সুপারশপে চাহিদার তুলনায় বেশি কিনছেন ভোক্তা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

কেনাকাটা করছেন ভোক্তারা। ছবি: জি এম মুজিবুর

walton

ঢাকা: দেশে নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক যেন কাটছে না। এর প্রভাবে কমে গেছে জনসমাগম, গণপরিবহনে যাত্রী চলাচল। প্রায় শূন্যের কোঠায় চলে এসেছে ফুটপাতে চা পান। অর্ধেকে নেমেছে হোটেল-রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া।

অন্যদিকে করোনা আতঙ্কে ভোগ্যপণ্য কেনার পরিমাণ বেড়েছে মার্কেটগুলোতে। প্রায় ৩০ শতাংশ বিক্রি বেড়েছে নগরের সুপারশপগুলোতে। অনেক পণ্য স্টক আউটের ঘটনাও ঘটেছে। তবে এর কয়েক ঘণ্টার ভেতরে আবারও রিলিফ করতে সক্ষম হয়েছে তারা।

রোববার (২২ মার্চ) রাজধানীর মিরপুর, মগবাজার, রামপুরা, খিলগাঁও, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর এলাকার সুপারশপের বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ভোক্তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কেনাকাটা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি করছেন। তাদের কেনাকাটা চাহিদার তুলনায় বেশি হাওয়ায় হিমশিম খেতে হয় বিক্রয়কর্মীদের। তারা বলছেন, অন্য সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে কেনাকাটা।

অপরদিকে খোলা বাজার কিংবা পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানগুলোতে নিত্যপণ্য বিক্রি বেড়েছে চাহিদার দুই গুণ। এসব মুদি দোকানে পণ্যের দামও বেশি রাখা হচ্ছে। দোকান কিংবা সুপারশপগুলোয় ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি কিনছেন চাল, ডাল, আটা, ময়দা, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, রসুন, সাবান, হ্যান্ডওয়াশ ইত্যাদি।

খোলা বাজারে বিক্রির সঙ্গে দাম বাড়লেও সুপারশপে দাম রাখা হচ্ছে আগের মতোই। কোনো পণ্যের স্টক ফুরিয়ে এলে দুই-এক ঘণ্টার মধ্যে আবার রিলিফ দেওয়া হচ্ছে। এসব শপে সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকছে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত।

স্বপ্ন সুপারশপের বিক্রয়কর্মী সজিব বাংলানিউজকে বলেন, করোনা আতঙ্কের পর থেকেই বেড়েছে বিক্রি। গত দু'দিন থেকে ৩০ শতাংশের বেশি পণ্য বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো পণ্যের স্টক ফুরিয়ে গেছে। পরবর্তীতে আবারও সেগুলো এনে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। চাল, ডাল, আটা, ময়দা, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে।

একই কথা জানান আগোরা সুপারশপের বিক্রয়কর্মী নাহিদ। তিনি বলেন, শনিবার (২১ মার্চ) থেকে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কেনাকাটা বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় অনেক ক্রেতা বেশি বেশি পণ্য কিনছেন। সবার মধ্যে করোনা আতঙ্ক কাজ করছে।

মগবাজার স্বপ্ন সুপারশপের ক্রেতা তৌহিদ বাংলানিউজকে বলেন, চাহিদার তুলনায় পণ্য খুব বেশি কেনা হয়নি। মূল বিষয় হলো, বাইরে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে তাই পরিবারের জন্য সপ্তাহের বাজার শেষ করেছি।

খোলাবাজারেও বেড়েছে বিক্রির পরিমাণ। তবে চাহিদার তুলনায় বেশি কেনায় সুযোগ বুঝে ভোক্তার কাছে দামও বেশি রাখছেন তারা। দু’দিনের ব্যবধানে খোলা বাজারের পেঁয়াজ লাফিয়ে দুই গুণ হয়েছে। এখন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজিদরে। ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা।

খিলগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী হাসিবুল জানান, পণ্যের চাহিদা বাড়ায় পাইকারি বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে দাম কিছুটা বাড়তি রাখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬২৩ ঘণ্টা, মার্চ ২২, ২০২০
ইএআর/আরবি/

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: করোনা ভাইরাস
করোনা: ২৪ ঘণ্টায় আইপিএইচ-এ কোনো নমুনা পরীক্ষা হয়নি 
জ্বর-কাশিতে ভুগে নৌ-সদস্যের মৃত্যু
চলে গেলেন রিয়াল মাদ্রিদ কিংবদন্তি গোয়ো বেনিতো
করোনা: আমেরিকায় বেকার হয়েছে ৬৬ লাখ মানুষ 
দক্ষিণখানে ভবনের দেওয়াল ধসে ঘুমন্ত বৃদ্ধার মৃত্যু 


করোনা: মক্কা-মদিনায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য কারফিউ
জ্বর-কাশিতে তরুণের মৃত্যু, সৎকার সংশ্লিষ্টদের কোয়ারেন্টিন
দিল্লীতে তাবলিগে অংশ নেওয়া ৩ বাংলাদেশি করোনা আক্রান্ত
নারায়ণগঞ্জে করোনায় প্রথম মৃত্যু, আশপাশের বাড়ি লকডাউন
 আলমগীর ও তাসকিনের জন্ম
ইতিহাসের এই দিনে

আলমগীর ও তাসকিনের জন্ম