php glass

এবারের উপজেলা ভোট অপরূপ: মাহবুব তালুকদার

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার (ফাইল ছবি)

walton

ঢাকা: জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, এবারের উপজেলা নির্বাচনকে আমি অপরূপ নির্বাচন বলতে চাই। কেননা, মাথাটা (চেয়ারম্যান) নির্বাচিত হচ্ছে দলীয় প্রতীকে এবং দেহটুকু (অন্যান্য পদ) নির্বাচিত হচ্ছে নির্দলীয়ভাবে। অন্যদিকে এই নির্বাচনে অধিকাংশ বিরোধী রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি।

নির্বাচন ভবনে  সোমবার (১৮ মার্চ) বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘বিগত কয়েকদিন যাবৎ কয়েকজন সাংবাদিক জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন সম্পর্কে আমার কাছে প্রশ্ন রাখছেন। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আমার নতুন করে বলার কিছু নেই। একাদশ জাতীয় নির্বাচন কেমন হয়েছে, প্রতিটি বিবেকমান মানুষের কাছে এ প্রশ্নের উত্তর আছে। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে যাদের স্বার্থ জড়িত, তারা কখনও এর সঠিক উত্তর দিতে পারবেন না, বা দেবেন না। জাতীয় নির্বাচন কেবল রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতার বদল নয়, এতে গণতন্ত্র কতটা সমুন্নত হলো তা-ও বিবেচনাযোগ্য।’

তিনি বলেন, ‘এবারের উপজেলা নির্বাচনকে আমি অপরূপ নির্বাচন বলতে চাই। আইনে থাকলেও বাস্তবে এর মাথাটা নির্বাচিত হচ্ছে দলীয় প্রতীকে এবং দেহটুকু নির্বাচিত হচ্ছে নির্দলীয়ভাবে। এই নির্বাচনের স্বরূপটি তাহলে কেমন দাঁড়ায়? অন্যদিকে এই নির্বাচনে অধিকাংশ বিরোধী রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি। এজন্য উপজেলা নির্বাচনের জৌলুস নেই। একতরফা নির্বাচনের কারণে ভোটাররাও কেউ ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী নয়। এহেন নির্বাচনবিমুখতা গণতন্ত্রবিমুখতায়  পর্যবসিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত।’

সাবেক এ আমলা বলেন, ‘আজকাল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত কথাটা বেশ চালু হয়েছে। আমি এর অর্থ বুঝি না। আমার মতে নির্বাচন মানেই হচ্ছে একাধিকের মধ্যে বাছাই। তাই যা প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, তা নির্বাচন হয় কী করে? ইংরেজিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনদের ইলেকটেড না বলে সিলেকটেড বলা যেতে পারে কি? এবারের উপজেলা নির্বাচনের চারটি ধাপে শতাধিক ব্যক্তি চেয়ারম্যান পদে আসীন হয়েছেন। পরবর্তীতে আরও ৫০ জন সম্ভবত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পদে আসীন হবেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনভাবে জনপ্রতিনিধির পদে আসীন হওয়ার রেওয়াজ গণতন্ত্রের জন্য সুসংবাদ নয়।’

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে একজন সংসদ সদস্য, যিনি সদ্য প্রাক্তন একজন মন্ত্রীও বটে, সংসদে বলেছেন- নির্বাচনকে যথাযথ মর্যাদায় ফিরিয়ে আনতে হবে। তার ভাষ্যমতে প্রশ্ন থেকে যায়, এই নির্বাচন মর্যাদা হারালো কবে? জাতীয় নির্বাচনের সময়? না উপজেলা নির্বাচনের সময়? এ জন্য কে বা কারা দায়ী তা তিনি সুনির্দিষ্টভাবে বলেননি। তবে তার এই বোধদয় নিশ্চয়ই নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে। মর্যাদাহীন নির্বাচন করে কেউ খুশি হতে পারে না।’

নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘নির্বাচনকে অর্থবহ করার জন্য ও গণতন্ত্রকে অবারিত করার স্বার্থে নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার প্রয়োজন। তবে নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। স্থানীয় নির্বাচন কী পদ্ধতিতে কতখানি উন্মুক্ত হবে সেটা বর্তমানে সরকার ঠিক করে দেয়। ভবিষ্যতে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য, আইনানুগ ও উন্মুক্ত নির্বাচন হলে এবং সব প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত হলে, সব দল তাতে অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করা যায়। নির্বাচন ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি পরিবর্তন করে নির্বাচন কখন হবে, কীভাবে হবে, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের কাছে ন্যস্ত হলে ভোটারদের উপস্থিতির জন্য আর হা-হুতাশ করতে হবে না। বিষয়টি ভেবে দেখা।’

সোমবার দেশের ১১৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯২৯ ঘণ্টা, মার্চ ১৮, ২০১৯
ইইউডি/আরআর

নিম্নচাপের জেরে কলকাতায় বৃষ্টি, পড়বে কালীপূজায় প্রভাব
সংগীতশিল্পী মান্না দে’র প্রয়াণ
আমরা ভারতীয়দের হারাতে চাই: জামাল ভূঁইয়া 
১ম বর্ষের খাতা দেখছেন প্রভাষকের ৩য় বর্ষের শ্যালিকা!
১৪ দলে অস্তিত্ব সংকটে ওয়ার্কার্স পার্টি


জাবি প্রশাসন-আন্দোলনকারীদের পৃথক সংবাদ সম্মেলন
মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ মুকুট জয় করলেন শিলা
আলোচনা ফলপ্রসূ, ক্যাম্পে যাচ্ছেন ক্রিকেটাররা
রেডিসনে মুনমুন মুখার্জীর আবৃত্তি সন্ধ্যা বৃহস্পতিবার
রাজধানীতে ৪ দিনব্যাপী হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভ্যাল