php glass

চা শ্রমিকের কাজ ছেড়ে এখন সফল কৃষক কুমার দুধবংশী

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন, ডিভিশনাল সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঝিঙ্গাক্ষেতে কাজ করছেন কৃষক কুমার দুধবংশী। ছবি: বাংলানিউজ

walton

মৌলভীবাজার: এক সময় খাইছড়া চা বাগানের শ্রমিক ছিলেন তিনি। কৃষিতে এসে স্বপ্ন আর সম্ভবনার সুফলটুকু নিজ চোখে দেখে কৃষিকেই বেছে নিয়েছেন তিনি। ছেড়েছেন চা বাগানের শ্রমিকের কাজ। তারপর পেছনে ফিরে আর তাকাতে হয়নি তাকে।  

খাইছড়া এলাকার একজন সফল কৃষক তিনি। এই সফল কাজে দারুণভাবে উৎসাহিত হয়ে তার তত্ত্বাবধানেই প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন পুরুষ ও নারী শ্রমিক কৃষিতে যোগদান করেছিলেন। এখন তার এই কৃষিকাজের সফলতা দেখে অনেকে নিজ আগ্রহে কৃষিতে এগিয়ে আসতে চাইছেন।
 
শ্রীমঙ্গল উপজেলার কৃষি কার্যালয়ের সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছে কুমার দুধবংশীর নাম।
 
ঝিঙ্গাক্ষেতে কৃষক কুমার দুধবংশী। ছবি: বাংলানিউজরোববার (১৯ মে) সকালে খাইছড়া চা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, কুমার দুধবংশী নিজের ঝিঙ্গাক্ষেতে কাজ করেছেন। শেড পদ্ধিতে শুধু ঝিঙ্গা নয়, অনেক সবজি রয়েছে তার এই ক্ষেতজুড়ে। তারতাজা লম্বা লম্বা ঝিঙ্গাগুলো গাছের ডালে ঝুলে আপন স্বার্থকতার জানান দিচ্ছে। 

এক প্রশ্নের জবাবে কুমার দুধবংশী বাংলানিউজকে বলেন, আট থেকে দশ আগে কৃষিবিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কিছু সবজি লাগিয়েছিলাম। খুব ভালো হয়েছিলো সেই ফসলগুলো। নিজ হাতে লাগানো সেই ফলসগুলো দেখে দারুণভাবে উৎসাহ লাভ করি। এখন তো পুরোপুরিভাবে কৃষি কাজ করছি। আমার এলাকায় ২৫ থেকে ৩০ জন কৃষক আছেন, তাদের দলপ্রধান আমি।
 
জায়গার পরিমাণ এবং শ্রমিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার মোট জমির পরিমাণ ৩০ শতাংশ। আমার সবজি বাগানে দুইজন শ্রমিক কাজ করেন, তাদের দৈনিক মজুরি ২০০ টাকা। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তারা কাজ করেন। এখন গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে রয়েছে ঝিঙ্গা, করলা, ঢেঁড়স, শশা প্রভৃতি। শীতকালে ফলাই আলু, টমেটো, বেগুন, মিষ্টি লাউ প্রভৃতি।
 
ঝিঙ্গাক্ষেতে কৃষক কুমার দুধবংশী। ছবি: বাংলানিউজসবজিক্ষেতে সার প্রয়োগ প্রসঙ্গে কুমার দুধবংশী বাংলানিউজকে বলেন, আমার প্রতিটি সবজিই বিষমুক্ত। আগে গোবর সার, এমওপি, ইউরিয়া এবং টিএসপি সারগুলো ব্যবহার করতাম। এখন আমাকে কৃষি কার্যালয় থেকে কেঁচো থেকে উৎপন্ন জৈব সার দেওয়া হচ্ছে। এগুলোর অত্যন্ত পরিবেশবান্ধব এবং মাটি ও কৃষির জন্য দারুণ উপকারী। এই জৈব সার দিলে অন্যকোনো সারের আর প্রয়োজন পড়ে না। এছাড়াও ‘সেক্স ফেরোমেন’ (কৃত্রিম ফাঁদ) দিয়ে ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড়গুলোকে দমন করা হচ্ছে।
 
উৎপাদিত সফলের বিক্রয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ঝিঙ্গাগুলো চৈত্র মাসে লাগানো হয়েছিল। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা ঝিঙ্গা বিক্রি করেছি। পুরো জৈষ্ঠ্য মাস ধরে এই ঝিঙ্গাগুলো বিক্রি হলে মোট ২৪ থেকে ২৫ হাজারে গিয়ে দাঁড়াবে। এই সবজি ক্ষেতের ঝিঙ্গাচাষে মাত্র ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছিলো।
 
ঝিঙ্গাক্ষেত। ছবি: বাংলানিউজশ্রীমঙ্গল উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা বাংলানিউজকে বলেন, কুমার দুধবংশী আমাদের উপজেলার একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা। অনেক পরিশ্রম করতে পারেন তিনি। তার দেখাদেখি এলাকায় অনেক লোক কৃষিতে এসেছেন এবং আমাদের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সফলভাবে কৃষিজাত নানান পণ্য চাষাবাদ করছেন।

এক সময় কুমার দুধবংশী চা বাগানের শ্রমিক ছিলেন। আমাদের পরামর্শে কৃষি ফসল উৎপাদন এবং বাজারজাত করে পাল্টে ফেলেছেন নিজের ভাগ্য। এখন পুরোপুরিভাবে কৃষিতে নিয়জিত আছেন তিনি বলে যোগ করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ সময়: ০৮২৮ মে ২০, ২০১৯
বিবিবি/এএটি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: মৌলভীবাজার
সৃজিতকে অভিনন্দন অনুপমের
সাকিবের পরিবর্তে বর্ষসেরা স্টোকস, সমালোচিত ভারত আর্মি
বান্দরবানে বেড়েছে শীত, গরম পোশাকের বাজার
নাগরিকত্ব বিল আর এনআরসি একই মুদ্রার দুই পিঠ: মমতা
ফুটবল খেলা বাঙালির রক্তের সঙ্গে মিশে আছে


নানা আয়োজনে যশোরে হানাদারমুক্ত দিবস পালন
বিএনপি আইন-আদালত মানে না: নাসিম
ডিসি হিল সংস্কৃতিচর্চার জন্য উন্মুক্ত করার দাবি
বিশ্বকাপ নয়, আপাতত বিপিএল নিয়েই ভাবছেন সানি
ধরে নিয়ে যাওয়া ২ জেলেকে ফেরত দিলো বিএসএফ