php glass

রোহিঙ্গাদের ভোটার করায় ইসির ১৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত!

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ইসির সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন এনআইডি মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম, ছবি: বাংলানিউজ

walton

ঢাকা: মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অপচেষ্টায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ১৫ জনের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত রয়েছেন। আর এদের বেশিরভাগই বিভিন্ন অপরাধে চাকরিচ্যুত।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় (এনআইডি) নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম।

প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ভোটার তথ্যের সার্ভারের প্রেজেনটেশন তুলে ধরে এনআইডি মহাপরিচালক বলেন, আমাদের মূল সার্ভার সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছে। অনেকেই না জেনে বলছেন- ইসির সার্ভারে রোহিঙ্গা ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিন্তু ইসির মূল সার্ভারে আগামী ২৪ জানুয়ারির আগে ঢোকার সুযোগ নেই। কেননা, আইন অনুযায়ী- মূল সার্ভারে তথ্য সন্নিবেশ করার আগে ১ জানুয়ারি খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর দাবি-আপত্তি নিয়ে নিষ্পত্তি করা হয়। আর ২৪ জানুয়ারির পর আবারও যাচাই করে মূল সার্ভারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাই চলমান হালনাগাদে রোহিঙ্গারা টেম্পোরারি সার্ভারে ঢুকেছে। ৬১ জনের মতো আমরা চিহ্নিত করেছি।

ব্রিগেডিয়ার সাইদুল বলেন, আমরা ফাঁদ পেতে একটি চক্রকে ধরতে সক্ষম হই। সামরিক বাহিনীতে আমরা যেটা অ্যামবুশ বলি। আমাদের ডাবলমুরিং থানা নির্বাচন অফিসের কর্মচারী জয়নালকে প্রথমে চিহ্নিত করা হয়। এরপর অন্যদের চিহ্নত করা হয়েছে। এই সংখ্যাটা ১৫ জনের অধিক হবে না। তদন্তের স্বার্থে আমার প্রকৃত সংখ্যাটা বলছি না। কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা জড়িত, সেটাও বলছি না। কেননা, ইতোমধ্যে দুজনের নাম গণমাধ্যমে আসায় আমরা তাদের খুঁজে পাচ্ছি না।

তিনি বলেন, যারা এই অপচেষ্টার সঙ্গে জড়িত, তাদের বেশিরভাগই ইসি থেকে আগে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। তারা ইসির বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করতেন। আমরা ইতোমধ্যে আমাদের সব উপজেলা কর্মকর্তা এবং যারা আমাদের লোকবল সাপ্লাই দেন, তাদের বলেছি- আগে চাকরিচ্যুতরা যেনো ভোটার তালিকার কাজে কোনোভাবে সম্পৃক্ত হতে না পারেন।

ব্রিগেডিয়ার সাইদুল ইসলাম বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা নির্দেশনা দিয়েছেন- জিরো টলারেন্স এগেইনস্ট করাপশন। তাই আমরা শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছি। ইসি কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা আগে যারা কাজ করেছেন, তাদের কেউ জড়িত থাকলে, সেটা দেখা হচ্ছে। আমরা চাকরিচ্যুতদের ওপর কঠোর নজরদারি চালানোর জন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও বলবো। রোহিঙ্গাদের ভোটার করার অপচেষ্টায় যে-ই জড়িত হোক না কেন, আমরা সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব। ফৌজদারি মামলা কিংবা বিভাগীয় মামলাও করবো। এছাড়া অন্য যেকোনো সংস্থার কেউ যদি জড়িত থাকেন, তাদের বিরুদ্ধেও সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনআইডি তথ্যভাণ্ডর সুরক্ষিত রাখার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, আমরা সব নেব।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রবাসে যখন আমরা ভোটার করব, তখনও রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করা হবে। এছাড়া ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে যারা ভোটার হয়েছেন, তাদের মধ্যে কেউ রোহিঙ্গা আছেন কি-না, সেটাও দেখা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ইসির সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানান, আগামীতে কেউ যাতে রোহিঙ্গাদের টেম্পোরারি সার্ভারেও যুক্ত করতে না পারেন, সেজন্য সব কর্মকর্তাদের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে দিয়েছি। এছাড়া সার্ভারে ঢোকার জন্য ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) মেসেজের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইসির এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) আবদুল বাতেন বলেন, ৬১ জনের মধ্যে আমাদের বিশেষ তদন্ত কমিটি একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়। যার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের এক কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬১০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯
ইইউডি/টিএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: নির্বাচন কমিশন রোহিঙ্গা
খেলা দেখতে কলকাতায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
চবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুরু
কোন অসুখে কোন শাক-সবজি 
কুষ্টিয়ায় বয়লার বিস্ফোরণে ৪ শ্রমিক দগ্ধ
পরিবহন ধর্মঘটের অজুহাতে চড়া সবজি-মাছের বাজার


ছোটপর্দায় আজকের খেলা
বরিশাল আদালতের সেরেস্তাদার সাময়িক বরখাস্ত
ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ৩ মামলা 
আগৈলঝাড়ায় আগুনে পুড়লো ৮ দোকান