ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২২ জিলহজ ১৪৪১

অর্থনীতি-ব্যবসা

টিকে থাকার বাজেটের প্রত্যাশা অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টদের

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০১২ ঘণ্টা, জুন ১১, ২০২০
টিকে থাকার বাজেটের প্রত্যাশা অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টদের

ঢাকা: জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এফসিএ, এমপি। এরই মধ্যে বাজেট উত্থাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকার। 

এবারের বাজেটটি গতানুগতিক ধারার কোনো বাজেট নয়। ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমা’ শিরোনামের এবারের বাজেটটি প্রস্তুত হয়েছে সরকারের অতীতের অর্জন এবং উদ্ভুত বর্তমান পরিস্থিতির সমন্বয়ে।

এবারের বাজেটে সঙ্গত কারণেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য খাতে। পাশাপাশি কৃষি খাত, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা এবং কর্মসংস্থানকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে নানা ধরনের কৃষি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা সম্প্রসারণ, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যকে পুনরুদ্ধার করাসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাজেটে বিভিন্ন প্রস্তাবনা থাকছে।

বাজেটে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে রাখা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের কারণে হঠাৎ চাকরি হারানো লাখ লাখ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা কিভাবে কম খরচে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়টিও ভাবছে সরকার। এজন্য এরই মধ্যে করোনা মোকাবিলায় কৃষিখাতে প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

পাশাপাশি জনগণের অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেটে শারীরিক নিরাপত্তার কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
 
এদিকে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন মহামারীর কারণে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যেন খারাপ না হয়। সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আগামী বাজেট হতে হবে টিকে থাকার বাজেট। এই বাজেট হবে বাঁচা-মরার বাজেট এবং অর্থনীতিকে ধরে রাখার বাজেট। মহামারি থেকে অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখার বাজেট এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ও অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, এ বছরের বাজেট হওয়া উচিত টিকে থাকার বাজেট, আমাদের বেঁচে থাকার বাজেট। বাজেটে কোভিড-১৯কে গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা সামনের দিকে পরিস্থিতি যেন খারাপের দিকে না যায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে এ বাজেটে। মানুষ বাঁচিয়ে সব কিছু করা যাবে। বর্তমানে ডাক্তাররা আক্রান্ত হয়ে এই ভাইরাসে মারা যাচ্ছে। সমাজে এর ইমপ্যাক্ট হচ্ছে। এটি হতে পারে না। এ জায়গায় সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দ্বিগুণের চেয়েও বেশি করতে হবে এই বরাদ্দ দিয়ে আমাদের স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোর পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও হেলথ টেকনোলজিস্টও নিয়োগ দিতে হবে। স্বাস্থ্যখাতের খোল নলচে বদলে ফেলতে হবে। এখানে যে অপচয় ও দুর্নীতি হয় সেটার গোড়ায় আঘাত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য হবে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা। মানুষ বেঁচে থাকলে তারপর অন্য সব করা যাবে। সেজন্য স্বাস্থ্য, খাদ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, ও এসএমই উপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

সাবেক এই গভর্নর আরো বলেন, অর্থনীতির পুনর্জাগরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের নিজেদের গায়ে হিট নিতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু ব্যাংকের উপর চাপিয়ে দিলে হবে না। তারা ভয় পাবে, ব্যাংক ঝুঁকি নিতে ভয় পায়। সেজন্য সরকার নিজেও যেমন হিট নেবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে মিল করে হিট নিতে হবে। সবকিছুই এমনভাবে করতে হবে যেন পুরো ইকোনোমিটা কনজংশন হয়, ভোগটা যেন চাঙ্গা থাকে চাহিদাটাও চাঙ্গা থাকবে এবং তারল্য বেশি থাকবে অর্থনীতিতে। তাই এইরকম ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট হবে বলে আশা করেন তিনি।

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় গতবারের বাজেটের চেয়ে এবার স্বাস্থ্য খাতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানো উচিত বলে  মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।  

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, আগামী বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে স্বাস্থ্য খাতকে। এই খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী। এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি বরাদ্দ দেওয়া অর্থ যেন জনগণ পায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া শিক্ষা ও আইসিটি খাতে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরো বলেন, বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের কথা বলা হচ্ছে আমি মোটেও এটিকে সমর্থন করিনা। অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ করে দিলে সমাজে নৈতিক অবক্ষয় দেখা দেয়। যারা বৈধভাবে উপার্জন করে বিনিয়োগ করেন তারা নিরুৎসাহিত হন বলেও তিনি মনে করেন।

মানুষের জীবন-জীবিকা যেন টিকে থাকে। মানুষের কাছে যেন খাদ্য ও অর্থ সহায়তা পৌঁছায়। ২০২০-২১ এর বাজেট যেন এমন টিকে থাকার হয়, সে আশা প্রকাশ করছেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ।

আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গে ড. নাজনীন বলেন, এটা স্বাভাবিক কোনো বাজেট নয়। আমাদের টিকে থাকার বাজেট। উন্নয়নের যে জাহাজটি এগিয়ে যাচ্ছিল, সেটার এখন হাল ধরে রাখার বাজেট। যেন কোনো রকম কোনো ক্ষতি না হয়।

অপরদিকে, আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি ও কর্মসংস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানও।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপি‘র মাত্র দশমিক ৭০ শতাংশ। এটা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও বেশ কম। অবার স্বাস্থ্য খাতের এই বরাদ্দও সবসময় সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় না। তাই স্বাস্থ্য খাতে আমাদের বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, করোনা সংকট মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতের পর পরই আমাদের কৃষি, সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। আর বরাদ্দ দেওয়া অর্থ যেন সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তবে এই মহামারিকালে হতদরিদ্র মানুষ যেন খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারে। একই সঙ্গে তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারে সরকারের কাছে এমনটাই প্রত্যাশা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের। তাই করোনা কালে আগামী বাজেট হোক বেঁচে থাকার বাজেট এমনটাই মনে করেন তারা।

বাংলাদেশ সময়: ০০১০ ঘণ্টা, জুন ১১, ২০২০
এসএমএকে/আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa