ঢাকা, শনিবার, ৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০ সফর ১৪৪২

অর্থনীতি-ব্যবসা

স্বস্তি মিলছে না রাজধানীর সবজির বাজারে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০২৭ ঘণ্টা, আগস্ট ৭, ২০২০
স্বস্তি মিলছে না রাজধানীর সবজির বাজারে রাজধানীর বাজারগুলোতে দাম বেড়েছে সবজির, ছবি: শোয়েব মিথুন

ঢাকা: পবিত্র ঈদুল আজহার আগে রাজধানীর সবজির বাজার কিছুটা নিম্নমুখী হলেও ঈদের পরই হঠাৎ চড়া হয় সব সবজির দাম।  

ব্যবসায়ীরা চলমান বন্যার অজুহাতে সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

সপ্তাহের ব্যবধানে এখনও চড়াই রয়েছে সবজির বাজার। সবজি ভেদে কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে দাম।

তবে কিছুটা কমেছে গাজর, বেগুন ও করলার দাম। অধিকাংশ সবজির বাজার চড়া হলেও নিম্নমুখী শাকের দাম। তবে অপরবির্তিত আছে মসলা জতীয় পণ্য আদা, পেঁয়াজ, চাল, ডাল ও ভোজ্য তেলের দাম। গত কয়েকদিন ধরে দাম ওঠা-নামা করছে কাঁচা মরিচের। বর্তমানে ২০০ থেকে আড়াইশ'র ঘরে রয়েছে রান্নায় অতি প্রয়োজনীয় এ পণ্যটির দাম।

অন্যদিকে সবজির বাড়তি দাম নিয়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে। বিক্রেতারা বলছেন, বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় পাইকার বাজারে মালের সংকট রয়েছে, এ কারণে দাম বাড়তি। আর ক্রেতারা বলছেন, বন্যা কোনো ইস্যু না, প্রতি ঈদের পরেই ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন।

শুক্রবার (০৭ আগস্ট) রাজধানীর মগবাজার, মালিবাগ, মালিবাগ রেলগেট বাজার, খিলগাঁও, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা কাঁচা এবং এসব এলাকার অস্থায়ী বাজার ঘুরে এ চিত্রই দেখা গেছে।

এসব বাজারে প্রতি কেজি ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ধুন্দল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, কচুর লতি ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়, কাকরোল আকার ভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকায়, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, কচুর ছড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, দেশি শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, হাইব্রিড শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, আলু ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে দাম কমেছে করলা, বেগুন ও গাজরের। দু’দিন আগে করলা ১২০ টাকা পর্যন্ত কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। আর গাজর কেজিতে ২০ টাকা কমে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। গত দু’দিনের ব্যবধানে বেগুনের কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে গোল সাদা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় আর লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।

আর হালিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়ে প্রতি হালি কাঁচকলা ৪০ টাকায়, প্রতিহালি লেবু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বেড়ে প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে জালি কুমড়া।

অপরিবর্তিত আছে আলু, মিষ্টি কুমড়া, ধনিয়া পাতা, পুদিনা পাতার দাম।  বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি কাঁচা মরিচের দাম ২০০ টাকা আর আমদানি (ভারতীয়) করা কাঁচা মরিচের দাম ১৬০ টাকা।

তবে দাম কমেছে শাকের। দাম কমে এসব বাজারে প্রতি আঁটি লাল শাকের দাম চাওয়া হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকা, মূলা ও কলমি শাক ১০ থেকে ১২ টাকা, লাউ ও কুমড়া শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুঁই শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

আগের দাম রয়েছে আদা ও পেঁয়াজের বাজারে। তবে কিছুটা কমেছে রসুনের দাম। এসব বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে (মান ভেদে) ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে (মান ভেদে) ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। তবে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে বর্তমানে প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। রাজধানীর বাজারগুলোতে দাম বেড়েছে সবজির, ছবি: শোয়েব মিথুন

অপরিবর্তিত রয়েছে চাল, ডাল ও ভোজ্য তেলের দাম। এসব বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট (নতুন) চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৪ টাকায়, মিনিকেট (পুরনো) ৫৫ টাকায়, বাসমতী ৫৮ থেকে ৬০ টাকায়, গুটিচাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকায়, পায়জাম চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকায়, স্বর্ণ ৪০ থেকে ৪২ টাকা কেজি দরে, আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে, আতোপ চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়, এক সিদ্ধ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকায়, প্রতি কেজি পোলাওয়ের চাল বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়।

প্রতিকেজি ডাবরি ডাল ৪৫ টাকায়, অ্যাংকর ৫০ টাকায়, প্রতি কেজি দেশি মসুর ডাল ১২০ টাকায় ও মসুর (মোটা) ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন (লাল) বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০৫ টাকায়, খোলা (সাদা) সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। খোলা সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা লিটার।

সবজির বাড়তি দাম নিয়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে। হামিদুল ইসলাম নামে শান্তিনগর বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, দেশে বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় পাইকার বাজারে পণ্য আসছে কম। পাইকার বাজারে মালের সংকটের কারণে বাড়তি দাম রাখা হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেও।

তবে তার সঙ্গে একমত নন এ বাজারের ক্রেতা আনোয়ারা। তিনি বাংলানিউজকে জানান, বন্যা কোনো ইস্যু না, প্রতি ঈদের পরেই ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। এখন বাজারে ক্রেতা নেই, পণ্য আছে ভরপুর, অথচ বাড়তি দাম রাখছেন ব্যবসায়ীরা। এসব দেখার যেন কেউ নেই।

বাংলাদেশ সময়: ১০২০ ঘণ্টা, আগস্ট ০৭, ২০২০
ইএআর/এসআই
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa