রেকর্ড সাফল্য: পাস ৭৮.৬৭% জিপিএ৫- ৬১১৬২

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

দেশের ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল বুধবার সকালে প্রকাশ করা হয়েছে। বিগত বছরগুলোর সাফল্য পেছনে ফেলে এবার নতুন রেকর্ড হয়েছে পাসের হার ও জিপিএ৫ প্রাপ্তির সংখ্যায়।

ঢাকা: দেশের ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল বুধবার সকালে প্রকাশ করা হয়েছে। বিগত বছরগুলোর সাফল্য পেছনে ফেলে এবার নতুন রেকর্ড হয়েছে পাসের হার ও জিপিএ৫ প্রাপ্তির সংখ্যায়।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বুধবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন। বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “শিক্ষা পদ্ধতি বদল করায় শিক্ষার্থীরা এখন প্রতিবছরই ভালো ফল করছে।”

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল জানার পর শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের ছেলে-মেয়েরা মেধাবী। প্রতি বছর পাসের হার বৃদ্ধি পাওয়াই তা প্রমাণ করে।”

পাঠদানে শিক্ষকদের আরো মনযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষিত জাতি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে না পারলে আমরা উন্নতি করতে পারবো না। দারিদ্র্য দূর করতে পারব না। মাথা উঁচু করে চলতে পারব না।”

এরপর শিক্ষামন্ত্রী বেলা একটায় মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এবারের বিস্তরিত ফলাফল তুলে ধরেন।

চলতি বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৭৮ দশমিক ৬৭। এর আগে ২০১১ সালে ১০টি শিক্ষাবোর্ডে পাসের গড় হার ছিল ৭৫ দশমিক ০৮ শতাংশ। গতবারের তুলনায় এবার উত্তীর্ণের হার ৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি। ২০১০ সালে পাসের গড় হার ছিল ৭৪ দশমিক ২৮।

এবার মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ৬১ হাজার ১৬২ জন, যা গতবারের তুলনায় ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ
বেশি। ২০১১ সালের ১০টি বোর্ডে মোট জিপিএ৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার ৭৬৯ জন। ২০১০ সালে এ সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার ৬৭১।

এবারের পরীক্ষায় মোট পাস করেছে ৭ লাখ ২১ হাজার ৯৭৯ জন পরীক্ষার্থী। ২০১১ সালে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৫ লাখ ৭৪ হাজার ২৬১ জন। গতবারের চেয়ে এ সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭১৮ বেশি।

এবারের পরীক্ষায় মেয়েদের পাসের হার ৭৯ দশমিক ১৯ এবং ছেলেদের পাসের হার ৭৮ দশমিক ২৩।

প্রকাশিত এইচএসসির ফলাফলে এবার সব বোর্ডকে পেছনে ফেলে সাফল্যের শীর্ষে অবস্থান করছে সিলেট বোর্ড। সিলেট বোর্ডে এবার পাসের হার ৮৫ দশমিক ৩৭। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৬৮।

আটটি সাধারণ বোর্ডের মধ্যে এবার পাসের হার সবচেয়ে কম বরিশাল বোর্ডে। এ বোর্ডে এবার পাসের হার ৬৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ। গতবছর এ হার ছিল ৭১ দশমিক ১২ শতাংশ।

গতবছর সবচেয়ে খারাপ ফল করেছিল যশোর বোর্ড। এ বোর্ডে এবার পাসের হার ৬৭ দশমিক ৮৭। গতবার এ হার ছিল ৬৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

গতবার সেরা বোর্ডের সাফল্য ছিল রাজশাহী বোর্ডের। এবার রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৭৮ দশমিক ৪৪। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৯ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।

সাফল্যের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৮১ দশমিক ০৮। গতবছর এ পাসের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

এরপর রয়েছে দিনাজপুর বোর্ড। এ বোর্ড পাসের হার ৭৫ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল মাত্র ৬৬ দশমিক ১৮ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বোর্ড ৭২ দশমিক ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী এবার উত্তীর্ণ হয়েছে। গত বছর এ হার ছিল ৭১ দশমিক শূণ্য ৩।

কুমিল্লা বোর্ডে এবার পাসের হার ৭৪ দশমিক ৬০। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

মাদরাসা বোর্ডের অধীনে অংশ নেওয়া আলিম পরীক্ষায় এবারও পাসের হার সব থেকে বেশি। এই বোর্ডে ৯১ দশমিক ৭৭ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

২০১২ সালে অনুষ্ঠিত মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ৮৪ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৭৭ হাজার ৩১৬ জন।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় (এইচএসসি) সারা দেশের মধ্যে টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রথম স্থান অধিকার করেছে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ।

উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাণিজ্য বিভাগ থেকে পাসের হার সবচেয়ে বেশি।

বুধবার প্রকাশিত ফল থেকে জানা যায়, বাণিজ্য বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ৮৪ দশমিক ১৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যা জাতীয়ভাবে পাসের হারের চেয়ে ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি। বাণিজ্য বিভাগ থেকে ২ লাখ ৪৪ হাজার ২৫৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২ লাখ ৫ হাজার ৫৯৯ জন।

আর সবচেয়ে কম পাস করেছে মানবিক বিভাগ থেকে। মানবিকে পাশের হার ৭০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অংশ নেয় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৫৪৬ জন। পাস করেছে ২ লাখ ৬০ হাজার ৭১২৬ জন।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে এবার ৭ হাজার ৪৬৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে শতভাগ পাশ করেছে ১ হাজার ৩৬ টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। যা গতবারের চেয়ে ১৪৪ বেশি।
গত ২০১১ সালে সারা দেশে মোট সাত হাজার ১৭৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৯২টির সব শিক্ষার্থী পাস করেছিল।

আবার শূণ্যভাগ পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হেরফের হয়নি। গতবছরের মতোই দশটি বোর্ডে মোট ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কেউই পাস করতে পারেনি।

www.educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকেও সব বোর্ডের ফল জানা যাবে।

মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে এইচএসসির ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে আবার স্পেস দিয়ে রোল নম্বর তারপর স্পেস দিয়ে ২০১২ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।

গত ১ এপ্রিল থেকে ৬ জুন পর্যন্ত এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৯ লাখ ২৬ হাজার ৮১৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

এডিএ/এমএন/এমএন/এমআইএইচ/সম্পাদনা: নজরুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর; রানা রায়হান ও আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর
[email protected]

শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাব খোলার শেষ সময় ২০ এপ্রিল
সিলেটে আইসোলেশনে বৃদ্ধার মৃত্যু
সংগীতজ্ঞ রবিশঙ্করের জন্ম
ইতিহাসের এই দিনে

সংগীতজ্ঞ রবিশঙ্করের জন্ম

করোনা চিকিৎসায় চীনের সাফল্য তুলে ধরলো হুয়াওয়ে
চট্টগ্রামে ৭টার পর থেকে বন্ধ দোকান, প্রবেশ মুখে চেকপোস্ট


মঙ্গলবার থেকে পটুয়াখালী শহরের প্রবেশ বন্ধ
সন্ধ্যা ৬টার পর রাজশাহীতে ওষুধ ছাড়া সব দোকান বন্ধ
১৬ এপ্রিলের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের অনুরোধ
এবার বাংলাদেশ ছাড়লো রাশিয়ার নাগরিকরাও
করোনা: সিঙ্গাপুরে সেবা বন্ধ করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন