ঢাকা, বুধবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

অর্থনীতি-ব্যবসা

ক্রেতা টানতে ভারতীয় গরুর শরীরে কিউট পাউডার

মফিজুল সাদিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২১৮ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১৯
ক্রেতা টানতে ভারতীয় গরুর শরীরে কিউট পাউডার কিউট ট্যালকম পাউডার দেওয়া হচ্ছে গরুর শরীরে, ছবি: বাংলানিউজ

গাবতলী পশুর হাট থেকে: হাট ভর্তি গরু। হাট ভর্তি ক্রেতা। চাহিদাও ব্যাপক। তারপরও শেষ সময়ে সবার আগে গরু বিক্রি করতে ব্যাপারী ও খামারিরা নানা পদ্ধতি বেছে নিচ্ছেন গাবতলী পশুর হাটে।

এর মধ্যে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে ক্রেতা টানতে কিছু ব্যাপারী-খমারি ভারতীয় ধবল ষাঁড় ও বলদের শরীরে লাগাচ্ছেন কিউট ট্যালকম পাউডার। মূলত সাদা দেহ আরও সাদা দেখাতেই পাউডার দেওয়া হচ্ছে।

হাটে ধুলাবালিতে ভরা। এসব ধুলাবালিতে গরুর শরীর ময়লা হচ্ছে। তাই সাদা গরুগুলোকে সব সময় ধবধবে সাদা দেখানোর জন কিউট পাউডারের ব্যবহার।

এছাড়াও ক্রেতার নজর কাড়তে বড় বড় গরুর নাম দেওয়া হয়েছে সুপরিচিত কিছু নামের আদলে। পাগলু, বাহুবলী, সিন্দাবাদ, কালা পাহাড়সহ বাহারি নাম শোনা যাচ্ছে গাবতলী পশুর হাটে।

শনিবার (১০ আগস্ট) দিনভর গাবতলী পশুর হাট ঘুরে এমন চিত্রই উঠে এসেছে বাংলানিউজের চোখে।

১০৫টি ভারতীয় গরু হাটে তুলেছেন শহীদুল ইসলাম ব্যাপারী। প্রতিটি গরুর জন্য দৈনিক একটি কিউট পাউডার তার বরাদ্দ। প্রতিটি পাউডারের দাম ১৪০ টাকা।  কিউট ট্যালকম পাউডার দেওয়া হচ্ছে গরুর শরীরে, ছবি: বাংলানিউজ

গরুর শরীরে পাউডার লাগানো প্রসঙ্গে বাংলানিউজকে শহিদুল ইসলাম বলেন,  গরুর গায়ে পাউডার দিলে সৌন্দর্য বাড়ে। শরীরে ময়লা থাকলে সাদা বেশি দেখায়। এছাড়া এই পাউডার দিলে গরু ঘামে কম। আরাম পায়।

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের খামারি শাহিনুল ইসলাম ৫৮টি ভারতীয় বড় গরু হাটে তুলেছেন। এসব গরু ছয় থেকে এক বছর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রামচন্দ্রপুর সীমান্ত থেকে কেনা। ওই সময় প্রতিটি বলদ এক লাখ এবং ষাঁড় দেড় লাখ টাকায় কেনা। এরপরে দুলাল চাকদার খামারে এসব ভারতীয় গরু পালা হয়।

গরুগুলো ভারতীয় রাজস্থান ও হরিয়ানা রাজ্য থেকে বাংলাদেশে এসেছে। এক সময় এসব গরুর দেহে হাড়ের ফ্রেম ছাড়া কিছুই ছিল না। বাংলাদেশে এসে এসব গরু বেশ মোটাতাজা হয়েছে। প্রতিটি গরুর মাংস ১৩ থেকে ১৮ মণ হবে। ১৩ মণ মাংস হবে এমন বলদ তিন লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, ১৮ মণ মাংস হবে এমন ষাঁড়ের দাম পাঁচ লাখ টাকা।

দেশীয় গরুর তুলনায় দামে সস্তা হওয়ায় ক্রেতা চাহিদাও বেশি ভারতীয় পশুতে। ফলে শাহিনুলের ৫৮টি গরুর মধ্যে ৩০টিই লাভে বিক্রি হয়ে গেছে।

দুলাল চাকদার খামারের মালিক শাহিনুল বাংলানিউজকে বলেন, ছয় মাস থেকে এক বছর আগে ভারতীয় গরু আমাদের হাতে আসে। এরপরে খামারে যত্ন করে বিক্রি করা হচ্ছে। দেশি গরুর তুলনায় এসব দামে সস্তা। মাংসও বেশি। ফলে গরু লাভে বিক্রি করেছি। বাকিগুলোও বিক্রি হয়ে যাবে আশা করি।

বাংলাদেশ সময়: ১৮১২ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১৯
এমআইএস/টিএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa