাওয়া ‘মেঘের দেশে’ এবং ‘আল্পনা’ অ্যালবামের কনার গাওয়া ‘ছেলেবেলা’ ও আমার নিজের গাওয়া ‘তুমি ভালবাসলে’ গানগুলো দারুন শ্রোতাপ্রিয় হলো। আমার কাছে তখনও সবকিছু স্বপ্ন মনে হচ্ছিল। যেসব তারকাকে মনে করে গান করেছি, সেসব তারকা আমার সুরে গান গাইছেন। সব মিলিয়ে অন্য রকম অনুভূতি।

পলাশ জানালেন, প্রথমে নিজের ব্যান্ডদলের সবার সঙ্গে  বসে একটি অ্যালবামের চিন্তা করলেন পলাশ। কিন্তু সবাইকে সময়মত না পাওয়ায় বন্ধুরা বলল, ‘তুই একটা একক অ্যালবাম নিজেই বের কর’। পলাশের নিজেরও স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সাধনা ছিলো একটা একক অ্যালবাম নিজের সুরে গান করার। যোগাযোগ করলো ডেডলাইন মিউজিকের সঙ্গে। তারপর তার গানগুলো তাদের খুব পছন্দ হলো। এভাবেই কাজ শুরু হলো তার একক অ্যালবাম ‘লেটস প্লে’-এর।  এ অ্যালবামটিতে মোট ৮টি গান রয়েছে। গানগুলোর কথা সাজিয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন, তানভীর চৌধুরী ও সোমেশ্বর অলী। সাউন্ড অ্যারেঞ্জমেন্টে ছিলেন পাভেল আরিন।

এ অ্যালবামের বিশেষ কোন গানের প্রশ্ন তুলতেই তিনি সাজ্জাদ হোসেনের লেখা ‘মা’ শিরোনামে গানটির কথা বলে উঠলেন। জানালেন যে, যারা মাকে ছেড়ে ঢাকার শহরের কোন কুড়ে ঘরে বা মেছে থাকে তাদের কষ্টের জীবন নিয়ে গানের কথা সাজানো হয়েছে।

রক সংগীতশিল্পী হিসেবে পলাশকে সবাই চিনলেও পেশাগত জীবনে তিনি বিটপি এ্যাডভারটাইজিং ফার্মের সিস্টার কনসার্ন ‘দি টিন ড্রাম’- নামের মিউজিক বিভাগের একজন মিউজিক প্রডিউসার হিসেবে কর্মরত আছেন। পরিবারের চার ভাই-বোনের মধ্যে পলাশ সবার ছোট।

আড্ডাবাজা বলে নিজেকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘আমি সুযোগ পেলেই পুরান বন্ধুদের সাথে আজিজ মার্কেটে দেখা করি ও ওদেরকে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করি’। বাঁশি, ভায়োলিনের উপর দারুণ ঝোঁক রয়েছে এই তরুণের। যেখানেই মিউজিক ইনস্ট্রমেন্ট দেখেন সঙ্গে সঙ্গে কিনে ফেলেন।

ছোটবেলায় পাইলট হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ না হলেও শেষ পর্যন্ত হয়েছেন রক মিউজিকের শিল্পী। ছোটবেলা থেকে সংগীতের প্রাপ্তি হিসেবে পেয়েছেন বহু পুরস্কার। এরমধ্যে ১৯৯৫-১৯৯৬ সালে রাজশাহী বিভাগে চ্যাম্পিয়ান হন পল্লীগীতিতে। ১৯৯৯-২০০০ সালে আবার ইসলামিক গজলে শিশু একাডেমীর পুরস্কার পান। সব ধরনের মিউজিকে তাঁর দখল আছে সেই কথা তার পুরস্কারের স্বীকৃতিই মনে করিয়ে দেয়।

পলাশের ভবিষৎত ইচ্ছে নিয়ে জানালেন, ‘এত দিন গান করেছি ভালোবাসা থেকে, নিজের জন্য। এখন যোগ হয়েছে শ্রোতাবন্ধুরা। তাই এখন চেষ্টা তাদের জন্য আরও ভালো কিছু গান করা। আর ভালোগান গেয়ে শ্রোতার মনে জায়গা করে নিতে চাই। ভবিষৎতে মিউজিক ডিরেক্টর হতে চাই এবং নিজের জেলা রংপুরে কিছু একটা করতে চাই যা দেশের মানুষের জন্য উন্নতি বয়ে আনবে”।


বাংলাদেশ সময় ১৭২৫, ২০১১

করোনা: টোকিও অলিম্পিকের নতুন সূচি ঘোষণা
অসহায়-দিনমজুর ২০০ পরিবারে ডবলমুরিং থানার সহায়তা
ঈশ্বরদীতে স্কুল শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণ, গ্রেফতার ১
করোনা স্ক্রিনিং কিট বিআইটিআইডিতে দিলেন নওফেল
প্রবাসীরা কোয়ারেন্টিনে না থাকলে তথ্য দিন: নাসিক


করোনায় পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় মৃত্যু
পাপনের সহায়তায় সুরক্ষাসামগ্রী পেলেন কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন
হবিগঞ্জে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে ঘরে থাকার আহ্বান
করোনা শনাক্তে শেবামেকে পৌঁছেছে পিসিআর মেশিন
দুঃস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত থাকবে