php glass

৪ হাজার কোটি টাকার ইভিএম, জায়গা নেই সংরক্ষণের

ইকরাম-উদ দৌলা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ইভিএম

walton

ঢাকা: ভোট ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে আগামীতে সব নির্বাচনেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর সেই সিদ্ধান্তের আলোকেই কেনা হচ্ছে দেড় লাখ মেশিন। যেখানে এই ভোটযন্ত্রগুলো সংরক্ষণের যথাযথ কোনো ব্যবস্থাই রাখা হয়নি।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, ইভিএম কেনার জন্য চার হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যেখানে প্রতিটি মেশিনের পেছনে ব্যয় হচ্ছে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। কিন্তু এত দামি মেশিন কোথায় রাখা হবে, তার জন্য প্রকল্পে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। ফলে যথাযথ যত্ন ছাড়াই এগুলো স্থান পাচ্ছে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে।

কর্মকর্তারা বলছেন, যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, আর্দ্রতায় সংরক্ষণ করতে হয়। সেখানে ইভিএম একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস। আর একটি ভোটিং মেশিনের দামও অনেক। সেখানে এগুলো সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না করেই ক্রয় করা হচ্ছে।

২০১৮ সালেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৮০ হাজার ইভিএম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বুঝে নিতে চেয়েছিল ইসি। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে সে সময় এতো সংখ্যক ইভিএম তৈরি করা সম্ভব হয়নি। ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে ৬টি আসনে ৫ হাজারের মত ইভিএম দিয়ে ভোট নেওয়া হয়েছিল।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও এই মেশিন ব্যবহার করা হয়েছে। আবার উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও ব্যবহার হয়েছে এই ভোটযন্ত্র।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটশেষে ইভিএমগুলো সংশ্লিষ্ট উপজেলা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা কার্যালয়েই রাখা হয়েছে। কিন্তু এগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ হচ্ছে না। কেননা, ইভিএম সংরক্ষণের জন্য আলাদা কক্ষ দরকার। যেখানে দীর্ঘদিন রাখলেও এর কার্যক্ষমতা নষ্ট হবে না।

ইভিএমের জন্য রাখা যে প্রকল্পটি চার হাজার কোটি টাকায় নেওয়া হয়েছে, সেখানে সংরক্ষণের বিষয়টি রাখলে ভালো হতো।

এ বিষয়ে ইসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না শর্তে বলেন, ইভিএম প্রকল্প নেওয়ার সময় সংরক্ষণের বিষয়টি ভাবা হয়নি। কিন্তু দেড় লাখ ইভিএম কোথায় রাখা হবে, এই প্রশ্নটি এখন সামনে চলে এসেছে। তবে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়, এমন একটি কার্যকর উপায় খোঁজা হচ্ছে।

২০১০ সালে এটিএম শামসুল ‍হুদার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন কমিশন দেশে ভোট ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ইভিএমের সূচনা করে। সে সময় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে এই ভোটযন্ত্র তৈরি করে নেওয়া হয়েছিল।

কয়েক বছর ভালো ফল পাওয়া গেলেও ২০১৫ সালের রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের সময় একটি মেশিনে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। সেই মেশিনটি আর সারাতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। এমনকি ত্রুটি হওয়ার কারণও উদ্ধার করতে পারেনি।

কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০১৬ সালে এমন পরিস্থিতে বুয়েটের তৈরি মেশিনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নষ্ট করে ফেলে। একইসঙ্গে নতুন এবং উন্নতমানে ইভিএম তৈরির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়।

ওই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় বর্তমান কেএম নূরুল হুদা কমিশন প্রায় ২০ গুণ বেশি দামে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির কাছ থেকে উন্নতমানের ইভিএম তৈরি করে নিচ্ছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা এ বিষয়ে বলেছেন, এই ইভিএম আগেরগুলোর চেয়ে উন্নতমানের। কোনোভাবেই হ্যাক করা সম্ভব নয়। এছাড়া এগুলো ব্যবহারের ফলে দ্রুততার সঙ্গে ফল প্রকাশ করা যাবে। একইসঙ্গে ভোটের আগের রাতে সিল মারাও বন্ধ হবে।

নতুন ইভিএম দিয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে প্রথম ভোট নিয়ে সফল হয় নির্বাচন কমিশন। এরপর অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচন এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহারের পর ভবিষ্যতে সব নির্বাচনেই এই ভোটযন্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১০১৩ ঘণ্টা, জুলাই ২৭, ২০১৯
ইইউডি/জেডএস

ksrm
ছাত্রদলের সভাপতি খোকন ও সাধারণ সম্পাদক শ্যামল
পার্বতীপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
জুভেন্টাসের হতাশার রাতে বড় জয় পেয়েছে ম্যানসিটি
মাগুরায় ট্রাকচাপায় স্কুলছাত্র নিহত
মা-বোনের পর এবার সন্ত্রাসী মুসা’র ভগ্নিপতি গ্রেফতার


দি মারিয়ার জোড়া গোলে রিয়ালকে হারালো পিএসজি
ম্যাচ জয়ে বোলারদের কৃতিত্ব দিলেন সাকিব
সোনাইমুড়ীতে আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ওসিসহ আহত ১২
‘গীতি চন্দ্রাবতী’তে মন্ত্রমুগ্ধ দর্শকশ্রোতা
আপনারা আগে কী করেছিলেন, প্রশ্ন যুবলীগ চেয়ারম্যানের