বশেমুরবিপ্রবি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত ২০

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বাম থেকে আন্দোলনকত শিক্ষার্থীরা ও আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: বাংলানিউজ

walton

গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বহিরাগতরা। এসময় অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

শনিবার (২১ সেপ্টম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয়রা জানায়, ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ না ক‌রে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ আশপা‌শের বিভিন্ন স্থা‌নে অবস্থান নি‌য়ে আন্দোলন শুরু ক‌রেন। এসময় বাই‌রে থে‌কে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পা‌সে আস‌তে গে‌লে শিক্ষার্থী‌দের ব‌হিরাগতরা নবীনবাগ, হাসপাতাল এলাকা, এল‌জিই‌ডি অফিস মোড়, সোনাকুড়, নিলারমাঠ, সুবান সড়ক, বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের মেইন গে‌টে বাধা দেয়। প‌রে শিক্ষার্থীরা বাধা উ‌পেক্ষা ক‌রে আস‌তে চাই‌লে তা‌দের ওপর হামলা চালা‌নো হয়। এসময় কমপক্ষে ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়। আহত‌দের গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ বি‌ভিন্ন স্থা‌নে চি‌কিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে  ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মো. বশির উদ্দিন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানের মতো। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। আমরা তাদের বুঝিয়ে আন্দোলন থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। 

গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. অসিত মল্লিক  জানিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ডাক্তার ও অ্যাম্বুলেস মোতায়েন রাখা হয়েছে। কোথাও কেউ আহত হওয়ার খবর পেলেই অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হচ্ছে। দুই জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত  পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ক্যাম্পাসের বাইরে মোতায়েন রাখা হয়েছে।

এর আগে ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ এনে পদত্যাগের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা। পরে বিকেল থেকে আমরন অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করে তারা। 

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তারা এখনো আদেশের চিঠি পায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও হল ত্যাগের নির্দেশের বিষয়টি শুনেছে। তাদের একমাত্র দাবি ভিসির পদত্যাগ। ভিসি পদত্যাগ করলেই আন্দোলন থেকে সরে যাবে তারা। না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. নুরউদ্দিন আহমেদ ছুটি ও হল ত্যাগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,  উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছি।

প্রসঙ্গত, গত ১১ সেপ্টেম্বর আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ তুলে নিলেও ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা।

** বশেমুরবিপ্রবি বন্ধ ঘোষণা, হল ত্যাগের নির্দেশ

বাংলাদেশ সময়: ১২১৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯
আরএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: গোপালগঞ্জ
৩য় দফায়ও করোনা পজিটিভ ভোক্তা অধিকারের মঞ্জুর শাহরিয়ার
যুক্তরাষ্ট্রে সহিংস বিক্ষোভ, ২ ডজন শহরে কারফিউ জারি
এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবো না: প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার সালাউদ্দিন আর নেই
এবারও পাসের হারে বোর্ড সেরা রাজশাহী


স্বস্তি এসেছে লঞ্চ ও স্পিডবোট যাত্রীদের
আবাসিক ক্যাম্পে অনুশীলন শুরু করছে লঙ্কানরা
হালিশহরে চুলার আগুনে পুড়লো দোকান ও বসতঘর
করোনা ভাইরাস কেড়ে নিলো ওদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস!
মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিশেষ ফ্লাইট ৩ জুন