ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ আশ্বিন ১৪২৭, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩ সফর ১৪৪২

অর্থনীতি-ব্যবসা

চামড়া কিনতে ৩১২ কোটি টাকা ঋণ দেবে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো

  শাহেদ ইরশাদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৫৭ ঘণ্টা, জুলাই ২৮, ২০২০
চামড়া কিনতে ৩১২ কোটি টাকা ঋণ দেবে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো ছবি- প্রতীকী

ঢাকা: কোরবানীর পশুর চামড়া কেনার জন্য ট্যানারি মালিকদের ৩১২ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংক। গত বছরের তুলনায় এ ঋণের পরিমাণ ৩৩ শতাংশ কম।

গত বছর এসব ব্যাংক ট্যানারি মালিকদের ৪শ’ ৬৬ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছিল।
 
ব্যাংকাররা জানান, চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে দেশে চামড়া রপ্তানি কমেছে। এছাড়া করোনা ভাইরাসের কারণে পশু কোরবানি কমে যাওয়ায় এ বছর ঋণের জন্য আবেদনও জমা পড়েছে কম। ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে সঠিকভাবে বিনিয়োগ করতে না পারলে টাকা নিয়ে কী করবে। সেই জায়গা থেকে ঋণ আবেদন কমেছে।
 
এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, অনেক ব্যবসায়ীর কাছে গতবারের চামড়ার মজুদ রয়েছে। এ বছর তারা খুব বেশি কিনবেন না। গ্রাহকের আবেদন পেয়ে, খেলাপি আদায়ের চিত্র দেখে সবকিছু মিলে পরিচালনা পর্ষদ ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করেছে।
 
প্রতি বছর ঈদুল আজহার সময় চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ দেয় সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। এ ঋণের সবচেয়ে বড় যোগান দেয় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো। এ বছর ব্যাংকগুলো গতবছরের চেয়ে এ ঋণের পরিমাণ ৩৩ শতাংশ কমিয়ে এনেছে।
 
সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো জানায়, এবারে সোনালী ব্যাংক ঋণ দেবে ২৫ কোটি টাকা। এর আগের বছর তারা ৭০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল। অন্যদিকে রূপালী ব্যাংক গত বছরের সমপরিমাণ ১৫৫ কোটি ও অগ্রণী ব্যাংক ১০৬ কোটি টাকা ঋণ দেবে। এর বাইরে জনতা ব্যাংক দেবে মাত্র ২৬ কোটি টাকা ঋণ, গত বছর এ ব্যাংকটি চামড়া কিনতে ঋণ দিয়েছিল ১৩৫ কোটি টাকা।
 
 
অন্যদিকে ট্যানারি মালিকরা বলছেন, এ বছর চামড়া কেনার জন্য ব্যাংকগুলোর দেওয়া ঋণের পরিমাণ চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ঋণ গ্রহণের জন্য কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়ার কারণে এবারে ঋণ পাওয়াও বেশ কষ্টকর।  
 
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ বলেন, আমরা গতবছরের ঋণ ব্লক হিসেবে রেখে এ বছর নতুন করে ৫ থেকে ৬শ’ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার দাবি করেছিলাম ব্যাংকগুলোর কাছে। কিন্তু এ বিষয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো খুব একটা আগ্রহী নয়। বরং তারা অনীহা প্রকাশ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসেবে চামড়া খাতে এখন পর‌্যন্ত বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৭০ শতাংশ খেলাপি।
 
রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকগুলোও চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের ঋণ বিতরণ করে থাকে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে পুবালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক মিলে প্রায় ৩শ’ কোটি টাকার ঋণ প্রদান করে।  
 
বাংলাদেশ সময়: ১৮৫৬ ঘণ্টা, জুলাই ২৮, ২০২০
এসই/এইচজে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa