আবাসনশিল্প বিকাশে সরকারি সহযোগিতা দাবি

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

আবাসন শিল্পের বিকাশে প্রকল্পের অনুমোদন পেতে দীর্ঘসূত্রতা, দুর্নীতি, নির্মাণসামগ্রী ও জমির মূল্যবৃদ্ধি, ১৬ শতাংশ ব্যাংক ঋণ ও গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ পেতে বাধাসহ বিভিন্ন অসুবিধা তুলে ধরে সরকারি সহযোগিতা দাবি করেছেন এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম: আবাসন শিল্পের বিকাশে প্রকল্পের অনুমোদন পেতে দীর্ঘসূত্রতা, দুর্নীতি, নির্মাণসামগ্রী ও জমির মূল্যবৃদ্ধি, ১৬ শতাংশ ব্যাংক ঋণ ও গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ পেতে বাধাসহ বিভিন্ন অসুবিধা তুলে ধরে সরকারি সহযোগিতা দাবি করেছেন এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম মহানগরীর মেহেদিবাগে বৃহস্পতিবার রাতে ‘ইকুইটি সন্তেরা’ প্রকল্পের হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ দাবি জানানো হয়।

ইকুইটি প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ডা. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘বসবাসের জন্য চট্টগ্রাম ঢাকার চেয়ে অনেক বেশি ভালো। কিন্তু চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত নগরীতে পরিণত করতে হলে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি বেসরকারি উদ্যোগেই চট্টগ্রামকে বিশ্বের অন্যতম সেরা বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা সম্ভব। এ ব্যাপারে আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখী হচ্ছে সে সব ব্যাপারে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়-সহযোগিতা দরকার।’

অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিজেদের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা গ্রাহকদের পাশাপাশি দেশের প্রতি কমিটমেন্ট পূরণ করতে চাই। আমরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, একজন গ্রাহকই আমাদের বড় বিজ্ঞাপন।’

ইকুইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী আইনুল হক রাজ জ্যোতিষি ও বৃষ্টির পানি পান করার একটি গল্পের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘জ্ঞান ও নেতৃত্বশূণ্যতা সব কিছুর জন্য দায়ী। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা করছেন না রাজনীতিক-আইনপ্রণেতারা। পুরো দেশে নৈতিক অবক্ষয়ের জোয়ার বইছে। ডেভেলপারদের সত্যিকারের সমস্যাগুলো কেউ উপলব্ধি করছেন না। অ্যাপার্টমেন্ট কেনার ক্ষেত্রে ১৬ শতাংশ ঋণ পৃথিবীর অন্য কোথাও কল্পনা করা যায় না।’

আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা-ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগে যে পিয়নকে ৫ টাকা দিলে কোনো কাজ হতো, এখন সেখানে ৫০০ টাকা দিতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জমির দাম লন্ডনের চেয়েও বেশি। ঢাকা ও চট্টগ্রামে শহরে কিছু কিছু জায়গার দাম টোকিওর চেয়েও বেশি। অথচ তাদের লাইফস্টাইল ও আমাদের লাইফস্টাইলে অনেক তফাৎ। এর জন্য দায়ী কে?’

তিনি ইকুইটি সন্তেরা হস্তান্তরে ৯ মাস দেরি প্রসঙ্গে গ্রাহকের উদ্দেশে বলেন, ‘কাজের লোক নিজের কাজটি করছেন না। রমজান ও কোরবানির ঈদ আর নির্বাচনে শ্রমিকেরা মাসের পর মাস কাজ করে না। অনুমোদন পেতে ১৭ মাস দেরি হয়েছে। আমরা সর্বাপেক্ষা ভালো কাজ করেছি। পৃথিবীর ৪ নম্বর শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির লিফট দিয়েছি। বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আশানুরূপ ফল দিচ্ছে না এটি। জুবিলি রোডের দোকান থেকে কিনে না এনে আমরা কোরিয়া থেকে দরজার তালা আমদানি করে লাগিয়েছি।  

চট্টগ্রাম মহানগরীর পানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, ‘আমি খুলশীতে থাকি। সেখানেও পানির জন্য হাহাকার। আমার জানা মতে, জাইকাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চট্টগ্রাম ওয়াসার চারটি প্রকল্পের অর্থ ফেরত গেছে। প্রশাসন ও সরকার এত বেশি যোগ্য যে আমরা ব্যর্থ হয়েছি! আমরা আমাদের কবর খুঁড়ছি। লাখো নলকূপ আর মাত্রাতিরিক্ত গভীর নলকূপের কারণে আমাদের পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, ভূমিধস হচ্ছে।’

ইকুইটি কর্তৃপক্ষকে গ্রাহকদের সুখে দুঃখে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেন মাসুদ রানা, মি. কাদের, মি. মাহফুজ প্রমুখ। পরে ইকুইটি সন্তেরার ৪৪ জন অ্যাপর্টম্যান্ট ক্রেতাকে দলিল ও চাবি হস্তান্তর করা হয়। এ ছাড়া প্রকল্পের আর্কিটেক্ট মি. হুদাকে ইকুইটি চেয়ারম্যান স্মারক উপহার দেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে আবাসন শিল্পে যাত্রা শুরু করে ইকুইটি। এ পর্যন্ত সুনামের সঙ্গে ২৬টি প্রকল্প হস্তান্তর করেছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৩০০ ঘণ্টা, অক্টোবর ২১, ২০১১

করোনা: দেশীয় স্টার্টআপদের জন্য ভিসিপিয়াবের ৬ প্রস্তাব
সরে দাঁড়ালেন বার্নি স্যান্ডার্স
হাসপাতালে রোগীর খাবার পৌঁছাতে এগিয়ে এলো পুলিশ
গোডাউন থেকে ২১ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার
৪০০ পরিবহন শ্রমিককে খাবার দিলেন ফারাজ করিম


সার্কভুক্ত দেশের বাণিজ্য ক্ষতি পোষাতে ৫ সুপারিশ
ইসরায়েলে করোনা আক্রান্ত বেড়ে প্রায় ১০ হাজার, মৃত্যু ৭১
করোনা প্রতিরোধে দোষারোপ নয়, একযোগে কাজ করতে জাসদের আহ্বান
বিশ্বকাপ ফাইনালের ম্যাচসেরা অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন আকবর
গৃহহীনদের অস্থায়ী আবাসনের দাবি গণসংহতি আন্দোলনের