২৪ হাজার কোটি টাকার তহবিল সঙ্কটে এমএসএমই খাত

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

প্রতীকী ছবি

walton

ঢাকা: দেশের অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন সঙ্কট রয়েছে। এই সঙ্কটের কারণে অর্থনীতির চালিকা শক্তির প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 

php glass

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও পলিসি রির্চাস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআরআই) যৌথ গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। দেশের অর্থিনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সমাধান শীর্ষক এই প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই)।
 
পিআরআই একটি বেসরকারি, অলাভজনক ও স্বতন্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের অর্থনীতি, মূল নীতিগত চ্যালেঞ্জগুলো, দেশীয় এবং আর্ন্তজাতিক বাজারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকগুলো বড় বড় ঋণ গ্রহীতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ছোট গ্রহীতাদের প্রতি ব্যাংকগুলোর নজর খুব কম। এতে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা ও ব্যাংকের ২৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকার অর্থায়ন সুবিধায় দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
 
গবেষণা প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অর্থায়ন খাতের বিশেষজ্ঞ মিহাসোনিরিনা আন্দ্রিয়ানাভিও বলেছেন, দেশের অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত ব্যাংক থেকে অর্থায়ন সুবিধা পান মাত্র ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আর বড় ঋণ গ্রহীতারা এই সুবিধা পান ৪৪ শতাংশ।
 
দেশের ব্যবসার পরিবেশ ব্যবস্থাপনাকেও অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এমএসএমই) খাতের জন্য আরও একটি বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। 

আন্দ্রিয়ানাভিও বলেন,  কেন্দ্রীয় (বাংলাদেশ) ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্য ভাণ্ডারে এমএসএমই ঋণ সংক্রান্ত যথেষ্ট তথ্য নেই। এমএসএমই উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম সিআইবি রিপোর্ট।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাতে এক লাখ ৫২ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। 
 
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের বিতরণ করা ঋণের ৭৬ শতাংশ এবং সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মোট ঋণের ১৯ শতাংশ বিতরণ করেছে এমএসএমই খাতে।
 
এ বিষয়ে পলিসি রির্চাস ইনস্টিটিউট (পিআরআই) চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার বলেন, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাত দেশের অর্থনীতিতে অনেক বড় অবদান রাখছে। এমএসএমই খাতের অর্থায়ন সমস্যা সমাধান করা গেলে দেশের অর্থনীতি বিশাল আকারে উপকৃত হবে।

এমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণে সমস্যার বিষয়টি উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভনর এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, ঋণ সুবিধা পাওয়ার জন্য জামানত একটি বড় সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
 
ব্র্যাক ব্যাংকের এসএমই বিভাগের প্রধান সৈয়দ আবদুল মোমেন বলেন, এমএসএমইর জন্য অর্থায়ন সহজতর করার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর নীতি প্রবিধি অনুসরণ করে বাস্তবতার ভিত্তিতে যুগোপযুগী নীতি প্রণয়ন করা উচিত।
 
যোগাযোগ করা হলে প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাহেল আহমেদ বলেন, বেশির ভাগ ঋণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ব্যাংকগুলো ছোট ব্যবসার চেয়ে বড় ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দেয়, এ কথা সত্য। তবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত। 
 
বাংলাদেশ সময়: ১৬৫৯ ঘণ্টা, মে ১১, ২০১৯
এসই/এমএ 

আগের ১৫ সদস্যের ওপরই ভরসা রাখলেন নির্বাচকরা
ধানক্ষেতে আগুনের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছোট পর্দায় ‘অভাগিনী মা’ চম্পা
কমলাপুরে সিএনএসের সার্ভাররুমে দুদকের হানা
লাইফবয় ওয়ার্ল্ডকাপ থিম সং ‘খেলবে টাইগার, জিতবে টাইগার’


দুপুর হতেই কাউন্টার ফাঁকা
আগুয়েরোকে নিয়ে আর্জেন্টিনার দল ঘোষণা, নেই ইকার্দি
ল্যাবএইড গ্রুপে নিয়োগ
পটুয়াখালীতে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট
বোমা মেশিনে নদীর পাড় খুঁড়ে বাঁধ নির্মাণ